যদি রাজী না থাকি? শাঙ্কো বলল।
–তাহলে নির্জলা উপোস করে থাকতে হবে। ফলে তোমাদের কী অবস্থা হবে বুঝতেই পারছো।
ফ্রান্সিস বুঝল সহজে মুক্তি পাওয়া যাবে না। ও বলল, আমরা একটু ভেবে দেখি। আসল কথা, সমুদ্রের তীরে আমাদের জাহাজ রয়েছে। সেই জাহাজে আছে আমার স্ত্রী ও বন্ধুরা। আমরা নাফিরলে ওদের দুশ্চিন্তা বাড়বে।
একটুক্ষণ চুপ করে থেকে প্রৌঢ় বললেন, আমি এখানকার রাজা পারকোনের মন্ত্রী। বয়েস হয়েছে। নিয়মিত রাজসভায় যেতে পারি না। যাকগে, দূত পাঠাচ্ছি। তোমরা যে খবর দিতে চাও তা বলে পাঠাও।
ফ্রান্সিস বলল–আমরা বিশেষ প্রয়োজন এদিকে এসেছি। আমাদের জাহাজে খাদ্য পানীয় জল ফুরিয়ে এসেছে। এখানে খাদ্য জল পাবোকিনা।
–হ্যাঁ, পাবে। আমাদের মজুদ থেকে দেয়া যাবে। কিন্তু এর জন্যে দাম লাগবে।
শাঙ্কো সঙ্গে সঙ্গে কোমরের ফেট্টি থেকে দুটো স্ফমুদ্রা বের করে মন্ত্রীমশাইয়ের হাতে দিল। মন্ত্রী খুশী। বলল–তোমরা দুজন তো খাদ্য জল নিয়ে যেতে পারবে না।
–সেইজন্যেই আপনার দূতকে দিয়ে খবার পাঠাবো–বস্তা জলের পীপে নিয়ে যেন ছ’সাতজন বন্ধু আসে। খাদ্য, জল নিয়ে যেতে পারবে।
–সেই খবল পাঠাও। মন্ত্রী বলল।
মন্ত্রী হাতে মৃদু তালি দিলেন। একজন শুটকো চেহারার সৈন্য এগিয়ে এল। মন্ত্রী বললেন–ওকাজা এরা কী বলে শোন। সেইমত কাজ কর।
ফ্রান্সিস বলল–ভাই, তুমি সমুদ্রতীরে জাহাজঘাটায় যাও। সেখানে বেশ কটা জাহাজ নোঙর করা আছে। তার মধ্যে যে জাহাজে একটা সাদা পতাকা উড়ছে দেখবে সেটাই আমাদের জাহাজ। জাহাজে উঠেতুমি হ্যারির সঙ্গে দেখা করবে। বলবে যে আমরা এখানে খাদ্য ও জলের ব্যবস্থা করেছি। ওরা ছ’সাতজন যেন বস্তা, পীপে নিয়ে আসে।
-বেশ। ওকাজা বলল।
–তুমিই ওদের এখানে নিয়ে আসবে। তুমি কি এখনই যাবে?
–হ্যাঁ, খেয়েটেয়ে যাবো। ওকাজা বলল।
ফ্রান্সিস নিশ্চিন্ত হল। যাক–খাদ্য আর জলের একটা ব্যবস্থা করা গেল।
মন্ত্রী বললেন–ওকাজা–এদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাকর। ফ্রান্সিসদের বললেন– যাও–ওর সঙ্গে।
ঘরের পেছনে একটা ঝর্ণা। দুজনে বেশ অবাকইহল। প্রকৃতির বিচিত্র রূপ। জল ঝরে পড়ছে। বেশ বড়ই ঝর্ণাটা। ফ্রান্সিস ভাবল এত জল পড়ছে কিন্তু যাচ্ছে কোথায়? দেখা গেল একটা ফাটলমত জায়গায় জল ঢুকে যাচ্ছে। অনেকেই স্নান করছে।
–স্নানটা সেরে নিলে হত না। শাঙ্কো বলল।
না। আগে বন্ধুরা আসুক। খাদ্য জল নিয়ে যাক। তারপর নিশ্চিন্ত হয়ে স্নান খাওয়া। ফ্রান্সিস বলল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্কোরা পীপে বস্তা নিয়ে এল। মন্ত্রীমশাই ওকাজাকে বললেন এদের প্রয়োজনমত খাদ্য দিয়ে দাও। ঝণা থেকে জল দাও।
ফ্রান্সিস ইঙ্গিতে বিস্কোদের আসতে বলল। পেছনের দিকে একটা ঘরে নিয়ে এল। বস্তার পর বস্তা সাজানো। বোঝা গেল ভাঁড়ার ঘর। বিস্কোরা আটা ময়দা চিনি বস্তায় ঢেলে নিল।
আরো লাগলে নিতে পারেন। ওকাজা বলল।
-না না। পরে কোন বন্দরে খাবার যোগাড় করবো। বিস্কো বলল।
হ্যারি ফ্রান্সিসদের কাছে এল। বলল–কী ব্যাপার? তোমরা কী বন্দী?
-হ্যাঁ। যে কোন দিন যেকোন মুহূর্তে এদের লড়াই লাগতে পারে। এদের শত্রু এক রাজার সঙ্গে। আমাদের লড়াইতে নামিয়ে দেবার মতলব। আমরাও চুপ করে আছি। দেখি কী হয়। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–এখানে গুপ্তধন ভাণ্ডারের খোঁজ পেয়েছি। কাজেই থাকছি।
–বেশ। হ্যারি বলল।
বিস্কো হ্যারিরা খাদ্যজল নিয়ে পাথরের সিঁড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল। হ্যারি ভাবল খুব সময়মত খাবারজল পাওয়া গেছে। এখন ফ্রান্সিসরা কবে নাগাদ মুক্তি পায় সেটাই চিন্তার।
ওকাজা ফ্রান্সিসদের কাছে এল। দুজনকে একটা ঘরে নিয়ে এল। কিছু যুবক শুয়ে বসে আছে। এরা যোদ্ধা। মেঝেয় মোটা কম্বল পাতা। ফ্রান্সিসরা বসল।
দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর দুজনে নিজেদের ঘরে এসে শুয়ে পড়ল।
–ফ্রান্সিস-শাঙ্কো ডাকল।
–বলো–ফ্রান্সিস বলল।
সব ব্যাপারেই বেশি ঔৎসুক ভালো না।
হ্যাঁ। এখন সেটা বুঝতে পারছি। বেশি জানতে গিয়ে এই ঝামেলায় পনলাম। নিচে নামাটা উচিত হয়নি।
শাঙ্কো বলল-শুনলাম, রাজা পারকোন প্রতি রোববার এখানে আসেন। তখন এই গর্ভগৃহে আর কেউ থাকতে পারেনা। রাজা আর একরাঁধুনি তাকে। সেই রাঁধুনিও রাতের খাবার তৈরি করে দিয়ে সন্ধ্যের আগেই এখান থেকে চলে যায়।
–তুমি এসব শুনেছো, না? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–হ্যাঁ, এসব শোনা অব্দি আমার মনে একটা সম্ভাবনা জাগছে। রাজা পারকোনের এই আচরণের অর্থ কী?
-দেখ শাঙ্কো, সংসারে নানা মনোভাবের মানুষ থাকে। রাজা পারকোনও এরকম এক মানুষ। তিনি মাঝে মাঝে একা হতে ভালোবাসেন। ফ্রান্সিস বলল।
-ফ্রান্সিস, আমার কিন্তু একটা সন্দেহ হয়। শাঙ্কো বলল।
কী সেই সন্দেহ?
–নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো গুপ্ত ধনভাণ্ডারের ব্যাপার আছে।
–এ-বিষয়ে জেনেছে কিছু?
না, তবে মনে হয় মন্ত্রীমশাই এ সম্মন্ধে সব জানেন। এই ব্যাপারে কী বলেন?
চলো।
দুজনে মন্ত্রীমশাইয়ের কাছে গেল। তখন মন্ত্রীমশাই পাথরের বিছানায় শুয়ে পড়েছেন। শাঙ্কো আস্তে ডাকল, মন্ত্রীমশাই। মন্ত্রীমশাই সোজা উঠে বসলেন।
কী ব্যাপার? মন্ত্রী বললেন।
ফ্রান্সিস বলল, দেখুন একটা ব্যাপার আমরা শুনেছি।
কী শুনেছো? মন্ত্রী জানতে চাইলেন।
–শুনেছি রাজা পারকোনের পূর্বপুরুষের সঞ্চিত ধনভাণ্ডার নাকি এখানেই কোথাও গোপনে রাখা আছে। ফ্রান্সিস বলল।
