আমরা ভাইকিং। শাঙ্কো বলল।
–তাহলে তোরা তো জলদস্যু।
ফ্রান্সিস লোকটার কথা শেষ হওয়ামাত্র তড়াক করে উঠে দাঁড়াল। তরোয়াল কোষমুক্ত করল। দাঁতচাপা স্বরে বলল–ঐ কথাটা ফিরিয়ে নাও।
শাঙ্কোও উঠে দাঁড়াল। তরোয়াল খুলল। যে লোকটা জলদস্যু বলেছিল সে ফ্রান্সিসদের এই রূদ্ররূপ দেখে বেশ ভয়ই পেল। ওর বন্ধুরাও দুজন তরোয়াল খুলল। ফ্রান্সিস বলল–কথাটা ফিরিয়ে নাও। বললো যে আমি ভুল বলেছি। বলো। ঐ লোকটা চুপ করে রইল। ওর কথার জন্যে এরকম একটা কিছু হবে ও ভাবতে পারে নি। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–একজন একজন করে আয়। আজ তোদের সবাইকে নিকেশ করবো। একজন তরোয়াল তুলে সামনে এল। ফ্রান্সিস ওর তরোয়ালে নিজের তরোয়ালটা এত জোরে ঘা মারল যে লোকটার হাত থেকে তরোয়ালটা ছিটকে গেল। লোকটা হাঁ মুখে দাঁড়িয়ে রইল। ফ্রান্সিস অনায়াসে লোকটার কাঁধে তরোয়ালের কোপ বসাতে পারতো কিন্তু ফ্রান্সিস তা করল না। অন্যজন তরোয়াল নিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে এল। শাঙ্কো তার মোকাবিলা করল। শাঙ্কো দ্রুতগতিতে ঐ লোকটার হাতের কব্জিতে তরোয়াল দিয়ে ঘা মারল। ওর হাত থেকে তরোয়াল খসে পড়ে গেল। শাঙ্কো তরোয়াল তুলতে গিয়েও তুলল না।
সরাইখানার মালিক ছুটে এল। দুহাত তুলে বলল–আপনারা এভাবে মারামারি করবেন না। আমার দোকানের বদনাম হবে।
অন্য লোকগুলো চুপ করে বসে রইল। ফ্রান্সিস তখনও তরোয়াল কোষবদ্ধ করেনি। দাঁতচাপা স্বরে বলল–যে লোকটা আমাদের বদনাম দিয়েছো সে এগিয়ে এসো। তরোয়াল আনো। লোকটা বুঝল এ বড় কঠিন ঠাই। এঁটে ওঠা যাবে না। লোকটা ফ্রান্সিসদের দিকে তাকিয়ে বলল–ঠিক আছে–ঠিক আছে। আমি কথাটা ফিরিয়ে নিচ্ছি।
–পথে এসো। কথাটা বলে ফ্রান্সিস তরোয়াল কোষবদ্ধ করল। সরাইওয়ালা তখনও বলে চলেছে–এখানে খুন-টুন হলে আমার দোকানের বদনাম হবে। আপনারা শান্ত হোন। ওদের মধ্যে একজন বলল–ঠিক আছে–আর কিছু হবে না। সরাইওয়ালা মাথা নাড়তে নাড়তে চলে গেল। লোকগুলোও শান্ত হল। থেকে থেকে ফ্রান্সিসদের দেখতে লাগল।
পরদিন সকালের খাবার খেয়ে ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো রাজার দরবারে এল। রাজবাড়িটা প্রাসাদের মত। ওরা দেখল দরজায় দাড়ি গোঁফওয়ালা একজন প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে পেতলের বর্শা। বশার মুখটা লোহার।
ফ্রান্সিসরা দরজা পার হতে যাচ্ছে তখনই একজন প্রহরী এগিয়ে এল। বলল তোমাদের দেখে তো বিদেশি বলে মনে হচ্ছে।
-হ্যাঁ। আমরা বিদেশি। আমরা ভাইকিং। শাঙ্কো বলল।
–এখানে এসেছো কেন? প্রহরী জিজ্ঞেস করল।
মাননীয় সেনাপতির সঙ্গে দেখা করবো। শাঙ্কো বলল।
–কেন? প্রহরী বলল।
কথা আছে। শাঙ্কো বলল।
–কী কথা? প্রহরী জানতে চাইল।
–সেটা সেনাপতিকেই বলবো। ফ্রান্সিস বলল।
-বেশ। প্রহরীটি ভেতরের দিকে মুখ তুলে বলল-রবিন–এখানে শোন। অন্য একজন প্রহরী এগিয়ে এল। বলল–কী হয়েছে?
–এই দুজন বিদেশি সেনাপতির সঙ্গে দেখা করবে। তুই একটু নিয়ে যা। রবিন ফ্রান্সিসদের দিকে তাকিয়ে বলল–এসো।
প্রহরীটি ফ্রান্সিস আর শাঙ্কোকে রাজসভার কাছে নিয়ে এল। বেশ কিছু বিচারপ্রার্থী জড়ো হয়েছে। রাজামশাই সিংহাসনে বসে আছেন। বিচার চলছে। রাজার একপাশে মন্ত্রী অমাত্যরা বসে আছেন। অন্য পাশে সেনাপতি আর দু-একজন উচ্চপদাধিকারী। রবিন আঙ্গুল দেখিয়ে সেনাপতিকে দেখাল। বলল- উনিই সেনাপতি। সভার কাজ হয়ে গেলে কথা বলবেন। তবে একটা কথা বলে রাখি সেনাপতি কিন্তু ভীষণ রগচটা। চটে গিয়ে এর আগে বেশ কয়েকজনকে চড় মেরেছেন।
রবিন চলে গেল।
ফ্রান্সিসরা সভার কাজকর্ম দেখতে লাগল। কতক্ষণে সভা শেষ হবে তার চিন্তা।
সভার কাজ চলল।
প্রায় ঘণ্টা তিনেক পরে সভা শেষ হল।
রাজা অন্দরমহলে চলে গেলেন। লোকজন বেরিয়ে আসতে লাগল। মন্ত্রী অমাত্যরা বেরিয়ে আসতে লাগলেন। সেনাপতিও আসছিল। ফ্রান্সিস এগিয়ে এল। মাথা একটু নুইয়ে সেনাপতির সামনে দাঁড়াল। সেনাপতি ফ্রান্সিস আর শাঙ্কোকে দেখে বললেন-দেখে তো মনে হচ্ছে তোমরা এই রাজ্যের মানুষ না।
–ঠিকই ধরেছেন। আমরা ভাইকিং। ফ্রান্সিস বলল।
–হু। শুনেছি তোমরা খুব সাহসী যোদ্ধা। জাহাজ চালনায় দক্ষ। সেনাপতি বলল।
–আপনি ঠিকই শুনেছেন। ফ্রান্সিস বলল।
–আমার কাছে কেন? সেনাপতি জানতে চাইলেন।
–একটা খবর জানতে এসেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–কী খবর?
–এখানকার রাণিমা কি কখনও তানাকার একজন বিখ্যাত হীরের মণিকার বার্বারের কাছ থেকে হীরের গয়না করিয়েছিলেন? ফ্রান্সিস বলল।
–আমি কি অন্দরমহলের খবর রাখি নাকি। সেনাপতি বললেন।
–না–মানে, যদি জানেন–ফ্রান্সিস বলল।
–আমি এসবের কিছুই জানি না। সেনাপতি মাথা এপাশ-ওপাশ করে বলল।
–মানে বলছিলাম–ফ্রান্সিস বলতে গেল।
–এবার গালে চড় মারবো। বেরো, এখান থেকে। সেনাপতি ক্ষেপে গিয়ে বলল। তারপর চলে গেলেন।
ফ্রান্সিস আর কিছু বলল না।
শাঙ্কো বলল–এই খবরটা অন্য কার কাছ থেকে পাবো?
–সেটাই ভাবছি। দাঁড়াও–একবার প্রহরী রবিনকে বলে দেখি। ফ্রান্সিস বলল।
প্রধান প্রবেশপথের সামনে রবিনকে পাওয়া গেল।
ফ্রান্সিস বলল–ভাই রবিন তোমার কাছ থেকে একটা খবর জানতে চাই।
–কী খবর? রবিন বলল।
–অন্দরমহল থেকে একটা খবর এনে দিতে পারো? ফ্রান্সিস বলল।
চেষ্টা করে দেখতে পারি। রবিন বলল।
