–কী আর চাইবো। তিনি বেঁচে থাকা সৈন্যদের নিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে যাবেন। রাজা বললেন।
-যদি বলি আমরা রাজা জুবেদাকে হত্যা করতে পারি। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা মুজার্তা চমকে উঠলেন। দুহাত নেড়েবললেন-না-না। তার মৃত্যু আমি চাইনা।
–রাজা জুবেদা কিন্তু নির্মম নিষ্ঠুর হিংস্র। ফ্রান্সিস বলল।
–তবু আমি কখনও তার মৃত্যু চাইনা। রাজা মুজার্তা বললেন।
-ও কিন্তু আপনাকে খুঁজে পেলে বন্দী করতে পারে, আপনাকে হত্যা করতে পারে। ফ্রান্সিস বলল
–তা হোক। তবুও আমি ওর মৃত্যু চাইনা। রাজা বললেন।
-বেশ। তা হলে আমি স্থির করলাম–রাজা জুবেদাকে এবং সৈন্যদের হাত বেঁধে তার রাজ্যের সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেব। তারপর তারা যেখানে খুশি যায় যাক। ফ্রান্সিস বলল।
–তাই করুন। আমিও এটাই চাই। রাজা বললেন।
ফ্রান্সিস বলল–বেশ। তাই করবো।
হঠাৎ বাইরের দরজার কাছ থেকে দরজা ধাক্কা দেবার শব্দ হল। কারা গলা চড়িয়ে বলছে–দরজা খোলো। বাড়ির মালিক অমাত্য ভেতরের ঘর থেকে ছুটে এলেন।
রাজা বললেন অমাত্যকে–বোধহয় রাজা জুবেদার সৈন্যরা আমার খোঁজ পেয়েছে। তাই আমাকে বন্দী করতে এসেছে।
দেখছি–দেখছি। অমাত্য চলে যাবার জন্যে ঘুরে দাঁড়াতেই দেখল বর্শা উঁচিয়ে দুজন সৈন্য এই ঘরের দিকে আসছে। ফ্রান্সিস মৃদুস্বরে বলল–বিস্কো।
বিস্কো সঙ্গে সঙ্গে বুকের কাছে হাত ঢুকিয়েওর ছোরাটা বেরকরল। অমাত্য ছুটে ঐ দুজন সৈন্যের দিকে এগোলেন। একজন সৈন্য বর্শা নামিয়ে অমাত্যের বুকলক্ষ্য করেছুঁড়ল। বর্শা অমাত্যর বুকে বিঁধে গেল। অমাত্য বর্শাটা ধরে মাটিতে পড়ে গেলেন। বর্শাটা ঐ সৈন্যের হাতছাড়া হল। ফ্রান্সিস ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ওর চোয়াল লক্ষ্য করে ঘুষি চালাল। সৈন্যটি ছিটকে মেঝেয় পড়ে গেল। অন্য সৈন্যটি বর্শা হাতে এগিয়ে এল। বিস্কো দ্রুত ছুটে গিয়ে ঐ সৈন্যটির বুকে ছোরা বিধিয়ে দিল। সৈন্যটির মুখ থেকে অক্ শব্দ বেরিয়ে এল। ও মেঝেয় পড়ে গেল।
ওদিকে ফ্রান্সিস ঐ সৈন্যটির কানের ওপর চোয়ালে কপালে ঘুষি চালাতে লাগল। সৈন্যটি কাটা কলাগাছের মতো ধপ করে মেঝেয় পড়ে গেল। সৈন্যটি জ্ঞান হারালো।
ফ্রান্সিস অমাত্যের বুক থেকে বর্শাটা খুলে নিল। বলল–বিস্কো। এই দুটোকে বাড়ির বাইরে ফেলে দিতে হবে। হাত লাগাও। দুজনে একটা একটা করে দুটো সৈন্যকে বাড়ির বাইরে নিয়ে এল। অস্পষ্ট আলোয় দেখল রাস্তার পাশেই একটা জলা। দুজনে একটা সৈন্যকে হাতে আর পায়ে ধরে ঝুলিয়ে দুপাশে দোলাতে দোলাতে ছুঁড়ে জলায় ফেলে দিল। সমুদ্রে এই রীতিতেই মৃতদেহ ফেলা হয়। অন্যটিকেও সেইভাবে ফেলল। অমাত্যের বাড়িতে এল। বাড়ির অন্দরমহল তখন কান্নার রোল উঠেছে।
ফ্রান্সিস রাজা মুজার্তার কাছে এসে বলল-আমরা যাচ্ছি কাল সকালে রাজা জুবেদা তার সৈন্যদল নিয়ে আপনার রাজত্ব ছেড়ে চলে যাবে।
–আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা। রাজা বললেন।
–ঠিক আছে। সে সময় আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–না-না।
পিরেল্লো এতক্ষণ একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ফ্রান্সিস তাকে ডাকল।
ফ্রান্সিসরা অমাত্যর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। বন্ধুদের কাছে এসে অমাত্যের বাড়ির ঘটনাটা বলল। সবাই উৎসাহিত হল।
রাতের খাবার একটু তাড়াতাড়িই খেয়ে নিতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে বসে বিশ্রাম নিয়ে আমরা রাজবাড়ি আক্রমণ করবো। একটু অন্যরকম লড়াইহবে। ওরা লড়বে বর্শা দিয়ে আমরা লড়বো তরোয়াল দিয়ে। এরা জীবনে কখনো তরোয়াল দেখেনি। কাজেই ওই তরোয়াল দিয়ে কীভাবে লড়ে এসম্মন্ধে এদের কোনো ধারণাই নেই। ফ্রান্সিস বলল। হঠাৎ একটা চিন্তা ওর মাথায় এল। রাজা মুজার্তার তো সৈন্যদল নিশ্চয়ই আছে।
ফ্রান্সিস পিরেল্লোর দিকে তাকাল। বলল–পিরেল্লো–রাজা মুজার্তার তো সৈন্যবাহিনী ছিল। সেই সৈন্যরা এখন কোথায়? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
মা মেরিই জানে। কোথায় কোথায় লুকিয়ে আছে। বাইরে বেরোতে সাহস পাচ্ছে না। পিরেল্লো বলল।
–আপনি এক্ষুণি রাজা মুজার্তার কাছে যান। তিনিই হয়তো তার সৈন্যদের খোঁজ দিতে পারতেন। ফ্রান্সিস বলল।
মনে হয় না। রাজার এখন যা অবস্থা। আসলে রাজা মুজার্তার সৈন্যরা সংখ্যায় খুবই কম। রাজা তো যুদ্ধবিগ্রহের কথা ভাবতেনই না। পিরেল্লো বললেন।
এটা ভুল। রাজত্ব রাখতে গেলে যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী সৈন্যবাহিনী রাখতে হয়। উনি নিজে যুদ্ধ চান না। ভালো কথা। কিন্তু অন্যদেশের শাসক যে কোন মুহূর্তে তার রাজত্বের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এজন্যে আগে থেকে তৈরি থাকা উচিত।
–আসলে রাজা মুজার্তা এত সব ভাবতেন না। পিরেল্লো বললেন।
যাক গে। আপনি সৈন্যদের খোঁজ কী করে পাবেন তা জেনে আসুন। আমাদের খেতে বসার আগে আপনি চলে আসবেন। ফ্রান্সিস বললেন।
পিরেল্লো চলে গেলেন। ভাইকিংরা নিজেদের মধ্যে শুয়ে বসে গল্পটল্প করতে লাগল।
পিরেল্লো অমাত্যের বাড়িতে পৌঁছল। চাঁদের অস্পষ্ট আলোয় দেখল বাড়ির সামনে তিনচারজন যোদ্ধা। বোঝাই যাচ্ছে ওরা রাজা জুবেদার সৈন্য।
পিরেল্লো তাদের সামনে এলো। প্রধান দরজার দিকে চলল। যোদ্ধারা হাত তুলে পিরেল্লোকে আটকাল। পিরেল্লো বললেন–আমি রাজপুরোহিত। রাজা মুজার্তার সঙ্গে দেখা করব। দরকারি কথা আছে। দলনেতা নাকেমুখে শব্দ করল। তারপর বলল,
