–কী লাভ? তাছাড়া এখনো প্রমাণ করতে পারো নি।
–আর দুটো দেশলা মেরিনা আর কাকোয়াম্বোয় খোঁজ করা হয়নি। দেখবে ঐ দেশ দুটিতেও আমরা একই তথ্য পাবো–দু জায়গাতেই বাবার হীরে চুরির অথবা হারিয়ে যাওয়ার গল্প ফেঁদেছে। তারপর নতুন করে নতুন হীরে দিয়ে গয়না গড়েছে। প্রথম দেওয়া হীরের খণ্ডটি নিজে রেখে দিয়েছে।
–কোথায় রেখেছে? শাঙ্কো বলল।
বাড়িতে অথবা দোকানে। ফ্রান্সিস বলল।
–তুমি এতসব করতে যাবে কেন? শাঙ্কো বলল।
আগেই বলেছি বার্বার যে অসৎ এটা প্রমাণ করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–এরা এ দেশের মানুষ। এরা যেমন বুঝবে করবে। আমরা তার সঙ্গে জড়াবো কেন। ওদিকে রাজকুমারী, বন্ধুরা নিশ্চয়ই চিন্তায় পড়েছে। শাঙ্কো বলল। একটু চুপ করে থেকে ফ্রান্সিস বলল–শাঙ্কো যে জীবন আমরা বেছে নিয়েছি সেখানে দুশ্চিন্তার কোনো স্থান নেই। যে কোন সময় আমাদের মৃত্যু হতে পারে এটা প্রথমেই ধরে নিতে হবে। জীবনকেআমরা এরকমই বলে মেনে নিয়েছি। কাজেই এখানে দুশ্চিন্তার কোন স্থান নেই।
-তোমার মত মনের জোর তো সকলের নেই। তাই তারা দুশ্চিন্তা ভোগ করে। শাঙ্কো বলল।
–যাক্ আমার কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। দুটো দেশ বাকি। তারপরেই প্যারাইসোতে আমাদের জাহাজে ফিরে যাবো।
–ঠিক আছে। তুমি যা করতে চাও করো। শাঙ্কো বলল।
যুবকটি ঘরের দরজা খুলে মুখ বাড়িয়ে বলল–আপনাদের খাবার তৈরি। আপনারা আসুন।
ফ্রান্সিসরা বিছানা থেকে উঠল। বাড়ির ভেতরে ঢুকল।.ভেতরে একটা ছোট উঠোন মত। চারপাশে ঘর।
যুবকটি উঠোনে দুটো লম্বা বড় পাতা পেতে দিল। ফ্রান্সিসরা পাতাগুলোর সামনে বসল। ফ্রান্সিস শাঙ্কো খেতে বসল। কাঠের গ্লাশে জল ভরা ছিল। শাঙ্কো গ্লাশের সবটা জল ঢক ঢক্ করে খেয়ে নিল। এইবার বুঝতে পারল কী জলতেষ্টা পেয়েছিল।
যুবকটির স্ত্রী খাবার নিয়ে এল। গোল রুটি আর তরকারি মত দিল। ফ্রান্সিসরা খেতে লাগল। সুস্বাদু লাগল। ক্ষুধার্ত ফ্রান্সিসরা অল্পক্ষণের মধ্যেই খেয়ে নিল। বৌটি আরও রুটি তরকারি দিল। পেট কিছুটা ভরেছে। এবার ফ্রান্সিসরা আস্তে আস্তে খেতে লাগল।
খাওয়া শেষ। হাত মুখ ধুয়ে মুছে বাইরের ঘরে ওরা এল। বিছানায় বসল। যুবকটি এল। হেসে বলল-পেট ভরেছে তো?
শাঙ্কো হেসে বলল–পেট পুরে খেয়েছি। ফ্রান্সিস বলল–অনেক উপকার করলেন। আর একটা অনুরোধ–ঘোড়া দুটোর জন্যে যদি দানাপানির ব্যবস্থা করে দেন। ওরাও তো ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত।
–কিচ্ছু ভাববেন না। আমার এক বন্ধু আছে। ঘোড়া কেনাবেচা করে। ওর বড় আস্তাবল আছে। ওকে ডেকে আনছি। আপনাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।
–ঠিক আছে। শাঙ্কো বলল। যুবকটি বেরিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পরে যুবকটি ওরই সমবয়সী একজন যুবককে নিয়ে এল। বন্ধুটি অভ্যস্ত হাতে ঘোড়া দুটোর লাগাম ধরে নিয়ে চলল।
ফ্রান্সিস ভাবল–একটা বড় সমস্যার সমাধান হল। ঘোড়া দুটো দানাপানি পাবে। দম নিয়ে ছুটতে পারবে।
বিকেল হল। ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। বৃদ্ধ ও যুবকটিকে বারবার ধন্যবাদ দিল।
এবার ঘোড়ায় চড়ল। ফ্রান্সিস যুবকটিকে ডাকল। যুবকটি এগিয়ে এল। ফ্রান্সিস বলল–কাকোয়াম্বো দেশটিতে কী করে যাবো?
–এই যে রাস্তাটা, এটা সোজা চলে গেছে কাকোয়াম্বো। এখন তো শেষ বিকেল। কাকোয়াম্বো পৌঁছতে পৌঁছতে বেশ রাত হয়ে যাবে। আজকের রাতটা আমাদের বাড়িতে থেকে কাল সকালে গেলে পারতেন।
–উপায় নেই ভাই। আমাদের জাহাজ প্যারাইসো বন্দরে নোঙর করে আছে। সেই জাহাজে আমার বন্ধুরা রয়েছে। তাই এখানকার কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে জাহাজে ফিরে যাবো।
–আপনারা কায়াকোম্বো যাচ্ছেন তো?
–হ্যাঁ, কেন বলোতো? ফ্রান্সিস বলল।
–কায়াকোম্বোর রাজা আরকানিয়া খুব ধূর্ত আর নৃশংস। প্রজাদের সামান্য কারণে ফাঁসি দিয়ে থাকেন এবং ঐ ফাঁসি নিজে দেন। এজন্যে কোন ফাঁসুড়ে নেই। আবার তরোয়াল দিয়ে হত্যাও করেন। কাজেই খুব সাবধানে চলবেন। যুবকটি বলল।
–খুব উপকার করলে ভাই। আমরা সাবধানে চলবো। ফ্রান্সিস বলল।
দুজনে ঘোড়া চালাল।
দুজনের ভাগ্য ভাল যে এক জায়গায় ছোট শহরে সরাইখানা পেয়েছিল। তাই দুপুরের খাওয়াটা সন্ধেবেলা সারতে পেরেছে।
কাকোয়াম্বো পৌঁছতে বেশ রাতই হল। বেশ বড় শহর। তবে এই রাতে রাস্তাঘাটে খুব একটা ভিড় নেই। সদর রাস্তা দিয়ে ঘোড়া চালিয়ে চলল। দুজনেই একটা সরাইখানা খুঁজছিল। অল্পক্ষণের মধ্যেই একটা সরাইখানা খুঁজে পেল। সরাইখানার সামনে ঘোড়া থামাল। ঘোড়া থেকে নামল। শাঙ্কো ঘোড়া দুটোর লাগাম ধরে রইল।
ফ্রান্সিস সরাইওয়ালার কাছে গেল। সরাইওয়ালা নতুন খদ্দের পেয়ে খুব খুশি। এই শহরে লোকজন আসা খুব কমে গেছে। দুজন তো পাওয়া গেল। কাছে এসে ফ্রান্সিস বলল–আমরা দুজন থাকবো।
–বেশ তো, বেশ তো। সরাইওয়ালা বলল।
–কোন ঘরে থাকবো? শাঙ্কো বলল।
–একটাই তো ঘর। কোন অসুবিধে হবে না। সরাইওয়ালা বলল।
রাতের খাওয়ার ব্যবস্থাটা একটু জলদি করুন। শাঙ্কো বলল।
নিশ্চয়ই। আমি বলে দিচ্ছি। সরাইওয়ালা পেছন দিকে চলে গেল।
ফ্রান্সিস বলল–চল। পেছনের ঘরে। দুজনে পেছনের ঘরে এল। সরাইখানার ব্যবস্থা যা হয়। শুকনো ঘাসপাতার ঢালাও বিছানা। কয়েকটা বালিশ। ফ্রান্সিস ঢালাও বিছানায় শুয়ে পড়ল। শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস ঘোড়াগুলোকে দানাপানি খাওয়াতে হয়।
