সেদিন একটু বেলায় রাজা মামুনের ফাঁসির ব্যবস্থা হল। বাজারে অনেক লোক জড় হল। সকলেই দুঃখে কাতর। একটু ক্ষ্যাপাটে হলেও রাজা মামুনকে ওরা ভালোবাসে।
সেদিনই সেনাপতির জাহাজ জাহাজঘাটায় ভিড়ল।
সেনাপতি তীরে নামল। তখনই নৌকোর আড়াল থেকে দুজন দেশবাসী সেনাপতির কাছে ছুটে এল। বলল–মাননীয় সেনাপতি ক্রীটের রাজা রাজামশাইকে ফাঁসি দেবার সব ব্যবস্থা করেছে। বাজারের কাছে।
সেনাপতি একদৃষ্টে নিজের জাহাজে গিয়ে উঠল। গলা চড়িয়ে বলল–সৈন্যভাইয়েরা আমরা এখনই আক্রমণ করবো। তোমরা তৈরি হয়ে নেমে এসো।
সৈন্যরা খোলা তরোয়াল উঁচিয়ে জাহাজ থেকে নেমে আসতে লাগল।
তখন রাজা মামুনকে ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয়েছে। ফঁসুড়েও হাজির। কিন্তু ক্রীটের রাজা হুকুম দেবার আগেই সেনাপতির সৈন্যরা ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
ফাঁসি বন্ধ হয়ে গেল। লড়াই শুরু হল। সেনাপতির সৈন্যরা অভিজ্ঞ যোদ্ধা কাকুশলী। রাজা ক্রীটের সৈন্যরা কচুটা হতে লাগল। বাকিাদক্ষিণমুখখানিজেদেরদ্বীপেরদিকেপালাতে লাগল।
রাজা মামুনের প্রাসাদশত্রুমুক্ত হল। দ্বীপবাসীরা রাজার জয়ধ্বনি তুলল। হিচকক দ্বীপ শত্রু মুক্ত হল। দ্বীপে আনন্দ উৎসব চলল।
ক্রীটের রাজা পরাজয় স্ফকার করল। সৈন্যবাহিনী নিয়ে ক্রীটে পালিয়ে গেল।
এবার ফ্রান্সিস সোনারঘরের খোঁজ শুরু করল। ও একটা জিনিস বুঝল সোনার ঘর প্রাসাদের বাইরে নয়। প্রাসাদের মধ্যেই আছে। রাজা সুমালা যে খেলাঘরগুলো তৈরি করেছিল ওখানেই আছে সোনার ঘর।
ফ্রান্সিস মাপকাঠিটা নিয়ে বসল। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারল না পাঁচ হাত লম্বা মাপকাঠিটা। পেতলের মাপকাঠিটা যেখানে থেকে শুরু হয়েছে। ওখানে একটা ইংরেজি ত্ৰ-এর মত চিহ্ন। ফ্রান্সিস এই চিহ্নটার অর্থ বুঝল না।
ফ্রান্সিস খুব বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল ব্যক্তি হিসেবে মন্ত্রীর কাছে শুনেছে।
সেদিন মন্ত্রীমশাইয়ের বাড়িতে গিয়ে হাজির হল। প্রহরীরা বলল–বল গে ভাইকিং দলনেতা সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। বিশেষ প্রয়োজন। প্রহরী চলে গেল। একটু পরে ফিরে এল। ফ্রান্সিসের ইঙ্গিতে প্রথম ঘরটায় ঢুকতে বলল।
ফ্রান্সিস ঘরটায় ঢুকল। বেশ সাজানো গোছানো ঘরে একটা বড় গোল টেবিল। চারদিকে বসার চেয়ার। পায়াওলা বাঁকা একটা চেয়ারে বসল ফ্রান্সিস।
কিছু পরে মন্ত্রী ঢুকলেন। ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। মন্ত্রী বললেন–বসে বসে ফ্রান্সিস বললেন–তোমরাই তো ভাইকিং?
–আজ্ঞে হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমরা কী কর? মন্ত্রী বললেন।
–দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াই। কোথাও গুপ্তধনভাণ্ডারের খবর পেলে সেই ধনভাণ্ডার খুঁজে বের করি। ফ্রান্সিস বলল।
বদলে গুপ্তধন ভাণ্ডারের অংশ নাও না? মন্ত্রী বলল।
আজ্ঞে না। ফ্রান্সিস বলল।
–বাঃ। তোমাদের নীতিবোধের প্রশংসা করছি। কিন্তু আমি তোমাদের কী উপকার করতে পারি? মন্ত্রী বলল।
–আপনি তো সোনার ঘরের কথা জানেনই। সেই ঘরটা রাজা সুমালা কোথায় তৈরি করেছিলেন বলে আপনার মনে হয়। ফ্রান্সিস বলল।
–সেটা বের করা খুবই মুশকিল। কারণ কোন সূত্র নেই। মন্ত্রী বললেন।
আমার কাছে একটা সূত্র আছে। অনেক হাত ঘুরে আমার হাতে এসেছে ওটা। ফ্রান্সিস মাপকাঠিটা বের করল।
–কী সেটা? মন্ত্রী বললেন।
-ফ্রান্সিস পাঁচ হাত লম্বা মাপকাঠিটা দেখালে মন্ত্রী কিছুক্ষণ হাতে নিয়ে দেখলেন তারপর বললেন–এটা কিসের মাপ?
–রাজা সুমাল যে সব খেলার জন্য ঘর বানিয়েছিলেন এই মাপকাঠিটা দিয়েই মাপা হয়েছিল সেসব। ফ্রান্সিস বলল।
–তা হতে পারে। মন্ত্রী বলল।
–মাপকাঠিই নাকি ওখানেইইটবালি ধুলোর মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল। ফ্রান্সিস বলল।
–এখন বল আমার কাছে এসেছো কেন?
ফ্রান্সিস আঙ্গুল দিয়ে মাপকাঠির চিহ্নটা দেখিয়ে বলল–এই চিহ্নটার অর্থ কী?
মন্ত্রীমশাই বেশ কিছুক্ষণ চিহ্নটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন–এটা আমি বলতে পারবো না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি জ্ঞান বৃদ্ধের কাছে যেতে পারো। উনি আমার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। তা ছাড়া পুরোনো আমলের লেখা চিহ্ন এসব নিয়ে চর্চা করেন। সহজেই চিহ্নের অর্থ বলে দিতে পারবেন।
–তাঁকে কোথায় পাবো? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–ঐ উত্তরের পাহাড়ের নিচে তার আশ্রম। মন্ত্রী বললেন।
ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। তখনই হ্যারি এল ফ্রান্সিসের খোঁজে। দুজনে চলল উত্তরের পাহাড়ের দিকে। পাহাড়ের নিচে এসে দেখল–একটা আশ্রম। বাড়ি ও গাছগাছালি। কয়েকটা হরিণ ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটি অল্পবয়স্ক ছেলে হরিণগুলোর সঙ্গে খেলা করছিল। ফ্রান্সিস ছোট ছেলেটিকে ডাকল। ছেলেটি কাছে এল। ফ্রান্সিস বলল–জ্ঞানবৃদ্ধের সঙ্গে দেখা করবো। তিনি কোথায় আছেন?
–আমার সঙ্গে আসুন। ছেলেটি ফ্রান্সিসদের নিয়ে চলল। পেছন দিকে একটা ছোট ঘর। ঘাসপাতায় তৈরি। সেই ঘরের দরজায় এসে ছেলেটি দাঁড়াল। হাত দিয়ে ঘরের ভেতরটা দেখাল।
দুজনে ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালো। দেখল–এক বৃদ্ধ একটা হরিনের চামড়ার আসনে বসে আছেন। হ্যারি বলল–একটা বিশেষ প্রয়োজনে আপনার কাছে এসেছিলাম।
-ঠিক আছে। ভেতরে এসে বসো।
ফ্রান্সিস আর হ্যারি একটা পাতা কম্বলে গিয়ে বসল। ফ্রান্সিস মাপকাঠিটা জ্ঞানবৃদ্ধকে দিল। বলল–একটা ক্ৰ৩ চিহ্ন আছে মাপকাঠিটায়। এটার অর্থ কী?
