–হ্যাঁ। তানাকা বলল।
–ঠিক আছে। আধ চাকতি সোনা। তোমার বাবার তো সোনা হীরে নিয়ে কারবার।
–হ্যাঁ। একটু থেমে তানাকা বলল–আমার কাছে তো এখন কিছু নেই। এই সোনার আংটিটা নিন।
–ঠিক আছে। তাই দাও। সর্দার বলল।
তানাকা আঙুল থেকে আংটি খুলে দিল। সর্দার প্রহরী একবার দেখে নিয়ে আঙুলে পরল। তারপর একজন পাহারাদারকে ইঙ্গিতে ডাকল। পাহারাদারটি এগিয়ে এল। সর্দার বলল–কয়েদীর নামটা যেন কী?
–বার্বার। তানাকা বলল।
–হ্যাঁ। বাবারকে বারান্দায় নিয়ে আয়। সর্দার প্রহরী বলল।
পাহারাদার চলে গেল। একটু পরে বাবার বারান্দায় এসে দাঁড়াল। সেনাপতি তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে বার্বারকে বলল–তুমি কেমন আছো বাবা?
-ঐ চলছে আর কি। বার্বার বলল।
–তুমি কবে ছাড়া পাবে? তানাকা বলল।
–কিছু বুঝতে পারছি না। কবে রাণির আমার ওপর রাগ কমবে। ততদিন মুক্তির কোন আশা নেই। বার্বার বললেন। একটু থেমে তানাকা বলল–একটা দরকারি কথা বলছিলাম।
–বল। বাবার বললেন।
–তোমার সিন্দুকের চাবিটা যদি দাও। তানাকা বলল।
–তুই চাবি নিয়ে কী করবি? বার্বার জানতে চাইল।
–সিন্দুক কতদিন পাহারা দেব। তানাকা বলল।
আরোনাসদের দেখিয়ে বার্বার বললেন–এরা কারা?
–আমার বন্ধু। তানাকা বলল।
–ও। যাক্ তো–চাবি দেব না। বাবার বলল।
–তাহলে কোনদিন আস্ত সিন্দুকটাই চুরি হয়ে যাবে। সিন্দুক ভেঙে সব হীরের খণ্ড, হীরের অলংকার আছে সব চুরি হয়ে যাবে। তানাকা বলল।
বার্বার একটুক্ষণ ভাবলেন। তারপর তানাকার ডান হাতটা ধরলেন। ছেড়ে দিলেন। বললেন–আমি এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তানাকা বুঝল–বাবা চাবিটা ওর হাতে দিয়েছেন। এ জায়গায় বেশ অন্ধকার। আরোনাসরা কিছুই বুঝতে পারল না। বাবার চলে গেল।
ওরা চলে আসছে তখনই আরোনাস বলল–তাহলে তোমার বাবা সিন্দুকের চাবিটা দেবে না।
-তাই তো বলছেন। তানাকা বলল।
–তাহলে সিন্দুকটা ভাঙতে হবে। আরোনাস বলল।
শেষ পর্যন্ত তাই করতে হবে। তানাকা বলল।
অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে তানাকা চাবিটা কোমরের ফেট্টিতে গুঁজে নিল। ভাবল বাবা ভালো করেই জানেন আমি হীরের খণ্ড হয়তো একটা পাবো। আর হীরের অলংকার? বাবা বেশ চিন্তা করেই আরোনাসদের সামনে চাবিটা দিলেন না। ওদের দেখে বাবার ভালো লাগে নি।
তিনজনে আস্তানায় ফিরে এল। কাঠের পাটাতনে বসতে বসতে তানাকা ডাকল–আরোনাস?
–বল।
–আমি তোমাদের বাবার কাছে নিয়ে গেছি। আমি এর বেশি আর কি করতে পারি। তানাকা বলল।
–হুঁ। আরোনাস মুখে শব্দ করল।
–তাহলে আমাকে ছেড়ে দাও। তানাকা বলল।
–এবার সিন্দুকটা ভাঙবার চেষ্টা করতে হবে। আরোনাস বলল।
তাই করো। কিন্তু আমাকে মুক্তি দাও। তানাকা বলল।
–তাই ভাবছি। আরোনাস বলল।
–তুমি তো একটা হীরের খণ্ড পেয়েছো মানে চুরি করেছে। তানাকা বলল।
–ভালো করেছি। আরোনাস বলল।
–ঠিক। তুমি যে একটা হাতকাটা চোর সেটা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। আমাকে দোকান খুলে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হবে। তানাকা বলল।
বেশ। তুই যা। আরোনাস বলল।
তানাকা ঘর থেকে বাইরে এল। ও প্রায় দৌড়ে চলল।
বাড়ি এসে বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিল। মার গলা শুনল–আসছি। মা দরজা খুলতে তানাকা বাড়িতে ঢুকল। মা বলল
–এই ক’দিন কোথায় ছিলি?
–এক বন্ধুর বাড়িতে। তানাকা বলল।
—আমাদের একটা খবর দিবি তো। মা বলল।
তানাকা কিছু বলল না। নিজের ঘরটায় ঢুকল।
সেদিন ফ্রান্সিস শাঙ্কো বাজারে কিছু কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিল। বাজারের কাছে হঠাৎ তানাকার সঙ্গে দেখা। ফ্রান্সিস বলল–তানাকা কোথায় গিয়েছিলে?
–সে অনেক কথা। তানাকা বলল।
–বললো তো শুনি। ফ্রান্সিস বলল।
তানাকা সংক্ষেপে ওর কথা বলল।
-তাহলে তোমার বাবা তোমাকে সিন্দুকের চাবি দেয়নি। ফ্রান্সিস বলল।
তানাকা একটু চুপ করে থেকে বলল–তোমাদের সত্যি কথাটা বলবো?
–বলো। তোমার যদি আপত্তি না থাকে। একটুক্ষণ চুপ করে থেকে তানাকা বলল–আমার বন্ধুদের কাছ থেকে লুকিয়ে বাবা আমাকে চাবিটা দিয়েছে।
–তাহলে তোমার সমস্যা তো মিটে গেল। সিন্দুক খুলেছিলে? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। কিছু হীরের গয়নাগাঁটি পেয়েছি।
–হীরের খণ্ড পাও নি? ফ্রান্সিস বলল।
–না। অবশ্য আমার এক চোর বন্ধু আরোনাস হীরের খণ্ড চুরি করেছিল।
ফ্রান্সিস বলল–তানাকা তোমাদের দোকানে চল। তোমার সঙ্গে কিছু জরুরি কথা আছে।
–বেশ। আমাদের দোকানে চলুন। তানাকা বলল।
তিনজনে তানাকাদের দোকানে এল। তানাকা তালাটালা খুলল। দরজা খুলল। দুটো জানালাও খুলল। এবার দোকানের ভেতরটা ভালোই দেখা যাচ্ছে। দোকানে মাঝখানে চটের মতো মোটা কাপড় পাতা।
ফ্রান্সিসরা বসল। ফ্রান্সিস লোহার সিন্দুকটার দিকে দেখল। বেশ শক্ত সিন্দুক। সম্পূর্ণ লোহার। কাজেই বেশ ভারি।
ফ্রান্সিস বলল–তানাকা কিছু মনে করো না। তোমার বাবা সৎ মানুষ নন। আমরা ধারে কাছের সব রাজবাড়িতে খোঁজখবর নিয়েছি।
তানাকা বেশ মনক্ষুণ্ণ হল। বলল–ফ্রান্সিস আপনি বাবাকে চোর বলছেন।
–ঠিক চোর বলছি না। বলতে পারি ঠগ। প্রতারক। তবে যাদের জন্য গয়না গড়িয়েছিলেন তাদের সম্বন্ধে খোঁজখবর আমরা নিয়েছি। প্রত্যেক রানী, রাজকুমারীরা একটা কথা বলেছেন, বার্বারকে তারা যে হীরের খণ্ড দিয়েছেন তাদের সবাইকেই বলেছেন-হীরের খণ্ড হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে। আমার প্রশ্ন দু-একটা ক্ষেত্রে হয়তো হারিয়ে যেতে পারে বা চুরি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এরকম হবে কেন? একটু রাগতস্বরে তানাকা বলল–
