–তাই দাও। আমি বললাম–পেট ভরে খেলাম।
একটু বেলায় প্রহরীদের ওপরওয়ালা এল। মুখে গোঁফ দাড়ি। প্রথমেই আমাকে জিজ্ঞেস করল–তুই কে? আমি আমার কথা বললাম। তারপরে সবাইকে জিজ্ঞেস করল–বাড়ি কোথায়। প্রহরীরা সকলের অপরাধের কথা বলল। ওপরওয়ালা গোঁফ চুলকে বলল–দেখছি চারজনের বাড়ি তানাকায়। ঐ চারটাকে হাতে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাবি তানাকা সীমান্তে। ওদের তানাকার পাহারাদারদের হাতে তুলে দিবি। দেখিস পালিয়ে না যায়। আমি বললাম আমার একটা আর্জি ছিল।
-বল্। ওপরওয়ালা ঘুরে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকাল। আরোনাসকে দেখিয়ে বললাম–এই লোকটা আরোনাস আমাকে বোকা বানিয়ে একটা হীরের খণ্ড চুরি করেছে।
বলো কি। তা হীরে পেলি কোথায়? বড় পাহারাদার জানতে চাইল।
–আমার বাবা হীরের গয়নাগাঁটি তৈরি করে। আমি বললাম।
–ও। তা এসব বিচার তোদের দেশের রাজা করবে। তোদের বিচারের ঝামেলা আমরা নেব না।
প্রহরীদের কর্তা চলে গেলেন।
-তারপর? শাঙ্কো বলল।
ঝড়বৃষ্টির মধ্যে পালালাম। এবার আমার একটাই চিন্তা বাবার কোন বিপদ হয়নি তো?
শাঙ্কো বলল–এখন কী করবে?
–অপেক্ষা করবো। আরোনাস মুক্তি পেলেই ওকে ধরে হীরের খণ্ড আদায় করে ছাড়বো।
শেষ বিকেলে শাঙ্কোরা প্যারাইসে পৌঁছল। হৈ হৈ করে জাহাজে উঠল। ফ্রান্সিস হাসিমুখে এগিয়ে এল। সবাইকে নির্বিঘ্নে ফিরতে দেখে ফ্রান্সিস খুশি। মারিয়াকে বলল–কোন সমস্যায় পড়োনি তো?
না না। মারিয়া হেসে বলল। ফ্রান্সিস তানাকাকে দেখে বলল–এই যুবক কে?
–আমি সব বলছি। তার আগে বিকেলের খাবারটা খেয়ে নিই তানাকা বলল।
–ঠিক–ঠিক। আমি একটু বেশি কৌতূহল দেখিয়ে ফেলেছি। তোমরা খেয়ে নাও। ফ্রান্সিস বলল। তারপর রসুই ঘরে গিয়ে রাঁধুনি বন্ধুদের বলল–একটু তাড়াতাড়ি খাবার তৈরি কর। শাঙ্কোরা খুব ক্ষুধার্ত।
শাঙ্কোরা অনেকেই হ্যারির ঘরে এসে হ্যারিকে দেখে গেল। হ্যারি এখন একেবারে সুস্থ। বন্ধুদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করল। সকলেই খুশি হল হ্যারির অসুখ সেরে গেছে।
ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে ডেকে পাঠাল। শাঙ্কো ফ্রান্সিসের কেবিনঘরে এল। ফ্রান্সিস বলল–তানাকাকে ডেকে আনো। শাঙ্কো তানাকাকে নিয়ে এল। ফ্রান্সিস তানাকাকে বিছানায় বসতে বলল। মারিয়া বিছানার কোনায় বসল। ফ্রান্সিস বলল–তানাকা তোমার পরিচয় দিয়ে বল তুমি আমাদের কাছে আশ্রয় নিচ্ছো কেন। তানাকা শাঙ্কোকে যা বলেছিল তাই বিস্তারিত বলল।
ফ্রান্সিস বলল–তুমি কি নিশ্চিত যে আরোনাসই হীরের খণ্ডটা চুরি করেছে?
-হ্যাঁ। এতে কোন ভুল নেই।
–হীরের খণ্ডটা নেই এটা প্রথমে কে দ্যাখে। তুমি না তোমার বাবা? ফ্রান্সিস বলল।
–বাবা। রাণিমার গয়না তৈরি করবে বলে বাবা সিন্দুকটা খোলেন। তখনই দেখলেন হীরের খণ্ডটা নেই।
–হুঁ। ফ্রান্সিস মুখে শব্দ করল। পরে বলল–তানাকা আমি আর শাঙ্কো তোমাদের দেশে যাবো। অন্য কিছু দেশেও যাবো। একটু থেমে বলল–অন্য দেশেরও রাণিরা রাজকুমারীরা নিশ্চয়ই তোমার বাবার কাছে গয়না গড়াতে দেন।
-হ্যাঁ হ্যাঁ।
–তাই তোমাদের দেশে আগে যাবো। কিছু খোঁজখবর করবো। তারপর অন্য দেশে যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
–ফ্রান্সিস এতো মাস দুয়েকের ধাক্কা। শাঙ্কো বলল।
–না-না। অত সময় লাগবে না। ফ্রান্সিস বলল।
মারিয়া বলল–অত খোঁজখবরের কী দরকার?
দরকার আছে। যাক গে–শাঙ্কো কালকে দুটো ঘোড়া ভাড়া করতে হবে। আমরা কয়েকটা জায়গায় যাবো।
–আমি আপনাদের সঙ্গে তানাকা যেতে চাই। তানাকা বলল।
–ঠিক আছে। তোমার বাবার দোকানটা দেখা যাবে।
আমাদের বাড়িটাও দেখতে পারবেন। তানাকা বলল।
–না। তোমাদের দোকানটাই দেখতে হবে। ভালো কথা-তোমাদের দোকানে। যে সিন্দুকটা আছে তোমার বাবা ঐ সিন্দুকেই তো সব হীরে জহরত রাখতেন।
–হ্যাঁ। বাড়িতে কোথাও রাখতেন না। তানাকা বলল।
–ঠিক আছে। ফ্রান্সিস বলল।
সকালের খাবার খেয়েই তিনজনে জাহাজ থেকে নামতে তৈরি হল। মারিয়া একপাশে দাঁড়িয়েছিল। ফ্রান্সিস মারিয়ার কাছে গেল। নিম্নস্বরে বলল–কোন চিন্তা করো না। আমরা দুজনে অক্ষত দেহে ফিরে আসবো। মারিয়া মুখ নিচু করল। কোন কথা বলল না।
জাহাজঘাটার কাছে একটা মাঠ মত। সেখানে দুটো ঘোড়া একটা চেস্টনাট গাছের সঙ্গে বাঁধা। একটি লোক দাঁড়িয়ে আছে। শাঙ্কো ঐ লোকটার কাছে এল। ফ্রান্সিসরাও এল। শাঙ্কো লোকটিকে একটা সোনার চাকতি দিল। আঙুল দিয়ে নিজেদের জাহাজটা দেখিয়ে বলল–দিন পাঁচ সাত পরে ঐ জাহাজে আমাদের পাবে। ঘোড়া দুটো এই গাছের সঙ্গেই বেঁধে রাখবো। ফ্রান্সিসরা আর দেরি করল না। তিনজনে ঘোড়ায় চড়ল। আরোনাস শাঙ্কোর ঘোড়ায় উঠল। ওরা ঘোড়া ছোটাল।–তানাকা দেশের উদ্দেশ্যে।
রোদের তেজটা একটু কম। ফ্রান্সিসদের খুব একটা কষ্ট হল না।
দুপুরে একটা ছোট গ্রামে এল। ফ্রান্সিস ঘোড়া থামাল। শাঙ্কো বলল–থামলে কেন?
–দুপুর হল। কিছু তো খেতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখা যাক কোন বাড়িতে খাবার জোটে কিনা? এখানে তো আর সরাইখানা নেই। শাঙ্কো বলল।
সামনে একটা বাড়ি দেখিয়ে ফ্রান্সিস বলল–আগে এই বাড়িটায় চলো।
তিনজনে বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। ফ্রান্সিসই বন্ধ দরজায় টোকা দিল। সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে গেল। একজন বয়স্ক মানুষ দাঁড়িয়ে। ফ্রান্সিস বলল–দেখুন আমরা প্যারাইসো বন্দর শহর থেকে আসছি। যাবো তানাকা। এত বেলায় খুবই ক্ষুধার্ত আমরা। যদি কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
