একটা বিরাট গাছের কাছে এল। নীচেটা পাথর বাঁধানো। ফ্রান্সিস বসল বাঁধানো পাথরে। ওর মন বলল ও নিরাপদে নেই। এই কথাটা ভাবতে ভাবতেই দুজন রাজা জুদেবার সৈন্য গাছের আড়াল থেকে ফ্রান্সিসের সামনে এল। কাঠকয়লা মাখা মুখ দেখে ওরা বুঝে উঠতে পারল না লোকটা কোন দেশের। একজনের হাতে বর্শা, অন্যজনের হাতে ছোরা। বর্শাধারী সৈন্যরা ওদের ভাষায় বলল–তুমি কে? কোত্থেকে এসেছো?
ফ্রান্সিস দুই কান মুখ দেখাল। বোঝালো বোবা। কানেও শুনতে পায় না। সৈন্যদের কেমন মনে হল ফ্রান্সিস কালোদেশের লোক। ফ্রান্সিসনানাভাবে বোঝাবার চেষ্টা করল– ও অন্য দেশ থেকে এসেছে। বর্শাধারী বলল–এখন এই দেশে যুদ্ধকালীন অবস্থা চলছে। এর মধ্যে তুমি এসেছো কেন? ফ্রান্সিস কিছুই বুঝল না। জোরে মাথা নাড়তে লাগল। বর্শাধারী যোদ্ধাটি এবার ফ্রান্সিসকে মেরে ফেলতে চাইল। ও ওর দুচোখ দেখে ফ্রান্সিস সেটা বুঝতে পারল। ফ্রান্সিস সজাগ হল। সৈন্যটি বর্শার ফলাটা ফ্রান্সিসের বুক লক্ষ্য করে ছুঁড়ল। ফ্রান্সিস দ্রুত সরে গিয়ে বর্শার হাতলের দিকটা ধরে ফেলল। ফ্রান্সিস স্পেনীয় ভাষায় বলল–তুমি আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলে। কাজেই তোমাকে ছাড়া হবে না। এইবার মর। তখন ফ্রান্সিসের চোখ দুটো জ্বলে উঠল। বর্শাটা ধরে সৈন্যটির বুক লক্ষ্য করে বর্শাটা ছুঁড়ল। যোদ্ধাটি লাফিয়ে উঠল। বর্শাটা ওর পেটে ঢুকে গেল। সৈন্যটি কাতরাতে কাতরাতে বর্শাটা টেনে বের করতে গেল। কিন্তু বর্শা বের করতে পারল না। বর্শাটা ধরে ও মাটিতে পড়ে গেল।
এবার বড় ছোরা হাতে অন্য সৈন্যটি ফ্রান্সিসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস দ্রুত সরে গেল। সৈন্যটি ফ্রান্সিসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস দ্রুত সরে গেল। সৈন্যটি ফ্রান্সিসকে ধরতে পারল না। মাটিতে পড়ে গেল। ফ্রান্সিস ওর ছোরাসুদ্ধ হাতটা পা দিয়ে চেপে ধরল। সৈন্যটি ছোরাটা বের করার জন্যে চেষ্টা করতে লাগল। সৈন্যটি এপাশ ওপাশ করতে লাগল। ফ্রান্সিস অতি দ্রুত ছোরাটা বের করল। তারপর বিন্দুমাত্র অপেক্ষা করল না সোজা সৈন্যটির গলায় বসিয়ে দিল। সৈন্যটি চিৎকার করে উঠল। তারপর ও আর কোন শব্দ করতে পারল না। তারপর হাত পা ছড়িয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ল।
ফ্রান্সিস ছোরাটা কোমরে গুঁজল। বর্শাটা হাতে নিল। চলল পাহাড়ের নীচের প্রান্তরটার দিকে। হঠাৎ দেখল রাজা জুদেবার একদল সৈন্য আসছে। ফ্রান্সিস সঙ্গে সঙ্গে একটা বড় গাছের আড়ালে চলে এল। সৈন্যরা চলে গেল। ফ্রান্সিস এবার হ্যারির কাছে চলে এল।
হ্যারি চুপ করে শুয়েছিল। ফ্রান্সিস একটু উদ্বিগ্ন হল। বলল–এখন তোমার শরীর কেমন?
–এখনো একেবারে সুস্থ নই। শরীরের দুর্বলতাটা আছেই। হ্যারি বলল।
–তুমি বিশ্রাম করো। ফ্রান্সিস বলল। তারপর সেই দুই সৈন্যের কথা বলল। পিরেল্লো চুপ করে বসেছিল। এবার বললো–যাক দুটোকে তো মেরেছেন। এভাবেই ওদের মারতে হবে।
সেদিন বিকেলেই বাড়ির কর্তা একটা শস্যটানার গাড়ি নিয়ে এল। শাঙ্কো আর হ্যারি তৈরিই ছিল। দুজনে গিয়ে গাড়িটার কাছে দাঁড়াল। ফ্রান্সিস তখন পিরেল্লোকে নিয়ে এল। বলল–এই দু’জন যাবে আলকাবার বন্দরে। পিরেল্লো বুঝিয়ে বলল সেটা। গাড়োয়ান মাথা ঝাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিল সে বুঝেছে। সেই সঙ্গে বলল–বড় দূর।
–তোমাকে একটা সোনার চাকতি দেব। শাঙ্কো বলল।
বেশ। গাড়োয়ান হাসল। ফ্রান্সিস বলল শাঙ্কো এই গাড়িটা ছেড়ে দিও না।
আলকাবা থেকে গাড়ি জোগাড় করে এই গাড়িটিকেও নিয়ে চলে এসো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আমি খুব চিন্তায় থাকবো।
পিরেল্লো বলল, গাড়োয়ানকে বলুন কিছু খড় জোগাড় করে আনতে। পিরেল্লো গাড়োয়ানকে বলল সেটা। গাড়োয়ান গাড়ি থেকে নেমে এল। একটু পরেই একগাদা খড় নিয়ে এল। সেই খড় গাড়ির ভেতরে বিছিয়ে দিল। শাঙ্কো কিছুটা খড় তুলে একপাশে বেশি করে রাখল। বলল হ্যারি তুমি এখানে বসো। হ্যারিতাই বসল। শাঙ্কো গাড়ি ছেড়ে দিতে বলল। গাড়োয়ান কিছুই বুঝল না। শাঙ্কো হাত নেড়ে বোঝাল। গাড়োয়ান গাড়ি ছেড়ে দিল।
ঘরে ফিরে ফ্রান্সিস বিছানায় বসল। গৃহকর্তা ভেতরে চলে গেল। অনেক চিন্তা এখন ফ্রান্সিসের মাথায়। সবচেয়ে বড় চিন্তা হ্যারির জন্যে। শস্যটানা গাড়িতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেতে খেতে যাওয়া যারিনা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপর লড়াইয়ের চিন্তা। রাজা জুবেদার সৈন্যরা ভালো যোদ্ধা কিনা। রাজা জুবেদা মানুষটাই বা কেমন। শেষ কথা হল একটাই– রাজা জুবেদার সৈন্যদের হার স্বীকার করতে হবে। এখন শুধু প্রতীক্ষা–ভাইকিং বন্ধুদের জন্যে।
বাড়ির কর্তা ফ্রান্সিসদের ঘরে ঢুকল। বলল–আমাদের রাজা হেরে গেলেন–এটা যে কী বেদনার আমি বলে বোঝাতে পারবো না।
ফ্রান্সিস বলল–আচ্ছা, রাজা মুজার্তা কোথায় আত্মগোপন করেছেন?
কী হবে তা শুনে। আপনারা তো মাত্র তিনজন। গৃহকর্তা বলল।
–অপেক্ষা করুন তিনজন তিরিশজন হবে। আপনি আমাকে রাজা মুজার্তার সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে পারেন?
কী হবে রাজার সঙ্গে কথা বলে। গৃহকর্তা বলল।
–সব ব্যাপারেই আপনি এত হতাশ হয়ে পড়ছেন কেন? ফ্রান্সিস বলল। রাজা জুবেদা আজকে জিতেছেন। সময় এলে আমরা পরের লড়াইয়ে জিতবো। ফ্রান্সিস বলল।
জানি না আপনি কী করে যুদ্ধে জেতার আশা করছেন। গৃহকর্তা বলল।
