আপনার যোদ্ধাদের একত্র করেছেন তো? পিরেল্লো বলল।
হ্যাঁ। আমার যোদ্ধাদের উপর আমার অগাধ বিশ্বাস। আমাকে বাঁচাবার জন্য ওরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে লড়াই চালাবে। কিন্তু আমার দুঃখ যে বেশ কিছু প্রজা মারা যাবে, আহত হবে। তাই আমি যুদ্ধ চাই না। রাজা জুদেবাকে বলব–আমি হার স্বীকার করলাম।
–কিন্তু আপনার ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে আপনাকে তো যুদ্ধ করতেই হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিকই বলেছেন। রাজা মুজার্তা বললেন–আমরা এখন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তবে আমরা সমস্যায় আছি। আমার রাজত্বের উত্তরভাগে দুর্ধর্ষ লড়িয়ে সৈন্য ছিল। কিন্তু ভূমিকম্পে সেই লড়িয়ে সৈন্যরা অনেক মারা পড়েছে কিছুদিন আগে। রাজা জুদেবা সেই খবর জানে। আমরা যে হীনবল হয়ে পড়েছি সেটা বুঝে লড়াই করতে আসছে। সাধারণ সৈন্যদের নিয়ে আমরা যতটা পারি লড়বো। এখন পর্যন্ত ভেবে রেখেছি আমরা হার স্বীকার করবো না। রাজা মুজার্তা বললেন।
হ্যাঁ। লড়াইয়ে মনের জোরটাই বড় কথা। কথাটা বলে ফ্রান্সিস উঠেদাঁড়াল। শাঙ্কোও উঠল। ফ্রান্সিস বলল–আমরা বিদেশী। আপনাদের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে পারি না। তবু আপনার মতো রাজার জন্য প্রয়োজনে আমরা লড়বো। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে তো ভালোই। রাজা মুজার্তা বললেন।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো মাথা একটু নুইয়ে রাজাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সভাঘরের দরজার দিকে চলল। ফ্রান্সিস বাইরে এসে দেখল ডানদিকে বিরাট প্রান্তর। পাহাড়ের কাছে তাই প্রস্তরাকীর্ণ। চাষ হয় না। ফ্রান্সিস বুঝল লড়াইটা এখানেই হবে। ফ্রান্সিস বলল–শাঙ্কো রাজা জুদেবার সঙ্গে লড়াইটা এখানেই হবে। রাজা মুজার্তাকে তার দেশবাসী পিতার মতো শ্রদ্ধা করে, বন্ধুর মতো ভালোবাসে। কাজেই রাজা মুজার্তাকে হারানো মুশকিল।
-তাহলে লড়াই তো হবেই। শাঙ্কো বলল।
হা–কোন সন্দেহ নেই। ফ্রান্সিস বলল।
হাঁটতে হাঁটতে ফ্রান্সিসরা যে বাড়িটাতে আশ্রয় নিয়েছে সেখানে এল। হ্যারি বলল তোমাদের ফিরতে বেশ দেরি হল। ফ্রান্সিস বিছানায় বসল। তারপর হ্যারিকে সব বলল। হ্যারি বলল–ওরকম একজন রাজা তাকে আমাদের সাহায্য করা উচিত।
–কিন্তু কীভাবে সাহায্য করবো? ফ্রান্সিস বলল।
–তার স্বপক্ষে লড়াই করে। শাঙ্কো বলল।
–তাহলে তো বন্ধুদের এখানে নিয়ে আসতে হয়। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি বলি কি আগেই বন্ধুদের নিয়ে আসার প্রয়োজন নেই। লড়াই হোক। যদি রাজা মুজার্তা হেরে যায় তখন আমরা সাহায্য করবো। শাঙ্কো বলল।
–শাঙ্কো ঠিকই বলেছে। হ্যারি বলল।
–ঠিক আছে। তবে আমাদের এখানে কয়েকটা দিন থাকতেই হবে। হ্যারি এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নয়। ফ্রান্সিস বলল।
-না-না। আমি অনেকটা সুস্থ। হ্যারি বলল।
উঁহু তোমার এখনও কয়েকটা দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম দরকার। ফ্রান্সিস বলল।
সেদিন সকালে রাজা জুদেবা আক্রমণ করল। রাজবাড়ির সামনে বিরাট প্রান্তরে দু’দলে লড়াই শুরু হল। চিৎকার হৈ-হল্লা। আহতদের আর্তনাদ গোঙানি ফ্রান্সিসরা সবই শুনতে পারছিল। দুপুরবেলা বাড়ির মালিক এসে জানিয়ে গেল রাজা মুজার্তা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিচ্ছে। রাজা মুজাৰ্তার সৈন্যরা ভালোই লড়ছিল। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পরে হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়। ফ্রান্সিস বলল–এখন কী করবে হ্যারি?
–এই বাড়িতেই শাঙ্কোদের জন্য অপেক্ষা করবো। হ্যারি বলল।
ফ্রান্সিসরা উঠে দাঁড়াল। হ্যারি বলল–কোথায় যাচ্ছো?
–বাইরেটা দেখে আসি। নৃশংস রাজা জুদেবার সৈন্যরা নিশ্চয়ই পরাজিত রাজার প্রজাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। রাজা জুদেবার সৈন্যদের কয়েকটাকে খতম করে আসি। অবশ্য শেষ লড়াই এখনও বাকি। ফ্রান্সিস বলল।
-যা করবে সাবধানে করো। ভুলে যেও না–আমরা বিদেশী। দু’পক্ষের কোন সৈন্যই আমাদের বুঝবে না। হত্যা করতে চাইবে। হ্যারি বলল।
–ঠিক আছে। ফ্রান্সিস হাত নেড়ে বলল। ফ্রান্সিস বাড়ির মধ্যে গেল। গৃহকর্তার স্ত্রীকে গিয়ে বলল–আমাকে কিছু কাঠকয়লা দিন।
উনি কিছুই বুঝলেন না। ফ্রান্সিস এবার উনুন দেখে উনুনের নীচে জমে থাকা কাঠকয়লা দেখলো। এবার উনি বুঝলেন। উনুনের নীচ থেকে কিছু কাঠকয়লা এনে ফ্রান্সিসকে দিলেন। উনি বুঝতে পারলেন না এখন এই বিকেলে কাঠকয়লা দিয়ে ফ্রান্সিসরা কী করবে।
ফ্রান্সিস হ্যারির কাছে এল। কিছুক্ষণের মধ্যে মুঠো মুঠো কাঠকয়লা এনে ফ্রান্সিসকে। দিলেন। উনি বুঝতে পারলেন না এখন এই বিকেলে কাঠকয়লা দিয়ে ফ্রান্সিসরা কী করবে।
ফ্রান্সিস হ্যারির কাছে এল। কিছুক্ষণের মধ্যে মুখে কাঠকয়লা ঘষল। মুখটা কালো গুঁড়ো দেখতে লাগল। এইভাবে গায়ের রঙ লুকিয়ে বাইরের রাস্তায় এলো। বাড়িগুলোর আড়ালে আড়ালে উত্তরের যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে চলল। জানতে হবে রাজা মুজার্তা কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন। অবশ্য এখন সেটা জানা খুব মুশকিল। বলা যায় অসম্ভব। কোথায় এখন আত্মগোপন করলেন সেটা আগে জানতে হবে।
ফ্রান্সিস চলেছে। এখান থেকে ওখান থেকে মানুষের গোঙানি চিৎকার কান্না সবই শুনতে পারছিল। হঠাৎ দেখল দুতিনজন রাজা মুজাৰ্তার সৈন্য পালিয়ে গেল। ফ্রান্সিস বলল বোঝাই যাচ্ছে রাজাকে না দেখে ওরা ভীত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় একমাত্র রাজাই ওদের যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।
