–সবার আগে খাদ্য আর জলের ব্যবস্থা করতে হবে। হ্যারি বলল।
হাঁ ওটাই প্রাথমিক কাজ। শাঙ্কো কয়েকজনকে নাও। জলের পীপে বস্তা নিয়ে যাও। কেনাকাটা সেরে খাবার জল নিয়ে এসো৷ ফ্রান্সিস বলল?
শাঙ্কোরা কয়েকজন বস্তা পীপে নিয়ে চলে গেল।
বেশ কিছুক্ষণ পরেশাঙ্কোরা আটা ময়দা চিনি পীপে ভর্তি খাবার জল নিয়ে ফিরে এল।
হ্যারি ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল–এখন কী করবে?
–ফ্লেজারকে বলো ও জাহাজ ছেড়ে দিক। যাবো দক্ষিণের পাতুই দ্বীপে। জাহাজ উদ্ধার করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু এই ভাঙা জাহাজ নিয়ে–হ্যারি আপত্তি করতে গেল।
–পারবো। তবে ঝড়ঝাপটা এলে সমস্যায় পড়বো। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে এই বন্দরে জাহাজ মেরামতি করিয়ে নেবেনা? হ্যারি বলল
না। দেরি করা চলবে না। জাহাজ চলতে চলইে মেরামতির কাজ চালাতে হবে। সবাইকে হাত লাগাতে হবে। জাহাজে অনেককাঠ যন্ত্রপাতি আছে। সমস্যা হবেনা। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। তুমি যা বলল। হ্যারি বলল।
জাহাজ চালাবার দায়িত্বে থাকাবে তিনজন–ফ্লেজার, শাঙ্কো আর সিনেত্রা। বাকি সবাই জাহাজ সারাইয়ের কাজে লাগবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে–আজ রাতেই জাহাজ ছাড়বে! হ্যারি জানতে চাইল।
–দেরি করা চলবে না। ফ্রান্সিস বলল। রাতের খাওয়া সেরে তিনজন বাদে সবাই জাহাজ মেরামতিতে হাত লাগল। তার আগে পালগুলো পালের কাঠে ভালো করে বেঁধে দিল। আকাশে উজ্জ্বল চাঁদ। আলোর অভাবহচ্ছিল না।
সমুদ্রে জোর হাওয়া পালগুলো জোর বাতাস পেয়ে ফুলে উঠল। দু-একটা পালে ফুটো ছিল। তবু পালের টানে জাহাজ বেশ বেগেই চলল।
প্রথমেই ফ্রান্সিসরা ভাঙা হাল মেরামতিতে হাত লাগল। কর্মরত ভাইকিংদের কথাবার্তা হাতুড়িরঠুকঠাকশব্দকাঠের পাঠানটানাটানির গরুগশব্দ চলল। সারারাতসারাইয়েরকাজ চলল।
পূব আকাশে কমলা রং ছড়িয়ে সূর্য উঠল। ভোরহল। নরম রোদ পড়ল সমুদ্রে জাহাজে।
ভাইকিংরা কাজ থামিয়ে ডেকে বসে বিশ্রাম করতে লাগল।
সকালের খাবার খেয়ে আবার কাজে হাত লাগাল।
কাজ চলল দুপুর পর্যন্ত।
দুপুরের খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম তারপর আবার কাজ।
সন্ধ্যের মধ্যেই হাল মেরামত হয়ে গেল।
ফ্রান্সিস ফ্লেজারের কাছে এল। বলল হাল ঠিক হয়েছে। ফ্লেজারহুইল ঘোরাতে ঘোরাতে বলল–ঠিক আছে। হালের জোর বেড়েছে। জাহাজ এবার ভালো চলবে।
একটা দিন কাটল।
এর মধ্যে জাহাজের ফুটো ফাটা ভাঙা রেলিং সিঁড়ি ঘরের ডেক-এর মেরামতি চলল। আরো কাজ বাকি।
সেদিন গভীর রাতে ফ্রান্সিস যা আশঙ্কা করেছিল তাই হল।
প্রচণ্ড ঝড় ঝাঁপিয়ে পড়ল ফ্রান্সিসদের জাহাজের ওপর। সমস্ত জাহাজটা কেঁপে উঠল। তারপরেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হল। সেইসঙ্গে প্রচণ্ড শব্দ তুলে বাজ পড়া।
ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব যে করেই হোক জাহাজ ডুবতে দেওয়া চলবে না। সবাই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়।
ভাইকিংরা দ্রুত পাল নামিয়ে ফেলল। পালের কাঠের দড়িদড়া মাস্তুলের দড়িদড়া প্রাণপণে টেনে ধরে জাহাজটা ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা চালাল। ভাইকিংরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ নাবিব। ঝড়ঝাঁপটার সঙ্গে লড়াই করা ওদের কাছে নতুন কিছু নয়। চলল ঝড়ের সঙ্গে লড়াই। ফ্লেজার দৃঢ়হাতে হুইল ঘোরাতে লাগল। উঁচু উঁচু ঢেউয়ের ধাক্কায় জাহাজ একবার দুলুনীতে কয়েকজন ভাইকিং ছিটকে ডেক-এর ওপর পড়ে গেল। পরক্ষণেইউঠেদাঁড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজে লাগল।
জাহাজের ডেক-এর ওপর ঢেউ আছড়ে পড়তে লাগল। সমস্ত জাহাজটাতেই কাঁক– কাঁক শব্দ হতে লাগল।
হঠাৎ বৃষ্টি থেমে গেল। টিপ টিপ বৃষ্টি পড়তে লাগল। আকাশ মেঘমুক্ত হতে লাগল। ঝড়ো বাতাস অনেকটা শান্ত হল।
মেঘ সরে গিয়ে উজ্জ্বল চাঁদ দেখা দিল।
ঝড়ের সঙ্গে লড়াইয়ে ক্লান্ত ভাইকিংরা জলজমা ডেক-এর এখানে ওখানে শুয়ে পড়ল।
ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলে উঠল-সাবাস ভাইসব। ভাঙ্গা জাহাজ নিয়েও আমরা ঝড়ের বিরুদ্ধে জিতে গেলাম। ও হো হো। ভাইকিংরাও গলা মেলাল। তবে তাদের। কণ্ঠস্ফরেভীষণ ক্লান্তি।
ডেক-এর জমা জল সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। শাঙ্কো বলল– ফ্রান্সিস। ডেক-এর ধারে ফুটো করতে হবে। নইলে জমা জল বেরোবে না।
তখনই মারিয়া ডেক-এ উঠে এল। ফ্রান্সিসদের কাছে এসে বলল–নিচে কেবিন ঘরগুলোতে জল পড়ছে। কেবিন ঘরের মেঝেয় জল জমে গেছে।
–বোঝা যাচ্ছে জাহাজের ভাঙা ফাঁকফোকর দিয়ে নিচে জল পড়ছে। ফ্রান্সিস বলল।
–জল সরাবার উপায় কী? মারিয়া জানতে চাইল।
জল ছেঁচে ফেলতে হবে। এছাড়া উপায় নেই। শাঙ্কো বলল।
–কী ভাবে জল ছেঁচবে? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
আমাদের তো গোটা চারেকের কাঠের বালতি রয়েছে। সেই বালতিগুলোয় কেবিন ঘরের জল তুলতেহবে। আমরা কেবিন ঘর থেকে ডেক-এর রেলিংপর্যন্ত সারদিয়েদাঁড়াব। জলভর্তি বালতি ধরাধরিকরে রেলিং পর্যন্তনিয়েআসব। তারপরজল সমুদ্রে ফেলে দেব। এছাড়া কেবিন ঘরেরজমা জল সরাবারঅন্য কোন উপায় নেই। শাঙ্কো বলল?
–হু পদ্ধতিটা মন্দ বলোনি। তবে এভাবে জল সরাতে গেলে সময় লাগাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তা লাগবে। শাঙ্কো বলল।
–তাহলে কাজ শুরু কর। এবার ডেক-এর জমা হল। রেলিং-এর একেবারে নিচে বেরিয়ে সমুদ্রের সমতলে একটা দুটো ফুটো করতে হবে। জল গড়িয়ে বেরিয়ে সমুদ্রের জলে পড়বে। ফ্রান্সিস বলল।
–হুঁ। তা করা যাবে। শাঙ্কো বলল।
