ফ্রান্সিস মারিয়াকে দেখিয়ে বলল–ইনিও আমাদের দেশের রাজকুমারী। মারিয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল—না না না। ফ্রান্সিস একবার মারিয়ার দিকে তাকাল। মারিয়া মাথা নিচু করে আছে। ফ্রান্সিস বলল–মারিয়া — হিবুকে যে জন্য এনেছি সেটা কর আগে। হ্যারির ঘরে চল।
তিনজনে হ্যারির ঘরে এল। ফ্রান্সিস বলল–মারিয়া হিবুর কাছ থেকে ওষুধটা কখন কবার খেতে হবে এসব বুঝে নাও।
–ওষুধগুলো বের করুন। হিবু বলল। শাঙ্কো ওষুধগুলো নিয়ে এল। হিবু বলল কতটা ওষুধ খাওয়াতে হবে। কয়বার খাওয়াতে হবে এসব মারিয়াকে বোঝাল। স, মারিয়া ওষুধগুলো নিজের কাছে রাখল।
ফ্রান্সিস হ্যারির কাছে এল। হ্যারি তখন তাকিয়ে আছে। ফ্রান্সিস বলল-হ্যারি একটু ভালো লাগছে?
–ঠিক কিছুই বুঝতে পারছি না। হ্যারি দুর্বল কণ্ঠে বলল।
–ওষুধ পড়বে। কয়েকদিনের মধ্যেই তুমি সুস্থ হবে। দুশ্চিন্তা করো না।
–না-চিন্তা করে–কী হবে। যা হবার তাতো হবেই। হ্যারি আস্তে আস্তে বলল।
এবার হিবু বলল–এখানে আমার কাজ হয়ে গেছে। আমি যাচ্ছি।
–বেশ যাও। দরকার হলে তোমাকে যেন পাই। শাঙ্কো বলল।
–তা পাবেন বৈকি। তারপর হ্যারির দিকে তাকিয়ে বলল–ঠিক সময়ে ওষুধ পড়েছে। প্রথমে আপনার মুখ ফুলে যাওয়াটা কমে যাবে। তারপর আর কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সেরে যাবেন। হিবু কেবিন ঘরের বাইরে এল। শাঙ্কো সঙ্গে এল। জাহাজঘাটায় নামিয়ে দিয়ে শাঙ্কো বলল–এই জায়গার নাম তো প্যারাইসো বন্দর।
–হ্যাঁ। হিবু মাথা কাত করে বলল।
–আর কোন নগর আছে?
–হ্যাঁ, হ্যাঁ। উত্তর দিকে সান্তিয়াগো নগর। পূবে তালকানগর।
–অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। শাঙ্কো বলল।
হিবু জাহাজ থেকে নেমে লোকজনের ভিড়ে হারিয়ে গেল।
শাঙ্কো ভাবছিল। এখন ওরা কি করবে? শাঙ্কোর নিজেকে খুব দুর্বল বলে মনে হতে লাগল। আমরা এখানেই থাকবো কি দেশের দিকে জাহাজ চালাবো–এটা ফ্রান্সিস হ্যারির কাছ থেকে জানতে হয়। কিন্তু ফ্রান্সিসদের কাছে যেতে পারল না। দুর্বল শরীর নিয়ে নিজের কেবিনঘরে এল। খাবার সময় বলব। এখন থাক।
শাঙ্কো বিছানায় শুয়ে পড়ল। অল্পক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ল। পাশের বিছানা থেকে এক ভাইকিং বন্ধু ডাকল–শাঙ্কো–শাঙ্কো। শাঙ্কো জাগল না। বন্ধুটি আর শাঙ্কোকে জাগাবার চেষ্টা করল না।
বেলা বাড়ল। বন্ধুটি স্নান সেরে এল। এসে দেখল–শাঙ্কো বিছানায় বসে আছে। বন্ধুটি বলল যাও স্নান সেরে এসো। খেতে যাবে তো?
–আমি স্নান করবো না। শাঙ্কো বলল।
–খাবে তো? বন্ধুটি বলল।
–হ্যাঁ–খাবো।
–তাহলে–হাতমুখ ধুয়ে খেতে চলল। বন্ধুটি বলল।
–না আমি স্নান করে খেতে যাবো। শাঙ্কো বলল।
–বেশ তাই কর। তবে দেরি করো না। বন্ধুটি বলল।
–একটা কথা বলছি। শাঙ্কো বলল।
–কী? বন্ধুটি বলল।
–ভাবছি–আমাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটা হ্যারিই দেখতো। আজ হ্যারি অসুস্থ।
তুমিই তো বলছিলে চিন্তার কিছু নেই। হ্যারি সুস্থ হবে। একটু সময় লাগবে এই যা।
শাঙ্কো স্নান করতে চলল। কিছুক্ষণ পরে স্নান করে এল। জামাটামা পাল্টে .. মাথার চুল আঁচড়ে খেতে চলল।
তখন বিকেল। শাঙ্কো হ্যারিদের ঘরে এল। দেখল–মারিয়া হ্যারির মাথার কাছে বসে আছে। হ্যারিকে হাওয়া করছে। শাঙ্কো মারিয়ার দিকে তাকাল। ভাল করে রাজকুমারীকে দেখল–রাজকুমারীর গায়ে দুধে আলতা রংটা নেই। কেমন তামাটে হয়ে গেছে।
ফ্রান্সিস ঘরে পায়চারী করছে। বিস্কো দাঁড়িয়ে আছে।
শাঙ্কো দেখল-হ্যারি চলে গেছে। শাঙ্কো ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল–একটা কথা ছিল।
–বল। ফ্রান্সিস বলল।
–এখন কী করবে? শাঙ্কো বলল।
–পায়চারি করতে করতে এতক্ষণ সেই কথাই ভাবছিলাম। শাঙ্কো তুমি কী করতে চাও বল। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি আর কী বলবো। শাঙ্কো বলল।
–তোমার মতটাই বলবে। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি আর এখানে পড়ে থাকতে রাজি নই। শাঙ্কো বলল।
–আমি আর হ্যারি ছাড়া আর সবাই দেশের দিকে যেতে চায়। ফ্রান্সিস বলল।
–খুবই স্বাভাবিক। এতদিন হয়ে গেল। শাঙ্কো বলল।
যাত্রা শুরুর আগে প্রতিবারই আমি বলেছি–সমুদ্রপথে চরম সমস্যায় পড়তে পারি আমরা। খাদ্য নেই, জল নেই। তখন হতাশ হওয়া চলবে না। দেশে চল’ দেশে চল’ বলে ঘ্যানঘ্যান করতে পারবে না। দাঁত চেপে সব সহ্য করতে হবে। যারা সব সহ্য করে থাকতে চাইবে তারাই থাকবে। যারা দেশে চলে যেতে চাইবে তাদের কোন বন্দরে নামিয়ে দেব। স্বর্ণমুদ্রা দেব যাতে তাদের পথে কোন অর্থকষ্টে পড়তে না হয়। বল–এর বেশি আমি কী করতে পারি। ফ্রান্সিস থামল। বলল রাতে খাওয়াদাওয়া হয়ে গেলে সবাইকে ডেক-এ উঠে আসতে বল। আমি কিছু বলবো। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। শাঙ্কো বলল। তারপর হ্যারির কাছে এল। হ্যারির ডান হাতটা জড়িয়ে ধরল। বলল–হ্যারি তোমার কষ্ট কমেছে? দুর্বলস্বরে হ্যারি বলল– কিছুটা কমেছে ওষুধ খেয়ে।
–কিছছু ভেবো না। দিন কয়েকের মধ্যেই সুস্থ হবে। তবে শরীরের দুর্বলতাটা আস্তে আস্তে যাবে। শাঙ্কো বলল।
–দেখি। হ্যারি পাশ ফিরতে চেষ্টা করল। মারিয়া ঝুঁকে পড়ে হ্যারির পিঠটা আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে দিল। হারি কাত হয়ে শুল।
ভাইকিং বন্ধুরা সব ডেক-এ এসে জড়ো হল। একটু পরে ফ্রান্সিস ডেক-এ উঠে এল। ফ্রান্সিস হ্যারিকে দেখাশুনার জন্যে মারিয়াকে রেখে এসেছে।
