হুঁ, তোমরা ঠিকই শুনেছো। রাজা পারকোনের পিতা অনেক চেষ্টা করেও তার হদিস পাননি।
ফ্রান্সিস একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, সমস্ত ব্যাপারটা আমাকে বলুন, আমি সেই ধনভাণ্ডারের হদিস বের করবো।
মন্ত্রী একটু অবাকই হলেন। তারপর বললেন, পারবে সেই ধনভাণ্ডার খুঁজে বের করতে?
আমার কিছু জানা প্রয়োজন। আপনারা যদি সেসব আমাকে জানান তাহলে আমি পারবো। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে, বলছি সব। এই বলে মন্ত্রীমশাই পূর্বাপর ঐ এলাকার রাজাদের কথা সংক্ষেপে বললেন। সবশেষে যোগ করলেন, রাজা পারকোন আর রাজা তুরীন দুজনেরই ধারণা কোনো গর্ভগৃহে সেই ধনভাণ্ডার গোপনে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে সহজ হতো যদি রাজা পারকোনের পিতামহ পুত্রকে বলে যেতে পারতেন কোথায় গোপনে রাখা আছে সব ধনসম্পদ। কিন্তু তিনি তা বলে যাননি।
ফ্রান্সিস একটু ভেবে নিয়ে বলল, আমি রাজা পারকোনের সঙ্গে কথা বলতে চাই। আপনি ব্যবস্থা করে দিন।
–ঠিক আছে। তবে কাল রোববার। রাজামশাই একা এখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাটাবেন। এ সময় তিনি কারো সঙ্গে কথা বলেন না। চুপচাপ শুয়ে থাকেন।
-তাহলে তো গর্ভগৃহে কারো থাকা চলবে না। শাঙ্কো বলল।
পাহাড়ের ওপারে আরো একটা গৃহ আছে, সেখানে থাকতে হবে।
ফ্রান্সিস বলল, তাহলে যাচ্ছি। রাজা পারকোনকে আমার কথা বলবেন। দেখুন উনি রাজী হন কিনা।
নিশ্চয়ই রাজী হবেন। কত দেশ-বিদেশের লোককে তিনি নিয়ে এসে একানে রেখেছেন ঐ গুপ্ত ধনভাণ্ডারের উদ্ধারের জন্যে। কিন্তু কেউ পারেননি। অগত্যা প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন। মন্ত্রী বললেন।
ফ্রান্সিস, শাঙ্কো নিজের জায়গায় ফিরে এল। শুয়ে পড়তে পড়তে শাঙ্কো বলল — ফ্রান্সিস কিছু সূত্রটুত্র পেলে?
–এই গর্ভগৃহেই আছে সেই গোপন ধনভাণ্ডার। ফ্রান্সিস উত্তর দিল।
–এটা ভাবছো কেন? শাঙ্কো প্রশ্ন করল।
রাজা পারকোন এই গর্ভগৃহে এসে থাকেন। অন্য কোনো গর্ভগৃহে যান না। কেন? ফ্রান্সিস বলল।
–এই গর্ভগৃহেই ভালো লাগে থাকতে তাই। উত্তরেশাঙ্কো বলল।
–উঁহু, ব্যাপারটা শুধু ভালোলাগা নয়। হয়তো রাজা পারকোন সোনা-হীরে-মুক্তোর ভাণ্ডারের কিছুহদিস করতে পেরেছেন। এঅবস্থায় হয়তো আমাদের অনুমতি দেবেন না।
পরদিন অন্ধকার থাকতে থাকতেই সবাই তল্পিতল্পা গুটিয়ে সেই গর্ভগৃহ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেল সবাই।
ভোরের দিকে রাজা পারকোন এলেন। গায়ে সাধারণ পোশাক। খাপেভরা তরোয়াল আনেননি। মাথায় মুকুট নেই।
গর্ভগৃহে নামবার পাথরের সিঁড়ির কাছে মন্ত্রীমশাই দাঁড়িয়েছিলেন। আস্তে আস্তে বললেন, এক বিদেশী ভাইকিংকে পেয়েছি। ও বলছে, গুপ্ত ধনভাণ্ডার উদ্ধার করতে পারবে। রাজা চমকে মন্ত্রীর দিকে তাকালেন। হাতের ইশারায় জানালেন নিয়ে আসতে। রাজা নিচে নেমে গেলেন। ফ্রান্সিসরা কাছেই ছিল। মন্ত্রীমশাই বললেন, দেরি করো না। চলো।
ফ্রান্সিস একা মন্ত্রীমশাইয়ের সঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল। দেখল রাজামশাই মন্ত্রীর আসনে বসে আছেন। সামনে পাথরের টেবিলে কালির দোয়াত আর কলম।
ফ্রান্সিসও মন্ত্রী ঐ টেবিলের কাছে এল। রাজামশাই কাগজটা এগিয়ে দিলেন। রাজামশাই কাগজে লিখলেন, তুমি সব ঘটনা জানো?
–হ্যাঁ, মোটামুটি জানি। ফ্রান্সিস মুখে বলল।
তোমার নাম কী? রাজা লিখলেন।
–ফ্রান্সিস।
গুপ্তধন খোঁজখুঁজির জন্যে তোমার যা প্রয়োজন পড়বে মন্ত্রীমশাই সেসবের ব্যবস্থা করবেন। তারপর লিখলেন–গুপ্তধন তুমি যদি উদ্ধার করতে পারো সে সবকিছুই আমার, তুমি কিছুই পাবে না।
ফ্রান্সিস পড়ে মৃদু হেসে বলল, তাই হবে।
রাজা লিখলেন সন্দেহ নেই বেশ কষ্ট করে তোমাকে গুপ্তধন উদ্ধার করতে হবে। তার বদলে তুমি কিছুই চাও না?
না। ফ্রান্সিস মাথা নেড়ে বলল।
ঠিক আছে। আগে তো উদ্ধার হোক তারপর দেখা যাবে। যাও। কাজ শুরু কর। রাজা লিখলেন।
মন্ত্রী আর ফ্রান্সিস ওপরে উঠে এল। শাঙ্কো এগিয়ে এল। বলল, ফ্রান্সিস, কী কথা হলো?
উনি রাজী হয়েছেন। মন্ত্রীমশাই সব ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করবেন।
মন্ত্রী বললেন, এখানে আপনারা বসুন। আপনাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করছি। মন্ত্রী। চলে গেলেন।
কিছু পরে এক সৈন্য ওদের জন্যে সকালের খাবার নিয়ে এল। একটা পাথরের চাইয়ের গায়ে ওরা বসল। খাবার খেতে লাগল। সৈন্যটি দাঁড়িয়ে ছিল। খাওয়া শেষ হতে বলল, আপনারা আসুন। আপনাদের জন্যে একটা ছোট ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দুজনে ঐ সৈন্যটির পেছনে পেছনে চলল। ছোট পাহাড়টার পরেই আর একটা গর্ভগৃহ। সিঁড়ি দিয়ে নেমে ওরা একটা ছোট ঘরের সামনে এল। সৈন্যটি বলল, এই ঘরে আপনারা দুজন থাকবেন। কোনো কিছুর দরকার হলে আমাদের বলবেন। সৈন্যটি চলে গেল।
রাত শেষ হলো। রাজা পারকোনের মৌনব্রত শেষ হলো। তিনি রাজবাড়িতে ফিরে গেলেন। ফ্রান্সিসরা আবার গর্ভগৃহে ফিরে এল।
এইবার ফ্রান্সিস কাজে নামল। শাঙ্কোকে নিয়ে রাজবাড়ি থেকে শুরু করে সব গর্ভগৃহেই গেল। একাগ্র দৃষ্টিতে সম্ভাব্য সব জায়গাগুলি দেখতে লাগল। পাথুরে দেয়াল। ঘরগুলো প্রায় একইরকম। সব গর্ভগৃহ। একই রীতি মেনে তৈরি। ফ্রান্সিস বসেছিল। এবার উঠে দাঁড়াল। বলল, শাঙ্কো, চলো মন্ত্রীমশাইয়ের কাছে।
দুজনে মন্ত্রীমশাইয়ের কাছে এল। মন্ত্রী কাগজেকী লিখছিলেন। বললেন, আবারআমার কাছে কেন?
