ও সরাইখানায় ঢুকল। যে ছোকরা খাবার টাবার দিচ্ছিল। তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকল। ছোকরাটা এল। শাঙ্কো কাঠের পাটাতনে বসল। দু’পাত্র জল খেয়ে মালিকের কাছে গেল। মালিক হাসিমুখে বলল–আপনি কি
–হ্যাঁ। থাকবো। খাবো। কতদিন থাকবো সেটা পরে জানাবো।
–ঠিক আছে–ঠিক আছে। সরাইওয়ালা হেসে বলল।
রাতে খাওয়াদাওয়ার পরে শুয়ে পড়ল। কালকে আসল কাজটা করতে হবে অর্থাৎ লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো দিতে হবে রাজা হুয়াল্পাকে। রাজা কী করে দেখা যাক।
পরদিন। সকালের খাবার খেয়ে চলল রাজবাড়ির দিকে। যখন রাজসভায় ঢুকছে তখনই দেখল সেনাপতি আসছে। শাঙ্কো দাঁড়িয়ে পড়ল। সেনাপতি কাছে। আসতে শাঙ্কো বলল–মাননীয় সেনাপতি–একটা কথা ছিল। সেনাপতি শাঙ্কোর দিকে তাকাল। চিনল। বলল–তুমি একা। বন্ধু কোথায়?
–ওর সঙ্গে এখনও আমার দেখা হয় নি। শাঙ্কো বলল।
কিছু বলবে? সেনাপতি বলল।
–গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা কথা রাজাকে বলবো। এই রাজসভায় যেসব বলা যাবে না। অন্য কোন জায়গায় হলে ভালো হয়। শাঙ্কো বলল।
কোন ব্যাপারে? সেনাপতি বলল।
লড়াইয়ের ব্যাপারে। শাঙ্কো বলল।
–ও। আমাকে বলা যাবে না? সেনাপতি বলল।
–না। সর্বপ্রথম ব্যাপারটা রাজাকে বলতে হবে। শাঙ্কো বলল।
–বেশ। অপেক্ষা করো। সভা শেষ হলে রাজাকে মন্ত্রণাঘরে নিয়ে যাব। সেখানে এসে তুমি তোমার কথা বলল। সেনাপতি বলল।
–ঠিক আছে। শাঙ্কো বলল।
সেনাপতি চলে গেল। শাঙ্কো দাঁড়িয়ে রইল।
রাজসভার কাজ শেষ হল। রাজা আসন থেকে উঠলেন। তখনই সেনাপতি রাজার সামনে এসে দাঁড়াল। কিছু বলল।
রাজা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। রাজা বাইরের দিকে মন্ত্রণাকক্ষে এলেন। বসলেন।
সেনাপতি শাঙ্কোকে নিয়ে ঢুকল। সেনাপতি আবলুস কাঠের তৈরি আসনে বসল। রাজা শাঙ্কোকে ইঙ্গিতে বসতে বলল।
শাঙ্কো বুঝে উঠতে পারছে না কীভাবে কথা শুরু করবে। ফ্রান্সিস হ্যারির অভাব বেশ অনুভব করছিল। রাজা বলল
–রাজা আত্তারিয়া সৈন্যসংখ্যা বাড়িয়েছে এ খবর আমরা জানি। তুমি আর কী সংবাদ এনেছো? রাজা বললেন।
আগামী সোমবার রাতে রাজা আত্তারিয়া আপনার দেশ আক্রমণ করবে। সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। শাঙ্কো বলল।
–হুঁ। হাতে সময় নেই। আর কী খবর এনেছো? রাজা বললেন।
–আপনি যে একশ যোদ্ধাকে অন্যত্র পাঠিয়েছেন এটা রাজা আত্তারিয়া জানেন। শাঙ্কো বলল।
–আর তাই লড়াইয়ের জন্যে এই সময়টা বেচেছে। রাজা বললেন।
–হ্যাঁ। শাঙ্কো মাথা ওঠানামা করল।
রাজা সেনাপতির মুখের দিকে তাকালেন। বললেন–আপনি তো রাজা আত্তারিয়ার আক্রমণের দিন কাল সবই জানলেন। আজ থেকেই লড়াই-এর জন্য যোদ্ধাদের তৈরি করুন।
নিশ্চয়ই। আজ দুপুর থেকে লড়াইয়ের জন্য যোদ্ধাদের তৈরি করার কাজ শুরু করবো। সেনাপতি বলল। রাজা একটু ভেবে বললেন।
-তোমার নাম কী?
–শাঙ্কো। শাঙ্কো বলল।
–তোমাকে কিন্তু সৈন্যাবাসে থাকতে হবে। তোমার দেওয়া সংবাদ যদি সত্যি হয় তবে তোমাকে অনেক কিছু দেওয়া হবে। আর যদি মিথ্যে হয় তাহলে তোমাকে সারাজীবন কয়েদঘরে থাকতে হবে। রাজা বললেন।
–ঠিক আছে।–শাঙ্কো বলল।
রাজা উঠে দাঁড়ালেন। রাজা রাজবাড়িতে চলে গেলে শাঙ্কো সেনাপতির সঙ্গে বাইরের মাঠে এল। একজন যোদ্ধা আবাসের দিকে যাচ্ছিল। সেনাপতি ইশারায় ডাকল। যোদ্ধাটি একটু মাথা নুইয়ে কাছে এল। সেনাপতি বলল–তোমাদের দলপতিকে এখানে আসতে বল। যোদ্ধাটি চলে গেল।
অল্পক্ষণের মধ্যেই দলপতি ছুটতে ছুটতে এল। একবার মাথা নুইয়ে সেনাপতির সামনে এসে দাঁড়াল। তখনও হাঁপাচ্ছে। সেনাপতি শাঙ্কোকে দেখিয়ে বলল–এ বিদেশি। ওর এক বন্ধুও আছে। যাকগে–একে থাকবার জন্যে একটা ঘর দাও। দেখো যেন ওর কোন অসুবিধে না হয়।
-ঠিক আছে। দলপতি মাথা নুইয়ে বলল।
সেনাপতি চলে গেল। দলপতি শাঙ্কোকে বলল-চল। এদিকে ওদিকে দেখে টেখে দলপতি একটা ভাল ঘরেই শাঙ্কোকে থাকতে বলল। সেনাপতি চলে গেল।
শাঙ্কো ঘরে ঢুকে কাঠের পাটাতনে বসল। প্রথম চিন্তাটাই হল–ফ্রান্সিস কোথায়? ও তো বন্দী হল। সোমবার লড়াই শুরু হলে তবেই ওর সংবাদ সঠিক হবে। তখন নিশ্চয় ওকে আর ফ্রান্সিসকে মুক্তি দেওয়া হবে।
আবার অন্য দিকটাও ভাবা যায়। সোমবার রাতে আক্রমণ না হলে শাঙ্কোকে চিরজীবনের জন্যে কয়েদঘরে থাকতে হবে। তার চেয়ে মৃত্যুও ভালো। শাঙ্কো ভাবল ওকে ধরার আগেই ও পালাবে। লড়াই গোলমালে কে আর ওকে বন্দী করতে আসবে। তখন যে যার জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত। কে আর ওর দিকে নজর দেবে? তবু ওর মন থেকে ভয় গেল না। কী হবে কে জানে।
ফ্রান্সিস কয়েদঘরে আছে–এটা শাঙ্কো শুনেছে। এবার ফ্রান্সিসের সঙ্গে একবার কথা বলতে হয়। এবার এরা কী করবে? ফ্রান্সিস কী ভেবেছে জানতে পারবে। ও নিজের কথাও বলতে পারবে।
পাহারাদার খাবার নিয়ে এল। খাবার খেতে খেতে শাঙ্কো বলল–একবার দলপতিকে ডেকে দাও না।
–এই রাতে উনি আসবেনই না। পাহারাদার বলল।
তবু বল ভাই যে আমি তার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই। শাঙ্কো বলল।
শাঙ্কো খাওয়া শেষ করল। পাহারাদার চলে যাচ্ছে তখন শাঙ্কো আর একবার দলপতিকে ডেকে দেওয়ার কথাটা বলল।
শাঙ্কো শুয়ে অপেক্ষা করতে লাগল। যদি দলপতি আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝল দলপতি আসবে না। বৃথা প্রতীক্ষা। সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে শাঙ্কো ঘুমিয়ে পড়ল।
