সবাই যাবে। এবার তুলে রাখা ভালো পোশাক-টোশাক গুলো বের কর। আমরা সবাই ভালো পোশাক পরে যাবো।
মারিয়া পোশাক বের করার জন্যে বাটা’ চামড়ার ঝোলা খোঁজাখুজি শুরু করল।
একটু পরেই দরজায় টোকা দেয়ারশব্দ। ফ্রান্সিস দরজা খুলল। শাঙ্কো দাঁড়িয়ে। পরনে নতুন পোশাক। প্রায় চেঁচিয়ে উঠল–তোমরা এখনও তৈরি হওনি। ওদিকে
–আরে বাবা আমরা যেতে যেতে মেলা উঠেযাবেনা। তোমরা ডেকেগিয়ে অপেক্ষা কর। আমরা যাচ্ছি। শাঙ্কো ছুটে চলে গেল। ফ্রান্সিস শাঙ্কোর সাজসজ্জা দেখে খুশি হল। ময়লা পোশাকপরেজাহাজেরহাজারটা কাজ, কখনও কখনও ডেকেরাত কাটালো দুপুরের চড়া রোদ কয়েকঘরের কষ্টকঅন্তত একদিনের জন্যে হলেও নিজের খুশিমত সাজতে পেরেছে।
মারিয়া ফ্রান্সিসকে একটা নতুন পোশাক বের করে দিল। পরিয়েও ছিল। পরিয়েও দিল। ফ্রান্সিস হেসে বলল এবার এই ঘরে একটা আয়না রাখব। দেওয়ালে আটকে রাখবো। জাহাজের ঝাঁকুনিতে পড়ে যাবেনা।
–কোন দরকার নেই–মারিয়া বলল–আয়নায় মুখটুখ দেখলে মন খারাপ হবে। তার চেয়ে এই বেশ আছি।
-বেশ। ফ্রান্সিস আর কিছু বলল না।
মারিয়াও একটা নতুন গাউন পরল। নীল সবুজ রঙের। মাথার চুল আঁচড়াল। মুখটা একবার দু’হাতে ঘসে নিল। তারপর বলল–চলো। ফ্রান্সিস একবার মারিয়াকে দেখল। মারিয়ার চেহারায় এখনও রাজকুমারীর সৌন্দর্য মুছে যায় নি। শুধু গায়ে ও মুখের দুধ আলতা রংটা আর নেই। একটু তামাটে হয়েছে।
দুজনে ডেকে উঠে এল। বন্ধুরা হৈ হৈ করে উঠল। আজকে সবাই নতুন পোশাকে উচ্ছল। ফ্রান্সিস বলল-সবাই যাবে।
–সবাই যাবো। শাঙ্কো বলল।
কয়েকজন জাহাজের পাহারায় থাকো। ফ্রান্সিস বলল।
–না-না। সবাই যাবো। বিস্কো বলল।
–ঠিক আছে। শুধু ভেন থাকুক। ও বয়স্ক মানুষ। হৈ চৈ করতে পারবেনা। হ্যারি বলল।
–বেশ। শাঙ্কোরা বলল।
সবাই জাহাজ থেকে নেমে এল। তখন অন্ধকার হয়ে এসেছে।
মেলা এলাকায় লোকজনের ভিড়। ফ্রান্সিসরা ভিড়ের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে লাগল।
শাঙ্কো বিকেলেই এক স্বর্ণকারের দোকানে গিয়েছিল। দুটো সোনার চাকতি বদলে কিছু স্থানীয় মুদ্রা এনেছিল। সেসব বন্ধুদের দিল। বনসুরা মনের আনন্দে কেনা কাটা করল। কারো জাহাজে ফেরার নাম নেই।
তখন রাত হয়ে গেছে। মেলার এলাকায় লোকের ভিড় কমে গেছে।
ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ভাই সব আর নয়। এবার জাহাজে ফেরা।
বেশ আনন্দে সময় কাটল ভাইকিংদের। সবাই জাহাজ ঘাটের দিকে ফিরে আসতে লাগল।
জাহাজ ঘাটে এসে সবাই হতবাক। একী? ওদের জাহাজ কোথায়? সেখানে ছোট নৌকা ভাসছে। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব জাহাজ চুরি হয়ে গেছে। একা ভেন রয়েছে সেই জাহাজে। ভেন নিশ্চয়ই বুঝতে পারে নি। এরকম বিপদে কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।
–ফ্রান্সিস দেখো তো নৌকোটার মাঝিকে বলে। ও কিছু দেখেছে কিনা? হ্যারি বলল।
ফ্রান্সিস নৌকাটার কাছে গেল। গলা চড়িয়ে জিজ্ঞেস করল–ভাই শুনছো? মাঝি বোধহয় রান্নাটান্না করছিল এগিয়ে এসে বলল–আমাকে ডাকছো কেন?
এখানে আমাদের জাহাজ ছিল। তুমি দেখেছো? ফ্রান্সিস বলল।
–হা হা। মাঝিমাথা ঝাঁকিয়ে বলল।
–ওটা চুরি হয়ে গেছে। তুমি দেখেছো কিছু? হ্যারি বলল।
-হ্যাঁ, দেখলাম আটদশজন লোক জাহাজটায় উঠল। নোঙর তুলে জাহাজ ছেড়ে দিল। ভাবলাম তোমারই বোধহয়। মাঝি বলল।
কতক্ষণ আগে? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–ঘণ্টা খানেক হবে। হ্যারি বলল।
তাদের হাতে অস্ত্র ছিল? শাঙ্কো জানতে চাইল।
–হ্যাঁ। তরোয়াল ছিল। মাঝি বলল।
–তাদের তুমি আগে দেখেছো? ফ্রান্সিস জিজ্ঞাসা করল।
–না। মাঝি মাথা নাড়ল।
জাহাজ কোনদিকে গেল? হ্যারি জানতে চাইল।
–দক্ষিণ মুখো। মাঝি হাত তুলে দক্ষিণ দিকে দেখাল।
এবার শাঙ্কো বলল—ফ্রান্সিস কী করবে?
–এখানে জাহাজ কিনবো। দক্ষিণমুখো জাহাজ চালাবো। জাহাজ চোরদের ধরতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
জাহাজ কিনবে। অত সোনার চাকতি তো আমার কাছে নেই। মারিয়া এগিয়ে এল। বলল আমাদের বোধনঘরের কাঠের দেওয়ালে আমি সোনার চাকতি রেখেছিলাম।
জাহাজ তো নেই। ফ্রান্সিস তারপর বলল–শাঙ্কো তোমার কাছে কটা সোনার চাকতি আছে? শাঙ্কো পেটি থেকে সোনার চাকতিগুলো বের করল। গুনে বলল–ছোট জাহাজ কেনা যেতে পারে।
ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে মাঝিকে জিজ্ঞেস করল আমরা জাহাজ কিনবো। এখানে বিক্রির জন্য জাহাজ আছে?
–যে সব রুবিন বলতে পারবে। ও জাহাজ কেনাবেচার কাজ করে। মাঝি বলল।
রুবিন কোথায় থাকে?
মাঝি আঙ্গুল তুলে সমুদ্রতীরের একা ঘর দেখাল। বলল–ওখানেইরুবিন থাকে। তবে ওর বদনামও আছে। খালি জাহাজ পেলে ও নিজের বলে বিক্রি করে দেয়। মাঝি বলল।
রুবিন নিশ্চয়ই আমাদের জাহাজের বেলায়ও এই কাণ্ডটি করেছে। ফ্রান্সিস মৃদুস্বরে বলল।
রুবিনকে পাকড়াও কর। হ্যারি বলল।
–চলো৷ ফ্রান্সিস মাথা ঝাঁকিয়ে বলল।
ওরা রুবিনের ঘরের কাছে এল। ছোট ঘর। তবে শক্তপোক্ত। ঘরের দরজা খোলা। ফ্রান্সিস আর হ্যারি ঘরে ঢুকল। দেখল একটা বিছানায় একটা লোক শুয়ে আছে। কাছে। গিয়ে দেখল লোকটা ঘুমুচ্ছে। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে ডাকলরুবিন। লোকটা ধড়মড়িয়ে উঠে বলল–কী ব্যাপার?
–ব্যাপার গুরুতর। তুমিই রুবিন? ফ্রান্সিস ভারি গলায় জিজ্ঞেস করল। –
-হ্যাঁ। রুবিন মাথা নত করল।
জাহাজ কেনাবেচার কাজ কর। ফ্রান্সিস বলল।
