মিথ্যে কথা। বিস্কো গলা চড়িয়ে বলল। ফ্রান্সিসের কাছে এরমধ্যে বিস্কো সবই শুনেছিল।
–আমার কথা বিশ্বাস না হয় মাননীয় সেনাপতিকে পাঠান। উনি নিজের চোখে সব দেখবেন। এরা চোর। পিরেল্লো বললেন।
রাজা ক্রুদ্ধ চোখে ফ্রান্সিসদের দিকে তাকালেন। বললেন তোমরা মূর্তি চুরি করেছো?
ফ্রান্সিস এরকমভাবে একটা সমস্যায় জড়িয়ে যাবে এটা আগে ভাবে নি। একটা বোকার মত কাজ করেছেও। মনে জোর আনল। বলল–মহামান্য রাজা আমরা এখনও জানি না সাত দেবতাদের মন্দির কোথায়? মূর্তি দেখা তো দূরস্থান, চুরিটুরির কথা তো ওঠেই না।
–দেখা যাক। রাজা সেনাপতিকে ডাকলেন। সেনাপতি কাছে এল।
রাজা বললেন–মূর্তি চুরির খবর আপনি কবে পেয়েছেন?
–দিন সাতেক আগে। সেনাপতি বলল।
–ঠিক আছে। আপনি যান। রাজা বললেন। তারপর পিরেল্লোকে বললেন–আপনি যান। দেবমূর্তিগুলো যথাস্থানে রাখবেন।
–আমার একটা কথা ছিল। ফ্রান্সিস বলল।
–কী কথা?
–দিন ছয় সাতেক আগে–এক গভীর রাতে এই রাজপুরোহিত পিরেল্লো আমাদের জাহাজে এসেছিলেন। তিনি বললেন–আমি সোনার দেবমূর্তি চুরি করে এনেছি। এই দেশ থেকে পালাবো। আমাদের জাহাজে চড়ে। আমরা বলি এ দেশের রাজপুরোহিত আপনী। কত সম্মান আপনার। এসব ছেড়ে চলে যাবেন কেন? উনি বলেন বহুদিন দেশছাড়া। আর এখানে ভালো লাগছে না। জিজ্ঞেস করলাম–আপনার দেশ কোথায়? বললেন পর্তুগাল। আমরা তাকে স্পষ্ট বলি আমরা একজন চোরকে আশ্রয় দেব না। ফ্রান্সিস বলল তারপর আপনার সভায় আসবো আর বোঁচকায় বাধা দেবমূর্তি দিয়ে দেবো। কিন্তু পরে আমি মত পাল্টলাম। পিরেল্লো বলছিলেনধরা পড়লে তাকে ফাঁসি কাঠে ঝোলানো হবে। তখন ঠিক করলাম রাজপুরোহিতকে আর বিপদে ফেলবো না। মূর্তিগুলো একটা বোঁচকায় ভরে সেটা আমাদের ঘরে রেখে এলাম। রাজা হানমের গুপ্তধন উদ্ধারের বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলবো। তাই এসেছি। আমরা চোর না। যা ঘটেছিল তার সবই আমি বললাম। ফ্রান্সিস থামল। তারপর বলল–যদি অনুমতি দেন আমার আরও কিছু বলার ছিল।
–ঠিক আছে, বলো। রাজা বললেন।
–আমি পিরেল্লোকে বললাম আমাদের মন্দিরে নিয়ে চলুন আমরা ওখানে যথাস্থানে মূর্তি রেখে দেব। পিরেল্লো রাজি হল। আমাদের নিয়ে আর দেবমূর্তি নিয়ে আমাদের মন্দিরে নিয়ে চললেন। ফ্রান্সিস একটু থামলো। পরে বলতে লাগলো–আমরা হাঁটতে লাগলাম। কিন্তু কোথায় মন্দির? আমরা মাঝে মাঝেই জিজ্ঞেস করেছি মন্দির কোথায়? পিরেল্লো বলেছেন সে মন্দির মাটির নীচে। ওপর থেকে দেখাবো কী করে। আমরা আর কোন কথা না বলে হাঁটতে লাগলাম। দেবমূর্তির বোঁচকাটা আমরা হাতছাড়া করলাম না। সন্ধ্যে হয় হয় এমন সময় আমরা রাজা মুজাৰ্তার রাজত্বে পৌঁছালাম। গর্ভগৃহের মন্দির আর আমাদের দেখা হল না। সব ঘটনা সত্যি সত্যি বললাম। এখন আপনার বিচার।
রাজা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন–একটা জিনিস বোঝা যাচ্ছে তোমরা মন্দির দেখোনি। কাজেই সাত দেবমূর্তি চুরির সঙ্গে তোমরা জড়িত নও।
–না, না। ওরা মিথ্যেবাদী। পিরেল্লো বলে উঠলেন।
–না। মিথ্যেবাদী আপনি। আপনিই কারো সাহায্য নিয়ে মূর্তি চুরি করেছিলেন। বিস্কো বলল।
সেনাপতি রাজার দিকে এগিয়ে এলেন। বলল–
-মান্যবর রাজা। ঐ ঘরে একটা বোঁচকায় মূর্তিগুলো রাখা আছে।
রাজা কানবহনা হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন। চারদিকে তাকিয়ে বললেন–আজকের সভা এখানেই শেষ। ততক্ষণে সভায় আসা প্রজারা চলে যেতে লাগল। অল্পক্ষণের মধ্যেই। প্রজারা চলে গেল। রাজা পিরেল্লোর দিকে তাকালেন।
বললেন–আপনি স্নান করে আসুন। আপনি দেবমূর্তিগুলো যথাস্থানে রেখে দেবেন। পিরেল্লো মাথা একটু নুইয়ে চলে গেলেন।
–সেনাপতি। রাজা ডাকলেন।
–বলুন মান্যবর। সেনাপতি বলল।
–আমাদের ঐ ঘরে নিয়ে চলুন। রাজা বললেন।
–আসুন। সেনাপতি বলল।
রাজা সেনাপতি আর ফ্রান্সিসরা রাজবাড়ির বাইরে এলেন। সেনাপতি একটু এগিয়ে হাঁটতে লাগলেন। ফ্রান্সিসদের ঘরের সামনে এসে ঘরটা সেনাপতি দেখালেন।
সেনাপতি দরজার তালা খুলল। রাজা ভেতরে ঢুকলেন। সেনাপতি বোঁচকাটা দেখালেন। রাজা বোঁচকাটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন–কেউ যেন বোঁচকাটা না। ছোঁয়। স্নান সেরে এখুনি পিরেল্লো আসছেন। উনি দেবমূর্তিগুলো যথাস্থানে রাখবেন।
রাজা আর ফ্রান্সিসরা বাইরেএল। ফ্রান্সিস বলল–মাননীয় রাজা, আমরা এখন কী করবো?
–হ্যাঁ ভেবেছিলাম কয়েদঘরে ঢোকাবো। এখন ভাবছি একটা সুযোগ তোমাদের দেব। রাজা বললেন।
-তাহলে রাজা হানমের গুপ্তধনের সন্ধান শুরু করবো? ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। তবে একটা কথা না বলতে পারলে তোমাদেরসি দেব। রাজা বললেন।
ফ্রান্সিস একটু চুপ করে থেকে বলল মাননীয় রাজা আমাদের ওপর অতটা নির্মম হবেন না। আমাদের ফাঁসী দিয়ে আপনার লাভ? আমরা তো আপনার শত্রু নই। আপনার দেশবাসীও নই।
-ঠিক আছে। পরে সব দেখা যাবে। রাজা বললেন। তখনই পিরেল্লো এলেন।
আপনারা কাজ করুন। এই বলে সেনাপতিকে সঙ্গে নিয়ে রাজা চলে গেলেন।
ফ্রান্সিস আর বিস্কো ঘরটায় ঢুকলো। দেখল পিরেল্লো বোঁচকাটা তুলছে–ফ্রান্সিস বলল–আপনাদের সঙ্গে আমরাও যাবো।
-কোথায়? পিরেল্লো বলল।
মন্দিরটা দেখতে। ফ্রান্সিস বলল।
–আপনারা বিদেশী। মন্দিরে ঢাকা বারণ। পিরেল্লো বললেন।
রাজামশাইতো সেনাপতিকে ঢালাও বলে দিয়েছেন আমরা এই রাজ্যের যেখানে খুশি যেতে পারি আমাদের যাতে কেউ বাধা না দেয় রাজা সেকথাও বলেছেন। আপনিও তখন রাজসভায় উপস্থিত ছিলেন।
