–সেটা আমার খুশি। কবিরাজ বললেন।
-তা তো বটেই। এবার ফ্রান্সিস বলল–আপনার বিরুদ্ধে আমাদের আরো অভিযোগ আছে।
–আমি আর শুনতে চাই না। কবিরাজ বলল।
–আপনাকে শুনতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–আপনাদের তাড়াতে হবে। এবার যুবকটি বলল।
ফ্রেডিকে ডাকো তো। কবিরাজ বলল।
ফ্রান্সিস হেসে বলল–আপনার ফ্রেডি এখন বিছানায় শুয়ে গোঙাচ্ছে!
তার মানে? কবিরাজ বললেন।
তার মানে আমি বলছি। ফ্রান্সিস যুবকটিকে দেখিয়ে বলল–ইনি আমাকে শায়েস্তা করার জন্যে ফ্রেডিকে দিয়ে আমাদের তাড়াতে চেয়েছিলেন। ফ্রেডির সঙ্গে কাজেই আমাদের তরোয়ালের লড়াই হয়েছিল। ফ্রেডি হেরে গিয়েছিল। আমি তাকে হত্যা করতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি। বাহুতে তরোয়ালের ঘা খেয়ে ফ্রেডি আহত হয়েছে মাত্র।
–ও। আপনারা অনেক দূর এগিয়েছেন। কবিরাজ বললেন।
—হ্যাঁ। এবার আমাদের রাজকুমারীকে মুক্তি দিন। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি এই ব্যাপারে কিছুই জানি না। কবিরাজ বললেন।
–উঁহু। এই ব্যাপারটার সঙ্গে আপনি জড়িত। আপনি সব জানেন। রাজকুমারীকে আমরা উদ্ধার করবই। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ-হ্যাঁ সেই চেষ্টাই করুন। কবিরাজ যেন খেঁকিয়ে উঠলেন।
–হ্যাঁ তাই করছি। তবে আপনাকেও আমরা ছাড়ছি না। তার জন্যে এখানে যদি থাকতে হয়–থাকবো। ফ্রান্সিস একটু থেমে বলল–আমরাও যাচ্ছি।
ফ্রান্সিস কবিরাজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। রাস্তায় এসে হ্যারি বলল- এখন কী করবে?
কবিরাজের এই বাড়ির ওপর নজর রাখতে হবে আমাদের। পালা করে নজর রাখতে হবে। কে বা কারা যাচ্ছে কারা আসছে–আমাদের সব দেখতে হবে। থাক গোপনে কথা হবে। এখন জলতেষ্টা পেয়েছে, খিদেও পেয়েছে। সরাইখানায় চল।
তার আগে এখানে একটা কাজ আছে।
–কী কাজ? শাঙ্কো বলল।
–কবিরাজের বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে ঐ দেখ একটা ফুলের দোকান। দোকানটায় এসো। হ্যারি বলল।
ফ্রান্সিসরা ঐ ফুলের দোকানে এল। ফুলওয়ালা ওদের দিকে এগিয়ে এল। বলল– খুব কম দামে ফুল পাবেন।
হ্যারি বলল–আমরা ফুল কিনতে আসিনি। একটা ব্যাপারে কথা আছে আপনার সঙ্গে।
–কী কথা? ফুলওয়ালা বলল।
জানলার ধারের জায়গাটা দেখিয়ে হ্যারি বলল–এখানে তো কিছু থাকে না।
–না। ফুলওয়ালা বলল।
–আপনি রাত্রে দোকানে থাকেন? হ্যারি জানতে চাইল।
–না বাড়িতে থাকি। আমার বাড়ি এখান থেকে ধরুন গে—
ফুলওয়ালাকে থামিয়ে দিয়ে হ্যারি বলল–এবার আপনাকে একটা অনুরোধ–ঐ জায়গাটুকুতে আমরা একটা চৌকি পাতব। দিনে রাতে আমরা একজন একজন করে থাকবো।
-কেন বলুন তো? ফুলওয়ালা বলল।
–সেটাই এখন বলতে পারব না। কয়েকদিন পরে সময়মত বলব। হ্যারি বলল। তারপর শাঙ্কোর দিকে হাত বাড়াল। শাঙ্কো কোমরের ফেট্টি থেকে একটা সোনার চাকতি বের করে দিল। হ্যারি সোনার চাকতিটা ফুলওয়ালার দিকে বাড়িয়ে ধরল। ফুলওয়ালা অবাক। বলল–মানে–আমি ঠিক–ওকে থামিয়ে দিয়ে হ্যারি বলল– এটা রাখুন। সময়মত আপনাকে সব বলা হবে। তার আগে কোন প্রশ্ন করবেন না। ফুলওয়ালা সোনার চাকতি পেয়ে খুব খুশি। হ্যারি বলল–একটা কাঠের তক্তা ওখানে রাখবেন। আমরা আসবো বসবো। রাত্রেও থাকবো। আমরাই রাত্রে আপনার পাহারাদারের কাজ করবো।
–ঠিক আছে। ঠিক আছে। ফুলওয়ালা হাসতে হাসতে বলল।
–এখন চলি। আজ সন্ধ্যে থেকে আমাদের লোক আসবে থাকবে। ঠিক আছে। হ্যারি বলল।
–ঠিক আছে। ঠিক আছে। ফুলওয়ালা একগাল হাসল।
ফ্রান্সিসরা সরাইখানায় এল। ওরা তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল। ঘরে এসে বসল সবাই। ফ্রান্সিস পাহারার জন্যে সবাইকে দায়িত্ব দিল। বলল–সকালে আমি যাবো। দুপুরে বিস্কো। সন্ধ্যে থেকে রাত হ্যারি। তারপর শাঙ্কো বলে উঠল–রাত থেকে সারারাত আমি। কাজ ভাগ করে দেওয়া হল। এবার কাজে নামা।
সন্ধ্যেবেলা হ্যারি ফুলের দোকানে গেল। দেখল ফুলওয়ালা ব্যবস্থা করেছে। একটা উঁচু পাটাতন এনে রেখেছে। ফুলওয়ালা হেসে বলল–আসুন–আসুন। হ্যারি গিয়ে পাটাতনটায় বসল। সামনেই একটা ছোট জানলা। জানলা দিয়ে কবিরাজের বাড়ির রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া সবই দেখা যাচ্ছে। এখান থেকে ভালো নজরদারি চলবে। হঠাৎই দেখল কবিরাজের দারোয়ান বাড়ির বাইরে এল। একটু এদিক ওদিক ঘুরে ভেতরে চলে গেল। তাহলে আমাদের খুব সাবধানে নজর রাখতে হবে।
হ্যারি পাটাতনে আধশোয়া হল। বাইরে নজর রাখল। কবিরাজের বাড়ির রাস্তা গাড়ি ঘোড়া লোকজন দেখতে লাগল।
একটু রাতের দিকে হঠাৎ দেখল কবিরাজের বাড়ি থেকে একটা চারঘোড়ায় টানা গাড়ি বেরিয়ে এল। রাস্তায় এল। তারপর দ্রুত রাস্তা দিয়ে ছুটল। গাড়িতে দুজন লোককে দেখল। একজন কবিরাজ অন্যজনকে চিনল না। দুজনেই সন্ধ্যেবেলার শৌখিন পোশাক পরেছে।
এইবার হ্যারি ভাবল–কবিরাজ গাড়ি ছাড়া বেরুবে না। গাড়ি ছাড়া কবিরাজকে অনুসরণ করা যাবে না। একটা গাড়ি চাই।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো এল। ফ্রান্সিস বলল–হ্যারি কেমন নজর রেখেছিলে?
–ভালোই নজর রেখেছি। কিন্তু সমস্যা আছে একটা। কবিরাজ গাড়ি ছাড়া বেরোয় না। আজকে কিছুক্ষণ আগে কবিরাজ আর একজন গাড়িতে বসেছিল। চলে গেল। কেন কাকে কোথায় নিয়ে গেল কিছুই বুঝলাম না।
–হ্যাঁ এই সমস্যাটা হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাই বলছিলাম আমরাও একটা ঘোড়ার গাড়ি সারা দিন রাতের জন্য ভাড়া করে রাখি। তাহলে সহজে কবিরাজের গাড়ি অনুসরণ করতে পারি। তাহলে কবিরাজ কোথায় গেল জানতে পারবো। হ্যারি বলল।
