রাতের খাওয়া শেষ হল। বিস্কো ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল–ফ্রান্সিস এবার রাজা জুদেবা আর তার সৈন্যদের নিয়ে কী করবে?
–রাজা জুদেবা রাতে অন্ধকারে বনের মধ্যে দিয়ে ফিরে যেতে হবে। সৈন্যরাও রাজার– সঙ্গেই যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু সৈন্যদের কী দোষ? ওরা তো রাজার হুকুম তামিল করেছে। বিস্কো বলল।
–বেশ ওদের হাতের দড়ি কেটে দাও। ফ্রান্সিস বলল।
–সেটাই এখন করি তাহলে। বিস্কো বলল।
হা। যাও। ফ্রান্সিস বলল।
বিস্কো রাজা জুদেবার সৈন্যদের হাতে বাঁধা দড়ি কেটে দিল। তারপর প্রান্তরে নিয়ে এল। হাতের বাঁধন কাটা হয়েছে। ওরা এতেই খুশি। ওরা অন্ধকারে হেঁটে চলল। রাজা জুদেবাকে প্রান্তরে নিয়ে আসা হল। ফ্রান্সিস অন্ধকারে রাজার কাছে এসে বলল–নিন–পথে খাবেন। এই বলে দুটো আপেল রাজাকে দিল। রাজা নিল। তারপর তার দেশের দিকে পা বাড়াল।
রাজা জুদেবাকে সামনে রেখে তার সৈন্যরা চলল। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ঐ বনের মধ্যে দিয়ে রাজাকে নিয়ে যেতে হবে।
কিন্তু রাজা কি পারবেন? এই অন্ধকারে যেতে হবে। রাজা জুদেবার একজন সৈন্য বলল।
–তোমাদের রাজা নিরপরাধ প্রজাদের এইভাবেশাস্তি দিত। নিরপরাধ মানুষগুলোকে কী কষ্টে এই বনভূমি পার হতে হতো আজ তোমাদের রাজা সেই কষ্টটা ভোগ করুক। বুঝুক কষ্ট কাকে বলে। তোমাদের রাজাকেআমি রাতের খাওয়াও খেতে দিই নি। ফ্রান্সিস বলল। ফ্রান্সিস প্রান্তরে কিছুদূর পর্যন্ত রাজা জুদেবা আর তার পরাজিত সৈন্যদের সঙ্গে চলল বনের দিকে। বনের কাছাকাছি এসে ফ্রান্সিস দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর ফিরে চলল রাজবাড়ির দিকে। ওখানেই বন্ধুরা আছে।
ফ্রান্সিস রাজবাড়িতে ফিরে এল। দেখল বন্ধুরা সব ছড়িয়ে টড়িয়ে শুয়ে আছে। মোমবাতির আলোয় যা দেখল তাতে বুঝল কিছু ভাইকিং গৃহকর্তা ভদ্রলোকের বাড়িতে চলে গেছে।
ফ্রান্সিস রাজা মুর্তাজার শয়নকক্ষে এল। রাজার জাজিম বিছানো বিছানায় বন্ধুরা শুয়ে আছে। বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে। বিস্কো বলে উঠল–এসো তোমার জন্যে জায়গা রেখেছি। ফ্রান্সিস বিস্কোর পাশে শুয়ে পড়ল। ভীষণ ক্লান্ত মনে হচ্ছে নিজেকে। বিস্কোর সঙ্গেও কথা বলতে ইচ্ছে করল না। অল্পক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ল।
ফ্রান্সিস সাধারণত ভোরেই ওঠে। সেদিন পারল না। উঠতে একটু বেলাই হল। উঠে দেখল রাজপুরোহিত পিরেল্লো ওর পাশেই বসে আছেন। ফ্রান্সিস উঠে বসল। তারপর ভেতরের ঘরে এসে হাতমুখ ধুল। দুহাত তুলে হাই তুলল। পিরেল্লোর কাছে এল। বলল
কিছু বলবেন? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–হ্যাঁ। তারপর গলা নামিয়ে বলল–দেবতার মূর্তিগুলো বোঁচকায়–ফেরৎ দিন।
–উঁহু। রাজা কানবহনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–আমার সমস্ত পরিকল্পনাই মাঠে মারা গেল। পিরেল্লো বলল।
—-চোরাই মাল হাতছাড়া হয়ে গেল। ফ্রান্সিস বলল।
বিস্কো খাবার নিয়ে এল। তিনজনের জন্যেই আনল। বুনো আলু আর সজিপাতার ঝোল। সঙ্গে দুটো করে রুটি। তিনজনে খেতে লাগল।
–এখন কী করবে? বিস্কো বলল।
–সেকথাই ভাবছি কাল রাত থেকে। রাজা হানমের গুপ্তধনের কথা জেনেছি। কাজেই ঐ গুপ্তধন উদ্ধার করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
কী করে করবে? পিরেল্লো জানতে চাইল।
আগে তো রাজা হানমের মন্দিরে যাই। সব দেখিটেখি। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে সোনার মূর্তিগুলো ফেরৎ পাবোনা? পিরেল্লো বলল।
—না। ফ্রান্সিস বলল।
আমি-গুপ্তধন খোঁজার ব্যাপারে আপনাদেরসাহায্য করতে পারতাম। পিরেল্লো বলল।
ফ্রান্সিস হাসল। বলল–আপনি যদি ঐ ধনভাণ্ডারের খোঁজ জানেন তবে উদ্ধার করলেন না কেন?
–চেষ্টা করেছি। নানাভাবে। গুপ্তধন পাইনি। আরো চেষ্টা করলে পেয়ে যাবে হয়তো। পিরেল্লো বলল।
–তাহলে সেই চেষ্টাই করুন। আমরা চলে যাই। বিস্কো বলল।
–না না। এটা রাজা কানবহনা শুনলে আমি বিপদে পড়ে যাবো। পিরেল্লো বলল।
–তাহলে আর কথা না। গৃহকর্তার বাড়িতে যান। গৃহকর্তাকে দিয়ে তিনটে শস্যটানা গাড়ির ব্যবস্থা করুন। ফ্রান্সিস বলল।
ঠিক আছে যাচ্ছি। পিরেল্লো বলে গেলেন।
রাজা মুজার্তা রাণী ও পুত্রকে নিয়ে বিকেলে এলেন। শয়নকক্ষে ফ্রান্সিসদের দেখলেন। রানী ছেলেকে নিয়ে অন্তঃপুরে চলে গেলেন। পরিচারক পরিচারিকারা ফিরে এল। রাজবাড়িতেও সমস্ত দেশে আনন্দ উৎসব শুরু হল।
রাজা এগিয়ে এসে ফ্রান্সিসের ডানহাতটা ধরলেন। বললেন–আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ রইলাম। আপনাদের জন্যেই আমি সব ফিরে পেলাম। ফ্রান্সিস বলল–আপনি আপনার সব ফিরে পেয়েছেন এতেই আমি আনন্দিত।
–আপনারা কি আজকেই চলে যাবেন? রাজা জিজ্ঞেস করলেন।
হ্যাঁ। বন্ধুরা জাহাজে চলে যাবে। আমরা কয়েকজন রাজা কানবহনার রাজধানীতে থাকবো কিছুদিন।
–আপনারা কয়েকজন থাকবেন কেন? রাজা জানতে চাইলেন।
ফ্রান্সিস একটু থেমে বলল–অতীতের রাজা হানমের গুপ্তধনের কথা তো শুনেছেন।
-হ্যাঁ। শুনেছি। রাজা বললেন।
–সেই গুপ্তভাণ্ডার আমরা উদ্ধার করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–পারবেন? রাজা একটু হতাশার সঙ্গেই বললেন।
–নিশ্চয়ই পিরবো। ফ্রান্সিস জোর দিয়ে বলল।
ফ্রান্সিসরা খেতে বসেছে তখনই পিরেল্লো দুটো ঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ে এল। গাড়ি রেখে পিরেল্লো রাজবাড়িতে ঢুকল। খাওয়ার ঘরে ঢুকে দেখল ফ্রান্সিসরা খেতে বসেছে। ফ্রান্সিস গলা তুলে বলল–পিরেল্লো আপনি আসুন এখানে আপনার জন্যে জায়গা রেখেছি। পিরেল্লো এসে বিস্কোর পাশে বসল।
