–হ্যাঁ। একবেলা খেয়ে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারছি না। আমাদের মোটা কাপড় দিন যাতে আমরা একসঙ্গে গায়ে দিতে পারি। হ্যারি বলল।
তখন মোটা কাপড় বালিয়ারিতে পাতা হয়। সেই কাপড়টা দেয়া যায় কিনা দেখি। রাজা বলল।
মাননীয় রাজা। আর একটা অনুরোধ। হ্যারি বলল।
–বলল। রাজা বলল।
–আমি ফ্রান্সিস মানে আমাদের দলনেতা যে গাছের ডালে ঝুলছে তাকে কয়েকটা কথা বলতে চাই। হ্যারি বলল।
–বেশ। গিয়ে বল। কিন্তু ওর মুক্তি নেই। রাজা বলল।
–তা জানি। আমি বললে ও হয়তো আপনার কাছে মাফ চাইবে। হ্যারি বলল।
-তাহলে যাও। কথা বল। রাজা বলল।
রাজা কুতুবু চলে গেল। যাবার আগে ঝুলন্ত ফ্রান্সিসের দিকে একবার তাকিয়ে গেল। যাবার সময় প্রহরীদের কী বলে গেল।
একজন প্রহরী হ্যারিদের কাছে এল। বলল কথা বলতে যাবো। এসো।
হ্যারি দাঁড়িয়ে ছিল। প্রহরীর পিছুপিছু চলল।
ফ্রান্সিস ডালে ঝুলছে।
হ্যারি এসে নিচে দাঁড়াল। দেশীয় ভাষায় বললনা হেসো না। কোনরকম আনন্দ প্রকাশ করো না। আমার ছক বলছি। তারপর হ্যারি গরগর করে ওর ছক বলে গেল। ফ্রান্সিস কোন কথা বলল না।
ফেরার পথে প্রহরী বলল–কী বললে? বললাম যে ও যেন রাজা কুতুবুর কাছে। মাফ চায়। হ্যারি বলল, প্রহরী খুশির হাসি হাসল।
সন্ধ্যের সময় প্রহরীরা একটা বিরাট মোটা কাপড় নিয়ে এল। কাপড়টা হ্যারিদের সামনে রাখল।
–তাতে খাওয়ার পর সবাই গায়ের ওপর পেতে দেব। এখন থাক। হ্যারি বলল।
প্রহরীরা কাপড় রেখে চলে গেল। হারি গলা নামিয়ে ডাকল–শাঙ্কো। শাঙ্কো হ্যারির কাছে এল। সবাইকে ফিসফিস করে আমার পালাবার ছকের কথা বলে দাও। হ্যারি আস্তে বলল।
শাঙ্কো একে একে সবার কাছে গেল। হ্যারির ছকের কথা ফিসফিস করে বলে এল। শাঙ্কো সাবধান করে বলে এল–এই ছকের বাইরে কেউ যাবেনা।
রাতের খাওয়া শেষ হল।
হ্যারি বলল–সবাই শুয়ে পড়। ভাইকিংরা সবাই শুয়ে পড়ল। শাঙ্কো আর বিস্কো বিরাট কাপড়টা সবার গায়ের ওপর পেতে দিল। এক বন্ধু বলল–এই গরমে গায়ে মোটা কাপড়। –আপত্তি করো না। হ্যারি বলল।
সবাই কাপড়ের নিচে শুয়ে পড়ল।
তখন মাঝ রাত।
হ্যারি চাপাস্বরে ডাকলশাঙ্কো। চলো।
দু’জনে কাপড়ের তলা থেকে বেরিয়ে এল। তারপর ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ল। হিঁচড়ে হিঁচড়ে চলল একটা আগাছার ঝোঁপের দিকে।
পৌঁছল সেখানে। বেশ কিছু আগাছা মাঠ থেকে ঊপড়ে তুলল। তারপর ফিরে এল। অনেকের হাতে আগাছা গুলো দিল। ওরা আগাছা গুলো মাটিতে চেপে রাখল। আগাছাগুলি কাপড়টার এখানে-ওখানে উঁচিয়ে রইল। দূর থেকে দেখাবে যেন মানুষের মাথা। মানুষ শুয়েআছে।
এইবার আসল কাজ। কাপড়ের তলা দিয়ে শাঙ্কো বিস্কোর কাছে এল। বিস্কোর ওর বাঁধা হাত শাঙ্কোর গলার দিক দিয়ে ঢুকিয়ে ওর পোশাকের তলা থেকে ছোরাটা বের করল। তারপর দ্রুত হাতে শাঙ্কোর হাতের লতার বাঁধন কাটতে লাগল। একটু পরেই শুকনো লতা কেটে গেল। শাঙ্কো ছোরাটা নিল। পায়ের বাঁধন কাটল। তারপরবিস্কোর হাত পায়ের বাঁধন কাল। এবার বিস্কো ছোরাটা নিল। হ্যারির হাত-পায়ের বাঁধন কাটল। আস্তে আস্তে সবার হাত ও পায়ের বাঁধন কাটা হল। এমন কি দু’জন কালো বন্দীর হাত পায়ের বাঁধন কাটা হল।
হ্যারি চাপা গলায় বলল–যে গাছটায় ফ্রান্সিস ঝুলছ সেই গাছের তলা দিয়ে পায়ে চলা পথ। সবাই গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যাও। আস্তে আস্তে। শব্দ না হয়। তারপর পায়ে চলা পথ ধরে সমুদ্রেতীরে।
হ্যারিযখন এই নির্দেশগুলো দিচ্ছে শাঙ্কো ফ্রান্সিসের ঝুলে থাকা গাছটার নিচে
চলে এসেছে। শাঙ্কো কোন শব্দ না করে দ্রুত গাছটায় উঠল। ফ্রান্সিসদের হাতের বাঁধন কেটে দিল। ফ্রান্সিস সোজা এক ঝোঁপের ওপর পড়ল। যাতে শব্দ না হয় তার জন্যে সোজা হয়েই নেমেছিল। তবু শব্দ হল। দুজনেই চুপ করে যে যার জায়গায় রইল। একটু পরে বোঝা গেল শব্দটা প্রহরীদের কানে যায়নি।
ওদিকে হ্যারিরা দ্রুত ছুটছে সমুদ্রতীরের দিকে।
শাঙ্কো নিচু হয়ে ফ্রান্সিসের পায়ে বাঁধা দড়ি কেটে দিল। এবার দু’জনে পায়ে চলা পথটা ধরে ছুটল সমুদ্রতীরের দিকে। সবাই সমুদ্রতীরে পৌঁছল। ওদের জাহাজের কাছে এসে দাঁড়াল। কম বেশি সবাইহাঁপাচ্ছে।
জাহাজ থেকে পাটাতন পাতা নেই। চাঁদের আলোয় চারদিকে মোটামুটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
–শাঙ্কো-পাটাতন। ফ্রান্সিস বলল। শাঙ্কো জলে নামল। ডুব দিল। ডুব সাঁতার দিয়ে ওদের জাহাজের গায়ে গিয়ে উঠল। দড়ির মই ঝোলানো নেই। ডেকও তোলা। হালের কাছে ঝুলন্ত দড়িদড়া ধরে শাঙ্কো ডেক-এ উঠে এল। মাস্তুলের আড়াল থেকে দেখল কেউ নেই। ও আস্তে আস্তে পাটাতনটা বের করে নিয়ে এল। কোন শব্দ না করে পাটাতনটা পেতে দিল। তারপর ছুটল অস্ত্র ঘরের দিকে। আট-দশটা তরোয়াল বগলদাবা করে নিয়ে এল। ডেক থেকে তরোয়ালগুলো একটা একটা করে বালির ওপর ছুঁড়ে ফেলতে লাগল। বালির ওপর তরোয়ালগুলো পড়ায় কোন শব্দ হল না। প্রথম তরোয়ালটা ফ্রান্সিস তুলে নিল। অন্য বন্ধুরাও এবার তরোয়াল তুলে নিল।
ফ্রান্সিস ভাবল জাহাজে নিশ্চয়ই সেইযুবকরা আছে। তার মানে সামনেই লড়াই।
আস্তে আস্তে তরোয়াল হাতে সবাই জাহাজের ডেক-এ উঠে এল। এত মানুষের জাহাজে ওঠা মৃদুস্বরে কথাবার্তা। কেবিন ঘরের একযুবকের ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে তরোয়াল হাতে ডেক-এ উঠে এল। চাঁদের আলোয় ফ্রান্সিসদের দেখে সে অবাক।
