–হু–হু ভেবেছি। চল–এই উপায়টা কাজে লাগে কিনা দেখি। ফ্রান্সিস বলল।
রাজার যোদ্ধাদের আবাস রাজবাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়। দুজনে অল্পক্ষণেই সেখানে পৌঁছল। ফ্রান্সিস চারদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগল।
মাঠে যোদ্ধারা ব্যায়াম ট্যায়াম করছিল। আবাস ফাঁকা। সব যোদ্ধাই মাঠে।
ফ্রান্সিসরা আবাসের বাইরে একটা শিশুগাছের নীচে দাঁড়িয়ে রইল।
কিছু পরে ব্যায়াম শিক্ষাদান ও যোদ্ধাদের অংশগ্রহণ শেষ হল। কিছু যোদ্ধা আবাসের বাইরে এল। বাইরে একটামাত্র মিষ্টির দোকান। যোদ্ধারা দোকানে ঢুকল। গলা চড়িয়ে দু’তিন জন খাবার খেতে চাইল।
–জলদি চল। ফ্রান্সিস আস্তে বলল। তারপর চলল মিষ্টির দোকানের দিকে।
ফ্রান্সিসরা দোকানে ঢুকল। কিন্তু জায়গা নেই। বাইরে বেরিয়ে এল। একজন যোদ্ধা খাবার বাইরে এনে খাচ্ছিল। ফ্রান্সিস তার কাছে গেল। হেসে উঠে যোদ্ধাটার পিঠে চাপড় মারল।
তুই সৈন্যদলে আছিস? যোদ্ধা ফ্রান্সিসের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। ফ্রান্সিস বলল–আমাকে চিনতে পাচ্ছি না। যোদ্ধা তবু তাকিয়ে রইল। হাসি থামিয়ে বলল–না। আমার ভুল হয়েছে। ঠিক আপনার মত দেখতে আমার এক বন্ধু আছে। আপনাকে ভুল করে–কিছু মনে করবেন না।
ফ্রান্সিসের কাণ্ড দেখে শাঙ্কো অনেক কষ্টে হাসি চাপল। ফ্রান্সিস যোদ্ধাকে বলল–আচ্ছা আপনাদের কি রোজই ব্যায়াম করতে হয়?
দু’বেলা। যোদ্ধাটি বলল।
–কিন্তু ধরুন যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন। তখনও ব্যায়াম করতে হয়? ফ্রান্সিস বলল।
–না। তখন তো যুদ্ধাস্ত্র চালানো। ব্যায়ামের সময় কই। যোদ্ধাটি বলল।
–কোথায় কখন যুদ্ধ করতে যাচ্ছেন সেটা কি আপনারা রওনা হওয়ার দিন জানলেন–না আগে থেকেই জানেন। ফ্রান্সিস বলল।
–তার ঠিক নেই। তবে আগে থেকে আমরা সেনাপতির ব্যস্ততা দেখে বুঝি। যোদ্ধাটি বলল।
–কোথায় লড়াই করতে যেতে হবে সেটা আগে থাকতে জানেন? ফ্রান্সিস বলল।
–মোটামুটি একটা ধারণা হয়। যোদ্ধাটি বলল।
–এই যে উত্তরের রাজা হুয়াল্পার সঙ্গে আপনাদের লড়াই হবে সেটা কি জানেন? ফ্রান্সিস বলল।
যোদ্ধা ফ্রান্সিসের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল–আপনি কী করে জানলেন?
–রাজা হুয়াল্পার রাজ্যে বেড়াতে গিয়েছিলাম সেখানেই জেনেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। ঠিকই শুনেছেন। যোদ্ধাটি বলল।
কিন্তু সমস্যা আপনারা কবে কখন লড়াইয়ে নামছেন সেটা তো ঐ রাজ্যের যযাদ্ধারা জানে না। তাই আপনাকে জিজ্ঞেস করছি। আভাসে কিছু শুনেছেন কী? ফ্রান্সিস বলল।
-হ্যাঁ। আসছে সোমবার রাতে রাজা হুয়াল্পার রাজ্য আক্রমণ করা হবে। যোদ্ধাটি বলল।
–জোর লড়াই হবে তাই না? ফ্রান্সিস বলল।
–তা তো বটেই। যোদ্ধাটি বলল।
–আপনারা কি জানেন রাজা হুয়াল্পা তার এক বন্ধু রাজাকে একশোজন সৈন্য ধার দিয়েছেন। ফ্রান্সিস বলল।
যোদ্ধা এবার একটু হাসল। বলল–আমরা জানি। তাই আক্রমণের জন্য এই সময়টা বেছে নেওয়া হয়েছে।
–অনেক ধন্যবাদ ভাই। আমরা এখানে বেড়াতে এসেছি। লড়াই লাগবে সেটা জেনে নিশ্চিন্ত হয়ে বেড়াতে পারবো। তাই এত কিছু জানতে চাইছি। আবার ধন্যবাদ। চলি। ফ্রান্সিস একটু পা চালিয়ে চলল বড় রাস্তার দিকে। শাঙ্কোও ছুটে এসে পাশে দাঁড়াল।
–এত জোরে হাঁটার কী হল? শাঙ্কো জানতে চাইল।
–ওদের সেনাপতি মাঠে এসেছে। যোদ্ধাদের কিছু নির্দেশ-টির্দেশ দেবে বোধহয়। সৈন্যদের মধ্যে আমাদের দেখলেই বিপদ। সেনাপতির তখন সন্দেহ হতে না পারে। কাজেই পালাও।
দুজন খুব দ্রুত হেঁটে বড় রাস্তায় এল। এবার আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগল।
দুজনে শেষ বিকেলে সরাইখানায় পৌঁছল।
ফ্রান্সিস শুয়ে পড়ল। সরাইখানার রাঁধুনি মাংসের বড়া দিয়ে গেল। দুজনে হাপুস হুপুস খেল। বেশ খিদে পেয়েছিল।
–এখন কী করবে? শাঙ্কো বলল।
–রাজা হুয়াল্পার রাজত্বে যাবো। যে সব খবর সংগ্রহ করেছি সেসব জানালে রাজা হুয়াল্পা খুব খুশি হবে। আমাদের মুক্তি দেবে। সোনার খনি খুঁজতে আমাদের সাহায্য করবে। কারণ সোনার লোভ। খুব কম মানুষই এই লোভ সামলাতে পারে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে কয়েকটা দিন এখানে থাকবে? শাঙ্কো বলল।
–না না। আজ রাতেই রওনা হব। মারিয়া বন্ধুরা জাহাজঘাটায় আছে। আমাদের জন্যে খুবই চিন্তা করছে। সব কাজ দ্রুত সারতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
দুজনে শুয়ে পড়ল। শেষ রাতে রওনা দেবে রাজা হুয়াল্পার রাজ্যের দিকে। কিন্তু সেটা হল না।
সরাইখানার দরজায় কারা চাপড় দিচ্ছে। সরাইওয়ালার গলা শোনা গেল– যাই। সরাইখানার মালিক দরজা খুলে দিল। অল্প আলোয় দেখল– স্বয়ং সেনাপতি দাঁড়িয়ে।
মালিক হতবাক। বিস্ময়ের প্রথম ধাক্কাটা সামলে বলল–আসুন–আসুন। কী সৌভাগ্য আমার।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। দেশের গণ্যমান্য কেউ একজন এসেছে বোঝা গেল কিন্তু সে কে তা বোঝা গেল না। ততক্ষণে সেনাপতির সঙ্গে আসা যোদ্ধারা তল্লাশী শুরু করেছে। ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো দ্রুত পেছনের দরজার দিকে ছুটল। দেখল পেছনের দরজা আটকপাটি বন্ধ। যোদ্ধারা ফ্রান্সিস আর শাঙ্কোর ওপর প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফ্রান্সিসরা বাধা দিল না। এরকম নিরস্ত্র অবস্থায় বাধা দিতে যাওয়া মানে মৃত্যু।
যোদ্ধারা ফ্রান্সিসদের ঘিরে দাঁড়াল। সেনাপতি ফ্রান্সিসদের দেখে বলল–অ– তোমরা। রাজাকে আর আমার যোদ্ধাদের কঁকি দিয়ে পালিয়েছিলে।
