–আমরা এখানেই থাকবো। শাঙ্কো বলল।
ভালো হয় আপনাদের চলে যাওয়া।
আমাদের ভাল আমরাই বুঝবো।
যুবকটি হঠাৎ লাফিয়ে উঠল। জোরে ডাকল–ফ্রেডি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘদেহী এক ঝাকড়াচুলো লোক ঘরে ঢুকল।
ফ্রান্সিসদের দেখিয়ে যুবকটি বলল–এরা কবিরাজমশাইকে অপমান করবে বলে এসেছে। এদের তাড়িয়ে দে। ফ্রেডি ফ্রান্সিসদের দিকে তাকাল। ছোট কুকুতে চোখে। তারপর কোমরে গোঁজা তরোয়াল খুলল। ফ্রান্সিসও তরোয়াল খুলল। লক্ষ্য করল ফ্রেডির তরোয়ালটা লম্বায় ওর তরোয়ালের চেয়ে বেশি লম্বা। ফ্রান্সিসের একটু চিন্তা হল। কীভাবে আত্মরক্ষা করবে কীভাবে লড়াই চালাবে তার ছক মনে মনে কষে নিল। শাঙ্কো আর বিস্কোও তরোয়াল খুলল। ফ্রান্সিস হাত বাড়িয়ে ওদের মানা করল।
ফ্রেডি একলাফে ফ্রান্সিসের সামনে চলে এল। হাতে খোলা তরোয়াল। ফ্রান্সিস সরে যেতে পারল না। ফ্রেডির তরোয়াল সোজা নেমে এল ফ্রান্সিসের মাথার ওপর। ফ্রান্সিস দ্রুত নিজের তরোয়াল দিয়ে নেমে আসা তরোয়ালটাকে ঠেকাল। তবু ফ্রান্সিস অক্ষত থাকলো না। ফ্রেডির তরোয়াল বাঁ কাঁধ কেটে নামল। রক্ত বেরিয়ে এল। রক্ত দেখে ফ্রান্সিস প্রচণ্ড রেগে গেল। ফ্রেডির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফ্রেডি মার ঠেকাবার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। ফ্রান্সিসের তরোয়াল সোজা নেমে এসে ঘা মারল ফ্রেডির বাম বাহুতে। তরোয়াল বাহুতে অনেকটা ঢুকে গেল। ফ্রেডি তরোয়াল ফেলে দিল। ডান হাত দিয়ে বাম বাহুটা চেপে ধরল। ফ্রান্সিসও তরোয়াল উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস তরোয়ালের এক কোপে এখন ফ্রেডিকে মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু ও এবার শান্ত হল। তরোয়াল কোষবদ্ধ করল।
শাঙ্কো ততক্ষণে কোমরের ফেট্টি ছিঁড়ে নিয়ে এল। ফ্রান্সিসের কাটা জায়গায় চেপে বেঁধে দিল। রক্ত পড়া বন্ধ হল।
–ফ্রেডি যাও–যুবকটি বলল।
ফ্রেডি উঠে দাঁড়াল। তরোয়াল কোষবদ্ধ করল। তারপর বাড়ির ভেতরে চলে গেল। শাঙ্কো ফ্রান্সিসকে ধরে নিয়ে ফরাসে বসাল। ফ্রান্সিসরা অপেক্ষা করতে লাগল।
একটু পরেই বাইরে ঘোড়ার ডাক শোনা গেল। একটা গাড়ি ঢোকার শব্দ হল। যুবকটি প্রায় ছুটে গেল বাইরের দরজার দিকে।
কবিরাজ ঢুকলেন। একবার ফ্রান্সিসদের ওপর দিয়ে চোখ বোলালেন। কবিরাজের পরনে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা সিল্কের পোশাক। মাথায় হলদে রঙের টুপিমতে, গলায় মুক্তোর মালা। ঘরটায় একটা সুগন্ধ ছড়াল। দাড়ি গোঁফ কামানো। গায়ের রং লালচে।
কবিরাজ ভেতরে চলে গেলেন।
যুবকটি ফরাসের তাকিয়া ঠিকঠাক করল। ওষুধ বোঝাই তাকগুলোতে শিশি বোতল রূপোর কৌটো–এসব গোছগাছ করল।
বেশ কিছুক্ষণ পরে কবিরাজ ঘরে এলেন। পাতা ফরাসের একপাশে কয়েকটা তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে বসলেন। যুবক ফ্রান্সিসের নাম ডাকলেন। ফ্রান্সিস হাত ঘুরিয়ে বলল আমি সবশেষে। যুবকটি অন্য রোগীকে ডাকল।
কবিরাজ রোগী দেখতে লাগলেন। ওষুধ দিতে লাগলেন। যুবকটি ওষুধ তৈরি করতে লাগল। দিতে লাগল।
রোগী দেখা শেষ হল। রোগীরা চলে গেল। কবিরাজ এবার ফ্রান্সিসদের দিকে তাকালেন। বললেন–আপনাদের মধ্যে রোগী কে?
–আমরা সবাই সম্পূর্ণ সুস্থ। তবে অনেকক্ষণ না খেয়ে আছি তাই শরীরটা দুর্বল লাগছে। ফ্রান্সিস বলল।
-কেন? কবিরাজ বলল।
আপনার সঙ্গে দেখা করবো বলে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফ্রান্সিস বলল।
–আপনারা তো রোগী নন। তবে আমার কাছে এসেছেন কেন? কবিরাজ বলল।
–আপনার সঙ্গে কথা আছে। ফ্রান্সিস বলল।
কী কথা? কবিরাজ বলল।
–আজ যে সরাইখানায় আমরা আছি সেখান থেকে এক অশ্বারোহী গুণ্ডা আমাদের রাজকুমারীকে অপহরণ করেছে। ফ্রান্সিস বলল।
–ও। কবিরাজ মুখে শব্দ করলেন।
–বোঝা যাচ্ছে কারো নির্দেশে অর্থের বিনিময়ে গুণ্ডাটা এই কাজ করেছে। এখন এ প্রশ্ন কার নির্দেশে এটা ঘটেছে? ফ্রান্সিস বলল।
কার নির্দেশে? কবিরাজ জানতে চাইল।
–আপনার নির্দেশে। ফ্রান্সিস বলল।
কবিরাজমশাই বেশ চমকে উঠলেন। তারপর সহজভঙ্গীতে বললেন–আমি এসব ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমাকে এসবের সঙ্গে জড়াচ্ছেন কেন? কবিরাজ বলল।
-না জড়িয়ে উপায় নেই বলে। ফ্রান্সিস বলল।
–তার মানে? কবিরাজ বললেন।
-মাজোর্কার রাজা কুয়েক হুয়া পিতামহের রাখা একটা নক্সা পেয়েছিলেন। নক্সাটার গুপ্তধনের অবস্থিতির নির্দেশ আছে। আপনি বেশ চিন্তাভাবনা করে গুপ্তধন আবিষ্কার করেছিলেন। একদিন রাজাকে দেখে যদিও সেদিন আপনার যাওয়ার কথা। ছিল না আপনি অতিথি ঘরে ছিলেন। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–গভীর রাতে একটা থলেতে রাখা বহুমূল্যবান গুপ্তধন বের করে নিজের থলেতে ভর নিয়ে খুব ভোরে রাজবাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–কীভাবে আপনি গুপ্তধন চুরি করেছিলেন সবই বললাম। ফ্রান্সিস বলল।
কবিরাজ বলে উঠলেন–সব মিথ্যে অভিযোগ।
–একটি বর্ণও মিথ্যে নয়। হ্যারি বলল।
ফ্রান্সিস বলল–আপনার এই প্রাসাদের মত বাড়ি শুধু কবিরাজী করে হয় না। এর জন্যে যথেষ্ট ধনসম্পদ লাগে। সেই ধনসম্পদ আবিষ্কার করে আপনি রাজা কুয়েক হুয়াকে কিছু বলেন নি। রাজার চিকিৎসাও আর করেন নি। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ–প্রয়োজন নেই বলে যাই নি। কবিরাজ বললেন।
–তা তো বটেই। কার্যোদ্ধার হয়ে গেছে। কাজেই অসুস্থ রাজাকে আর দেখতে যান। নি। ফ্রান্সিস বলল।
