ব্যাপারটা হল তানাকায় একজন নামকরা জহুরী আছে। নাম বার্বার। এখানকার রাণিমা তাকে কোন হীরের গয়না গড়তে দিয়েছিলেন কিনা। ফ্রান্সিস বলল।
–যদি খবরটা আনি তাহলে আমাকে কী দেবে? রবিন হেসে বলল।
–একটা সোনার চাকতি। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখি চেষ্টা করে। রবিন বলল।
–আর একটা খুব দরকারি খবর চাই এইসঙ্গে। ফ্রান্সিস বলর।
–কী খবর? রবিন বলল।
–বার্বার রাণিমার দেওয়া হীরের খণ্ড হারিয়ে ফেলেছিল কিনা। ফ্রান্সিস বলল।
–এটা আবার কী খবর! রবিন বলল।
–খবরটা আমাদের খুব প্রয়োজন। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। রবিন বলল।
রবিন সভাঘর ছাড়িয়ে অন্দরমহলের দিকে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পরে রবিন ফিরে এল। সঙ্গে আর একজন প্রহরী। রবিন বলল–ও অন্দরমহলে রাণিমার ফাইফরমাস খাটে। ও ব্যাপারটা জানে বলল। সেই প্রহরীকে ফ্রান্সিস বলল–ভাই একটা খুব দরকারী কথা জানতে চাইছি।
কী দরকারী কথা? প্রহরী বলল।
–তানাকা দেশে বার্বার নামে একজন জহুরী আছে। হীরের গয়না গড়তে খুব ওস্তাদ। তাকে দেখেছো? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। তানাকা থেকে আসতো। আমি রাণিমার কাছে নিয়ে গেছি। প্রহরী বলল।
–হ্যাঁ। এখন জানতে চাইছি বার্বারকে গয়না গড়ার জন্যে যে হীরের খণ্ডটা দেওয়া হয়েছিল সেটা কি বার্বারের কাছে হারিয়েছিল অথবা চুরি হয়েছিল? ফ্রান্সিস বলল।
– হ্যাঁ- হ্যাঁ-এরকমই ব্যাপারটা হয়েছিল। বাবার কেঁদেকেটে বলেছিল হীরের খণ্ডটা হারিয়ে গেছে। যা হোকরাণিমা কিছু বলেন নি। নতুন হীরের খণ্ড দিয়েছিলেন। প্রহরী বলল।
–এটাই জানতে চাইছিলাম। ভাই অনেক ধন্যবাদ। ফ্রান্সিস বলল। শাঙ্কোর দিকে তাকাল। শাঙ্কো কোমর থেকে একটা সোনার চাকতি বের করল।
ফ্রান্সিস বলল–দুজনকে দুটো দাও। শাঙ্কো আর একটা সোনার চাকতি বের করল। প্রহরী দুজনকে দিল। দুই প্রহরীই খুশি।
রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে এল দুজনে। ঘোড়ায় চড়ে উঠল। নেমে সরাইখানায় এল। দেখল সেই গুণ্ডার দল চলে গেছে।
রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর ফ্রান্সিসরা শুতে এল।
ফ্রান্সিস বলল–ধারে কাছে কোন কোন রাজ্য আছে তা জানতে হবে। তানাকার কাছে দুটো নাম পেয়েছিলাম। সে তো দেখাও হল–জানাও হল। এবার আরো কয়েকটা দেশের নাম জানতে হবে। ভালো কথা। সরাইওয়ালাই বলতে পারবে। ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। সরাইওয়ালার কাছে এল। সরাইওয়ালা আলো জ্বেলে মাথা। নিচু করে মুদ্রা গুনছিল।
ফ্রান্সিস বলল–একটা কথা বলছিলাম।
-বলুন। সরাইওয়ালা মুখ তুলে হেসে বলল।
—-ধারে কাছে কয়েকটা দেশের নাম কী?
–ঐ তো কাকোয়াম্বো লা সেরিনা। সরাইওয়ালা বলল। ফ্রান্সিস ওকে জিজ্ঞেস করে রাজ্য দুটিতে যেতে হলে কোন দিকে যেতে হবে এসব ভালো করে জেনে নিল।
পরের দিন সকালের খাবার খেয়ে দুজনে ঘোড়ায় উঠল। দিক ঠিক করে ঘোড়া ছোটাল।
দুপুর হল। গরম হাওয়া ছুটেছে।
জলতেষ্টা পেয়েছে, খিদেও পেয়েছে। এবার খাবার জোগাড় করতে হয়। একটা গ্রামমত দেখল। কয়েকটা পাথরের বাড়ি। ঘোড়া থামালো।
ফ্রান্সিস বলল-চলো দেখা যাক।
একটা বাড়ির বাইরের ঘরে গাছের ডাল দিয়ে তৈরি দরজা খোলা। শাঙ্কো খোলা দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। দেখল একজন বৃদ্ধ একটা বাচ্চা ছেলেকে নিয়ে ঘাসপাতায় তৈরি বিছানায় বসে আছে। শাঙ্কোকে দেখে বৃদ্ধটি বলল–আপনি কে? কি চান? শাঙ্কো বলল–আমরা বিদেশি। লা মেরিনা দেশে যাবো। আমরা খুবই। ক্ষুধার্ত। যদি কিছু খাবারের ব্যবস্থা করেন তাহলে আমাদের খুবই উপকার হয়।
–নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই। বৃদ্ধ ছেলেটিকে কোলে নিয়ে বলল–আপনারা বসুন। বাড়ির মেয়েদের বলছি। বৃদ্ধ একটু গলা চড়িয়ে বোধহয় কাউকে ডাকলেন। একটি বৌ ঢুকল। বাচ্চাটি প্রায় লাফিয়ে মেয়েটির কোলে গেল। বোঝাই যাচ্ছে বৌটি বৃদ্ধের ছেলের বৌ। বৃদ্ধটি এবার বলল–এঁরা দুজন লা মেরিনা যাবেন। এখানে তো আর সরাইখানা নেই। কাজেই ক্ষুধার্ত দুজন আমাদের এখানে খেতে চাইছেন। বৌটি ফ্রান্সিস আর শাঙ্কোর দিকে তাকাল। বলল–আমাদের তো খাওয়া হয়ে গেছে। আপনাদের জন্যে বেঁধে দিচ্ছি। আপনারা বসুন। আমরা তাড়াতাড়ি বেঁধে দিচ্ছি। ফ্রান্সিস বাচ্চাটার দিকে দুহাত বাড়াল। আশ্চর্য। বাচ্চাটি ফ্রান্সিসের হাত ধরে ঝুঁকে পড়ল। ফ্রান্সিস কোলে নিল। ওর মা চলে গেল। ফ্রান্সিস হেসে বলল– শাঙ্কো কে ভালো মানুষ আর কে নয় এটা শিশুরা ঠিক বুঝতে পারে। তাই সব লোকের আদরেই ওরা সাড়া দেয় না। ওরা যাচাই করে নেয়।
ফ্রান্সিস বাচ্চাটিকে বৃদ্ধের দিকে এগিয়ে ধরল। বৃদ্ধ বাচ্চাটিকে কোলে নিল।
ফ্রান্সিসরা মেঝের পাটাতনে বসল। বৃদ্ধও নাতি কোলে ফ্রান্সিসদের পাশে বসলেন। বৃদ্ধটি ফ্রান্সিস ও শাঙ্কোর পরিচয়-টরিচয় জানতে চাইলেন। কথাবার্তা চলল। ফ্রান্সিস আধশোয়া হল। খুব ক্লান্ত লাগছে নিজেকে।
এমন সময় একটি যুবক ঘরে ঢুকল। জামাকাপড়ে ধুলোবালি লেগে। ফ্রান্সিসদের দেখে বলল–আপনারা কে? বৃদ্ধ বলে উঠলেন–এরা বিদেশি। লা মেরিনা যাবে। এখন এখানে আর কোথায় খাবার পাবে। তাই আমাদের অতিথি হয়েছে।
যুবকটি হাসল। বলল–নিশ্চয়ই। আপনাদের খাবার তৈরি হচ্ছে। আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। যুবকটি বাড়ির ভেতরে চলে গেল।
শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস–তুমি কী প্রমাণ করবার জন্যে উঠেপড়ে লেগেছো?
বার্বার যে অসৎ এটা আমি প্রমাণ করতে চাই।
