দুটো কাজই শুরু কর। ফ্রান্সিস বলল।
কাজ শুরু হল। ভাইকিংরা কেবিন ঘরগুলো থেকে সার দিয়ে জাহাজের রেলিং পর্যন্ত এসে দাঁড়াল। নিচে কেবিন ঘরের জল বালতিতে ঘেঁচে তোলা হতে লাগল। জলভর্তি বালতি হাতে হাতে রেলিং পর্যন্ত আনা হতে লাগল। তারপর সমুদ্রে ঢেলে ফেলা হতে লাগল। এভাবেই কেবিন ঘরগুলো থেকে জল সরানোর কাজ চলল।
শাঙ্কো আর বিস্কো গেল ফুটো করতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনে হাতুড়ি বাটালি দিয়ে কেটে কেটেদুটো ফুটো করে ফেলল। ডেক-এরজমা জল ঐ দুটো ফুটো দিয়ে বেরিয়ে যেতে লাগল।
কিছুক্ষণ পরে ডেক-এর জল একেবারেই বেরিয়ে গেল। আনন্দেশাঙ্কো ভাঙা ডেক এর ওপরেই শুয়ে পড়ল। বিস্কোও হাসতে হাসতে ওর পাশে শুয়ে পড়ল। ওদের দুজনের কাণ্ড দেখে ভাইকিং বন্ধুরাও কেউ কেউ হেসে উঠল।
ওদিকে কেবিন ঘর থেকে জল ছেঁচাও চলল।
বেশ কিছুক্ষণ পরে কেবিন ঘরগুলো জলমুক্ত হল। তবে কাঠের মেঝে ভেজাই রইল।
সেদিন ভোরে ফ্রান্সিসদের জাহাজ একটা দ্বীপের কাছে পৌঁছিল। মাস্তুলের ওপর থেকে নজরদার পেদ্যে চিৎকার করে বলল–একটা দ্বীপ দেখা যাচ্ছে।
ফ্রান্সিস, হ্যারি ডেক-এ উঠে এল। তাকিয়ে দ্বীপটা দেখল।
নিস্তেজ রোদ পড়েছে সমুদ্রে ফ্রান্সিসদের জাহাজে কাছের দ্বীপটায়।
-বুঝতে পারছি না–এটা পাপুই দ্বীপ কিনা? হ্যারি কি বলো? ফ্রান্সিস বলল।
কাছে গেলেই বোঝা যাবে? পাপুই দ্বীপ হলে জাহাজ ঘাটে আমাদের জাহাজ দেখতে পাবো। হ্যারি বলল।
–তা ঠিক। চলো জাহাজ ঘাটের কাছে যাই। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিস ফ্লেজারের কাছে গেল। বলল-ঘাটেইজাহাজ ভেড়াও। জাহাজঘাটের কাছে এল।
কিছুদূর থেকে ভাইকিংরা দেখল একটা জাহাজ ঘাটে নোঙরকরা। কাছাকাছি আসতেই বুঝল ওটা ওদের চুরি যাওয়া জাহাজ।
ফ্রান্সিসদের জাহাজ ঘাটে ভিড়ল। পাটাতন নামানো হল। মারিয়া আর ফ্লেজার বাদে সবাই দল বেঁধে নেমে এল।
ফ্রান্সিস আর হ্যারি ওদের চুরি করা জাহাজের পাতা পাটাতনের কাছে গেল। তারপর জাহাজে উঠল। দেখল ডেকও মাস্তুলের কাছে একজন লোকদাঁড়িয়ে আছে। ওদের দেখে লোকটি প্রায় ছুটে এল। বলল এখানে কী চাই?
দাঁড়াও দাঁড়াও কথা আছে ফ্রান্সিস একহাত তুলে বলল?
–এই জাহাজটা তোমরা হিচকক দ্বীপ থেকে এনেছো–তাই না? হ্যারি বলল।
–হ্যাঁ। লোকটি বলল।
–এটা আমাদের জাহাজ। রুবিন এটা চুরি করে বিক্রি করেছে। ফ্রান্সিস বলল।
–অতসব আমরা জানি না। আমরা দস্তুরমত ফর্ণমুদ্রা দিয়ে কিনেছি। লোকটি বলল।
—বলছিলাম পাশের ঐ জাহাজটা তোমরা নাও। আমাদের জাহাজটা ফিরিয়ে দাও। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিসদের জাহাজটার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে লোকটা বলল–ঐভাঙা জাহাজের সঙ্গে আমাদের জাহাজ বদল করবো। পাগল হয়েছ।
–আমরা ভাইকিং। জাহাজ মেরামতিতে ওস্তাদ। ঐ জাহাজাটা এখন যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছে। ওটা নাও। ফ্রান্সিস আবার বলল।
লোকটা কী বলে চিৎকার করে উঠল। নিচের কেবিনঘর থেকে দু-তিনজন লোক উঠে এল। সবাই যুবক। লোকটা ফ্রান্সিসদের দেখিয়ে বলল এরা ঝামেলা করতে এসেছে। এই জাহাজটা নাকি ওদের।
এক যুবক মুখভঙ্গী করে বলে উঠল–কী পেয়েছো তোমরা? এ্যা? জানো–এই জাহাজ এখন রাজা কুতুবুর।
কে রাজা কুতুবু কী ব্যাপার আমরা জানি না। এটাই আমাদের চুরি যাওয়া জাহাজ এটাই জানি। ফ্রান্সিস বলল। এসময় ভেন আস্তে আস্তে সিঁড়ি দিয়ে উঠে এল। ফ্রান্সিস ছুটে গিয়ে ভেনকে জড়িয়ে ধরল। বলল ভেন ভালো আছো ভাই?
ভেন হেসে বলল–ভাল আছি।
ঠিক তখন একজন যুবক জাহাজ থেকে পাটাতনের ওপর দিয়ে দ্রুত নেমে বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে তীরভূমির দিকে ছুটল। শাঙ্কো বাধা দিতে গিয়েও পারল না। ? যুবকটি ছুটতে ছুটতে সমুদ্রতীর পার হয়ে গেল।
ব্যাপারটা সুবিধের মনে হচ্ছেনা। ফ্রান্সিস মৃদুস্বরে বলল।
–ফ্রান্সিস বিপদ হতে পারে। হারি বলল।
ফ্রান্সিস আর ঐ যুবকদের কিছু বলল না।
অল্পসময়ই কেটেছে। ফ্রান্সিসরা দেখল তীরভূমির ওপর দিয়ে একদল যোদ্দা খোলা তরোয়াল হাতে ছুটে আসছে। বোঝা গেল যে, যুবকটি বলে গেল সেইরাজাকে খবর দিয়েছে।
ফ্রান্সিসরা নড়বারও সময় পেল না। যোদ্ধার দল দ্রুত ছুটে এসে ফ্রান্সিসদের ঘিরে দাঁড়াল। যোদ্দাদলের সবাই কালো। যোদ্ধাদলের সর্দার এগিয়ে এল। ফ্রান্সিসদেরকাছে এসে বলল কী ব্যাপার? তোমরা নাকি রাজা কুতুবুর জাহাজ জোর করে নিয়ে যেতে এসেছো?
না। আমরা কোনরকম জোর করিনি। এই জাহাজ আমাদের হিচকক দ্বীপের বন্দরে চুরি হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেই জাহাজফিরিয়ে নিতে এসেছি। বদলে আমরা যে জাহাজ জড়ে এসেছি সেই জাহাজাটা দিয়ে দেব বলেছি। ফ্রান্সিস বলল।
-ঠিক আছে রাজা কুতুবুর কাছে চল। যা বলার তাকেই বলো।
ফ্রান্সিসরা দাঁড়িয়ে রইল।
–বললাম আমার সঙ্গে এসো। বেশ ধমক দিয়ে সর্দার বলল।
যোদ্ধারা ফ্রান্সিসদের ঘিরে নিয়ে চলল। কেউ এদিক ওদিক করে গেলে তরোয়ালের খোঁচা দিতে লাগল। ফ্রান্সিসদের ঘিরে নিয়ে যোদ্ধারা চলল তীরভূমি ছাড়িয়ে বসতির দিকে।
এখানে ওখানে ছাড়া ছাড়া বাড়ি ঘরদোর। কালো কালো মানুষজন। তারা অবাক চোখে ফ্রান্সিসদের দেখতে লাগল।
একটা বড় বাড়ির সামনে এসে যোদ্ধারা দাঁড়াল। বোঝা গেল এটাই রাজবাড়ি। মাটি বালি আর পাথরের বাড়ি।
বাড়ির সামনে কিছুটা ফাঁকা ঘাসের জমি। সেখানে একটা কাঠের আমলে একজন মধ্যবয়স্ক কালো মানুষ বসে আছে। কাটা ডাব মুখের কাছে নিয়ে ডাবের জল খাচ্ছে।
