শাঙ্কোরা রাজা পারকোনের গুহায় ফিরে এল।
ওদিকে ফ্রান্সিস গুপ্ত ধনভাণ্ডারের খোঁজে সব গর্ভগৃহেই খোঁজ করতে লাগল। তিন চারদিন ধরে খোঁজ চলল। হ্যারি সঙ্গেই থাকলো।
সেদিন হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস—কিছু হদিশ করতে পারলে?
আমরা প্রথম যে গর্ভগৃহে নেমেছিলাম সেই গর্ভগৃহটা রাজা পারকোনের পিতামহ প্রথম তৈরি করেছিলেন। ওটাতেই আছে গুপ্ত ধনভাণ্ডার। এখন ঐ গর্ভগৃহের কোথায় গোপনে রাখা আছে সেই ধনভাণ্ডার এটাই খোঁজ করতে হবে। অন্য গর্ভগৃহগুলোও খুঁটিয়ে দেখেছি। সেসব গর্ভগৃহপরে তৈরি হয়েছে। কাজেই প্রথম গর্ভগৃহই খুঁটিয়ে দেখতে হবে।
–সেটাই দেখা হ্যারি বলল।
–হুঁ। কিন্তু এখন শুধু খোঁজার ভান করবো। সেসব দেখে রাজা আভিন্দা খুশিই হবে। আগে লড়াই। তারপর ভালোভাবে খোঁজ করবো।
পরদিনই ফ্রান্সিসরা দেখল বেশ বড় এক সৈন্যদল সৈন্যাবাস ছেড়ে রাজা কাদর্জার রাজত্বেরদিকেচলেছে। তারমানে রাজা আভিন্দা এখন নিশ্চিন্তা ধরেই নিয়েছে আর লড়াইয়ের সম্ভাবনা নেই। কাজেই বড় একদল সৈন্য পাঠিয়ে দিচ্ছে। ফ্রান্সিসখুশিরস্বরে বলে উঠল–
–হ্যারি আমি এটাই চাইছিলাম। আভিন্দার যে সৈন্যরা রইল তারা যতটা নিশ্চিন্ত হবে ততটাই ওরা হার স্বীকার করবে। আর দেরি না। কালকে গভীর রাতে রবার্তোর সৈন্যাবাস আক্রমণ করতে হবে। দুজনে নয়। আমি কাল একা দুপুরে শাঙ্কোদের খোঁজে যাবো। খবর দেব। কালকে রাতেই আক্রমণ করা হবে। আর সময় নষ্ট করবো না।
পরদিন দুপুরে ফ্রান্সিস একজন প্রহরীকে বলল–আমি ঐ পাহাড়ের নিচের জঙ্গলে যাচ্ছি। গুপ্তধনের খোঁজ করতে।
তোমার বন্ধু যাবে না? প্রহরী জানতে চাইল।
—না। আমি একাই যাবো। রাজা জানতে চাইলে বলবে। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। প্রহরী বলল।
ফ্রান্সিস পাহাড়ের দিকে চলল। কিছুপরেজঙ্গলে ঢুকল। কিছুদূর যেতে যেতে ডালপালা ছাওয়া ছাউনিটা দেখল ফ্রান্সিস সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর আস্তে আস্তে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। সঙ্গে সঙ্গে বর্শা হাতে তিন চারজন যোদ্ধা ছুটে বেরিয়ে এসে ফ্রান্সিসকে ঘিরে দাঁড়াল। ফ্রান্সিসও সঙ্গে সঙ্গে দুহাত তুলে চাপাস্বরে বলে উঠল–আমি ভাইকিং। তোমাদের বন্ধু। যোদ্ধারা বর্শা নামাল। ফ্রান্সিস বলল–আজ গভীর রাতে নতুন রাজা আভিন্দার সৈন্য রাজা কাদর্জার রাজ্যে চলে গেছে। ওদের সৈন্য সংখ্যা কমে গেছে। এখনই লড়াইয়ের ঠিক সময়। রাজা আভিন্দা ছেড়ে যেতে বাধ্য। তোমাদের ঠিক সময়ে ডাকা হবে। তোমরা লড়াইয়ের জন্যে তৈরি থাকবে। আমি রাজা পারকোনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। তোমরা নিশ্চয়ই জানো উনি কোথায় আছেন? একজন যোদ্ধা এগিয়ে এল। বলল–চলুন। রাজা পারকোনের কাছে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি।
তাহলে খুবই ভালো হয়। ফ্রান্সিস বলল।
যোদ্ধাটি এগিয়ে চলল। পেছনে পেছনে ফ্রান্সিসও চলল।
বনের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে যোদ্ধাটি বলল–তাহলে আপনি কিছু সৈন্যকে চলে যেতে দেখেছেন।
-হ্যাঁ। রাজা আভিন্দার সৈন্য সংখ্যা কমে গেছে। এই সুযোগ আর আসবে না।
বনের পরে যোদ্ধাটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠতে লাগল। পেছনে ফ্রান্সিসও চলল।
একসময় ওরা রাজা পারকোনের গুহার সামনে এল। দু’জন যোদ্ধা বা হাতে ছুটে এল। যোদ্ধাটিকেবিকেলের আলোয় দেখে বশানামাল।
দু’জনে গুহার মধ্যে ঢুকল। শাঙ্কো ছুটে এল। ফ্রান্সিসের হাত ধরে রাজা পারকোনের কাছে নিয়ে এল। ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে রাজা আভিন্দার সৈন্যসংখ্যা কমে যাওয়া আর আক্রমণের পরিকল্পনা সবই বলল।
-সন্দেহ নেই বর্তমান অবস্থা আমাদের অনুকুলে। কিন্তু পারবে কি ওদের হারাতে? রাজা পারকোন বললেন।
অনায়সে পারবো। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনার রাজ্য আপনাকে ঠিক ফিরিয়ে দিতে পারবো। নতুন রাজা আভিন্দাকে এই রাজ্য থেকে তাড়াবো। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখো চেষ্টা করে। পারকোন বললেন।
ফ্রান্সিস এবার শাঙ্কোর দিকে তাকাল। বলল রাজার সব সৈন্যকে বলেছো এই লড়াইয়ের কথা?
–হ্যাঁ বলেছি তৈরি থাকতে। সময়মতো সবাইকে জমায়েত করবো। শাঙ্কো বলল।
আজ গভীর রাতে আক্রমণ করবো। তুমি সবাইকে জড়ো করে রাজা আভিন্দার সৈন্যাবাসের পেছনে নিয়ে আসবে। তারপর নিদ্রিত সৈন্যদের ওরা কিছু বোঝার আগেই আক্রমণ করবো। বুঝেছো? ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু তুমি কয়েদঘর থেকে বেরোবে কী করে? শাঙ্কো জানতে চাইল।
–আমি আর কয়েদঘরে ফিরে যাবো না। সন্ধ্যের পর থেকেই সৈন্যাবাসের পেছনের দিকে চেষ্টনাট গাছটার নিচে থাকবো। ফ্রান্সিস বলল।
কিন্তু হ্যারি একা থাকবে। ওর কোন বিপদ হবে না তো। শাঙ্কো বলল।
–না। কারণ রাজা আভিন্দা ধরে নেবে বন্ধুকে কয়েদ রেখে পালাবো না। ঠিক ফিরে আসবো। তাছাড়া শুধুআজকের রাতটা। কাল ভোরের এই রাজ্যের ইতিহাস পাল্টেযাবে। ফ্রান্সিস বলল।
-ঠিক আছে। আমরা শেষ রাতে যাবো। শাঙ্কো বলল।
ফ্রান্সিস বসে ছিল। এবার উঠে দাঁড়াল। বলল–মাননীয় রাজা আমি যাচ্ছি। কাল সকালে আপনি আবার এই রাজ্যের রাজা হবেন।
ভাইকিং বন্ধুদের কাছে এল ফ্রান্সিস। বলল ভাইসব–শাঙ্কোকে সব বলে গেলাম। ও যা বলবে শুনবে। শক্ত দেহমন নিয়ে লড়াই করবে। আমাদের জয় হবেই।
–ফ্রান্সিস–তোমার জন্যে আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত। বিস্কো বলল।
–সেটা জানি বলেই আজকে রাতের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছি। ফ্রান্সিস বলল।
