তখনই দলপতি ঘরে ঢুকল। বলল–তাহলে আপনারা যাচ্ছেন।
–হ্যাঁ। শাঙ্কো বলল।
–কীভাবে যাচ্ছেন? দলপতি জানতে চাইল।
–রাজা হুয়াল্পার রাজত্বের মধ্যে দিয়ে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে কীসব খনিটনির কথা শুনলাম সেখানে যাবেন না? দলপতি জানতে চাইল।
–ন্নাঃ! এখন তো নয়। দেখি পরে সময় পেলে যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
দুজনে চলল বাজারের দিকে। বাজারে এসে দেখল গাড়োয়ান গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের দেখে হাসল।
আগে গাড়িতে চামড়ার থলিটা রাখল। তারপর দুজনে গাড়িতে উঠল। ফ্রান্সিস বলল–এরকম গাড়িতে একবার চড়বার প্রয়োজন পড়েছিল। গাড়ি থেকে নেমে মনে হল গায়ের হাড়টার যেন খুলে গেছে।
–এটা তো শস্যটানা গাড়ি। এই গাড়িতে একমাত্র শস্যই থাকে। সেখানে মানুষ চড়লে তো বিপত্তি হবেই।
গাড়োয়ান গাড়ি ছেড়ে দিল। খোয়া ফেলা রাস্তা দিয়ে ঠকাষ্ঠক্ শব্দ করতে করতে গাড়ি চলল।
সন্ধ্যের মুখে। শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস–একটু নেমে দাঁড়াই। গায়ের সব হাড় ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চাইছে। ফ্রান্সিস হেসে উঠল। এখনও অনেকটা যেতে হবে। হয়তো আর নামাই হবে না। ফ্রান্সিস বলল।
–না না। রয়ে সয়ে বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে যাবো। শাঙ্কো বলল।
–দেখা যাক কোন বাজার টাজার পাই কিনা। ফ্রান্সিস বলল।
তখনই গাড়িটা একটা বাজারের কাছে এল। দুচারটে দোকান। সব দোকানে মোটা মোমবাতি জ্বলছে। শাঙ্কো বলল–গাড়োয়ান ভাই দেখো তো খাবারটাবার কিছু পাওয়া যায় কিনা।
গাড়োয়ান গাড়ি থামাল। নেমে খোঁজ নিতে গেল। একটু পরে ফিরে এসে বলল–গোল কাটা রুটি আর মাংসের বড়া পাওয়া যাচ্ছে।
শাঙ্কো কোমর থেকে একটা ছোট সোনার চাকতি বের করল। গাড়োয়ানকে বলল–ছটা রুটি আর ছটা মাংসের বড়া আনো।
তিনজনেরই খিদে পেয়েছে বেশ। গাড়োয়ান পাতায় করে খাবার নিয়ে এলো। তিনজনেই গোগ্রাসে খেতে লাগল। শাঙ্কো নিচে নেমে ঘুরে ঘুরে খাবার খেল।
আবার গাড়ি চলল।
রাত হল।
ফ্রান্সিস বলল–রাত বেশি হবার আগেই খেয়ে নিতে হবে। বেশি রাত হলে কোথাও দোকান খোলা পাবো না।
গাড়ি চলল।
ফ্রান্সিস গাড়োয়ানকে বলল–ও ভাই–একটু নজর রেখো–কোথাও বাজার টাজার দেখতে পাও কিনা।
গাড়ি চলল।
গাড়োয়ান বলল–সামনেই বেশ বড় বাজার।
–থামাও। শাঙ্কো বলল।
গাড়ি থামল। তিনজনেই নামল। বেশ বড় খাবারের দোকান পেল। দোকানে ঢুকল। বেশ ভিড়। একটা পাটাতনে বসল। দুটো করে সেদ্ধ ডিম আর মাখন দিয়ে ভাজা রুটি। সুস্বাদু খাবার। তিনজনেই পেট পুরে খেল।
সবাই গাড়িতে উঠল। আবার গাড়ি চলল।
সারারাত গাড়ি চলল। ঘোড়াটাকে খেতে দেওয়া হল।
পরের দিন দুপুর নাগাদ গাড়ি রাজা হুয়াল্লার রাজত্বে পৌঁছল। ফ্রান্সিস দুপুরের খাওয়া খেয়ে এই গাড়িতেই উদিন্না পাহাড়ের তলায় যেতে চাইল। কিন্তু শাঙ্কো বলল–রেহাই দাও ভাই। আমি বাকি রাস্তা হেঁটে যাবো।
–বেশ তাই চলো। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিস গাড়ি থামাল। নামল দুজনে। ফ্রান্সিস গাড়োয়ানকে প্রাপ্য মূল্য দিল।, গাড়োয়ান গাড়ি নিয়ে চলে গেল।
দুজনে সদর রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলল! বেশ বেলা হয়েছে। খিদেও পেয়েছে।
একটা বেশ বড় সরাইখানা পেল। ঢুকল দুজনে। সরাইওয়ালা ওদের দেখে বলল–আসুন। ভালো খাবেন, ভালো থাকবেন।
ওদের পাটাতনে জায়গা দেখিয়ে সরাইওয়ালা বলল–এখানে বিশ্রাম করুন। খাবেন তো?
নিশ্চয়ই। একটু তাড়াতাড়ি। শাঙ্কো বলল।
দুজনে বসল। ফ্রান্সিস শুয়ে পড়ল।
ফ্রান্সিসদের তাড়াতাড়িই খেতে দেওয়া হল।
দুজনেই পেট পুরে খেল।
পাটাতনে দুজনে শুয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস চোখ বুজে শুয়েছিল। হঠাৎই চোখ খুলল। বলল-শাঙ্কো।
-বলো।
–এত ছুটোছুটি করছি। সোনার খনি খুঁজে পাবো? ফ্রান্সিস বলল।
–চেষ্টা তো করি। দেখা যাক। শাঙ্কো বলল।
ফ্রান্সিস আর কিছু বলল না।
ঘরে নতুন একজন ঢুকল। শাঙ্কো মোমবাতির আলোয় দেখল রাজা ব্রাপেনের দলপতি। ব্যবসায়ীর পোশাকে। ফ্রান্সিস তখনও চোখ বুজে আছে। দেখে নি। শাঙ্কো দ্রুত উঠে বসল। দলপতি হেসে বলল–
–আমিও এখানে উঠেছি। দলপতির গলা শুনে ফ্রান্সিস চোখ খুলল। দলপতিকে দেখে ফ্রান্সিসও অবাক। দলপতি পাটাতনের বিছানায় বসল। বলল– সেনাপতিরই আসার কথা ছিল। উনি একটু অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাকে আসতে হল।
–আপনি কেন এসেছেন? শুয়ে থেকেই ফ্রান্সিস বলল
মাননীয় রাজা বললেন–তোমাদের সঙ্গে থেকে তোমাদের সাহায্য করতে। দলপতি বলল।
–আমাদের সাহায্যের দরকার নেই। শাঙ্কো বলল।
–এ কি একটা কথা হল। আপনারা কত কষ্ট করে খনি আবিষ্কার করতে এসেছেন। আপনাদের সাহায্য না করলে চলে। দলপতি বলল।
-বলছি তো আমাদের আপনার সাহায্যের প্রয়োজন নেই। শাঙ্কো বলল।
–ঠিক আছে। ব্যাপারটা হল আপনারা আপনাদের কাজ করবেন। আমি শুধু দেখবো। খনি আবিষ্কার হলে কীভাবে সেটা করলেন এটা জেনে রাখা। আপনারাই বলেছেন খনির মালিকানা আমাদের মহামান্য রাজা ব্রাপেনকে দেবেন। দলপতি ই বলল।
-হ্যাঁ। বলেছি। সে কথা আমরা রাখবো। ফ্রান্সিস বলল।
তবে আমাকে কেন সরিয়ে দিতে চাইছেন? দলপতি বলল।
–ঠিক আছে। চলুন আমাদের সঙ্গে। কিন্তু কোন কারণেই আমাদের বিরক্ত করবেন না। ফ্রান্সিস বলল।
–না–না। আমি গাছের গুঁড়ির মত চুপ করে থাকবো। আমার শুধু জানার দরকার কীভাবে উদ্ধার করলেন। দলপতি বলল।
