–হুঁ। যা বললাম, মনে রাখবেন। ফ্রান্সিস বলল।
–নিশ্চয়ই। দলপতি বেশ জোর দিয়ে বলল।
এবার দলপতি বলল–আমার ঘোড়াটার দানা পানির ব্যবস্থাটা করে আসি।
দলপতি চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এল।
ফ্রান্সিস ও শাঙ্কো আর কোন কথা বলল না। দলপতি হুঁড়ি ফুলিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে রইল। একটু পরেই নাক ডাকতে শুরু করল।
ফ্রান্সিস উঠে বসল। শাঙ্কোও উঠে বসল। ফ্রান্সিস বলল–এই অশ্বডিম্ব তো ঘুম থেকে উঠবেই না।
আমি ঘুমোই নি। দলপতির ভাঙা গলা শোনা গেল।
ফ্রান্সিসরা হতবাক।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো আবার শুয়ে পড়ল। দলপতির নাক ডাকা বন্ধ হয়েছে।
ঘণ্টা খানেক পরে ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো উঠে বসল। তৈরি হতে লাগল। কী করে দলপতি বুঝল সেটা। সে উঠে বসল। বলল–এখনই যাচ্ছেন?
–হ্যাঁ। শাঙ্কো বলল।
–দলপতি উঠে দাঁড়াল।
–কোথায় যাবেন? দলপতি বলল।
–আপনাকে বলেছি না যে চুপ করে থাকবেন। শাঙ্কো বলল।
–ঠিক আছে ঠিক আছে। দলপতি মাথা এপাশ করে বলল।
শাঙ্কো চামড়ার থলিটা নিল। তিনজনে চলল। প্রায় দু’ঘণ্টা হাঁটার পর উদিন্না পাহাড়ের নিচে এল। রাস্তায় নেমেই ফ্রান্সিস লক্ষ্য করেছে চাঁদের আলো বেশ উজ্জ্বল। চারদিক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ফ্রান্সিস বলল–শাঙ্কো ঘুরে দেখতে হবে কোন কোন গাছের ডাল আমি ভেঙে রেখেছি। ওরা খুঁজতে শুরু করল। পেল একটা বড় গাছ। ফ্রান্সিস শাঙ্কোর থলে থেকে দড়ি বের করল। শাঙ্কোকে বলল–দড়িটার এক কোণা গাছটার কাণ্ডে জড়াও। শাঙ্কো তাই করল। ফ্রান্সিস দড়ির অন্য মুখ টেনে নিয়ে চলল। পাহাড়ের গায়ের পাথরের স্কুপের ওপর রাখল। কিন্তু এখানে ছোট ছোট পাথরই বেশি।
ফ্রান্সিস ফিরে এসে বলল–এখানে পাথরের চাঁই নেই। সবই ছোট পাথরের টুকরো।
ফ্রান্সিসরা আবার চলল পাহাড়ের গা ঘেঁষে ঘেঁষে।
আবার চলা শুরু করল দুজনে। পেছনে দলপতি। দলপতি বুঝে উঠতে পারছে না। ওরা এটা কী করছে। তবু কোন প্রশ্ন না করে চুপ করে রইল।
আর একটা ডালভাঙা গাছ পাওয়া গেল। চেস্টনাট গাছ। গাছটার কাণ্ডে শাঙ্কো দড়ি ধরল। অন্য মুখটা নিয়ে ফ্রান্সিস পাহাড়ের ধারে হেঁটে হেঁটে উঠতে লাগল। তখনই ফ্রান্সিস লক্ষ্য করল বেশ কয়েকটা বড় বড় পাথরের চাই আছে। ফ্রান্সিস দড়ির মুখটা নিয়ে প্রথমে পাথরের চাইয়ের ওপর উঠল। দড়িটা টান করে ধরে প্রথম পাথরের চাই পেল দুটো। তার প্রথমটায় একবার ধরল। কিন্তু দড়িটা বেঁকে যাচ্ছে। ঠিক সোজা সমান হচ্ছে না। আর কিছুটা উঠল। দেখল একটা ছোট চাই। দড়িটা সোজা করল ফ্রান্সিস। দড়িটা টানা লম্বালম্বি হল। এই চাইটা একেবারে চেস্টনাট গাছের সঙ্গে লম্বালম্বি।
তখনই ঘোড়ার পায়ের শব্দ শোনা গেল। শাঙ্কো দলপতিকে ধরে টেনে গাছের আড়ালে নিয়ে গেল। ফ্রান্সিস পাথরের চাইটার ওপর শুয়ে পড়ল।
রাজা হুয়াল্পার দু’জন পাহারাদার ঘোড়া চালিয়ে চলে গেল।
ফ্রান্সিস চাপা গলায় বলল–বোধহয় পাথরের চাইটা পেয়েছি। এখানে এসো। শাঙ্কো দড়ি নিয়ে এল। দলপতি এসে ওদের পেছনে দাঁড়াল। ঔৎসুক্য চেপে রাখতে পারল না। বলে ফেলল–শুধু তো দড়ি টানাটানি করছেন। সোনার খনি কোথায়? ফ্রান্সিস শাঙ্কো কোন কথা বলল না।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো পাথরের চাঁইয়ের খাঁজে ধরে পাথরের চাইটা তুলতে লাগল। কিছুটা তুললও। কিন্তু ছেড়ে দিতে হল। বেশ ভারি। এবার শাঙ্কো দলপতিকে বলল–হাত লাগান। দলপতি এগিয়ে এল। এবার তিনজনে মিলে চাইটা তুলতে লাগল। আস্তে আস্তে চাইটা উল্টে যেতে লাগল। ফ্রান্সিস বলল– একসঙ্গে টানো। সময় নিয়ে গলা একটু নামিয়ে বলে উঠল–ওল্টাও। পাথরের চাইটার ওপরে গোল চিহ্ন কুঁদে তোলা নেই।
তিনজনেই কমবেশি হাঁপাতে লাগল। শাঙ্কো বলল–আমাদের হিসেবে ভুল হয়ে গেছে।
–কোন জায়গায় ভুল হয়ে গেছে। ফ্রান্সিস বলল।
–কী ভুল হয়েছে? শাঙ্কো বলল।
–সেটাই তো বুঝতে পারছি না। ফ্রান্সিস বলল।
–আবার দড়িটা গাছ থেকে লম্বালম্বি টানি। দেখা যাক কোন পাথরের চাইয়ের মাথায় দড়িটা লাগছে কিনা।
–বেশ। দেখ। শাঙ্কো বলল।
আবার গাছটা থেকে দড়ি টানা হল। আবার সেই উল্টে ফেলা পাথরের চাঁইয়ে এসে লাগল। কিন্তু সেই পাথরের বুকে কোন চিহ্ন নেই। ফ্রান্সিস বলে উঠল– নকশা দেখেই ভেবেছিলাম গাছ আর পাথরের চাইয়ের মধ্যে যোগ আছে। এছাড়া অন্য কোনভাবেই খনিতে পৌঁছোনো যাবে না।
–গাছটা কি আমরা ঠিক চিনেছি? শাঙ্কো বলল।
-হ্যাঁ। নকশায় আঁকা হয়েছে একটা ছোট গাছ। কতদিন আগের কথা কে জানে। ছোট গাছটি আর ছোট নেই। অনেক বড় হয়ে গেছে। ফ্রান্সিস বলল। এবার দলনেতা বলল-এইসব এলাকায় দেখেছি এক ধরনের গাছ আছে যাদের বাড় নেই। ঐ পাঁচ ছয় হাত। তার বেশি কখনও বাড়ে না।
ফ্রান্সিস একটুক্ষণ মাথা নিচু করে ভাবল। তারপর মুখ তুলে বলল–সেই বামন গাছ কি এখানেও আছে?
–নিশ্চয়ই আছে। এই অঞ্চলেই আছে। অন্য কোথাও ঐ বামন গাছ দেখি নি। দলপতি বলল।
–আবার সব নতুন করে ভাবতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–অমনি বামন গাছ তো এখানেও থাকতে পারে। শাঙ্কো বলল।
ফ্রান্সিস বলল”–নিশ্চয়ই আছে। নকশায় একটা চারাগাছের মত গাছ আছে। ফ্রান্সিস বলল। তারপর চাইয়ের ওপর দিয়ে নামতে নামতে বলল–চল সেই বামন গাছ খুঁজতে হবে।
তিনজনেই পাথরের চাই থেকে নেমে এল। পাহাড়ের ধার দিয়ে বামন গাছ খুঁজতে লাগল। একটা ছোট গাছ পেল। ফ্রান্সিস দলপতিকে জিজ্ঞেস করল–এটা কি বামন গাছ?
