–বলুন–কী কথা? লোকটি বলল।
হ্যারি বাড়িটা দেখিয়ে বলল–এটা কার বাড়ি?
মাননীয় সেনাপতির বাড়ি।
–ও। ঠিক আছে।
হ্যারি দোকানের বাইরে এল। হ্যারি বুঝলকবিরাজ আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে। যদি বিদেশীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাই সেনাপতিকে ভুল বোঝাবে। ফ্রান্সিসদের অভিযোগ ধোপে টিকবে না।
ফিরে এসে হ্যারি গাড়িতে বসল।
কবিরাজ ও মহিলাটি বেশ কিছুক্ষণ পর ফিরে এল। গাড়িতে উঠল। গাড়ি চলল। পেছনে হ্যারির গাড়িও চলেছে।
কবিরাজের গাড়ি পূবমুখো চলল। পেছনে হ্যারির গাড়িও চলল।
একটা বেশ বড় বাড়ির সামনে এসে কবিরাজের গাড়ি থামল।
কবিরাজ আর মহিলাটি নামল। বাড়ির ভেতরে ঢুকল।
হ্যারি গাড়ি থেকে নামল। একটু এদিক ওদিক ঘুরছে তখনই একজন লোককে আসতে দেখল। হ্যারি বলল–একটা কথা বলছিলাম।
–বলুন। লোকটি বলল।
–এই বাড়িটা কার বাড়ি?
–ও। এটা তো মাননীয় মন্ত্রীমশাইয়ের বাড়ি।
–ও। হ্যারি মুখে শব্দ করল। ফিরে এসে গাড়িতে বসল। তাহলে বোঝা যাচ্ছে কবিরাজই গুণ্ডা লাগিয়ে রাজকুমারীকে অপহরণ করিয়েছে। এবার মন্ত্রী ও সেনাপতিকে হাতে রাখছে। গুপ্তধন চুরি রাজকুমারীকে অপহরণ এইসব নিয়ে কথা উঠলে মন্ত্রী ও সেনাপতিই তাকে রক্ষা করবে।
বেশ কিছুক্ষণ পরে কবিরাজ ও মহিলাটি বেরিয়ে এল। গাড়িতে উঠল। গাড়ি চলল। পেছনে হ্যারির গাড়ি।
কবিরাজ আর কোথাও গেল না। সোজা বাড়ি ফিরে এল। হ্যারিও ফিরে এল।
কবিরাজের গাড়ি তার বাড়িতে ঢুকে গেল। হ্যারি কিছুদূরে গিয়ে গাড়ি থামাল। গাড়ি থেকে নামল।
ফুলের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। তবে দোকানের তালার চাবি ফুলওয়ালা ফ্রান্সিসদের দিয়ে রেখেছিল। হ্যারি তালা খুলে দোকানে ঢুকল। পাতা পাটাতনে বসল। তারপর শুয়ে পড়ল।
হঠাৎ বাইরে শাঙ্কোর গলা শুনল–হ্যারি। হ্যারি দোকানের দরজা খুলে দিল। ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো এসেছে।
হ্যারি কী খবর বলো। ফ্রান্সিস বলল।
হ্যারি ওর অভিজ্ঞতার কথা বলল। তারপর বলল–এখন আমার মনে হয়, কবিরাজই নিজের বাড়িতে রাজকুমারীকে বন্দী করে রেখেছে।
ফ্রান্সিস একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল–আমি কবিরাজের বাড়িতে ঢুকবো। মারিয়াকে খুঁজবো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস মারিয়াকে কবিরাজ নিজের বাড়িতেই বন্দী করে রেখেছে।
-আজ রাতেই যাবে? হ্যারি বলল।
–হ্যাঁ আজ রাতেই। আমি একাই যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
–না, না শাঙ্কোকে নিয়ে যাও। হ্যারি বলল।
–যদি মারিয়াকে পাই তাহলে ওকে নিয়ে পালিয়ে আসতে হবে। তখন একা মারিয়াকে নিয়ে পালাতে কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু শাঙ্কো গেলে একটা বাড়তি দায়িত্ব।
শাঙ্কো বলল ঠিক আছে ফ্রান্সিস তুমি যা সুবিধেজনক মনে হবে তাই কর।
ফ্রান্সিস কোমরের তরোয়ালটা ভালো করে কোমরে গুঁজল। তারপর দোকান থেকে বেরিয়ে এল।
ফ্রান্সিস বড় রাস্তাটা পার হল। আকাশে আধ ভাঙা চাঁদ। তাই জ্যোৎস্না খুব উজ্জ্বল নয়। কবিরাজের বাড়ির পেছনদিকে গেল। দেখল এখানেও একটা প্রবেশদ্বার লোহার তৈরি। ফ্রান্সিস প্রবেশদ্বারের কাছে গেল। দেখল। ওঠা যাবে। পারও হওয়া যাবে।
এবার আস্তে আস্তে প্রবেশদ্বারে উঠতে লাগল। প্রবেশদ্বারের মাথায় চড়ল। লোহায় ঘষা লেগে ফ্রান্সিসের হাতে পায়ে কিছু জায়গা কেটে গেল। যন্ত্রণা হচ্ছে। কিন্তু ফ্রান্সিস আমল দিল না। একটা বাগানে লাফ দিয়ে পড়ল। বাগানের গাছগাছালিতে জায়গাটা বেশ অন্ধকার।
ফ্রান্সিস সামনের দিকে তাকাল। পাথরে তৈরি খাড়া দোতলা। ফ্রান্সিস বাগানের মধ্যে দিয়ে সদর দরজায় এল। ফ্রান্সিস আস্তে দরজাটা ধাক্কা দিল। দরজাটা আস্তে আস্তে খুলে গেল। ফ্রান্সিস দেখল এটা কবিরাজের রোগী দেখার ঘর। কিছুটা এগোতেই একটা দরজা। ভেজানো। ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে দরজাটা একটু খুলল। দেখল এটা রাঁধুনীদের ঘর। দুজন শুয়ে আছে। একজন বাড়ির আলোতে মাথায় চিরুনি চালাচ্ছে।
ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে সরে এল। সামনেই দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। ফ্রান্সিস দোতলায়। উঠতে লাগল। দোতলায় উঠে দেখল–পরপর তিনটে ঘর।
প্রথমে ফ্রান্সিস প্রথম ঘরের সামনে এল। দরজা বন্ধ। একটু এগিয়েই একটা জানালা। আধখোলা। ফ্রান্সিস দেখল–ঘরটি সুন্দর সুসজ্জিত। মেঝেয় কার্পেট পাতা। দুটো বিছানা। দুজন শুয়ে আছে। অঘোরে ঘুমচ্ছে। কবিরাজ ও তার পত্নী।
ফ্রান্সিস আরো এগোল। আবার একটা ঘর। ফ্রান্সিস দেখল দরজাটা একটু ফাঁক। ফ্রান্সিস আঙ্গুল দিয়ে দরজার ফাঁক বাড়াল। তখনই একেবারে মুখোমুখি এক গুণ্ডার।
গুণ্ডাটা জল খাচ্ছিল। ফ্রান্সিসকে দেখে লাফিয়ে উঠল। সেইসঙ্গে চিৎকার–কে? কে? ওখানে? আর এক গুণ্ডা ঘুমিয়ে ছিল। আগের গুণ্ডার চিৎকার শুনে লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। ফ্রান্সিস ভাবল–পালাবো। পরক্ষণেই ভাবল মারিয়া এই বাড়িতেই আছে কিনা সেটা জানতে হয়।
ততক্ষণে দুই গুণ্ডা তরোয়াল হাতে ফ্রান্সিসের দিকে এগিয়ে এল। ফ্রান্সিসও তরোয়াল খুলল। এক গুণ্ডা বলল–তুই কী চাস?
ফ্রান্সিস বলল–তোদের মুণ্ডু।
-তবে রে। একটা গুণ্ডা চেঁচিয়ে বলল।
–আয় তোরা তো কবিরাজমশাইর পোষা গুণ্ডা। তোরা এখানে বহাল তবিয়তে আছিস।
দুটো গুণ্ডাই ফ্রান্সিসকে আক্রমণ করল। ফ্রান্সিস ঘুরে ঘুরে ওদের মার ঠেকাতে লাগল। আক্রমণ করল না। তরোয়ালের লড়াই চলল।
ফ্রান্সিস শেষ ঘরটার কাছে এল। উচ্চস্বরে তরোয়াল চালাতে চালাতে ডাকল– মারিয়া–মারিয়া। ঘরটা থেকে কোন শব্দ শুনল না। লড়াই চালাতে চালাতে ফ্রান্সিস আবার হাঁপাতে হাঁপাতে ডাকল–মারিয়া। মারিয়া। বন্ধ ঘরটা থেকে মারিয়ার দুর্বল গলা শোনা গেল–ফ্রান্সিস। ফ্রান্সিস একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এবার গুণ্ডাদুটোকে আহত করতে হয়। ফ্রান্সিস এবার একজন গুণ্ডাকে আক্রমণ করল। এতক্ষণ ফ্রান্সিস তরোয়ালের মার ঠেকিয়ে যাচ্ছিল। তাই গুণ্ডারাও ভেবেছিল–ফ্রান্সিস তরোয়াল চালাতে জানে না।
