ভাইকিং বন্ধুরা খুব খুশি। শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস আমরা এই দেশীয় পোশাক বানাব। তুমিও আমার সঙ্গে চলো। ফ্রান্সিস হ্যারি আর মারিয়ার দিকে তাকাল। দুজনেই নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে।
মারিয়া তুমি আর হ্যারি থাকে। আমরা যাচ্ছি। তোমার জন্যে পোশাক কিনে আনবো। ব, হ্যারির শরীরের কয়েকটা মাপ নিয়ে যাচ্ছি। দর্জি ঠিক সেই পোশাক বানাতে পারবে।
ফ্রান্সিসরা তৈরি হয়ে জাহাজ থেকে জাহাজঘাটায় নামল। রাস্তায় বেশ ভিড়। ওরা একটা দর্জির দোকান খুঁজে পেল। দোকানে ঢুকল। দোকানের মালিক খুব খুশি। এত খদ্দের। এবার দর্জিকে কাপড় দেখাতে বলল। দর্জিরা দেখাল নানা রঙের কাপড়। ওর মধ্যেই ফ্রান্সিস পেল সবুজ রঙের কাপড়। কাপড়টা তুলে সবাইকে দেখাল। সকলেরই পছন্দ হল।
এবার ফ্রান্সিস মালিকের কাছে এল। কাপড়টা দেখিয়ে বলল–আমাদের মাপ অনুযায়ী এ দেশের পোশাক বানিয়ে দিন। তৈরি জামা বিকেলের মধ্যে চাই।
–এত তাড়াতাড়ি।
ফ্রান্সিস কোমড় থেকে সোনার চাকতি দেখাল। মালিককে দিল।
মালিক খুব খুশি। বলল–কোন অসুবিধে নেই। দু’জন বেশি লোক রাখতে হবে।
–ঠিক আছে। ফ্রান্সিস হ্যারির মাপটা দিল। বলল–এই মাপের হবে।
–বেশ। মালিক মাথা দুলিয়ে বলল।
ফ্রান্সিসরা দোকান থেকে বেরিয়ে এল। বলল, চলোমারিয়ার জন্যে একটা গাউন কিনবো। সবাই রাস্তা দিয়ে চলল। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা বেশ বড় জামাকাপড়ের দোকান দেখল।
ফ্রান্সিসরা দোকানে ঢুকল। দোকানের মালিক হাসিমুখে বেরিয়ে এল। ফ্রান্সিস তৈরি হওয়া ঝোলানো গাউনগুলো দেখতে লাগল। কত রঙের কত রকমের গাউন। ঝুলছে। ফ্রান্সিস গাউনগুলো দেখতে লাগল। দেখতে দেখতে একটা হলুদ রঙের মধ্যে নীলফুল এইরকম একটা গাউন দেখল। দোকানের কর্মচারীকে গাউনটা নামিয়ে দিতে বলল। কর্মচারী ঐ গাউনটা নামাল। ফ্রান্সিস–দেখতে দেখতে বলল–শাঙ্কো-দেখ তো এই গাউনটা তোমাদের কেমন লাগছে। শাঙ্কো বলল তোমার পছন্দ, আমাদেরও ভালো লেগেছে। রাজকুমারীকে খুবই সুন্দর দেখাবে। অন্য দুই তিনজন বন্ধুও বলল সেকথা। ফ্রান্সিস ঐ গাউনটা কিনল। একজন কর্মচারী একটা পেস্টবোর্ডের বাক্সের মধ্যে গাউনটা ভরে ফ্রান্সিসকে দিল।
কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে সবাই জাহাজে ফিরে এল। ফ্রান্সিস হ্যারির কেবিনঘরের দিকে চলল। অন্য বন্ধুরা নিজেদের কেবিনঘরে চলে গেল।
হ্যারির কেবিনঘরে ঢুকে ফ্রান্সিস বলল–হ্যারি–কেমন আছো?
–ভালো। তোমরা শহরে ঘুরে এলে?
–হ্যাঁ। সকলের পোশাক তৈরির জন্যে একজন দর্জির দোকানের মালিককে বলে এলাম। হ্যারির পাশেই মারিয়া বসে আছে।
ফ্রান্সিস এবার মারিয়ার দিকে পেস্টবোর্ডের বাক্সটা এগিয়ে ধরল। হেসে বলল–খোল। মারিয়া বাক্সটা খুলল। গাউনটা ঝুলিয়ে ধরল।
–পছন্দ হয়েছে? ফ্রান্সিস বলল।
–ভালোই হয়েছে। তবে অল্পবয়সী মেয়েদের ভালো মানাবে। আমার মত বুড়িকে ততটা মানাবে না। মারিয়া বলল।
তুমি এখনও বুড়ি হও নি। এটা অনায়াসে পরতে পার। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। তুমি এনেছো নিশ্চয়ই পারবো। মারিয়া বলল।
ভাইকিংবা খুব খুশি। নতুন পোশাক পরবে। বিকেল হওয়ার আগেই শাঙ্কো? কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে দর্জির দোকানে এল। দোকানের মালিক হেসে বলল– আপনাদের পোশাক হয়ে গেছে। কাপড়ের একটা বড় বোঁচকার মত এক কর্মচারী নিয়ে এল। শাঙ্কো দাম মিটিয়ে দিতে গেল। দু’জন বন্ধু বোঁচকাটা ধরে রইল। শাঙ্কো ফিরে এল। বোঁচকা নিয়ে জাহাজে ফিরে এল।
ভাইকিং বন্ধুদের মধ্যে বোঁচকা নিয়ে টানাটানি চলল। শাঙ্কো গলা চড়িয়ে বলল–একটু ধৈর্য ধর। শাঙ্কোই যার যা পোশাক একে একে বার করে দিল। খুশি হয়ে সবাই নতুন পোশাক পরতে নিজেদের কেবিনঘরে চলে গেল।
নতুন জামাটামা পরে ভাইকিংরা খুব খুশি। ওরা ডেক-এ উঠে এল। শাঙ্কোরা কয়েকজন ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল-রাজকুমারীও আমাদের সঙ্গে বেড়াতে যাবেন।
ফ্রান্সিস বলল–আমি হা না বলবো না। তোমরা রাজকুমারীকে বলে দেখ।
তখনই মারিয়া ঘরে ঢুকল। হ্যারিকে জিজ্ঞেস করল–হ্যারি এখন কেমন আছো?
–খুব ভাল। আজকে দুপুরে এই ঘরে হাঁটাচলা করেছি। শরীরের দুর্বলতা অনেকটা কেটে গেছে। শাঙ্কো এগিয়ে এল। বলল–আমাদের একটা কথা ছিল।
-বল। মারিয়া বলল।
–আপনিও নতুন পোশাক পরে আমাদের সঙ্গে বেড়াতে চলুন। শাঙ্কোরা বলল।
–তাহলে হ্যারিকে দেখবে কে? মারিয়া বলল।
–ফ্রান্সিস দেখবে। শাঙ্কো বলল!
মারিয়া ফ্রান্সিসের দিকে তাকিয়ে বলল–তুমি হ্যারিকে দেখবে?
–এখন হ্যারি অনেকটা সুস্থ। আমিই ওকে দেখবো। শাঙ্কেরা বলছেও বেড়িয়ে এসো।
–বেশ। তাড়াতাড়িই ফিরে আসবো। মারিয়ার সম্মতি পেয়ে শাঙ্কোরা খুব খুশি।
–তোমরা কোথায় বেড়াতে যাবে? মারিয়া শাঙ্কোকে বলল।
–সান্তিয়াগো নগরে। শাঙ্কো বলল।
–সে তো বেশ দূর। মারিয়া বলল।
সান্তিয়াগোতে বেশিক্ষণ থাকবো না। তাড়াতাড়িই ফিরবো। শাঙ্কো বলল।
মারিয়া নিজের কেবিনে গেল।
কিছু পরে মারিয়া নতুন পোশাকটা পরে হ্যারির ঘরে এল। ফ্রান্সিসের দিকে চেয়ে হাসল। ফ্রান্সিসও হাসল। বলল–ঠিক পরতে পেরেছে।
–হ্যাঁ হ্যাঁ। মারিয়া বলল।
–তোমাকে খুব ভালো দেখাচ্ছে এই পোশাকে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে যাই। মারিয়া বলল।
–যাও। তাড়াতাড়িই ফিরবে। ফ্রান্সিস বলল।
মারিয়া ডেক-এ উঠে এল। সব ভাইকিং গলা চড়িয়ে ধ্বনি তুলল ও-হো-হো।
