–তাহলে তুমি কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করবে। কোন পথে সমস্যাটার সমাধান করবে।
-ঠিক আছে–ঠিক কর কোন রাজার জন্যে আমরা খনি অনুসন্ধান করতে যাবো? ফ্রান্সিস বলল।
–খনি উদ্ধার করে এই রাজা ব্রাপেনকেই দাও।
–কিন্তু খনিটা রয়েছে উদিন্না পাহাড়ে। ঐ পাহাড়ের দক্ষিণভাগের রাজা আত্তারিয়া আর রাজা হুয়াল্পা উত্তরভাগের রাজা। এই রাজা ব্রাপেন উদিন্না পাহাড়ের থেকে বেশ দূরে রাজত্ব করেন। সোনার খনি উদ্ধার করে যদি এই রাজা ব্রাপেনকে দিই–এই রাজা ব্রাপেনকে হুয়াল্পার রাজত্বের মধ্যে দিয়ে আসতে হবে। রাজা হুয়াল্পা এই রাজা ব্রাপেনকে আসতেই দেবে না। ফ্রান্সিস বলল।
–তা ঠিক। সোনার লোভ। শাঙ্কো বলল। একটু হেসে ফ্রান্সিস বলল– সমস্যার শেষ এখানেও নয়। আগে চল–খনি উদ্ধার করি। তারপর অবস্থাই বুঝে ব্যবস্থা করতে হবে।
কিছু পরে দুজন প্রহরী খাবার নিয়ে এল। ফ্রান্সিসরা পেট পুরে খেল।
সন্ধ্যের সময় রাজা ব্রাপেন এলেন। ঘোড়ায় চড়ে। ঘোড়া থেকে নেমে ফ্রান্সিসদের ঘরে ঢুকলেন। ফ্রান্সিস শাঙ্কো উঠে দাঁড়াল। রাজা ব্রাপেন বললেন– কী? তোমরা শলাপরামর্শ করেছো?
-হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বলল।
–কী সিদ্ধান্তে এসেছো? রাজা ব্রাপেন জানতে চাইলেন।
-হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বলল–আমরা স্থির করেছি যে সোনার খনির সন্ধান শুধু আপনাকে দেব।
–আরো তো দুই রাজা রয়েছে। ব্রাপেন বললেন।
সোনার খনি উদ্ধারে তাদের কাছে কোন সাহায্য চাইবো না।
–সেটা সম্ভব নয়। উদিন্না পাহাড় ঐ দুই রাজা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে। রাজা ব্রাপেন বললেন।
বলতে চাইছি–ঐ দুই রাজার অগোচরে আমরা সোনার খনি খুঁজবো উদ্ধার করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–তা কি পারবে? রাজা বললেন।
–আমরা রাতের বেলা খুঁজবো। কেউ জানতেও পারবে না। ফ্রান্সিস বলল।
-দেখ চেষ্টা করে। ব্রাপেন ঘর থেকে চলে যেতে যেতে বললেন– সেনাপতিকে বলা আছে। উনি তোমাদের সবরকমভাবে সাহায্য করবেন।
ধন্যবাদ আপনাকে। শাঙ্কো বলল। রাজা ব্রাপেন চলে গেলেন।
ফ্রান্সিস বিছানায় বসল। শাঙ্কোও বসল। এবার শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস।
-বল?
এভাবে আগে থেকেই বলে সোনার খনির মালিকানা রাজা ব্রাপেনকে দিয়ে দিলে? শাঙ্কো বলল।
উপায় নেই। ব্রাপেন আমাদের সব ব্যাপারে সাহায্য করেছেন। তাকেই সোনার খনির অবস্থান জানাবো। সোনার খনির উদ্ধারের পর কাকে মালিকানা দেব এই নিয়ে অনেক ভাবতে হবে। সেই ভাবনাটা আগেই শেষ করে রাখলাম। এখন বুঝে শুনে এগোতে পারবো। ফ্রান্সিস বলল।
–সমস্যাটা আছে একটা। সোনার খনি আছে উদ্দিন্না পাহাড়ে। ঐ পাহাড়ের রাজা দুজন–আত্তারিয়া আর হুয়াল্পা। ব্রাপেন নয়। সোনার খনির রহস্য মিটে গেলেও ব্রাপেন সব জেনেও কিছু করতে পারবে না। শাঙ্কো বলল।
-হ্যাঁ। এটা ঠিক। কিন্তু সোনার খনির হদিশ পেয়ে ব্রাপেন রাজা হুয়াল্পার রাজত্ব আক্রমণ করবে। হুয়াল্পাকে যুদ্ধে হারাতে পারলে সোনার খনি ব্রাপেনের হাতের মুঠোয় এসে যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–যদি জেতে তবে তো। শাঙ্কো বলল।
–আছে আছে আরও পথ আছে। ব্রাপেন হুয়াল্পার সঙ্গের দল করবে। লক্ষ্য দুজনে মিলে রাজা আত্তারিয়ার রাজত্ব দখল করা। তখন সোনার খনি হাতে এসে যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–সব জেনে হুয়াল্পা ঠিক সোনার খনির ভাগ চাইবে। তখনই হবে সমস্যা। দুই রাজার মধ্যে লড়াইও লেগে যেতে পারে। শাঙ্কো বলল।
–সেটা দুই রাজার ব্যাপার। ততদিন আমরা এখানে বসে থাকবো না। নিজেরা সব মিটিয়ে নিলে ভাল। তা না হলে লড়াই চলবে। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিস শুয়ে পড়ল। শাঙ্কোও শুয়ে পড়ল।
–আসল কথা তো খনি উদ্ধার। তারপর অন্যসব কথা। ফ্রান্সিস বলল।
–তা তো বটেই। এখন সোনার খনির খোঁজে নামতে হবে। আর দেরি করবো না। কালকেই চলো। দুপুরে খেয়েদেয়ে রওনা দেব। শাঙ্কো বলল। তারপর বলল–
কয়েকটা দরকারি জিনিস তো নিতে হবে।
-হ্যাঁ। মোটা দড়ি দুটো তেলেভেজা মশাল চকমকি পাথর। ফ্রান্সিস বলল। রাতের অন্ধকারে আমাদের সব কাজ সারতে হবে।
–একটা শস্যটানা গাড়ি পেলে ভালো হয়। শাঙ্কো বলল।
-ঠিক আছে। যাওয়া আসার ভাড়া দিলে মনে হয় ওরকম গাড়ি পাওয়া যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
পরদিন সকালের খাবার খেয়ে দুজনে বেরুলো দড়িটড়ি কিনতে। সেসব কেনা হল। এবার একটা শস্যটানা গাড়ি। বাজারের কাছেই দেখল ওরকম দুটো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ফ্রান্সিস শাঙ্কো গাড়োয়ানের কাছে গেল। গাড়োয়ান একজন এগিয়ে এল।
ফ্রান্সিস বলল–শোন ভাই আমরা দুজন আজ দুপুরে উন্নিা পাহাড়ে যাবো। তুমি নিয়ে যেতে পারবে?
অতদূর যাবো। আমাকে আবার ফিরতে হবে তো। গাড়োয়ান বলল।
–তোমাকে যাওয়া আসার ভাড়া দেব। শাঙ্কো বলল।
গাড়োয়ানটি হেসে বলল–যাবো। তবে রাস্তায় খাওয়া দাওয়া
–সব পাবে। একটা সোনার চাকতি দেব। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে আপনারা কখন আসবেন? গাড়োয়ান জানতে চাইল।
–দুপুরে খেয়ে দেয়ে। তুমি এখানে চলে এসো।
–ঠিক আছে। গাড়োয়ান মাথা কাত করে বলল।
দুজনে সৈন্যাবাসে ফিরে এল।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো দুপুরের খাওয়াটা তাড়াতাড়ি করল। দরকারি সব জিনিস নিল। সৈন্যদের ব্যবহারের জন্যে একটা চামড়ার থলি দেওয়া হয়। শাঙ্কো সেটাই দলপতির কাছে চাইল। দলপতি ওরকম থলি পাঠিয়ে দিল। থলিতে ভরা হল সব।
