–পোশাক দেখে আর গায়ের বাদামী রং দেখে। ফ্রান্সিস বলল।
–সেটা বন্ধুদের বলে দাও। বিস্কো বলল।
–তুমিই বলো। আমি একটু বিশ্রাম করবো। ফ্রান্সিস বললো।
বিস্কো উঠে দাঁড়াল। গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব আমরা রাজা জুবেদার সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করতে যাচ্ছি। সেই সৈন্যদের পরনে থাকবে জামার রঙ হলুদ আর চোঙের মতো প্যান্টের রঙ কালো। এটা আমি জেনেছি রাজপুরোহিত পিরেল্লোর কাছ থেকে। তাদের। গায়ের রং তামাটে। এসব দেখেই ওদের চিনবে। এসময় পিরেল্লো উঠে দাঁড়াল। বলল–
শাঙ্কো যা বলল সেটা রাজা জুবেদার সৈন্যদের পোশাক সম্মন্ধে। তোমরা অবশ্য সহজেই চিনবে।
ভাইকিংরা রাজা মুজার্তার সৈন্যরা কেউ কেউ শুয়ে পড়ল। কেউ বসে রইল। তারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছে।
ফ্রান্সিস শুয়ে শুয়ে আক্রমণের নকশা ঠিক করছিল ও ভাবছিল–সদর দেউরি দিয়ে একদল ভাইকিং আর সৈন্যরা ঢুকবে। রাজবাড়ির পেছনে বিস্কো খিড়কির দরজা দিয়ে ভাইকিং, সৈন্যদের দিয়ে আক্রমণ করবে। যতক্ষণ রাজা জুবেদার সৈন্যরা হার স্বীকার না করবে ততক্ষণ লড়াই চলবে। ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। গলা চড়িয়ে বলতে লাগল–ভাইসব–আমার পরিকল্পনা শোন। একদল সদর দেউড়ির সৈন্যদের আক্রমণ করবে। অন্য দল রাজবাড়ির পেছনের খিড়কি দরজার প্রহরীদের আক্রমণ করবে। একসঙ্গে। দু’জায়গাতেই লড়াই হবে। রাজা জুবেদার সৈন্যরা পরাজয় স্বীকার করবে। ওরা হেরে যাবে এটা ঠিক। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–কিন্তু আসল লড়াই হবে এরপরে। ওরা রাজা মুজার্তার সৈন্যাবাস দখল করেছে। সেখানে রাজবাড়ি আক্রান্ত এই খবর ওদের দেওয়া হবে। তখন ওরা ছুটে আসবে। ঐ প্রান্তরে গিয়ে দাঁড়াব আমরা। ওখানেই ওদের সঙ্গে আমাদের লড়াই হবে। শেষ লড়াই। তোমরা সেই আক্রমণের মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকো। একটু থেমে বলল–রাজবাড়ির পাহারাদাররা হয় মরেছে, আহত হয়েছে নয়তো পালিয়েছে। এখন রাজা বন্দী, রাজবাড়িও আমার কজায়। শেষ লড়াই। তোমরা তৈরি হও।
সূর্য উঠল। পূবের আকাশ লাল হয়ে গেছে। এখন সবই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। চারদিক আলোয় আলোময়।
জুদেবার সৈন্যরা ছুটে আসছে। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–আক্রমণ করো। ওদের একমাত্র অস্ত্র বর্শা। যে করেই হোক সেই অস্ত্র ওদের হাত থেকে ছাড়াতে হবে। তাহলেই ওরা নিরস্ত্র হয়ে পড়বে। খালি হাতে ওরা কী লড়াই করবে। অস্ত্র কাড়ো।
ফ্রান্সিসরা প্রান্তরে উঠে এল। সার বেঁধে দাঁড়াল।
জুদেবার সৈন্যরা ফ্রান্সিসদের ওপর বর্শা ছুঁড়ে মারল। ফ্রান্সিসরা বিদ্যুৎগতিতে সরে সরে গেল। বর্শাগুলো মাটিতে পড়ে রইল। অবশ্য দুজন-একজন ভাইকিং অন্যটি রাজা মুজার্তার সৈন্য আহত হল। ফ্রান্সিসরা কয়েকজন আহত যুবককে কাঁধে ঝুলিয়ে নিয়ে রাজবাড়িতে এক একটা ঘরে মেঝেয় শুইয়ে দিল।
ওদিকে প্রান্তরে লড়াই চলছে। জুবেদার সৈন্যরা বর্শা ছুঁড়তে লাগল। বর্শা হাতছাড়া হতেই তারা অস্ত্রহীন দাঁড়িয়ে পড়ল। ভাইকিংরা তাদের তরোয়াল চালিয়ে আহত করতে লাগল। জুদেবার সৈন্যরা কখনও তরোয়ালের সঙ্গে লড়াই করে নি। ওরা হকচকিয়ে গেল। কীভাবে লড়বে তা বুঝে উঠতে পারল না।
লড়াই চলল। রাজা জুদেবার সৈন্যরা বিদ্যুৎগতিতে তরোয়ালের মার রুখতে পারল না। দলে দলে হার স্বীকার করতে লাগল।
বিকেলের দিকে জুদেবার সব সৈন্য হার স্বীকার করল। ওদের দড়িতে হাত বেঁধে রাজবাড়িতে নিয়ে আসা হল।
রাজা জুদেবা শয়নকক্ষে পালঙ্কের ওপর বসে রইলেন। পরাজিত অসহায় রাজা জুদেবা পিরেল্লোকে নিয়ে ফ্রান্সিসশয়নকক্ষে এল। পিরেল্লো বলললড়াইয়ের খবর জানেন তো?
–আন্দাজ করতে পারছি। আমার সৈন্যরা পরাজিত। জুদেবা বললেন।
–হ্যাঁ। বেশ কিছু সৈন্যকে বন্দী করা হয়েছে। ফ্রান্সিস বলল–এই রাজবাড়ির দেউড়িতে প্রহরীরা পেছনের খিড়কি দুয়ারের প্রহরীরা সবাই হেরে গেছে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে আমাকে তোরাজা জুদেবা বলতে গেল।
–এই রাজ্য থেকেবিদায় সঙ্গে আপনার সৈন্যদেরও বিদায় নিতে হবে। আর একটা কথা আপনাকেমুক্তির এষ্টা শর্তআছে। আপনি ভবিষ্যতে কোনদিন এই রাজ্য আক্রমণ করবেন না।
-বেশ। বেশ ভারি গলায় রাজা জুদেবা বলল।
–আপনাদের একটু পরেই রওনা হতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
না না। অন্ধকারে খুব অসুবিধে হবে। রাজা বলল।
না। আপনাকে একটু পরেই যেতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–আমরা রাতের খাবার খেয়ে-রাজা বলতে গেল।
–না। আপনাকে খেতে দেওয়া হবে না। ফ্রান্সিস বলল।
–উপবাস?
–হ্যাঁ। পিরেল্লোর কাছে শুনেছি–আপনীনাকিনিরীহ প্রজাদের উপোসী রেখে তাদের তিলে তিলে মৃত্যু দেখতে ভালোবাসেন। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল বলুন–ঠিক কিনা।
– না মানে–অপরাধ করলে–রাজারা বলতে গেল।
–না। নির্দোষকেও হত্যা করে থাকেন। ফ্রান্সিস বলল। রাজা জুদেবা কোন কথা বলল না। তারপর বলল
–দুটো মশাল যদি
না। অন্ধকারে হেঁটে যেতে হবে। ফ্রান্সিস বলল–যা শুনেছি আপনী নিরীহ প্রজাদের অন্ধকার রাতে বনের মধ্যে জোর করে ঢুকিয়ে দেন। অন্ধকারে বনের মধ্যে গাছের গুঁড়িতে ধাক্কা খেয়ে অনেকেই মারা যেত। তাছাড়া বন্য পশুদের আক্রমণ বা সাপের ছোবলে তারা মারা যেত। বলুন–ঠিক কিনা।
রাজা জুদেবা চুপ করে রইল। হয়তো বিনা অপরাধে প্রজাদের উপর যে অত্যাচার করেছে তার কথাই ভাবল।
