ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো নিজেদের কয়েদ তাবুতে ফিরে চলল। প্রহরীরাও সঙ্গে সঙ্গে চলল।
দুজনে ফিরে তাঁবুতে ঢুকল। দুজনেই হাঁপাচ্ছে তখন। তাঁবুর মধ্যে ঢুকে ফ্রান্সিস শুয়ে পড়ল। শাঙ্কো বসে রইল। ফ্রান্সিস বলল–মুস্কিল হল প্রহরীরা এখন আমাদের ওপর নজরদারি বাড়াবে। অন্য উপায় ভাবতে হবে। আর ক’টা দিন থাকি। সুযোগ সুবিধেমত পালাবো।
এক সকালে রাজা আত্তারিয়া ফ্রান্সিসদের ডেকে পাঠাল। দলপতি ফ্রান্সিসদের তাবুতে এল। বলল–তোমরা এসো। রাজা ডাকছেন।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো সবে সকালের খাওয়া খেয়েছে তখন। চলল দুজনে।
দুজনে রাজার তাঁবুর সামনে এল। দলপতি ঢুকতে ইঙ্গিত করল। ফ্রান্সিসরা তাবুতে ঢুকল। একটা কাপড়ের গদীতে রাজা বসে আছেন। দুজনকে বসতে ইঙ্গিত করলেন। ফ্রান্সিস শাঙ্কো বসল। রাজা বললেন
–সেদিন তোমাদের কথা শুনে মনে হল তোমরা কিছু গুপ্তধন উদ্ধার করেছে। রাজা আত্তারিয়া বললেন।
–হ্যাঁ। তা করেছি। ফ্রান্সিস বলল।
একটু চুপ করে থেকে রাজা বললেন–এই উদিন্না পাহাড়ে একটা সোনার খনিমত আছে। অনেক সোনার পিণ্ড মত আছে। একজন জংলি রাজা কোনভাবে সেই খনির হদিশ জানতো। তার মৃতদেহের কাছ থেকে আমার ঠাকুর্দা একটা গুটোনো চামড়া পেয়েছিল। তাতে নকশা আঁকা। ঠাকুর্দা জংলিটার সৎকার করেছিলেন। তারপর সেই নকশাটা নিয়ে আসেন। রাজা থামলেন। তারপর আবার বলতে লাগলেন। তারপর থেকে ঐ নকশাটা আমাদের পরিবারের কাঠের ছোট বাক্সে ওটা রাখা ছিল। বাবা দু’একবার চেষ্টা করে নকশাটার সাহায্যে এই উদিন্না পাহাড়ে সোনার খনি আবিষ্কারের জন্যে। কিন্তু পারেন নি। রাজা থামলেন।
তারপর বললেন–আমি নিজেও চেষ্টা করেছি। নকশাটা দেখে দেখে আন্দাজে সোনার খনি খুঁজেছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর পর হতাশ হয়ে খনি খোঁজা ছেড়ে দিয়েছিলাম। রাজা থামলেন।
–তাহলে ঐ নকশাটা এখনও আপনার কাছেই আছে। ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–হ্যাঁ। রাজা মাথা ওঠানামা করলেন।
নকশাটা একটু দেখবো? ফ্রান্সিস বলল।
-তোমাদের নকশাটা দেখাবো বলেই ডেকে পাঠিয়েছি। এই কথা বলে রাজা কোণার দিকে হাত বাড়ালেন। একটা ছোট কালো কাঠের বাক্স বের করলেন। বাক্সটা এনে একটু চাপ দিয়ে বাক্সটা খুললেন। সকালের আলোয় সবই দেখা যাচ্ছে। কয়েকটা পাথর বসানো আংটি সবুজ পাথরের হার একটা সোনার ছোট ছোরা বেশ কয়েকটা রঙিন পাথর। সব অলংকারের নিচে থেকে এক টুকরো সাদা চামড়া বের করলেন। ফ্রান্সিসকে দিলেন। ফ্রান্সিস নকশাটার ওপর ঝুঁকে পড়ল। গায় সবুজ রঙে চামড়ায় আনাড়ি হাতে কিছু আঁকা।
ফ্রান্সিস খুব মন দিয়ে নকশাটা দেখল। বুঝল এই নকশার সঙ্গে এই উদিন্না পাহাড়ের যোগ আছে।
–আপনার পিতা কি এই উদিন্না পাহাড়েই সোনার খনি আছে–এটা ভেবেছিলেন? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। কারণ বাবা বলেছিলেন, পিতামহ বলেছিলেন এই উদিন্নার পাহাড়ের নিচেই জংলির মৃতদেহ দেখেছিলেন। তার কোমরের ফেট্টি থেকেই নকশাটা পেয়েছিলেন। রাজা বললেন।
–তাহলে এই উদিন্না পাহাড়েই রয়েছে সোনার খনি। ফ্রান্সিস বলল।
–আমাদের তাই বিশ্বাস। রাজা আত্তারিয়া বললে।
–আর খোঁজাখুঁজি করলেন না কেন? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
রাজা একটু থেমে বললেন–উত্তরের রাজা হুয়াল্পা আমাদের যোদ্ধাদের পাহাড়ের ওপরে উঠতে দেয় না। বদলে আমার যোদ্ধারাও ওদের দেখলে তাড়িয়ে দেয়।
–রাজা হুয়াল্পা কি সোনার খনির কথা জানে? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ জানে। তাই পাহাড়ের অধিকার নিয়ে কিন্তু আমার পিতার সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলছে। রাজা আত্তারিয়া বললেন।
–আপনার পক্ষেই সোনার খনি খুঁজে বের করা সম্ভব। কারণ আপনার কাছে। একটা নকশা রয়েছে। রাজা হুয়াল্পার হাতে কিছুই নেই। তাকে খুঁজতে হলে আন্দাজে খুঁজতে হবে। এই উদিন্না পাহাড় তন্ন তন্ন করে খোঁজা প্রায় অসম্ভব। কাজেই উদ্মবত্র রাজা হুয়াল্পার পক্ষে সোনার খনি খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। একটু থেমে রাজা বললেন–তাহলে তুমি নকশাটা নিয়ে যাও। ভালো করে দেখে আমাকে ফেরৎ দিও। নকশাটা যেন নষ্ট না হয়। সাবধানে রাখবে। দেখবে। বুঝবে। রাজা বললেন।
ফ্রান্সিস বিস্কো উঠে দাঁড়াল। ফ্রান্সিস নকশাটা নিল। বলল–বেশ ভাল করে নকশাটা দেখতে হবে। ততদিন–
–তোমার কাছেই থাক। এই নকশা থেকে চেষ্টা কর যাতে সোনার খনিটা আবিষ্কার করা যায়।
ফ্রান্সিস শাঙ্কো নিজেদের তাবুতে ফিরে এল। নকশাটা নিয়ে ফ্রান্সিস বিছানায় আধশোয়া হল।
দুপুরের খাওয়ার পরও ফ্রান্সিস নকশাটা নানাভাবে দেখতে লাগল। শাঙ্কোও নকশাটা নিয়ে দেখল।
সন্ধেবেলা নকশাটা রেখে ফ্রান্সিস বলল–শাঙ্কো–নকশাটা দেখে তোমার কী .. মনে হল।
–এই আঁকাবাঁকাটা কী বুঝতে পারছি না। শাঙ্কো বলল।
–ওটা একটা পাতাঝরা গাছ। নকশাটা যখন আঁকা হয় তখন গাছটা চারাগাছ ছিল। এখন নিশ্চয়ই বড় হয়েছে। গাছটা খুঁজে বের করতে হবে। তারপর বল। ফ্রান্সিস বলল।
-বাঁদিকে কীসব যেন উপুর করা রয়েছে। শাঙ্কো বলল।
–ওসব পাথর। তারমানেই ওটা পাহাড়ের নিচের ভাগ। ওটা যদি বাড়াতে থাকো পাহাড় পাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–কত বড় পাহাড়? শাঙ্কো বলল।
–এটা উদিন্না পাহাড়। সোনার খনি আছে এই পাহাড়ে। কিন্তু কোথায় সেটা জেনেছিল এক জংলি মানুষ। কিন্তু সেও পারা যায়।
