–হ্যাঁ। ঠিকই শুনেছেন। এখানকার গর্ভগৃহগুলোর মধ্যে কোথাও আছে রাজা : পারকোনের পিতামহের গুপ্ত ধনভাণ্ডার। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমরা শুনেছো তবে। রাজা আভিন্দা বলল।।
রাজা পারকোনই বলেছেন–ফ্রান্সিস বলল।
–তোমার নাম কী? আভিন্দা জানতে চাইল।
–ফ্রান্সিস। ফ্রান্সিস বলল।
–তুমি পারবে সেই গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজে বের করতে? আভিন্দা বলল।
–হ্যাঁ। পারবো। ফ্রান্সিস মাথা কাত করে বলল। এবার হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস এর আগে অনেক গুপ্তধন খুঁজে বের করেছে। বুদ্ধি খাটিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করে।
–বেশ। দেখ চেষ্টা করে। আভিন্দা বলল।
–কিন্তু আমার শর্ত আছে। ফ্রান্সিস বলল।
তার মানে সেই ধনভাণ্ডার তুমি নেবে। আভিন্দা বলল।
–না। একটা স্বর্ণমুদ্রাও নেব না। ফ্রান্সিস বলল।
—তবে কী শর্ত? আভিন্দা বলল।
–আমরা দুজন কয়েদ হয়ে থাকবে। বাকি আমার সব বন্ধুদের মুক্তি দিতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
আগে গুপ্তধন আবিষ্কার কর। তারপর তোমাদের মুক্তির কথাভাবা যাবে। আভিন্দা বলল।
–না। আগে বন্ধুদের মুক্তি চাই। ফ্রান্সিস বলল।
আভিন্দা মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর মাথা তুলে বলল ঠিক আছে। আমার গুপ্তধন চাই। গুপ্তধন উদ্ধার হলে তার ভাগীদার কেউ হবে না। তুমি তো কিছুই পাবে না। আভিন্দা বলল।
–আমি কিছু চাইবোও না। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। আর একটা কথা। এই গুপ্তধনের খোঁজাখুজির ব্যাপারটা রাজা কাদর্জাকেও জানানো চলবেনা। আভিন্দা বলল।
–তার মানে আপনি একাই গুপ্তধনের সবটাই নেবেন। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা আভিন্দা হেসে বলল–তুমি বেশ বুদ্ধিমান।
বন্ধুরাও বলে বটে। ফ্রান্সিস এতক্ষনে হেসে বলল।
মনে হয়, তুমি পারবে। আভিন্দা বলল।
দেখি চেষ্টা করে। তবে আমার কিছু বলার আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। বলো। আভিন্দা বলল।
–আমাদের দুজনকে সবরকম স্বাধীনতা দিতে হবে। সব গর্ভগৃহ আমরা খুঁজবো। যেখানে প্রয়োজন পড়বে যাবো। কেউ আমাদের বাধা দেবে না। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। তবে খোঁজার কাজ সন্ধ্যার আগেই এই কয়েদ ঘরে থাকতে হবে। আর এই রাজ্যের বাইরে কোথাও যেতে পারবেনা। আভিন্দা বলল।
–বেশ। আমি মেনে নিলাম। ফ্রান্সিস মাথা কাত করে বলল।
এবার রাজা আভিন্দা প্রহরীদের দিকে তাকাল। বলল–কাল সকালে দুজন বাদে বাকি সবাইকে ছেড়ে দিবি। রাজা আভিন্দা চলে গেল।
রাতে খাওয়া শেষ হল। ফ্রান্সিস শুয়ে পড়ল। হ্যারি ডাকল–ফ্রান্সিস।
–হুঁ। ফ্রান্সিস হ্যারির দিকে তাকাল।
বন্ধুরা বলছিল তোমার আমার বন্দীত্বের বিনিময়ে ওরা মুক্তি চায় না। হ্যারি বলল।
–ওরা আবেগ তাড়িত হয়ে এসব বলছে। ঠিক আছে আমি সব বুঝিয়ে বলছি। ফ্রান্সিস উঠেদাঁড়াল। ওর দেশীয় ভাষায় বলল–ভাইসব তোমরা আমাকে আর হ্যারিকে ভালোবাসো। তাই আমারা বন্দী হয়ে থাকবো এটা মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু এখন আবেগটাবেগের কথা বলল না। শোন–তোমরা মুক্তি পেয়ে জাহাজে ফিরে যাবে না। দক্ষিনের পাহাড়ের কোন গুহায় আশ্রয় নেবে। রাজা পারকোন ঐ এলাকায় কোন গুহায় আশ্রয় নিয়েছেন। সঙ্গে তাঁর বিশ্বস্ত সৈন্যরাও নিশ্চয়ই রয়েছে। তোমরা ওখানে আশ্রয় নিয়ে রাজা পারকোনোর খোঁজ করবে। সময় লাগলেও এটা করবে। রাজা পারকোনকে পেলে তার সৈন্যদের সন্ধান করে বের করবে। যত সৈন্য এভাবে জড়ো করা সম্ভব হবে। আমি সময়মত তোমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবো। তারপর দলে ভারি হয়ে আমরা রাজা আভিন্দার নিশ্চিন্ত সৈন্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বো। তারপর লড়াই। রাজা আভিন্দাকে এই রাজ্য থেকে তাড়াবো। রাজা পারকোনকেসিংহাসনে বসাবো। তারপর গুপ্তধন খুঁজবো। খুঁজে পাই তো রাজা পারকোনকে সব দিয়ে আমরা জাহাজে ফিরে যাবো। এছাড়া অন্য কোন উপায়ে আমি হ্যারি মুক্তি পাবো না। এবার বলো আমার পরিকল্পনা সঠিক কিনা। ফ্রান্সিস থামল। বন্ধুদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হল। কিছু পরে শাঙ্কো উঠে দাঁড়িয়ে বলল– ফ্রান্সিস তোমার পরিকল্পনা আমরা মেনে নিলাম। অন্য দু’চারজন বন্ধুও বলল–আমাদের কোন আপত্তি নেই।
–আমি তোমাদের কাছ থেকে এটাই আশা করেছিলাম। ফ্রান্সিস বলল। তারপর বসে পড়ল। একটু পরেই শুয়ে পড়ল।
পরেরদিন সকালের খাবার খেয়ে ভাইকিংরা তৈরি হল। সকলেরই চিন্তা সামনে অনেক কাজ।
ঢং ঢং শব্দে কয়েদঘরের দরজা খুলে গেল। একজন প্রহরী দরজায় দাঁড়িয়ে বলল তোমরা কোন দু’জন বন্দী থাকবে? হ্যারি উঠে দাঁড়িয়ে ফ্রান্সিসকে দেখিয়ে বলল–ও আর আমি।
–বেশ। বাকিরা বেরিয়ে এসো। রাজার হুকুম মুক্তি পেয়ে তোমরা সবাই তোমাদের জাহাজে চলে যাবে। এই রাজ্যে থাকবেনা। প্রহরী বলল।
–ঠিক আছে। শাঙ্কো বলল।
এবার সবাই একে একে কয়েদঘর থেকে বেরিয়ে এল। গর্ভগৃহগুলোর মধ্যে দিয়ে হেঁটে সিঁড়ির কাছে এল। দেখল সিঁড়ির গোড়ায় মন্ত্রীমশাই দাঁড়িয়ে। মন্ত্রীমশাইওদের দিকে তাকিয়ে বলল–সব শুনেছি। তোমাদের দুই বন্ধু কি পারবে গুপ্ত ধনভাণ্ডার উদ্ধার করতে?
–চেষ্টা তো করুক। শাঙ্কো বলল।
না পারলে কিন্তু নতুন রাজা সহজে ছেড়ে দেবে না।
হতে পারে। তবে আমাদের দুই বন্ধুকে কয়েদঘরে রাখা অসম্ভব। শাঙ্কো বলল।
দেখা যাক। মন্ত্রী বললেন।
সিঁড়ি দিয়ে শাঙ্কোরা ওপরে উঠে এল। চলল দক্ষিণমুখো রাজ্যের সীমান্তের দিকে। রাজা আভিন্দার সৈন্যরা দেখল সেটা। পাহাড়টা জঙ্গল বাঁদিকে রেখে শাঙ্কোরা অনেক দূরে চলে এল।
