–আমার। রাজা পারকোন বললেন।
ফ্রান্সিস বলল না, কারো একার নয়। ঐ ধনসম্পদ দুভাগে ভাগ করে দুজনকে দেওয়া হবে।
-না। সব চাই আমি। রাজা পারকোন বলে উঠলেন।
–ভাগ করা চলবে না, সবটাই আমার। রাজা তুরীন বলে উঠলেন।
–তাহলে, ফ্রান্সিস বেশ গলা চড়িয়েই বলল, তাহলে আমি সেই গোপন সম্পদ আর খুঁজবো না। আমি চলে যাচ্ছি। আপনাদের সমস্যা আপনারাই মেটান।
ফ্রান্সিস রাজসভার মঞ্চ থেকে নেমে আসছে তখনই শাঙ্কো এসে ফ্রান্সিসকে থামাল। রাজাদের দিকে তাকিয়ে গলা চড়িয়ে বলল, এর নাম ফ্রান্সিস। আমার প্রাণের বন্ধু। ফ্রান্সিস এর আগে অনেক গুপ্তধন খুঁজে বের করেছে। ও যখন বলছে এই গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজে বের করতে পারবে তখন জানবেন এটা ফাঁকা কথা নয়। গুপ্তধন উদ্ধারের এই চেষ্টাই শেষ চেষ্টা। আপনারা ওর সাহায্য নিন।
–বুঝলাম, কিন্তু সেসব দু’ভাগ হবে কেন। রাজা পারফোন বললেন।
–এটাও মেনে নিন। নইলে ঐ ধনসম্পত্তি গুপ্তই থাকবে। আর কেউ উদ্ধার করতে পারবেনা। ভেবে দেখুন। শাঙ্কো বলল।
রাজসভায় নৈঃশব্দ্য। সবাইরাজারদিকেতাকিয়ে। হঠাইরাজাতুরীন বললেন, এইসমস্যাটা দুই রাজ্যের মধ্যে চলে আসছেদীর্ঘকাল। যাকগে, আমি অর্ধেক পেলেই সন্তুষ্ট থাকবো।
ফ্রান্সিস রাজা পারকোনের দিকে তাকাল। পারকোন মন্ত্রীকে ডেকে কী বললেন। তারপর বললেন, ঠিক আছে, আমিও অর্ধেক চাই। সভাঘরে সকলেই আনন্দপ্রকাশকরল।
রাজা তুরীন ও রাজা পারকোনের মধ্যে শত্রুতা মিটে গেল। ওই দুদেশের প্রজারা খুশি হল। যুদ্ধের পরিবেশ কারোই ভালো লাগছিল না। সবাই শান্তি চাইছিল।
রাজা তুরীন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে নিজের দেশে ফিরে গেলেন। দুদেশের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হল এইজন্যে একদিন উৎসব হল। ফ্রান্সিস শাঙ্কোকেও উৎসবে যেতে অনুমতি দেওয়া হল।
প্রাকৃতিক খেয়ালেই গড়ে ওঠা একটা বিরাট পাথরের বেদীমত। বোঝা গেল এই পাথরের চাতালেই উৎসব-টুৎসব হয়। চারপাশে দর্শকরা বসেছে। চাতাল ঘিরে বড় বড় প্রদীপজ্বালা হয়েছে। তাতে বেশ আলোকিত হয়েছে বেদী। প্রথমে মন্ত্রীমশাই বেদীতে উঠে এলেন। ভাঙা গলায় যতটা জোরেসম্ভব বললেন–দেশবাসীরা–আজকে আমাদের খুব আনন্দের দিন। আমরা যুদ্ধে জয়লাভ করেছি। তার চেয়েও বড় কথা রাজা তুরীনের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়েছে। আমরা এখন পরস্পরের বন্ধু। এই উপলক্ষে আজকের এই আনন্দ সন্ধ্যা। একটু থেমে মন্ত্রী বললেন–আপনারা আনন্দ উপভোগ করুন।
মন্ত্রীমশাই বেদী থেকে নেমে গেলেন।
একদল সুসজ্জিত পুরুষ এল। বাজনদাররা বাজনা বাজাতে লাগল। হাতের রুমাল নেড়ে নেড়ে বাজনার তালে তালে ওরা নাচতে লাগল। নাচ বেশ জমে উঠল।
এরপর এল একদল মেয়ে। তারা সুরেলা গলায় গান গাইতে গাইতে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগল। নাচ জমে উঠল। দর্শকরা জোর গলায় উৎসাহ দিতে লাগল। নাচ শেষ হল।
এবার এল বেঢপ পোশাক পরা একটি হোঁৎকা পুরুষ। হেঁড়ে গলায় সে কি গান। শ্রোতারা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তে লাগল।
তারপর আরো কিছুক্ষণ নাচগান হল। উৎসব শেষ। শ্রোতা দর্শকরা বাড়ি ফিরে চলল। ফ্রান্সিসরাও ফিরে এল।
সেদিন সন্ধ্যেবেলা ওকাজাফ্রান্সিসদের কাছে এল। বলল–মাননীয় রাজা আপনাদের ডেকেছেন।
-কেন বল তো?
–কী করে বলব। আপনারা চলুন। ওকাজা বলল।
–বেশ চলো।
ফ্রান্সিস, শাঙ্কো তৈরি হয়ে রাজার গর্ভগৃহের দিকে চলল।
এই গর্ভগৃহ মোটামুটি সুসজ্জিত মশালের বদলে মোটা পলতের প্রদীপ জ্বলছে। পাথরের আসনে গদীপাতা। তাতে রাজা পারকোন বসে আছেন।
ফ্রান্সিসরা মাথা নুইয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়াল।
–তোমরা বিদেশি–রাজা বললেন–এ দেশের সঙ্গে তোমাদের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু আজ আমি বিপদগ্রস্ত। আমাদের পশ্চিমে একটি রাজ্য আছে–জামিনা–সেই রাজ্যের রাজা কাদর্জা একনৃশংস রাজা। আমার রাজ্যের ওপর তার বড় লোভ। কী করে আমার রাজ্য দখল করা যায় এই তার চিন্তা। অবশ্য আর একটা লোভও আছে। আমার পূর্বপুরুষদের সঞ্চিত গুপ্তধন। সে এই গুপ্তধন উদ্ধারের চেষ্টা করবে।
জানিনা রাজা কাদর্জা কতটা বুদ্ধিমান। গুপ্তধন উদ্ধার বেশ জটিল ব্যাপার। ফ্রান্সিস বলল।
উদ্ধার করতে পারুক না পারুক চেষ্টা তো করবে। এটাই কাদর্জার উদ্দেশ্য। রাজা পারকোন বললেন।
–বোঝাই যাচ্ছে কাদর্জা লড়াই চায়। আপনি আক্রান্ত হলে লড়াইই করুন। ফ্রান্সিস বলল।
–আক্রান্ত হলে লড়াই তো করতেই হবে। সেক্ষেত্রে তোমাদের সাহায্য চাই। যদিও এ দেশ তোমাদের নয় তবু আমার অনুরোধ যুদ্ধ হলে আমাদের হয়ে তোমরা লড়াই কর। রাজা পারকোন বললেন।
নিশ্চয়ই করবো। অবশ্য তার আগে বন্ধুদের সম্মতিটা নিতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাই নেবে। রাজা বললেন।
কাদর্জা কবে আক্রমণ করতে পারে বলে আপনার মনে হয়? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–যেকোন দিন। কাদর্জা বিদেশ থেকে সৈন্য আমদানি করছে। সৈন্যসংখ্যা বাড়িয়েছে। অস্ত্রশস্ত্র এনেছে। তাতেই সন্দেহ যেকোন দিন আক্রমণ করতে পারে। রাজা বললেন।
রাজা কাদর্জা সম্মন্ধে কিছু জানতে চাই। কী ধরনের মানুষ। কতটা বুদ্ধি ধরে। গুপ্তধনের লোভকতটা। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা পারকোন ওকাজাকে দেখিয়ে বললেন–ওকাজার জামিনাতেই জন্ম। ওকাজা রাজা কাদর্জা সম্বন্ধে অনেক কিছুজানে। ওর সঙ্গে কথা বলুন সব জানতে পারবেন।
