ফ্রান্সিস প্রথমেই মাথায় কালো কাপড়ের ফেট্টি বাঁধাকে ধরল। ও প্রায় লাফিয়ে এসে মাথায় ফেট্টি বাঁধার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কালো ফেট্টি কিছু বোঝবার আগেই ফ্রান্সিস ওর ডান কাঁধে তরোয়ালের কোপ বসাল। তরোয়াল বসে গেল। ফ্রান্সিস তরোয়ালটা খুলে নিল। কালো ফেট্টি গুণ্ডা বাঁ হাত দিয়ে ডান কাঁধটা ধরে বসে পড়ল।
অন্য গুণ্ডাটার সঙ্গে ফ্রান্সিস কিছুক্ষণ লড়ল। তারপর অতি দ্রুত একটা পাক খেয়ে প্রচণ্ড জোরে তরোয়াল চালাল। গুণ্ডাটার ঊরুতে তরোয়ালের ঘা পড়ল। ও বসে পড়ল।
ফ্রান্সিস হাঁপাতে লাগল। তখনই বারান্দার অন্ধকার কোনার দিক থেকে কবিরাজের গম্ভীর গলা শুনল।
-তাইলে বর্শার এই মার সামলাও। কবিরাজ বা ছুঁড়লেন। ফ্রান্সিস মাথা নামাতে নামাতে বর্শাটা ওর ঘাড় ছুঁয়ে গেল। কাটা জায়গা থেকে রক্ত পড়তে লাগল। ফ্রান্সিস বর্শাটা তুলে নিল। বলল–এইবার আপনি সামলান। ফ্রান্সিস দেহের সমস্ত শক্তি নিয়ে বর্শা ছুঁড়ল। অন্ধকারের মধ্যেও নিখুঁত নিশানা। বর্শাটা কবিরাজের বুকে গেঁথে গেল। কবিরাজ উল্টে মেঝেয় পড়ে গেলেন। কিছুক্ষণ মাথা এপাশ ওপাশ করতে করতে মারা গেল।
দুই গুণ্ডা তখন মেঝেয় শুয়ে আছে। একজন গোঙাচ্ছে। অন্যটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে চেষ্টা করছে।
ফ্রান্সিস ওদের কাছে এল। তরোয়াল কোমরে খুঁজতে খুঁজতে। মাথায় কালো ফেট্টিওয়ালাকে বলল–যদি বাঁচতে চাও ঐ ঘরের চাবিটা দাও। কালো ফেট্টিওয়ালা বলল–আমার কাছে নেই। ফ্রান্সিস অন্যটিকে বলল–চাবি কোথায়?
–আমি জানি না।
তাহলে তো উপায় নেই তোমাদের দুজনকেই হত্যা করতে হয়।
ফ্রান্সিস তরোয়ালের ডগাটা কালো ফেট্টিওয়ালার গলায় ঠেকাল। বলল– চাবি দাও। নইলে মরবে।
ফ্রান্সিস তরোয়ালের চাপ বাড়াল। বলল–তাহলে তুমি মরতে চাও। বেশ ফ্রান্সিস তরোয়ালটা কালো ফেট্টির গলায় কিছুটা ঢোকাল। কালো ফেট্টি দুহাত তুলে বলল–দিচ্ছি। আমাকে ছেড়ে দিন।
আগে চাবি চাই। ফ্রান্সিস বলল।
কালো ফেট্টি কোমর থেকে একটা চাবির গোছা বের করল।
দেখে দেখে ফ্রান্সিসকে চাবিটা দেখাল? ফ্রান্সিস চাবির গোছাটা নিয়ে শেষ ঘরটার কাছে গেল। গলা চড়িয়ে বলল–মারিয়া—-আমরা এসেছি। দরজা খুলে দিচ্ছি।
ফ্রান্সিস দরজা খুলে দিল। মারিয়া কেঁদে ফেলল। এখন কান্না নয়। চলো।
ফ্রান্সিস মারিয়াকে হাত ধরে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামাল। সদর দরজার কাছে এল। দারোয়ান হাঁ হাঁ মুখে শব্দ করতে করতে ফ্রান্সিসদের সামনে এল। বশী তুলল। তোমরা চোর।
-তোমার প্রভু কবিরাজমশাই অনেক বড় চোর। ফ্রান্সিস বলল-দরজাটা খুলে দাও।
–না। আমি দরজা খুলবো না।
–মিছিমিছি কথা বাড়াচ্ছো। বাড়ির দোতলায় ওঠ। দেখবে কবিরাজ মারা গেছে। গুণ্ডা দুটো এখনও গোঙাচ্ছে।
–না। আমি দরজা খুলবো না।
–অগত্যা তোমাকে একটু আহত করতে হয়। ফ্রান্সিস তরোয়াল খুলল। দারোয়ান বর্শা তুলল। তখনই ফ্রান্সিস তরোয়াল চালাল। বর্শা দু’টুকরো হয়ে ছিটকে পড়ল।
এবারে দরজা খোল। ফ্রান্সিস বেশ কড়া গলায় বলল।
দারোয়ান এগিয়ে এসে দরজা খুলে দিল। ও তখনও ফ্রান্সিসদের দিকে তাকিয়ে রইল। অবাক লাগল ওর বর্শাটা এত হালকা?
মারিয়ার হাত ধরে ফ্রান্সিস রাস্তায় এল। ফুলের দোকান থেকে হ্যারি শাঙ্কোরা ছুটে এল। হ্যারি মারিয়াকে বলল-রাজকুমারী আপনি সুস্থ আছেন তো?
-না। জ্বরটরে ভুগেছি। তবে এখন আমার শরীর ভালো হয়ে যাবে। রাজকুমারী একটু ম্লান হেসে বলল।
ফ্রান্সিসরা যখন সরাইখানায় ফিরে এল তখন ভোর হয় হয়। ফ্রান্সিস বলল– মারিয়া তুমি ঘুমিয়ে নাও। মারিয়া চলে গেল। ফ্রান্সিস বলল–হ্যারি তুমি যতক্ষণ পারো ঘুমিয়ে নাও। সবাই যতটা পারো ঘুমোও, বিশ্রাম নাও। আমি আর শাঙ্কো ঘোড়াভাড়া করতে যাচ্ছি। তিনটে ঘোড়াতেই আমাদের হয়ে যাবে। একটু বেলায় খেয়ে নেবো। তারপর ঘোড়া চালিয়ে সন্ধ্যে নাগাদ আয়াচুচো পৌঁছব। রাতটা বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা। সারারাত ঘোড়া চালাবো। সকালে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেল নাগাদ পিসকো বন্দরে পৌঁছব।
ফ্রান্সিসের নির্দেশ মেনে সবাই যখন পিসকো বন্দরে পৌঁছল সূর্য ডোবে ডোবে।
জাহাজঘাটায় ভাইকিং বন্ধুরা কয়েকজন জাহাজের রেলিং ধরে গল্পগুজব করছিল। একজন ভাইকিং ঘোড়ায় চড়ে আসা ফ্রান্সিসদের দূর থেকে দেখল। ও চিৎকার করে বলল–ভাইসব ফ্রান্সিসরা আসছে।
ফ্রান্সিসরা জাহাজঘাটায় এল। বন্ধুরা ধ্বনি তুলল–ও–হো-হো। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব–এবারও আমার হাত শূন্য।
-তোমরা অক্ষত ফিরে এসেছো এতেই আমরা খুশি। ভেন বলল।
স্বর্ণ খনির রহস্য
তখন দুপুর। ফ্রান্সিসরা সবেমাত্র খাওয়া-দাওয়া সেরেছে তখন। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে। জাহাজ চলেছে। মেঘ দেখেই পেড্রো বুঝল প্রচণ্ড ঝড় আসছে। পেড্রো মাস্তুলের মাথা থেকে নেমে এল। ফ্রান্সিসের কাছে এল। ফ্রান্সিস শুয়ে ছিল। ফ্রান্সিস বলল–পেড্রো কী হয়েছে?
–প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি আসছে। তুমি ডেক-এ এসো।
চলো। ফ্রান্সিস উঠে পড়ল। দ্রুতপায়ে ছুটল। ডেকে-এ উঠে এল। ভাইকিং বন্ধুরা এখন ডেক-এ দাঁড়িয়ে আছে। বাতাস পড়ে গেছে। চারদিকের সমুদ্রে প্রায় অন্ধকার নেমে এসেছে। ফ্রান্সিস সমুদ্রের চারদিক দেখে নিল। তারপর গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব ঝড়বৃষ্টি আসছে। পাল নামাও। তারপর ডেক-এ এসে ঝড়ের মোকাবিলা কর।
