ফ্রান্সিসরা কেউ কোন কথা বলল না।
–তোমরা কী বল? কুতুবু হেসে জানতে চাইল।
ফ্রান্সিস বেশ কষ্ট করে উঠে দাঁড়াল। বলল–তাহলে আপনার জীবন বিপন্ন হবে।
–কী? আমাকে হত্যা করবে? রাজা কুতুবু চিক্করে করে বলে উঠল। হ্যারি সঙ্গে সঙ্গে চাপা স্বরে বলল–ফ্রান্সিস শান্ত হও। ভুলে যেও না আমরা বন্দী। রাজা আমাদের আরও ক্ষতি করতে পারে।
রাজার চিৎকার শুনে প্রহরীরা খোলা তরোয়াল হতে ছুটে এল।
–তোমাদের এক বেলার খাবার বন্ধ করে দেওয়া হল। দেখি তোমাদের গায়ে কত জোর। রাজা কুতুবু গলা চড়িয়ে বলল।
–একবেলা কেন–দুবেলার খাবারই বন্ধ করে দিন। তাড়াতাড়ি মরে যেতে পারবো। এই জানোয়ারের মত বেঁচেথাকা। হ্যারি বলল।
জাহাজ চোরদের এভাবেই শাস্তি দিতে হয় যাতে ভবিষ্যতে আর জাহাজ চুরি না করে। রাজা কুতুবু বলল।
আমাদের আর ভবিষ্যৎ কোথায়। এখানেই তো আমাদের জীবন শেষ। ফ্রান্সিস বলল। রাজা ছুটে ফ্রান্সিসের কাছে এল। চেঁচিয়ে বলল–তুমিই এই দলের সর্দার-না?
-হ্যাঁ। ফ্রান্সিস ঘাড় নাড়ল।
–আমাকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছো। রাজা কুতুবু বলল।
–হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমাকে গাছের ডালে লটকাবো। কথাটা বলেই রাজা কুতুবু প্রহরীদের দিকে তাকাল। চেঁচিয়ে বলল অ্যাই–এটাকে ঐ বড় গাছটার ডালে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখ।
প্রহরী কয়েকজন তরোয়াল কোমরে গুঁজেফ্রান্সিসদের কাছেছুটে এল। ফ্রান্সিস দাঁড়িয়েই ছিল। ওরা ফ্রান্সিসকে টেনে নিয়ে চলল বড় গাছটার দিকে।
গাছের প্রথম ডালটা বেশ উঁচুতে। প্রহরীরা গাছের ডালে উঠল। ডালে দড়ির ফাঁস পড়াল। তারপর দড়ির মাথা নামিয়ে দিল। নিচে থেকে প্রহরীরা ফ্রান্সিসের বাঁধা হাতের মধ্যে দড়ি ঢুকিয়ে ডালে বসা প্রহরীটার হাতে দড়ির মুখটা ছুঁড়ে দিল। প্রথমবার ডালেবসা প্রহরীটি দড়িরমুখটা ধরতে পারল না। আবার দড়িরমুখাটা ছোঁড়া হল। এবারও ধরে ফেলল। দড়িটা টানতে লাগল। হাত-পা বাঁধা ফ্রান্সিস ওপরের দিকে উঠতে লাগল। বেশি কিছুটা উঠতে প্রহরীটা দড়িটা ডালে জড়িয়ে শক্ত করে বেঁধে দিল। ফ্রান্সিসের শরীরটা ঝুলতে লাগল।
রাজা কুতুবু গাছের তলায় এল। ওপরের ফ্রান্সিসের দিকে তাকিয়ে বলল–আমাকে হত্যার হুমকি? মনা খেয়ে। খাবার জলও পাবি না।
–আমাদের জাহাজী জীবন। মাঝে মাঝেই খাদ্যে জলে টান পড়ে। ফ্রান্সিস আর কোন কথা বলল না। আর কিছু বলতে গেলে রাজা চটে যেতে পারে। চুপ করে থাকাই ভালো।
রাতে খাওয়ার পর শাঙ্কো হ্যারির কাছে এল। বলল হ্যাঁরী কি করবে?
–কিছুই বুঝেউঠতে পারছি না। ফ্রান্সিস এভাবে মেজাজ হারাবে ভাবিনি। হ্যারি বলল।
–কিন্তু ফ্রান্সিসকে তো বাঁচাতে হবে। শাঙ্কো বলল।
–সেটা একমাত্র তুমি পারো। ছোরাটা আছে তো? হ্যারি বলল।
–তা আছে। শাঙ্কো মাথা ওঠানামা করল।
আর একটা দিন দ্যাখো। হ্যারি বলল।
–খাবার না পেয়ে, জল না পেয়ে ফ্রান্সিস বাঁচবে না। শাঙ্কো বলল। আমরা তার আগেই ওকে নিয়ে পালাবো। হ্যারি বলল।
–দুপুরে খেতে দেয় নি। রাতের বেলায়। কিন্তু হাত বাঁধা। অর্ধেক খাবার ফেলা গেল। শাঙ্কো বলল।
–তা তো হবেই। হ্যারি বলল।
শরীর বেশ দুর্বল লাগছে। শাঙ্কো বলল।
দুর্বলতাকে প্রশয় দিও না। শরীরের দুর্বলতা মনকেও দুর্বল করে করে। হ্যারি বলল
–তাহলে বলছো কালকে পালাব। শাঙ্কো বলল।
–হ্যাঁ আমি ছক কষেছি। প্রহরীদের কাছে যাচ্ছি। হ্যারি বলল।
প্রহরীদের কাছে? কেন? শাঙ্কো জানতে চাইল।
–গায়ে দেবার চাদরের মত মোটা কাপড় চাইবো। হ্যারি বলল।
–দেবে? শাঙ্কো বলল।
–দেখি। নাদিলে রাজা কুতুবুর কাছে চাইবো। তাই একদিন সময় নিচ্ছি। হ্যারি বলল।
–এই গরমে গায়ের চাদর নিয়ে কী করবে?
–ছক বলবো। আর বুঝবে। হ্যারি বলল।
হ্যারি উঠে দাঁড়াল। পা বাঁধা। থপ্ থপ্ করে লাফিয়ে লাফিয়ে প্রহরীদের কাছে গেল।
চাঁদের আলোয় হ্যারিকে দেখে একজন প্রহরী উঠে এল। বলল–কী ব্যাপার?
–বড্ড ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে। গায়ে দেবার মত মোটা কাপড় চাই। হ্যারি বলল।
প্রহরীটি হো হো করে হেসে উঠল। বলল–ঠাণ্ডা? তোমায় ঠাণ্ডা?
–আমাদের ঠাণ্ডা লাগছে। মোটা কাপড় দাও। হ্যারি বলল।
আমরা দিতে পারবে না। রাজা বললে তবে পাবে। প্রহরী বলল।
–বেশ। রাজাকে বলবো। হ্যারি ফিরে এলো।
হ্যারি ফিরে এলে শাঙ্কো জানতে চাইল
-কী? দেবে কাপড়?
–এরা দেবেনা। রাজা কুতুবুকে বলতে হবে। কালকে বলবো?
–দেখ বলে। কিন্তু এই গরমে মোটা কাপড় চাইছো কেন?
–পালবার ছক।
খুলে বলো তো।
হ্যারি আস্তে আস্তে ওর পালাবার ছকের কথা বলল? শাঙ্কো চাপা গলায় বলে উঠল—শাবাস হ্যারি।
–এখন সবকিছু নির্ভর করছে তোমার ওপর। ছোরা দিয়ে কত তাড়াতাড়ি হাত পায়ের বাঁধা লতা কাটতে পারো। হ্যারি বলল।
দড়ি কাটার চেয়ে কম সময় লাগবে। শাঙ্কো বলল।
তাহলে তো ভালোই। হ্যারি বলল।
পরের দিন দুপুরেও হ্যারিদের খেতে দেওয়া হল না।
বিকেলের দিকে রাজা কুতুবু এল। হেসে বলল- এবার তোমাদের গায়ের জোর কমবে। মেজাজ ঠাণ্ডা হবে। পালাবার কথা আর কল্পনাতেও আনবে না।
হ্যারি উঠে দাঁড়াল। বলল–মহামান্য রাজা আমার কিছু বলার ছিল। কুতুবুখুব খুশি। ওকে মহামান্যান্য তো কেউ বলে না। হেসে বলল–বলল।
–আমরা ঠাণ্ডায় কষ্ট পাচ্ছি। হ্যারি বলল।
–তোমাদের ঠাণ্ডা লাগছে? বলল কি? রাজা বলল।
