–তোমরা রাজা পারকোনের হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। রাজা আভিন্দা বলল।
–হ্যাঁ। করেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–কেন? রাজা আভিন্দা বলল।
রাজা পারকোনকে একজন সৎও ন্যায়পরায়ণ রাজা বলে মনে করেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–রাজা পারকোন এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
–হ্যাঁ। শুনেছি। ফ্রান্সিস মাথা ওঠানামা করে বলল।
–তোমরা ফাঁসির মঞ্চ থেকে পালিয়েছে। আভিন্দা বলল।
হা। ফ্রান্সিস আবার মাথা ওঠানামা করল।
–কিন্তু এবার আমার পাল্লায় পড়েছে। পালাবারসব রাস্তা বন্ধ করে দেব। আভিন্দা বলল।
–আপনি রাজা। নিশ্চয়ই তা পারেন। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা আভিন্দা দলনেতার দিকে তাকাল। বলল–সব কটাকে কয়েদঘরে ঢোকাও। পরে ফাঁসিতে লটকাবো।
দলনেতা ফ্রান্সিসদের কাছে এল। বলল–চলো সব।
ফ্রান্সিসরা দলনেতার পেছনে পেছনে চলল। কয়েকজন সৈন্য বর্শা হাতে ফ্রান্সিসদের পেছনে পেছনে চলল। বোঝা গেল আভিন্দা ওদের পালাবার কোন সুযোগই দেবে না।
গর্ভগৃহের একটা ঘরের সামনে এল সবাই। ঘরটার দরজা লোহার। দরজায় তালা ঝুলছে। দুজন প্রহরী বর্শা হাতে দাঁড়িয়ে। একজন চাবির গোছা কোমর থেকে খুলে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। তালা খুলল। দলপতি হাতের ইঙ্গিতে ফ্রান্সিসদের ঘরে ঢুকতে বলল। ফ্রান্সিসরা একে একে ঘরটায় ঢুকল। ঘরে একটা মশাল জ্বলছে। মশালের অলোতে দেখা গেল ঘরটা বেশ ছোট। পাথর কাটা দেয়াল। মেঝেয় গম গাছের শুকনো পাতা বিছানো। দুজন বন্দী শুয়ে আছে। ফ্রান্সিসদের ঢুকতে দেখে ওরা উঠে বসল। ফ্রান্সিসরা বসল। বেশ অসুবিধার মধ্যেই বসতে হল। ঘরের ঐ ছোট মেঝেয় ছড়িয়ে বসার উপায় নেই। ফ্রান্সিস দুপা গুটিয়ে শুয়ে পড়ল। ভাইকিং বন্ধুরাও কেউ কেউ হাত পা গুটিয়ে কেউ কেউ কুকুর কুণ্ডলী হয়ে শুল। হ্যারি ফ্রান্সিসের পাশেই বসে ছিল। বলল–পালানোর উপায় ভাবো।
বন্দী হবার সময় থেকেই ভাবছি। এবার সব ভালোভাবে নজর দিতে হবে। দেখা যাক–কোন ফাঁক পাই কিনা। ফ্রান্সিস বলল।
বিকেল হল। প্রহরীরা বিকেলের খাবার দিয়ে গেল। পোড়া রুটি আনাজপাতির ঝোল। ক্ষুধার্ত ফ্রান্সিসরা গোগ্রাসে খেল। অনেকে আবার খাবার চাইল। প্রহরীরা কোন কথাই বলল না। চলে গেল। অগত্যা অপেক্ষা করতে হবে রাতের খাবারের জন্যে।
কয়েকদিন কাটল। শুয়ে বসে। আভিন্দা মাত্র একদিন এসেছিল। হেসে বলেছিল– রাজা কাদর্জা শুনেছেন তোমাদের বন্দী করা হয়েছে। আমাদের একসঙ্গে ফাঁসি দেবার দিন স্থিরকরবেন রাজা কাদর্জাই। এরকম একটা গণফাঁসি দেখবার জন্যে উনি উগ্রীবহয়ে আছেন। মানুষের মৃত্যু দেখতে উনি খুব ভালোবাসেন। ফ্রান্সিসরা কেউ কোন কথা বলল না।
–দেখা যাক রাজা কাদর্জা কোনদিনটা স্থির করেন? আভিন্দা হেসে বলল।
–দিনটা রাজা কাদর্জার জন্মদিন হলে ভালো হয়। হ্যারি বলল।
–ব্বাঃ আভিন্দা প্রায় লাফিয়ে উঠল–ভালো বলেছো তো। এ মাসের বাইশ তারিখ রাজা কাদর্জার জন্মদিন। আজকে আঠারো তারিখ। মাত্র চারদিন পরে। ব্বাঃ। আজকেই এই কথাটা রাজা কাদর্জাকে বলার জন্যে তোক পাঠাবো। এবার ফ্রান্সিস বলল–এখানে কি অন্য কোন কয়েদঘর নেই?
–কেন বলো তো? রবার্তো বলল।
–এই ছোট ঘরটায় আমাদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
আভিন্দা হা হা করে হেসে উঠল। হাসি থামিয়ে বলল–আর তো মোটে তিন রাত বেঁচে থাকবে। চারদিনের দিন তো তোমাদের জীবন শেষ। একটা দিন একটু কষ্ট করে থাকো। ফ্রান্সিসরা আর কেউ কোন কথা বলল না।
আভিন্দা চলে গেল। যাবার সময় প্রহরীদের বলে গেল–কড়া পাহারায় রাখছি। একজনও যাতে পালাতে না পারে। যদি পালায় তোরা মরবি।
রাতে খাওয়া শেষ হল। হ্যারি ডাকল–ফ্রান্সিস।
–হুঁ। বলো!
–রাজা কাদর্জা নরপশু। সে গণ ফাঁসি দেখার জন্যে মুখিয়ে আছে। তার আগেই আমাদের পালাতে হবে। গভীরভাবে ভেবে উপায় বের কর। হ্যারি বলল।
উপায় একটা আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–উপায় আছে? হ্যারি সাগ্রহে বলল।
–হ্যাঁ। তবে পালানো নয়। অন্যভাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–কীভাবে? হ্যারি জানতে চাইল।
–রাজা আভিন্দাকে লোভানি দিতে হবে। ধনভাণ্ডারের লোভ বড় সাংঘাতিক। ফ্রান্সিস বলল।
পারবে ওকে কব্জা করতে? হ্যারি বলল।
–অবশ্যই পারবো। কাল সকালে রাজা আভিন্দার সঙ্গে কথা বলবো। দেখা যাক ও কতটা লোভী হয়।
পরদিন সকালের খাবার খাওয়া শেষ হল। ফ্রান্সিস দরজার কাছে গেল। একজন প্রহরীকে হাতছানি দিয়ে ডাকল। প্রহরী এগিয়ে গেল। কিন্তু ফ্রান্সিসের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াল। ফ্রান্সিস বুঝল প্রহরীরা খুব সাবধান হয়ে গেছে।
রাজা আভিন্দাকে একবার আসতে বলো।
–কেন? প্রহরী বলল।
–সেটা রাজাকেই বলবো। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা এখন রাজসভায় বসবেন। প্রহরী বলল।
–বিচারটিচার সেরেই যেন আসেন। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমার কথায় রাজা আসবেন না। প্রহরী বলল।
–তুমি গিয়ে বলবে এই গর্ভগৃহের গুপ্ত ধনভাণ্ডার নিয়ে আমি কথা বলবো। ফ্রান্সিস গলা নামিয়ে বলল।
–বেশ। বলে দেখি। প্রহরী বলল।
প্রহরী আর একজন প্রহরীকে পাহারায় রেখে চলে গেল।
অল্পক্ষণের মধ্যেই হন্তদন্ত হয়ে প্রহরীটি ফিরে এল। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল–রাজা আসছেন। ফ্রান্সিস মৃদু হেসে হ্যারির দিকে তাকিয়ে বলল–বোঝ ধনলিপ্সা কী জিনিস। রাজকার্য ছেড়ে রাজা ছুটে আসছে।
ফ্রান্সিসের কথা শেষ হতেই রাজা আভিন্দা এসে হাজির। হেসে বলল—গুপ্ত ধনভাণ্ডারের ব্যাপারে তোমরা কী বলতে চেয়েছো শুনলাম।
