–কটা গাড়ি পেলেন? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
দুটো। তবে ঐ গৃহকর্তা বলেছেন আর একটা গাড়ি তিনি এনে রাখবেন। পিবেল্লো বললেন।
–তাহলে কোন সমস্যাই নেই। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিসদের খাওয়া শেষ হল।
ফ্রান্সিস আর বিস্কো রাজবাড়ির বাইরে এল। দেখল ভাইকিং বন্ধুরা রাজবাড়ির বাইরের প্রান্তরটায় সবাই বসে আছে।
ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলতে লাগল–ভাইসব যে কাজের জন্যে আমাদের এখানে আসতে হয়েছিল সেই কাজ বলা যায় সুসম্পন্ন হয়েছে। এখন জাহাজে ফেরা। তোমরা গিয়ে জাহাজে উঠবে কিন্তু আমি আর বিস্কো যাবো না। এরপরেই রাজা কানবহনার রাজ্য। সেখানে রাজা হানমের গুপ্তধন খুঁজে বের করতে হবে। এই কাজ সেরে আমরা জাহাজে ফিরবো। ভাইকিং বন্ধুরা চুপ করে ফ্রান্সিসদের কথা শুনল। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–গাড়ি এসে গেছে। আমরা এক্ষুনি যাত্রা শুরু করবো। তবে আমাদের তিনটি গাড়ি পেলে ভালো হত। যে বাড়িতে আমরা ছিলাম তার কর্তা আর একটা গাড়ির ব্যবস্থা করবেন জানিয়েছেন। যাওয়ার পথে গাড়ি পেলেই আমাদের ঠাসাঠাসি করে আর যেতে হবে না। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–তাহলে এবার যাত্রা শুরু।
সব ভাইকিংরা গাড়ি দুটোয় উঠল। সবার জায়গা হল না। ওরই মধ্যে চাপাচাপি করে ভাইকিং বন্ধুরা জায়গা করে নিল। পিরেল্লোও ফ্রান্সিসের পাশে জায়গা করে নিল।
গাড়োয়ানের দিকে তাকিয়ে ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–এবার চলল।
গাড়ি চলল। ভাইকিংরা ধ্বনি তুলল–ও–হো–হো। কাঠের চাকায় কাঁচ কোচ শব্দ তুলে গাড়ি দুটো চলল।
গাড়ি বেশ আস্তে আস্তে চলল। দু-একজন ভাইকিং বন্ধু গলা তুলে বলল-ও ভাই গাড়োয়ান–একটু তাড়াতাড়ি চালাও। একটু তাড়াতাড়ি চলেই আবার টিকির ঢিকির চলল।
প্রায় সন্ধ্যের মুখে ফ্রান্সিসরা সেই গৃহকর্তার বাড়ির সামনে এল। দেখল একটা শস্যটানা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ভাইকিংরা ধ্বনি তুলল–ও–হো–হো।
গৃহকর্তা বেরিয়ে এল। ফ্রান্সিসের কাছে এসে বলল
আপনাদের জন্য গাড়ি আনিয়ে রেখেছি।
–অনেক ধন্যবাদ। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
বিস্কো ডাকল–ফ্রান্সিস।
–কী বলছো? ফ্রান্সিস ওর দিকে তাকাল।
–বলছিলাম এখন সামনে রাত। কোথায় থাকবো, খাবো। বরং এখানেই আমরা আশ্রয় নিই। থাকা-খাওয়া দুটোই জুটবে। কাল ভোরে বেরিয়ে পড়বো। বিস্কো বলল।
ফ্রান্সিস গৃহকর্তাকে বলল–এই রাতে গেলে রাতের খাওয়াদাওয়ার সমস্যায় পড়বে। আপনি যদি আমাদের মানে এই রাতটা
–অবশ্যই। আসুন–আসুন। গৃহকর্তা বলল।
রাতে ঐ বাড়িতেই ভাইকিংরা থাকল-খেল। গাড়ির ঝাঁকুনিতে সবাই কমবেশি গা হাত কোমরের ব্যথায় কাহিল হয়ে পড়ল।
হাত পায়ে ব্যথা নিয়েই রাত কাটাল ভাইকিংরা।
ভোর হল। ফ্রান্সিসের ঘুম ভাঙল। বন্ধুরা মুখটুখ ধুচ্ছে। নিজেও মুখ ধুয়ে এল। একটুপরেই সকালের খাবার দেওয়া হল। বাসি মোটা রুটিআর তরিতরকারী। খেতে খেতেবিস্কো বলল
–ফ্রান্সিস এখন কী করবে?
–আমরা দুজন বাদে তোমরা সবাই জাহাজে ফিরে যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা হানমের গুপ্তধন খুঁজবে? বিস্কো বলল।
নিশ্চয়ই। ফ্রান্সিস বলল।
এবার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস যদি কিছু না মনে কর তবে একটা কথা বলি।
-বলো। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি ভাবছি–মানে শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা। এটা তো সবাইকে বলা যায়না। আমি জাহাজেই থাকবো। কয়েকটা দিন বিশ্রাম নেবো। ফ্রান্সিস কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল–তুমি কি দেশে ফিরে যেতে চাও? শাঙ্কো চমকেগিয়ে বললনা, নাফ্রান্সিস। তোমার সঙ্গ আমি কোনমতেই ছাড়বো না। একটু থেমে বলল–আমি জাহাজে যাবো না।
না তোমার বিশ্রাম চাই। আমি বিস্কোকে নেব। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। কয়েকদিন বিশ্রাম না নিলে আমি পারবো না। শাঙ্কো বলল।
–ঠিক আছে। তুমি বিস্কোকে ডেকে দাও। ফ্রান্সিস বলল।
একটু পরে শাঙ্কো বিস্কোকে নিয়ে এল। ফ্রান্সিস শাঙ্কোর শরীর খারাপের কথা বলল। এটাই বলল শাঙ্কো বিশ্রাম নেবে। তুমি আমার সঙ্গে থাকবে।
–ঠিক আছে। তবে শাঙ্কোর ছোরা ছোঁড়ার হাত আমার নেই। ও নিখুঁত।
কয়েকজন ভাইকিং বন্ধু এল ফ্রান্সিসের কাছে। বলল–দুপুরের খাওয়াটা খেয়ে বিকেল নাগাদ রওনা দিতে চাই। ফ্রান্সিস মাথা এপাশ ওপাশ করল। বললনা। এখনই রওনা দেব।
–দুপুরে কোথায় খাব? একজন ভাইকিং বন্ধু বলল।
–যদি খাবারের ব্যবস্থা না করতে পারি তবে খাব না। ফ্রান্সিস বলল।
–রাতও তো হয়ে যাবে। একজন ভাইকিং বলল।
–হ্যাঁ তা তো হবেই। আমরা রাতেই গাড়ি চালাবো।
এবার যাওয়ার তোড়জোড় চলল। অল্পক্ষণের মধ্যেই ভাইকিংরা গিয়ে গাড়িতে চড়ল। ফ্রান্সিস এ বাড়ির কর্তা ভদ্রলোককে কাছে আসতে বলল। ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন। ফ্রান্সিস তার দু’হাতনিজের দু’হাতে জড়িয়ে ধরলো। বলল–আপনি আপনার স্ত্রী মেয়েকে আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাবেন।
গাড়ি ভাইকিংদের নিয়ে চলল। ঝাঁকুনিও চলল। আজকে আর আগের দিনের মত কষ্ট হচ্ছে না। পাথরের টুকরো পাতা মাটির পথ। বোধহয় সেইজন্যেই।
অন্ধকার। কোনদিকে কোথাও আলোর চিহ্নমাত্র নেই।
হঠাৎ একটা মোড়ে কিছু মোমবাতির আলো দেখা গেল। কিছু দোকানপাট। ভাগ্যি বলতে হবে একটা সরাইখানাও পাওয়া গেল।
ফ্রান্সিস বিস্কোকে নিয়ে গাড়ি থেকে নামল। দুজনে সরাইখানায় ঢুকলো। কয়েকটা টানা টেবিল মতো। তার ওপর জ্বলন্ত মোমবাতি রাখা। সরাইখানার মালিক এগিয়ে এল। কৃতার্থের হাসি হেসে বলল–আপনারা খাবেন?
