–বেশ ধরে নিলাম বাবা হীরকখণ্ড চুরি করেছেন। তাহলে হীরের খণ্ডগুলো যাবে কোথায়?
তোমাদের বাড়িতে এই দোকানে খোঁজ করলেই ঐ হীরকখণ্ডগুলোর হদিশ মিলবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে তো বাড়ি আর দোকান ভাল করে দেখতে হয়। তানাকা বলল।
–তাই করতে হবে। কিছু একটা হদিশ নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে সিন্দুকটা খুলি। তানাকা বলল।
ফ্রান্সিস বলল–খোল। আমরা দেখবো।
তানাকা উঠে দাঁড়াল। সিন্দুকটার কাছে গেল। কোমরে গোঁজা চাবিটা বের করল। সিন্দুক খুলল। ফ্রান্সিস শাঙ্কো এগিয়ে গেল।
ফ্রান্সিস সিন্দুকটার সামনে উবু হয়ে বসল। এক নজরে সবকিছু দেখল।
–সিন্দুকে রাখা হীরের গয়নাগুলো তুমি নিয়ে গেছ। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। তানাকা বলল।
–হীরের খণ্ড পাও নি? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–না। তবে কাঁচের ডেলা পেয়েছি। আমার এক চোর বন্ধু আরোনাস কাঁচের ডেলা রেখে হীরের খণ্ড চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। তানাকা বলল।
-বুঝলাম। ফ্রান্সিস বলল। তারপরে সিন্দুকের মধ্যে হাত বাড়িয়ে হাত দিয়ে দুপাশে দেখল।
–বুঝলেন তো। আমার বাবা চোর নয়। তানাকা বলল।
–আমি এখনো বলছি তোমার বাবা সৎপথে অর্থ আয় করেন নি। কিছু একটা গোলমেলে ব্যাপার আছে। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিস খোলা সিন্দুকের মধ্যে হাত বাড়িয়ে বাড়িয়ে সব দিক দেখল কিছুই নেই।
ফ্রান্সিস এবার উঠে সিন্দুকের পিছনে গেল। সিন্দুকের পিছনে টানা লোহার মোটা পাত। ফ্রান্সিস ফিরে আসছে তখনই ভাবল–ভেতরে কোনো গোপন জায়গা থাকতে পারে।
ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে বলল–একটা হাত পাঁচেকের দড়ি আনো। শাঙ্কো তানাকার কাছ থেকে দড়ি নিয়ে এল। ফ্রান্সিস সিন্দুটা বাইরে থেকে মাপল। তারপর সিন্দুকের মধ্যে ঐভাবে মাপল। দেখল আঙ্গুল পাঁচেক কম। ফ্রান্সিস চট করে উঠে দাঁড়াল।
তানাকা বলল–দেখলেন? সব ঠিক আছে।
–না। ঠিক নেই। সিন্দুকের মধ্যে একটা চোরা কুঠুরিও আছে।
–কোথায় চোরা কুঠুরি। সব বাজে কথা। তানাকা বলল।
–হুঁ। ফ্রান্সিস মুখে শব্দ করল। তারপর সিন্দুকের মধ্যে আবার মুখ ঢুকিয়ে দেখতে লাগল। হঠাৎ দেখল–পেছনে লোহার পাতে একটা ছিদ্র। ফ্রান্সিস ছিদ্রটায় আঙুল ঢোকাল। তারপর আঁচকা টান দিল। সিন্দুকের পেছনের মাঝামাঝি লোহার পাত সরে গেল।
মাথাটা একবার বের করে বলল–তানাকা আমি মিথ্যে দোষারোপ করিনি। এই দেখ। ফ্রান্সিস আবার সিন্দুক থেকে মাথা বের করল। লোহার পাতটা পকেটের মত লাগানো। ফ্রান্সিস তাতে হাত ঢোকালো–একটা হীরের খণ্ড পেল। বার করল। তানাকা বলল–আশ্চর্য। বাবা তো আমায় কখনো এই খাপের কথা বলেনি।
ফ্রান্সিস পরপর পাঁচটি হীরের খণ্ড বের করল। তানাকা হীরের খণ্ড নিতে হাত বাড়াল। ফ্রান্সিস ওকে সরিয়ে দিল। এই হীরের খণ্ডগুলোর মালিক যারা তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
–বেশ। আমিই ফিরিয়ে দেব। তানাকা বলল।
–তুমি এই মূল্যবান হীরে ফিরিয়ে দেবে? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। আমি কথা দিচ্ছি। শুধু এই ব্যাপারটা যেন পাঁচকান না হয়। পাগলা রাজা আরকানিয়ার কানে গেলে হীরের খণ্ডগুলো তো যাবেই আর চুরি করার জন্যে বাবাকে ফাঁসিতে ঝোলাবে। তানাকা বলল।
কিছুক্ষণ পরে ফ্রান্সিস বলল–শাঙ্কো–কী করবো?
-এই হীরের খণ্ডগুলো আমরা নেবো না। তানাকার বাবা এইগুলো মিথ্যে কথা বলে চুরি করেছে। এইগুলো তো চোরাই সম্পত্তি। চোরাই সম্পত্তি হলেও এগুলো তানাকারই প্রাপ্য। ওকেই দাও। শাঙ্কো বলল।
–তাহলে তানাকা তোমাকেই দিলাম। মাত্র একটা হীরের খণ্ড রেখে বাকিগুলো যার যার প্রাপ্য দিয়ে দেবে। কথা দাও।
–আমি একটা খণ্ডের জায়গায় দুটো খণ্ড চাইছি।
–বেশ তাই নাও। তোমার কথার খেলাপ হয় না যেন। ফ্রান্সিস বলল।
-না না। যীশুর দিব্যি–আপনারা যে নির্দেশ দিয়েছেন আমি তাই করবো। তানাকা বলল।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো দোকানের বাইরে এল। তানাকা দোকান থেকে একটা চামড়ার বস্তায় হীরেগুলো রাখল। সিন্দুক বন্ধ করল। বাইরে এল। ফ্রান্সিসকে বলল। আপনারা আমার বাবাকে প্রাণে বাঁচালেন।
–তবে তোমার বাবা কিন্তু সৎ ছিলেন না। ফ্রান্সিস বলল।
শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস এবার জাহাজে যেতে হবে। একটু দ্রুত হাঁটতে হবে।
দুজনে বেশ দ্রুত হাঁটতে শুরু করল। পথেই বিস্কো আর অন্য বন্ধুরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে দেখল। বিস্কো ছুটে এসে ফ্রান্সিসকে জড়িয়ে ধরল। বন্ধুরা ধ্বনি তুলল–ও–হো–হো।
–তোমাদের খুঁজতে রাজবাড়ি পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কয়েকদিন ধরেই আমরা তোমাদের খুঁজতে এসেছি। বিস্কো বলল।
–মারিয়া খুব রেগে গেছে–তাই না? ফ্রান্সিস বলল।
–রাজকুমারী তো মনের ভাব বেশি প্রকাশই করেন না। তবে আমরা কেউ কেউ দেখেছি–রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। বিস্কো বলল।
–আমি ফিরে এসেছি এটা দেখেই মারিয়া শান্ত হবে। চলো সব। ফ্রান্সিস বলল।
জাহাজ থেকে ফ্রান্সিসদের দেখতে পেয়ে বন্ধুরা জাহাজ থেকে ধ্বনি তুলল ও–হো–হো।
ফ্রান্সিসরা জাহাজে উঠল। মারিয়া বিরসমুখে ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল– এবার দেশে ফের।
ফ্রান্সিস হেসে উঠল। বলল কী হবে দেশে ফিরে। এই তো বেশ দেশে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
–না। আমি দেশে ফিরবো।
–ঠিক আছে। দেখা যাক।
ফ্রান্সিস মারিয়াকে নিয়ে নিজেদের কেবিনঘরের দিকে চলল। বন্ধুরা কেউ কেউ ডেক-এ বসল। কেউ কেউ শুয়ে পড়ল।
সোনার ঘর
চাঁদের আলো বেশ উজ্জ্বল। ডেকে দাঁড়িয়ে ফ্রান্সিস আর মারিয়া তাকিয়ে তাকিয়ে সমুদ্রের জলে চাঁদেরআলোর ঝিকিমিকি দেখছিল।
