রাজা আত্তারিয়ার পিতামহ ঐ মৃত জংলির কাছ থেকে কিছুই জানতে পারে নি। জংলিটা কোথা থেকে কী করে নকশাটা পেয়েছিল এটা এক রহস্য। ফ্রান্সিস বলল।
–একটা ব্যাপার ঠিক বুঝতে পারছি না। শাঙ্কো বলল।
–কোন্ ব্যাপার? ফ্রান্সিস বলল।
লক্ষ্য করে দেখ–একটা পাথরের ওপরে একটা গোল চিহ্ন। শাঙ্কো বলল।
–হুঁ। দেখছি। ফ্রান্সিস বলল।–
-ওটা কী? শাঙ্কো বলল।
-একটা নিশানা। পাথরগুলোর কাছে গিয়ে দাঁড়ালে কোন পাথরে ঐ চিহ্ন দেখা যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমার কি তাই মনে হয়। শাঙ্কো বলল।
-হ্যাঁ। রহস্য সমাধানে ঐ গোল দাগটার অর্থ বুঝতে হবে। দেখতে হবে কোন পাথরের গায়ে ঐ চিহ্নটা আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–এই চিহ্ন কি পাওয়া যাবে? শাঙ্কো বলল।
নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। না পেলে খুঁজতে হবে। এই গোল চিহ্নটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সিস বলল।
দেখা যাক। শাঙ্কো বলল।
পরদিন সকালের খাবার খেয়ে ফ্রান্সিস বলল–চল–রাজার সঙ্গে কথা বলে আসি।
–কী কথা? শাঙ্কো বলল।
–মুক্তি চাই–তা নাইলে কিছুই করা যাবে না। ফ্রান্সিস বলল।
দুজনে তাবু থেকে বেরিয়ে এল। রাজার কাছে চলল। দলপতি আসছিল। বলল–কোথায় যাচ্ছো?
–রাজার সঙ্গে কথা বলতে। শাঙ্কো বলল।
–তোমরা বন্দী। দলপতি বলল।
পাহারাদার কিছু বলল না। শাঙ্কো বলল।
উঁহু। আমাকে না বলে কোথাও যাবে না। চল। দলপতি বলল।
রাজা আত্তারিয়া গদীতে আধশোয়া। গদীটা বোধহয় ভালো শুকনো ঘাসে করা। দুজনকে দেখে রাজা উঠে বসলেন।
–কী ব্যাপার? রাজা বললেন।
–সোনার খনি খুঁজে বের করার দায়িত্ব যদি আমাদের দেন তাহলে আমাদের বন্দী করে রাখা চলবে না। কারণ সেক্ষেত্রে ইচ্ছেমত যে কোন সময় যে কোন জায়গায় যাওয়া যাবে না। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা আত্তারিয়া একটু ভাবলেন। তারপর বললেন–এর আগেও এক শ্বেতাঙ্গকে খোঁজ করতে বলেছিলাম। তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। দিন কুড়ি পরে উধাও। ভাগ্যিস নকশাটা আমার কাছেই ছিল। নইলে ওটাও উধাও হয়ে যেত। একটু থেমে রাজা বললেন–এখন প্রশ্ন তোমাদের একেবারে ছেড়ে দিলে ঐ ব্যাপারই ঘটতে পারে কিনা।
আমরা বিশেষ করে এই উদিন্না পাহাড়েরই ধারে কাছে থাকবো। দূরে কোথাও গিয়ে বোধহয় লাভ হবে না। সোনার খনি এই পাহাড়েই আছে। ফ্রান্সিস বলল।
যাক গে। তোমাদের ছেড়েই দেওয়া হল। তবে দুজন প্রহরী তোমাদের ওপর নজর রাখবে। পালাতে গেলেই তোমাদের হত্যা করা হবে। বুঝেছো? রাজা বললেন।
–হ্যাঁ। আমরা পালাবো না। সমস্ত সময়টাই কাটাবো সোনার খনির অনুসন্ধানে। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। রাজা বললেন।
শাঙ্কো বলল–আমার আমাদের তাবুতে খুবই অসুবিধের মধ্যে আছি। শুনলাম আরো দুজনকে ধরা হয়েছে। আমাদের তাঁবুতেই তাদের রাখা হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের খুবই অসুবিধে হবে। শুধু আমাদের জন্যে একটা তাবুর ব্যবস্থা করুন। শাঙ্কো বলল।
–বেশ। করা হবে। অনেক সুবিধে তোমাদের দেওয়া হচ্ছে। কাজের কাজটা করা চাই। রাজা বললেন।
ভাববেন না। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা বুঝতে পারবো গুপ্ত খনি আবিষ্কার করতে পারবো কি না। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখ চেষ্টা করে। রাজা মাথা নেড়ে বললেন।
রাজা দলপতিকে ডাকল। দলপতি এল। রাজা বললেন–এই দুজনকে থাকবার? জন্যে ভালো জায়গা দাও। ভালো খাবার-টাবার দাও।
–ঠিক আছে। সেনাপতি মাথা নিচু করে বলল।
ফ্রান্সিসরা তাবু থেকে বেরিয়ে এল। দলপতি এসে বলল–আমার সঙ্গে চলো। তোমাদের জন্যে একটা ভালো জায়গা দেখছি। হাঁটতে হাঁটতে এক কোণায় চলে এল দলপতি। একটা তাবুর কাছে এল।
দলপতি বলল–এখানে আমরা কয়েকজন থাকতাম। এখন একা আমার এক বন্ধু থাকে। তাকে চলে যেতে বলব। তোমরাই শুধু থাকবে।
ফ্রান্সিসরা তাঁবুটায় ঢুকল। বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। মেঝেয় পাতা বিছানাটাও বেশ মোটা। শুকনো ঘাসের। বোঝাই যাচ্ছে।
এবার ভালো জায়গা পেলে তো। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। শাঙ্কো বলল।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো বিছানায় বসল। বেশ নরম। ফ্রান্সিস আধশোয়া হল। মাথায় চিন্তা কী করে সোনার খনিটা খুঁজে বের করবে। অবশ্য কাজে নামলে তখনই বোঝা যাবে আমরা সফল হব কিনা।
তাঁবুর ফাঁক দিয়ে মুখ ঢুকিয়ে দলপতি হেসে বলল
–তোমরা সোনার খনি খুঁজে বের করতে পারবে না। আগেও কেউ পারে নি।
–সব জেনেটেনে বুঝবো–পারবো কি পারবো না। শাঙ্কো বলল।
–দেখ চেষ্টা করে। স্বাধীনভাবে থাকার হুকুম তো পেয়েই গেছ।
–হুঁ। শাঙ্কো মুখে শব্দ করল। দলপতি চলে গেল।
ফ্রান্সিস বলল–খাওয়ার সময় হয়েছে। চলো আজ দুপুর থেকেই কাজে নামি। জাহাজে মারিয়া আর বন্ধুদের খুব একটা দুশ্চিন্তা হবে না এখানে কয়েকদিন থাকলেও। বিস্কো তো গেছে। ওর কাছেই সব শুনবে। নিশ্চিন্ত হবে।
–কিন্তু আমরা গুপ্তসোনার খনি খুঁজছি এটা কিন্তু বিস্কো জেনে যেতে পারে নি। আমরা কেন ফিরতে দেরি করছি এটা ওরা জানতে পারে নি। ওদের চিন্তা হবেই। শাঙ্কো বলল।
দুপুরে খেতে দেওয়া হল। রুটি আনাজের তরকারির মত আর মাংস। বোঝা যাচ্ছে পাখির মাংস। কিন্তু কোন্ পাখির মাংস সেটা আর জানা হল না। দুজনেই পেটপুরে খেল।
একটু বিশ্রাম করে দুজনে তাবু থেকে বেরোল। হাঁটতে শুরু করল উদিন্না পাহাড়ের দিকে। খুব একটা কাছে নয়। পাহাড়টা দেখে যতটা কাছে মনে হচ্ছিল হেঁটে যেতে গিয়ে বুঝল মোটেই তত কাছে নয়।
