– ফ্রান্সিস মোটামুটি বুঝল। মাথা ঝাঁকাল। তারপর মালিককে বাইরে নিয়ে এল। গাড়ি দেখিয়ে বলল–আমরা সবাই খাবো। মালিক ভাইকিংদের অন্ধকারে যতটুকু দেখল বুঝল এত লোকের খাবার তার নেই। সে বলল সে কথা। ফ্রান্সিস বিস্কোকে বলল–যাও শাঙ্কোর কাছ থেকে দুটো সোনার চাকতি নিয়ে এসো। বিস্কো চলে গেল। অল্পক্ষণের মধ্যেই সোনার চাকতি নিয়ে এল। দুটো চাকতিই মালিককে দিল। বলল-রান্না চড়ান। বুনো মুরগী কিনে আনুন। বুনো মুরগীর ঝোল আলু দিয়ে আর রুটি। কী? পারবেন তো? মালিক হাসল। বলল পারবো।
দোকানের মালিক তার দুই রাঁধুনিকে নিয়ে রান্নার আয়োজন করতে লাগল। গাড়ি থেকে কিছু ভাইকিং বন্ধু নেমে এল। দোকানে ঢুকল। লম্ফ টুলে হাত পা ছড়িয়ে বসল। গল্পটল্প চলল। এক বন্ধু ডাল-ফ্রান্সিস?
ফ্রান্সিস তার দিকে তাকাল। ভাইকিং বন্ধুটি বলল–মনে হয় কাল সকালের আগে খেতে পাবো না।
কী যে বলো। এদের পেশাই হল রান্না করা, পরিবেশন করা। ঠিক পারবে। দেখো। ফ্রান্সিস বলল।
সময় তো কাটাতে হবে। ভাইকিংরা কয়েকজন দল বেঁধে রাস্তার ওপর দাঁড়াল। হাততালি শুরু হল তারপর সেই সঙ্গে নাচ। ইয়া মোটা একবন্ধু গান ধরল। দেশের গান। কয়েকজন ভাইকিংওকে থামিয়ে দিল। বলল–অন্য গান গা। দেশের গান শুনলে ভষণ মনখারাপ করবে। মোটা গায়ক তাই সরু নাকি গলায় অন্য গান ধরল। গান আর হাততালির সঙ্গে নাচও চলল।
একসময় রান্না শেষ হল। সবাই দুড়দাড় ছুটে এল। লম্ফ টুলে সবাই বসতে পারল না। মালিক আর একটা লম্ফ টুল এনে দিল। তাতেও কুলোল না। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–দুতিনটে করে পাতা নাও। তারপর মাংসের ঝোল আটকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাও। ফ্রান্সিস আর কয়েকজন ভাইকিং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে লাগল।
ফ্রান্সিস যা আশঙ্কা করছিল তাই হল। মাংসের ঝোলে টান পড়ল। মালিক ফ্রান্সিসের কাছে এল। মুখ কাঁচুমাচু করে বলল–মাংস তো শেষ। কী করি?
–কী আর করবেন। একটা দুটো মুরগী কাটতেই পারতেন।
–আর মুরগী ছিল না। সরাইওয়ালা বলল।
–হুঁ। ফ্রান্সিস একটু গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব–মাংস কম পড়ে গেছে। শুধু রুটি খাও। একটু গুঞ্জন উঠল। কিন্তু কেউ কিছু বলল না। গাড়োয়ান তিনজনকেও ফ্রান্সিস খেতে ডাকল।
আবার গাড়ি চলল অন্ধকারে।
ফ্রান্সিস আকাশের দিকে তাকাল। আকাশ সাদাটে হয়েছে। পূর্বদিকে আকাশ লালচে হয়েছে।
একটু পরেই সূর্য উঠল।
ভোর ভোর সময়ে ওরা কানবহনার রাজ্যে পৌঁছল।
ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–গাড়ি থামাও। তিনটে গাড়িই থামল।
ফ্রান্সিস বিস্কো আর পিরেল্লোকে নিয়ে গাড়ি থেকে নামল। গলা চড়িয়ে বলল –ভাইসব জাহাজে উঠে রাজকুমারীকে বলল যে আমি দিনকয়েকের মধ্যেই ফিরবো। আমার জন্যে যেন দুশ্চিন্তা না করে।
-ঠিক আছে। তুমি তাড়াতাড়ি কাজ সার। শাঙ্কো বলল। তারপর ওর বোঁচকাটা বিষ্ণোকে দিল। বলল–এই বোঁচকায় চোরাই মাল আছে। বেশ দামি। সাবধানে রাখবে। ফ্রান্সিস তোমায় সবকিছু বলবে।
শাঙ্কোদের গাড়ি চলে গেল।
ফ্রান্সিসরা ওদের ঘরের সামনে এল। ঘর তালাবন্ধ। ফ্রান্সিস পিরেল্লোর দিকে তাকাল। বলল–সেনাপতি মশাইকে একটু খবর পাঠাতে হয় যে আমরা এসেছি। ঘরের চাবিটাও
তো আনতে হয়।
যাচ্ছি। পিরেল্লো চলে গেল।
কিছু পরে একজন সৈন্যকে নিয়ে ফিরলেন। সৈন্যটি বলল–আপনারা যেন কাল রাজদরবারে যান। আপনাদের সঙ্গে সেনাপতি কথা বলবেন।
সৈন্যটি ঘরের দরজাটা খুলল। ফ্রান্সিসের দিকেচাবিটা বাড়িয়ে ধরল। ফ্রান্সিস চাবিটা নিল।
তিনজনে ঘরে ঢুকল। ঘরে পাতা ঘাসের বিছানায় শুয়ে পড়ল। বিস্কোও বোঁচকাটা মেঝেয় রাখল।
পিরেল্লো বলল–ফ্রান্সিস বোঁচকাটা এবার আমাকে দিন।
না। ফ্রান্সিস মাথা নাড়লেন। রাজা কানবহনাকে দিয়ে দেব।
–পেলেন কোথায় জিজ্ঞেস করলে আপনি কী বলবেন? পিরেল্লো বলল।
আপনার কথা বলবো। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি দেবমূর্তি চুরি করেছি জানলে আমার ফাঁসি হয়ে যাবে। পিরেল্লো বলল।
–ঠিক আছে। দেখি কী করা যায়। ফ্রান্সিস বলল।
–আপনি এখন কী করবেন? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–বাড়ি যাবো। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবো। আমার কাজের বৌটিকে ডাকবো। কিছু খাবো। তারপর রাজসভায় যাবো।
–সেখানেই দেখা হবে। ফ্রান্সিস বলল।
পিরেল্লো চলে গেলেন।
ফ্রান্সিসরাও কিছু খেয়ে নিল। তারপর রাজবাড়ির দিকে চলল।
রাজসভায় বেশ ভিড়। বিচার চলছে। ফ্রান্সিসরা গিয়ে দাঁড়াল। সেনাপতিও একপাশে বসে আছে। সেনাপতি রাজার অনুমতি নিয়ে আসন থেকে নেমে এল। ফ্রান্সিসদের কাছে এসে বলল–আপনাদের কী ব্যাপার? কোথায় গিয়েছিলেন?
–রাজা মুজার্তার দেশে। ফ্রান্সিস বলল।
–কেন? সেনাপতি জানতে চাইল।
–কী আর বলব। আমাদের মিথ্যে বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিস্কো বলল।
–সে আবার কী? সেনাপতি বলল।
–সব পরে বলবো। এখন আমারা রাজা হানমের গুপ্তধন উদ্ধার করতে কাজ শুরু করবো। রাজার কাছে সেই ব্যাপারে অনুমতি নিতে এসেছি। ফ্রান্সিস বলল।
সেনাপতি রাজার কাছে এল। কী বলল রাজাকে। রাজা কী বললেন। সেনাপতি ফ্রান্সিসদের ডাকল। ফ্রান্সিসরা এগিয়ে গেল। রাজা ফ্রান্সিসকে চিনলেন। বললেন
–শুনুন। আপনাদের সবরকম সাহায্য দেওয়া হবে। আপনারা কাজ শুরু করুন।
হঠাৎ ফ্রান্সিস শুনল পেছন থেকে রাজপুরোহিত পিরেল্লো গলা চড়িয়ে বলে উঠল– মান্যবর রাজা এই দুই বিদেশী মন্দিরের শায়িত সাত দেবমূর্তি চুরি করেছে।
