সেনাপতি চলে গেল। ফ্রান্সিস রাজাকে বলল–সেনাপতি সঠিক পথ ধরেছেন। এই উপায় ছাড়া ওদের তাড়ানো যাবে না।
সেনাপতি বলল–মাননীয় রাজা–আপনি ক্রীটের রাজার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবেন।
ক্রীটের রাজা কি আমাদের ফাঁসি দেবে? রাজা বললেন।
–হ্যাঁ ওর মনোভাব তাই। তবে বলছিলাম ক্রীটের রাজার সঙ্গে কোন তর্কবিতর্কে যাবেন না। যা বলে মেনে নেবেন। মোট কথা আপনাকে অন্ততঃ পাঁচদিন বেঁচে থাকতে হবে। তার মধ্যেই আমি সৈন্য নিয়ে ফিরে আসবো। আমরা একবার আসতে পারলে আর কোন ভয় নেই।
সেদিনই গভীর রাতে সেনাপতি প্রাসাদের পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকল। এ ঘর ওঘর করতে করতে রানীমাতার ঘরে এল।
রানীমাতা ঘুমিয়ে আছে। রানিমাতা যাতে বেশি চমকেনা ওঠে তার জন্য সেনাপতি রানিমাতার কপালে হাত। একটু পরেই রানীমাতা নড়লেন। আবছা আলোয় সেনাপতির মুখের দিকে তাকালো। বলল তুমি সেনাপতি।
–আজও আমি ওই দেশের সেনাপতি। সেনাপতি বলল।
কী করে বিশ্বাস করবো। রানিমাতা বললেন।
সেনাপতি আংটিটা বের করে রানিমাতার হাতে দিল। বলল—এই আংটি আপনি রাজা মামুনকে দিয়েছেন। উনি চিহ্ন হিসেবে ওটা আমায় দিয়েছেন যাতে আপনি আমাকে বিশ্বাস করেন।
–আমার কাছে যখন এসেছো তখন নিশ্চয়ই আমার কাছে কিছু চাও? কী চাও?
–তাহলে সব বল। ক্রীটের রাজা প্রচুর সৈন্য নিয়ে আমাদের আক্রমণ করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। এখন ওদের হারাতে হলে আমাদেরও সৈন্য ভাড়া করতে হবে বিভিন্ন দেশ থেকে। তারপর লড়াই।
–বেশ তবে সৈন্য সংগ্রহ করে লড়াই করো।
কিন্তু মাননীয় রাজমাতা–সোনার চাকতির বিনিময়ে সৈন্য দের ভাড়া করতে হবে। তার জন্যে বেশি পরিমান সোনার চাকতি চাই।
তার মানে সোনার চাকতি আমাকে দিতে হবে। রানিমাতা বললেন।
–হাঁ নইলে কোথায় পাবো? সেনাপতি বলল।
–বেশ। রানিমাতা মাথা নাড়লেন।
রানিমাতা বিছানা থেকে নামলেন। সেনাপতির দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তারপর একটা করে কাজ করা কালো বা’রে সামনে এলেন। তালা খুলে বা’ খুললেন। সেনাপতি কোমরের ফেট্টিটা খুলে ফেলল। সোনার চাকতিও থোলেতে ভরতে লাগল। বা’রে প্রায় অর্ধেক সোনার চাকতি সেনাপতি বেঁধে নিল।
তারপর বলল–ঠিক আছে। এতেই হবে।
সেনাপতি সোনার চাকতির বস্তাটা কাঁধে ঝুলিয়ে এক বন্ধুর বাড়ি এল। বন্ধু বলল– ক্রীট সৈন্যরা তোমাদের খুব খুঁজছে।
খুঁজুক। আমার নাগাল পাবে না। সেনাপতি বলল।
সেনাপতি বিকেলের আলো আঁধারিতে চাদরে মুখ ঢেকে সমুদ্রতীরে এল। বিদেশি জাহাজ খুঁজতে লাগল। দুটো বিদেশী জাহাজ পেল। একটাতে উঠল। ক্যাপ্টেন দাড়িওয়ালা। মোটা। এগিয়ে এল। বলল কী ব্যাপার?
–আপনারা কোন দেশের? সেনাপতি জানতে চাইল।
–এখানে কেন? ক্যাপ্টেন বলল।
–আপনারা এরমধ্যে জাহাজ ছাড়ছেন? সেনাপতি বলল।
না আমাদের দেশে যেতে এখনও দিন দশেক লাগবে। ক্যাপ্টেন বলল।
সেনপাতি অন্য জাহাজটায় এল। সোজা ক্যাপ্টেনের ঘরে গেল। বলল–আপনারা কোন দেশের।
–আপনারা কি এর মধ্যে দেশে ফিরছেন? সেনাপতি জানতে চাইল।
–হ্যাঁ। আজ শেষ রাতে আমরা পোর্তুগালের দিকে জাহাজ চালাবো। ক্যাপ্টেন বলল।
–আমার একটা বিনীত অনুরোধ ছিল। যদি আপনাদের জাহাজে আমাকে নিয়ে যান তাহলে আমার বড়ই উপকার হয়। সেনাপতি বলল।
–আপনার পরিচয়? ক্যাপ্টেন জানতে চাইল।
–আমি এই হিচককদ্বীপের সেনাপতি। সেনাপতি বলল।
–ভাড়া তো লাগবে। ক্যাপ্টেন বলল।
সেনাপতি কোমরের ফেট্টি থেকে দুটো সোনার চাকতি বের করে দিল। ক্যাপ্টেন খুব খুশি। ভাড়া হিসেবে অনেক পাওয়া গেল।
–তাহলে শেষ রাতে আমি আসছি। সেনাপতি বলল। তারপর জাহাজ থেকে পাটাতন দিয়ে হেঁটে নেমে এল।
শেষরাতে সেনাপতি তৈরি হল। একটা মোটা কাপড়ের বস্তা নিল। পোশাকটোশাকের সঙ্গে একটা থলেতে সোনার চাকতিগুলো নিল। ঠিক করল এটাই হবে ওর বালিশ।
ঠিক সময়েই জাহাজে পৌঁছল সেনাপতি।
শেষ রাতে জাহাজ ছাড়ল।
কয়েকদিন পরে জাহাজটা একটা দ্বীপে পৌঁছল। সেনাপতি নেমে গেল। দ্বীপের বন্দরটা মোটামুটিবড়ই। সেনাপতি দ্বীপের রাজার সভায় গেল। শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজাকে বলল আমি হিচকক দ্বীপের সেনাপতি। শত্রুরা আমাদের দেশ দেখল করেছে। আমরা তাদের জানিয়ে দিতে চাই। তার জন্য সৈন্য চাই। আপনি যদি আমাকে কিছু সৈন্য ধার দেন তাহলে তাদের নিয়ে লড়াই চালাতে পারি।
–সৈন্য ভাড়া করবেন তার মূল্য তো দিতে হবে। রাজা বলল। সেনাপতি কোমরের ফেট্টি থেকে চারটে স্বর্ণমুদ্রা বের করে রাজাকে দিল। রাজা খুশি হলেন। নিজের সেনাপতিকে হুকুম দিলেন সৈন্য ভাড়া দেওয়ার জন্য।
এক দল সৈন্য পাওয়া গেল। এবার সৈন্যদের নিয়ে সেনাপতি জাহাজঘাটায় এল। দরদস্তুর করে একটা জাহাজ কিনে ফেলল। সৈন্যদের নতুন কেনা জাহাজে তুলে দিল। এবার কিছুঅভিজ্ঞ জাহাজী জোগাড় করল। তারা জাহাজে উঠে কাজে লাগল। পালটাল খাটাল। সন্ধ্যের মধ্যেই জাহাজ রওনা হবার জন্যে তৈরি হয়ে গেল।
ভোরবেলা জাহাজ ছাড়া হল। আবার এক দ্বীপে গেল জাহাজ। এইভাবে সেনাপতি সৈন্য যোগাড় করল। আর একটা জাহাজ মিলল। দ্বীপদেশ থেকে সৈন্য জোগাড়ও করল।
এবার দেশে ফেরা।
সৈন্যবোঝাই দুই জাহাজ নিয়ে সেনাপতি ফিরে চলল।
ওদিকে ক্রীটের রাজা মামুনের ফাঁসির ব্যবস্থা করে ফেলেছে।
বাজারের কাছে ফাঁসিকাঠ তৈরি হয়েছে। দেশের লোক রাজার ফাঁসি হবে দেখে দুঃখে ভেঙে পড়ল।
