তারপর বলে উঠলো–শায়িত দেবতার গর্তগুলো দেখতে হবে। বিস্কো এসো। দেবমূর্তিগুলো দেখবো। দুজনে গুনল। সব মিলিয়ে সাতটা গর্ত। তাতে দেবমূর্তি শায়িত। ফ্রান্সিস সাতের শেষে আরো দুটি গর্তমত দেখল। ফ্রান্সিস মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল। তখনই মশালটা নিভু নিভু হয়ে এল।
–পিরেল্লো তেল পাওয়া যাবে কোথায়? ফ্রান্সিস বলল।
-বাইরে। সদর দরজার পাহারাদারদের কাছে। বিস্কো প্রায় নিভে যাওয়া মশালের আলোয় আস্তে আস্তে ওপরে উঠে এল। প্রহরীদের কাছ থেকে একটা জ্বলন্ত মশাল নিয়ে নীচে নেমে এল।
–মশাল দেবমূর্তির মুখের কাছে নিয়ে এস। বিস্কো তাই করল। ফ্রান্সিস বলল–এখন অনেক পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সিস লক্ষ্য করলখানে মাটি একটু উঁচু হয়ে আছে। ফ্রান্সিস আঙ্গুল দিয়ে জায়গাটা ঘসল। মাটি ঝুরঝুকরে পড়ল। দেখা গেল গর্ত। অন্য গর্তওগুলোর মতোই। ফ্রান্সিস বলল পিরেল্লো বলুন তো এখানে একটা গর্ত আছেকিন্তু দেবমূর্তি নেই।
–হ্যাঁ। তাই দেখেই তো ভাবছি বাড়তি গর্ত। আমরা এটা কোনদিন লক্ষ্য করিনি।
—পিরেল্লো হঠাৎ বলল–ফ্রান্সিস?
বলুন।
–আপনী কি গুপ্তধনের হদিশ করতে পারলেন?
–না। ঠিক জায়গাটা এখনও বুঝতে পারি নি। আচ্ছা পিরেল্লো সেই চামড়ায় লেখা ছড়াটা আপনার কাছে আছে?
ওটা সবসময় আমার বুকে সাঁটা থাকে। ছড়াটা আমার মুখস্থ হয়ে গেছে। কাজেই ওভাবে রেখেছি। আমি বহুবার ছড়াটা দেখেছি। কিন্তু ছড়াটা ছাড়া আর কিছুই বুঝি নি।
–আমি পুরো চামড়াটা একবার দেখব। খুলে দেখাতে পারেন?
–বেশ দেখুন। পিরেল্লো কথাটা বলে বুকে দুহাত দিল। তারপর আঙ্গুল দিয়ে খুঁটে খুঁটে চামড়ার টুকরোটা খুলে নিল। ফ্রান্সিসের হাতে দিল। ফ্রান্সিস একটু গভীর মনোযোগ দিয়ে ছড়াটা বলতে লাগল। তারপর চামড়াটা ওল্টল। খুব অস্পষ্ট আঁকিঝুঁকির মতো। ফ্রান্সিস বলে উঠল–শাঙ্কো আরও একটা জ্বলন্ত মশাল আনা চাই। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি না। শাঙ্কো একছুটে দরজায় একটা মশাল নিয়ে এল। ফ্রান্সিস পিরেল্লোকে বলল–আচ্ছা এটার উল্টেপিঠ কোনদিন দেখেছিলেন?
না তো। পিরেল্লো বোকার মত ফ্রান্সিসের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
তবু এবারে আরেকটু স্পষ্ট দেখা গেল। একটা অস্পষ্ট ত্রিকোণ আঁকা। এই চিহ্নটাও পূজোর ঘরে দেখিনি। এবার সাজঘরটা দেখতে হবে।
–চলো৷ ফ্রান্সিস মন্দিরের দরজার দিকে চলল। মশাল হাতে ফ্রান্সিস নামতে লাগল। পূজোর ঘরে এল। তারপর সাজঘরে এল। মশাল শাঙ্কোর হাতে দিল। পাথরের তাকে জড় করা পোশাক সব সরাতে লাগল। পোশাকগুলি সরিয়ে দিতেই পাটাতনের কোণার দিকে অস্পষ্ট দাগ ত্রিকোণ। তার ঠিক মাঝখানে ছোট্ট গোল দাগ। সেটাও অস্পষ্ট।
ফ্রান্সিস পিরেল্লোকে চামড়াটা ফিরিয়ে দিল। পিরেল্লো নিয়ে বুকে সেঁটে রাখলেন। বললেন–কিছু হদিশ পেলেন। ফ্রান্সিস হেসে বলল-অত সহজে।
–তাহলে কী নিয়ে আপনি ভাবছেন? পিরেল্লো জানতে চাইলেন।
–একটা সমস্যা। পিরেল্লোকে বলল ফ্রান্সিস।
–কী সমস্যা?
আপনার গুরুদেব হোমক যে চামড়ার টুকরো আপনাকে দিয়েছেন তাতে কিছু নির্দেশ আছে। ছড়াটা এমনি এমনি লেখানয়। এটারও অর্থ আছে। সেটা নিয়েও ভাবছি।
–বুঝলাম-বাঁকা হাসি হেসে পিরেল্লো বললেন–গুপ্তধন উদ্ধার করা আপনার অসাধ্য। ঠিক কিনা?
উঁহু। ফ্রান্সিস বলল–আমি সমাধানের শেষ পর্যায়ে।
–তাহলে বের করুন।
–এখনই হবে না। শুধু শেষ সমস্যাটার সমাধান বাকি।
–সমস্যাটা কী?
–শেষ সাত সংখ্যক গর্তটায় দেবমূর্তি ঢুকিয়ে শায়িত রাখা আছে। কিন্তু তারপরেও আট সংখ্যক একটা গর্তত রয়েছে। তাতে দেবমূর্তি নেই। তাহলে ওটা কেন রাখা হয়েছে? গর্তটা কিছু মাটি দিয়ে ভরা আছে। কথাটা বলে ফ্রান্সিস গর্ত থেকে সব মাটি বের করল। বলল–বিস্কো–এই গর্তটায় কী আছে দেখ তো।
এবার বিস্কো গর্তটার মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেখল শুধু মাটিই নয় আরো কিছু আছে। নরম কিছু। ও আঙ্গুল বেঁকিয়ে সেই নরম জিনিসটা টেনে বের করল। তুলো। নরম তুলো। বিস্কো বলল–ফ্রান্সিস–এই দেখ শুধুতুলল। ফ্রান্সিস হাতে নিয়ে দেখল। বলল– নিশ্চয়ই একটা শক্ত কিছু লাগল। ফ্রান্সিস ঠিক বুঝতে পারল না ওটা কী? আস্তে আস্তে জিনিসটার গায়ে আঙ্গুল বুলোত বুলোত বলল–মনে হচ্ছে–একটা –একটা চাবি।
–চাবি? পিরেল্লো বললেন।
—হ্যাঁ চাবি। ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে চাবিটা বের করল। ফ্রান্সিস চাবিটা চোখের সামনে এনে দেখাল।
কীসের চাবি? চাবিটা কেন রাখা আছে? পিরেল্লো বলল।
কারণ নিশ্চয়ই আছে। দামী কোন কিছুজিনিস গোপনে রাখার জন্যে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে কি রাজা হানমের গুপ্ত ধনভাণ্ডার খোলার চাবি এটা? পিরেল্লো বললেন।
–সেটা দেখতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাই দেখুন। পিরেল্লো বললেন।
–শুধু আমরা থাকলে সেটা হবেনা। সেনাপতি মশাইকেও থাকতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে তো মাননীয় সেনাপতিকে ডাকতে হয়। পিরেল্লো বললেন।
–সে কথাই বলছিলাম। আপনি বিস্কোকে নিয়ে যান। সেনাপতিমশাইকে বলবেন রাজা হানমের গুপ্ত ধনভাণ্ডার আমরা প্রায় উদ্ধার করেছি। ফ্রান্সিস বলল।
-মিথ্যে কথা। আপনি গুপ্তধনের হদিশ পেয়েছেন। পিরেল্লো বলল।
–না। হদিশ এখনও পাই নি। ফ্রান্সিস বলল।
–তবে সেটা বলুন। পিরেল্লো বলল।
না। গুপ্তধন সম্বন্ধে সব আপনাকে বলতে আমি দায়বদ্ধ নই। ফ্রান্সিস বলল।
