–হ্যাঁ। কিন্তু আমি তো তোমাদের চিনি না। রুবিন বলল?
এবার চিনবে? আমাদের জাহাজে মাত্র একজন লোকছিল। সেই অবস্থায় তুমি। আমাদের জাহাজ বিক্রি করে দিয়েছে। ফ্রান্সিস বলল।
কী সব বলছ। তোমাদের জাহাজের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। রুবিন মাথা। ঝাঁকিয়ে বলে উঠল।
ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–শাঙ্কো-ছোরাটা নিয়ে এসো তো। শাঙ্কো সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঢুকল। ডালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে ছোরাটা বের করে ফ্রান্সিসের হাতে দিল। ফ্রান্সিস সঙ্গে সঙ্গে ছোরাটার মুখ রুবিনের গলায় চেপে ধরল। দাঁতচাপা স্বরে বলল–আসল ঘটনাটা বল।
রুবিন মাথা নেড়ে বলল–আমি কিছুই জানিনা। ফ্রান্সিস ছোরার চাপ বাড়াল। একইভাবে বলল–যদিমরতে না চাও সত্যি ঘটনাটা বলো। তোমাকে এখানে কেউ বাঁচাতে আসবেনা।
রুবিন আবার মাথা নাড়ল। ফ্রান্সিস ছোরার চাপ বাড়াতেই রুবিনের গলায় একটু চেপে রক্ত বেরিয়ে এল। এবার রুবিন বুঝলো জীবন বিপন্ন। এইবিদেশিটা ওকে অনায়াসে মেরে ফেলতে পারে। ও বলে উঠাছোরা সরাও–বলছি। হ্যাঁ চেড়ে রুবিন বলল তোমাদের জাহাজে কেউ নেই দেখে ঐ জাহাজ আমার বলে বিক্রি করে দিয়েছি।
কার কাছে? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–একজন নয়। জন দশ বারো লোকের কাছে। রুবিন বলল।
তারা কোথাকার লোক? ফ্রান্সিস আবার প্রশ্ন করল।
–পাতুই দ্বীপ থেকে এসেছিল। রুবিন বলল।
–পাতুই দ্বীপ কোথায়? কতদূর? ফ্রান্সিস আবার জিজ্ঞেস করল।
দক্ষিণ দিকে। এখান থেকে খুব বেশি দূরে নয়।
ফ্রান্সিস হ্যারির দিকে তাকাল। হ্যারি বলল–যাক একটা হদিশ পাওয়া গেল। এবার ফ্রান্সিস রুবিনের দিকে তাকাল। বলল–আমাদের জাহাজ বিক্রি করে যে মুদ্রা পেয়েছো সে সব কোথায়?
–সে সব দিয়ে আর একটা জাহাজ কিনেছি। রুবিন বলল।
–চুরি করে না দাম দিয়েছো। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ-হ্যাঁ–দাম দিয়েই কিনেছি। খোদ মালিকের কাছ থেকে। রুবিন বলল।
–সেই জাহাজ কোথায়? ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করল।
রুবিন পূর্বদিক আঙ্গুলি দেখিয়ে বলল–ঐখানে নোঙর করা।
চলো? সেই জাহাজ দেখবো। ফ্রান্সিস বলল।
–পুরনো জাহাজ। ভাঙাচোরা। রুবিন বলল।
–ঠিক আছে। তুমি জাহাজটি দেখাবে চলো। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু ঐ জাহাজ আমি রুবিন কথাটা শেষ করতে পারল না?
কথা বাড়িওনা। চলো ফ্রান্সিস বাধা দিয়ে বলল। ফ্রান্সিস ছোরাটা শাঙ্কোকে ফিরিয়ে দিল। শাঙ্কো ছোরাটা বুকের কাছে পোশাকের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখল।
ঘরের বাইরে এসে রুবিন ফ্রান্সিসের বন্ধুর দলকে দেখল। মারিয়াকে দেখে একটু অবাকও। হলরুবিন বুঝল এরাদলে ভারি। একটু এদিক-ওদিকহলে ওরা ওকে বিপদে ফেলতে পারে?
সবাই পূবমুখো চলল।
দু-তিনটি জাহাজ ছাড়িয়ে রুবিন একটা জাহাজের সামনে এল। জাহাজটা দেখিয়ে, বলল–দেখ একেবারে লজঝর একটা জাহাজ। সস্তাতেই কিনেছি।
জাহাজটার পাটাতন ফেলাই ছিল। রুবিন আগে জাহাজটায় উঠল। পেছনে ফ্রান্সিস ও হারিআর শাঙ্কো।
ভালো করে দেখল ফ্রান্সিস। সত্যিই একটা পুরোনো আধভাঙা জাহাজ। ফ্রান্সিস ডাকল–শাঙ্কো? শাঙ্কো এগিয়ে এল। ফ্রান্সিস বলল–ভালো করে জাহাজটা দেখতো। মেরামতি করে জাহাজটা চালানো যাবে কিনা। রুবিন প্রায় চেঁচিয়ে বলে উঠল–আমার কেনা জাহাজ- তোমরা নেবে কেন?
–আমাদের জাহাজ তুমি চুরি করে বিক্রি করেছিলে কেন? ফ্রান্সিস বলল।
–তাই বলে আমার জাহাজ নিয়ে নেবে? রুবিন গলা চড়িয়ে বলল।
–তোমাকে মেরে ফেলিনি এটাই যথেষ্ট। এখন বিদেয় হও। ফ্রান্সিস বলল।
–তার মানে রুবিন কী বলতে গেল। ফ্রান্সিস বলে উঠল–
–আর একটা কথাও নেই। এই জাহাজ এখন আমাদের। রুবিন কী বলবে বুঝে উঠতে পারল না। বলল–আমি রাজার কাছে নালিশ করবো।
–আমরা বলবো একজাহাজ চোরের জাহাজ আমরা নিয়ে নিয়েছি। হ্যারি বলল।
–ঠিক আছে। তোমাদের এই দ্বীপ থেকে আমি তাড়াবো। রুবিন বলল।
তার আগে তুই জাহাজ থেকে নেমে যা। ফ্রান্সিস বলল।
রুবিন গজর গজর করতে করতে জাহাজ থেকে নেমে গেল।
শাঙ্কো জাহাজের সব দেখেটেকে ফ্রান্সিসের কাছে এল। ফ্রান্সিস বলল–কেমন দেখলে?
জাহাজটার অবস্থা খুব খারাপ। হাল আধভাঙা। ডেকের কাঠের পাটাতন কোথাও কোথাও ভাঙা। মাস্তুল পালের দড়িদড়া জরাজীর্ণ।
–নিচে যাও। কেবিন ঘরটরগুলো দেখ। জাহাজাটা কেমন? কাঠটাট, যন্ত্রপাতি মজুত, আছে দেখ। ফ্রান্সিস বলল। শাঙ্কো চলে গেল।
এবার মারিয়া আর বন্ধুরা জাহাজে উঠে এল। বিস্কো বলে উঠল–এ তো একশো বছরের পুরোনো জাহাজ।
–এই জাহাজ নিয়েই আমাদের জাহাজ উদ্ধারের জন্য যেতে হবে।
নতুন জাহাজ কেনার মত স্বর্ণমুদ্রা নেই। ফ্রান্সিস বলল।
বনসুরা ঘুরে ঘুরে জাহাজটা দেখতে লাগল। কত সুন্দর মজবুজ ওদের জাহাজ। এই জাহাজের সঙ্গে তুলনাই চলবে না। কিন্তু এখন এই জাহাজই ভরসা। চুরি হয়ে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার না করা পর্যন্ত এই জাহাজই চালাতে হব।
শাঙ্কো ফ্রান্সিসের কাছে ফিরে এল।
-কেমন দেখলে?
–অবস্থা খুব একটা খারাপ নয়। আর আশ্চর্য হল গুদাম ঘরে যথেষ্ট কাঠ আর যন্ত্রপাতি আছে। জাহাজের মালিক বোধ হয় জাহাজটা সারাইটারাই করবে ভেবেছিল। কিন্তু করে নি। এই অবস্থাতেই বিক্রি করে দিয়েছে।
–যাক। তাহলে মেরামতি করে কাজ চালানো যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
জাহাজ কি এই অবস্থাতেই চালাবে? শাঙ্কো জানতে চাইল।
–হ্যাঁ। দেরি করবোনা। জাহাজ চলতে চলতেই মেরামতির কাজ চলবে। ফ্রান্সিস বলল?
