–তবে কাকে বলবেন এই গুপ্তধন খোঁজার কথা? পিরেল্লো জানতে চাইল।
–বলবো মাননীয় রাজা আর সেনাপতিকে। ফ্রান্সিস বলল।
না। আপনি আমাকে সব বলবেন। পিরেল্লো গলায় জোর দিয়ে বলল।
–আগে সব বলেছি, আমি আপনার কাছে দায়বদ্ধ নই। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে আপনাদের মরতে হবে। পিরেল্লো কড়া গলায় বলল।
অতটা কব্জির জোর থাকলে আমাদের হত্যা করুন। ফ্রান্সিস শান্ত সুরে বলল।
ফ্রান্সিস কিছু বোঝার আগেই পিরেল্লো কোমর থেকে একটা বাঁকা মাথা বড় ছোরা বের করে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। অন্যমনস্ক ফ্রান্সিস ছিটকে পড়ল মেঝেয়। পিরেল্লো ছোরাটা ফ্রান্সিসের বুক লক্ষ্য করে বিধতে গেলে ফ্রান্সিস ঘুরে গেল আর ছোরাটা বিধল ওর বাঁ বাহুমূলে। রক্ত বেরিয়ে এল। বিস্কো একটা লাফ দিয়ে পিরেল্লোকে জাপটে ধরল। তারপর বুকের নীচে হাত দিয়ে ওর ছোরাটা বের করল। ফ্রান্সিস চেঁচিয়ে উঠল, ওকে হত্যা করো না। গুপ্তধনের ব্যাপারে ভাবতে-ভাবতে ওর মাথার ঠিক নেই।
বিস্কো দ্রুত ফ্রান্সিসের কাছে এল। মশালের আলোয় দেখল কাটা জায়গাটা বড় না হলেও বেশ রক্তপাত হচ্ছে। শাঙ্কো কোমরের ফেট্টি থেকে কাপড় ছিঁড়ে ফ্রান্সিসের কাটা জায়গাটা বেঁধে দিল। ফ্রান্সিসের একটু আরাম লাগল। রক্ত পড়া বন্ধ হলো।
ওদিকে পিরেল্লো দ্রুত উপরে উঠে এলেন। চার বর্শাধারীকে ডাকলেন। বললেন, দুটো চোর রাজা হানমের গুপ্তধন উদ্ধার করেছে। সেই ধনভাণ্ডার নিয়ে ওরা বাইরে আসবে। পালাতে চাইবে। ওদের পালাতে দিও না। তৈরী থাকো।
বিস্কো গলা চেপে বলল, বোঝাই যাচ্ছে এই লোকটা প্রহরীদের সাহায্যে ফ্রান্সিস আর বিস্কোকে বন্দী করবে।
এখনই প্রহরীদের আক্রমণ করবো? একজন ভাইকিং বন্ধু জানতে চাইল।
না। আগে ফ্রান্সিসরা উঠে আসুক। বিস্কো বলল।
কিছুপরে ফ্রান্সিসকে ধরে ধরে বিস্কো প্রধান দ্বার পর্যন্ত এল। এবার পিরেল্লো গলা চড়িয়ে বললেন, এই দুজনেরই কথাই বলছিলাম। ওদের হত্যা কর।
বিস্কো দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করল, ও-হো-হো-।
প্রহরীরা বর্শা হাতে ফ্রান্সিস আর বিস্কোর দিকে ছুটে এল। বিস্কোরা প্রহরীদের ওপর আঁপিয়ে পড়ল। শুরু হলো লড়াই। বর্শা দিয়ে তরোয়াল ঠেকানো অসুবিধে। একবার বর্শা হাতছাড়া হলে আক্রমণকারী নিরস্ত্র হয়ে যায়। লড়াইয়ের মধ্যে ফ্রান্সিসের উচ্চস্বর শোনা গেল, ভাইসব, কাউকে হত্যা করো না। প্রয়োজনে বন্দী কর।
অল্পক্ষনের মধ্যে লড়াই শেষ। প্রহরীদের মধ্যে দু তিনজন আহত হয়ে ঘাসে ঢাকা মাঠে পড়ে রইল।
ফ্রান্সিস চারদিকেতাকিয়ে তাকিয়ে পিরেল্লোকে খুঁজতে লাগল। চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় দেখল পিরেল্লো আর একজন প্রহরী একটা ওক গাছের তলা দিয়ে ছুটছে। ফ্রান্সিস বলল, বিস্কো আমি ছুটতে পারছি না। রক্তপড়া বেড়ে যাবে। তুমি ছুটে গিয়ে পিরেল্লোকে ধর।
বিস্কো সঙ্গে সঙ্গে ছুটল। পলায়মান পিরেল্লো আর একজন প্রহরী তখন রাজবাড়ির পাশ দিয়ে ছুটে পালাচ্ছে। বিস্কো দ্রুত ছুটল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্কো পিরেল্লোদের কাছে এসে পড়ল। চেঁচিয়ে বলল, পিরেল্লো পালিয়ে রেহাই পাবেন না। কাজেই পালাবার চেষ্টা না করে আমাদের কাছে আসুন। ফ্রান্সিস আপনাকে ধরে নিয়ে যেতে বলেছে।
পিরেল্লো দাঁড়িয়ে পড়লেন। সঙ্গের যোদ্ধাটিও থামল। দুজনেই মুখ খুলে হাপাতে লাগল। বিস্কো। ওদের কাছে এল হাঁপাতে হাঁপাতে বিস্কো বলল যদি রাজা হানমের গুপ্ত ধনভাণ্ডার আবিষ্কার করতে পারি, রাজা কানবহনাকে বলবো ধনভাণ্ডারে কিছু অংশ আপনাকে যেন দেন।
সত্যি বলছো? পিরেল্লো বললেন।
হ্যাঁ, সত্যি বলছি। আপনি ফ্রান্সিসের কাছে চলুন। আমরা আপনার কোনোরকম ক্ষতি করবো না। বরং আপনি ফ্রান্সিসকে হত্যা করতে গিয়েছিলেন সেইজন্যে আমি আপনাকে এক্ষুণি মেরে ফেলতে পারি। বিস্কো বলল।
আমার দোষ হয়ে থাকলে পিরেল্লো বলতে গেলেন।
তাকে থামিয়ে দিয়ে বিস্কো বলল, ঠিক আছে, আপনি ফিরে চলুন।
তিনজন ফিরেচলল মন্দিরেরদিকে। মন্দিরের দরজার কাছে এসে দেখল প্রহরীরা আহতহয়ে এখানে ওখানে ঘাসের ওপর পড়ে আছে। ফ্রান্সিস কোমরের ফেট্টিতে তরোয়াল ঢুকিয়ে রেখেছে।
ফ্রান্সিস পিরেল্লোকে বলল–আপনি একটা কাজ করুন। একবার সেনাপতিমশাইয়ের বাড়িতে যান। সেনাপতিকে বলুন–আমরা গুপ্তধন উদ্ধার করেছি। আপনি কিছু যোদ্ধাকে পাঠিয়ে দিন। নিজেও আসুন। বিস্কো বলল–ফ্রান্সিস আমি রাজপুরোহিত পিরেল্লোকে কথা দিয়েছি যে তাকে আমরা গুপ্তধনের কিছু অংশ দেব।
-বেশ। রাজাকে বলবো। তারপর অনুরোধ করবো। ফ্রান্সিস বলল।
ভোর হয়েছে। রাজবাড়ির পেছনে বিরাট বাগান। গাছগাছালি। পাখির ডাক শুরু হয়ে গেছে। রোদও উঠল।
পিরেল্লো আর বিস্কো সেনাপতির বাড়ির সামনে এল। বাইরের দরজা বন্ধ। একজন প্রহরী বর্শা হাতে পাহারা দিচ্ছে। প্রহরী পিরেল্লোকে দেখে মাথা একটুনুইয়ে শ্রদ্ধা জানাল। পিরেল্লো বললেন–প্রহরী সেনাপতিকে খবর দাও। খুব দরকারি কথা আছে।
প্রহরীটি দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। পিরেল্লোদেরও ঢুকতে বলল। পিরেল্লো আর বিস্কো ঢুকল। একটা বেশ বড় ঘর। গোল শ্বেতপাথরের টেবিল ঘরের মাঝখানে। টেবিলটার চারপাশে কালো আবলুস কাঠের আসন পাতা। গদিপাতা। দুজনে বসল।
একটু পরে প্রহরী ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। বলল–অপেক্ষা করুন। মাননীয় সেনাপতি আসছেন।
