–দাঁড়াও ঐ বেস্টনাট গাছের নীচে একটা ঘোড়ার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে দেখলাম। চলো কথা বলে আসি। ফ্রান্সিস বলল।
ওরা বেস্টনাট গাছের নীচে এল। গাড়োয়ান গাড়ির মধ্যে বসার জায়গায় শুয়ে আছে। ফ্রান্সিস ডাকল–ও ভাই শুনছো?
গাড়োয়ানের ঘুম ভেঙে গেল। ও ধড়ফড় করে উঠে বসল। হ্যরি বলল
–ভাই বাইরে এসো। কথা আছে। গাড়োয়ান গাড়ি থেকে নামল।
ফ্রান্সিস বলল–কয়েকদিনের জন্যে তোমার গাড়িটা আমরা ভাড়া করবো। তুমি রাজি কিনা বল।
-হা হা। ভাড়া খাটবো। কিন্তু কোনসময় আর কতদিন।
–ধরো কাল থেকে পাঁচদিন।
–সারা দিন?
–হ্যাঁ–সারা দিনরাত।
–ঠিক আছে।
–আজ এখন থেকেই। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। গাড়োয়ান মাথা ওঠানামা করল।
তখনই কবিরাজের বাড়ির সদর দেউড়িতে একটা দুই ঘোড়াটানা গাড়ি এসে থামল। দারোয়ান দরজা খুলে দিল। গাড়িতে দুজনে বসে আছে। একজন স্ত্রীলোক। গাড়ি বাইরে রেখে ওরা নামল। কবিরাজের বাড়িতে ঢুকল।
তখনই শাঙ্কো এল। ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে সব বলল। গাড়োয়ানকে কিছু দিতে বলল। শাঙ্কো কোমরের ফেট্টি থেকে একটা সোনার ছোট চাকতি বের করে গাড়োয়ানকে দিল। গাড়োয়ান খুব খুশি।
শাঙ্কো বলল–তোমরা একটা গাড়িতে যাদের দেখলে তার মধ্যে রাজকুমারী নেই তো?
–না নেই। হ্যারি বলল।
এবার ফ্রান্সিস বলল–এবার কবিরাজের গাড়ি অনুসরণ করা যাবে। তবে গাড়িতে বসে সারা দিনরাত নজর রাখা যাবে না। কবিরাজের দারোয়ানের মনে সন্দেহ হতে পারে। মাঝে মাঝে গাড়িটা চড়ে কিছুক্ষণ ঘুরিয়ে আনতে হবে।
–ফুলের দোকান থেকেও নজর রাখতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
-শাঙ্কো গাড়োয়ানের কাছে এসে বলল–শোন ভাই। আমি এই ফুলের দোকানে থাকবো। কোন গাড়িকে অনুসরণ করতে হলে তোমাকে ডাকবো। তুমি সবসময় তৈরি থাকবে।
গাড়োয়ান মাথা নেড়ে বলল, ঠিক আছে।
—তাহলে–শাঙ্কো আমরা যাচ্ছি। হ্যারি বলল।
-হ্যাঁ, হ্যাঁ। আমরা যেভাবে আটঘাট বেঁধে এগোচ্ছি রাজকুমারীকে ঠিক উদ্ধার করবো। শাঙ্কো আস্তে বলল।
ফ্রান্সিস হ্যারি চলে গেল।
শাঙ্কো ফুলের দোকানে ঢুকল। ফুলওয়ালা হেসে বলল–আসুন আসুন। সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
শাঙ্কো কাঠের পাটাতনটা একটু ডানদিকে ঠেলে রাখল। জানলা দিয়ে সব স্পষ্ট এ দেখা যাচ্ছে।
বেশ কিছুক্ষণ পরে যে গাড়িটি এসেছিল একজন সুসজ্জিত পুরুষ আর এক স্ত্রীলোক সেও সুসজ্জিতা এসে সেই গাড়িতে উঠল। গাড়ি ছাড়ল। চলল পূবমুখো।
শাঙ্কো পাটাতনে আধশোয়া হল।
রাত বাড়তে লাগল।
একটু রাতেই কবিরাজের গাড়ি এল। দরোয়ান বড় দরজাটা খুলে দিল। গাড়ি ভেতরে ঢুকল। শাঙ্কো দেখল–কবিরাজ একা। তার সঙ্গীটি আসেনি।
শাঙ্কো তারপর সারা রাত পাটাতনে শুয়ে বসে সময় কাটাতে লাগল।
সেইরাতে আর কেউ কবিরাজের বাড়ির বাইরে বেরোল না–ঢুকলোও না।
ভোর হল। ফ্রান্সিস হ্যারি এল। শাঙ্কোকে বলল–মারিয়াকে দেখলে?
–না। শাঙ্কো বলল।
–ভোগাবে। কবিরাজ জানে আমরাই একমাত্র ওর গুপ্তধন চুরির ব্যাপারটা জানি। কাজেই যেমন করে হোক আমাদের এ দেশ ছাড়তে বাধ্য করবে। আমরা মারিয়াকে উদ্ধারের ব্যাপারে ব্যস্ত থাকবো কাজেই রাজা বা মন্ত্রীকে তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে সময় পাব না। আমাদের একমাত্র কাজ হবে মারিয়াকে উদ্ধার করা। কাজেই মারিয়াকে বন্দী করে রেখে আমাদের মুখ বন্ধ করতে চায়। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে রাজা বা অমাত্যদের কাউকে আমরা কিছু বলতে সাহস পাবনা। যদি বলতে যাই রাজকুমারীর বন্দীদশার কথা তাহলে কবিরাজ রাজকুমারীকে হত্যা করতে পারে। কবিরাজ সাংঘাতিক লোক। কাজেই খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে। হ্যারি বলল।
শাঙ্কো বলল–ফ্রান্সিস এখন কী করবে?
–নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। মারিয়ার কোন হদিশ করতেই হবে। প্রয়োজনে কবিরাজের বাড়িতেও ঢুকবো। মারিয়াকে খুঁজে বের করবো। ফ্রান্সিস বলল।
-হ্যারি বলল–রাজকুমারীকে অন্য কোথাও রাখতে পারে?
–হ্যাঁ। পারে। তাই কবিরাজের গাড়ির পেছনে আমাদের গাড়ি চালাতে হবে। একটা সূত্র নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
কবিরাজের বাড়ির দিকে ফ্রান্সিসরা নজরদারি চালাল।
কোথাও বেরোল না। তার যত যাওয়া আসা সন্ধ্যে থেকে রাত পর্যন্ত। সেদিন সন্ধ্যের কিছু পরে কবিরাজ গাড়িতে চেপে বের হল। হ্যারি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এল ঘোড়ার গাড়ির দিকে। গাড়োয়ান নিজের জায়গায় বসে ঝিমোচ্ছিল। হ্যারি এসে বলল–ভাই জলদি গাড়ি চালাও। হ্যারি উঠে বসতে বসতে গাড়োয়ান গাড়ি চালাল।
হ্যারি সীট থেকে উঠে জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আস্তে বলল–সামনের গাড়িটার পেছনে পেছনে চালাও। দরজা বন্ধ করে হ্যারি সীটে বসল।
দুটো গাড়িই চলল।
বেশ কিছুক্ষণ চলার পর কবিরাজদের গাড়িটা একটা বড় বাড়ির সামনে এল। দাঁড়াল। হ্যারি গাড়োয়ানকে আস্তে গাড়ি থামাতে বলল। একটু দূরে হ্যারির গাড়ি থামল।
হ্যারি মুখ বাড়িয়ে দেখল–কবিরাজ নামল। সঙ্গে একজন মহিলাও নামল। বাড়ির বাইরের আলোতে দেখে বুঝল রাজকুমারী নয়।
কবিরাজ আর মহিলাটি বাড়িতে ঢুকে গেল।
হ্যারি অপেক্ষা করতে লাগল। একটু পরে ভাবল এটা কার বাড়ি সেটা জানা যাক।
হ্যারি গাড়ি থেকে নেমে এল। দেখল চারিদিক অন্ধকার। একমাত্র ঐ বাড়িটার বাইরের ফটকে আলো আছে। সেই আলোতেই দেখল সামনে এক পোশাকের দোকান। হ্যারি দোকানে ঢুকল। একজন যুবক হাসিমুখে এগিয়ে এল। হ্যারি বলল– আমি পোশাক কিনবো না। একটা কথা জানতে এলাম–
