বিস্কো একা ঘরে চুপ করে বসে রইল। ফ্রান্সিসরা এলে কী বলবো? রাজকুমারীকে একটা গুণ্ডা ঘোড়ায় তুলে নিয়ে গেছে। আমার অসতর্কতার জন্যেই এটা ঘটল। বিস্কো ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেল। আমার এই গাফিলতি ফ্রান্সিসরা মেনে নেবে না।
বিস্কো বসে থাকতে পারল না। আবার বাইরে এল। একজন বয়স্ক লোক তখনই সরাইখানায় ঢুকছিল। বিস্কোকে দেখে বলল–শুনছেন?
বিস্কো দাঁড়িয়ে পড়ল।
–শুনলাম মেয়েটি নাকি স্বামী ও বন্ধুদের সঙ্গে এদিকে বেড়াতে এসেছেন। বৃদ্ধ বললেন।
–হ্যাঁ। বিস্কো মাথা ওঠানামা করল।
–ঘটনাটার মধ্যে একটু ভাববার ব্যাপার আছে। কারণ যে উঠিয়ে নিয়ে গেছে সে এখানকার কুখ্যাত গুণ্ডা। তাই এসব নিয়ে কেউ বেশি কথা বলছে না। এবার গলা নামিয়ে লোকটা বলল–একটা কুখ্যাত গুণ্ডা ধরে নিয়ে গেছে। ঠিক আছে। কিন্তু গুণ্ডা মিছিমিছি একটি মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে কেন? মশাই এই ঘটনার মধ্যে বেশ জটিলতা আছে।
–আমারও তাই মনে হয়। বিস্কো বলল।
লোকটি একবার চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিয়ে বলল
–কেউ গুণ্ডাটাকে লাগিয়েছে। অবশ্যই অর্থের বিনিময়ে।
–আমিও সেটাই ভাবছি। বিস্কো বলল।
–আপনারা তো বিদেশী। বৃদ্ধ বললেন।
–হ্যাঁ।
–কার সঙ্গে আপনাদের কী হয়েছে যে গুণ্ডা লাগিয়ে আপনাদের শায়েস্তা করতে চাইছে। বৃদ্ধ বললেন।
–কী জানি। কিছুই বুঝতে পারছি না। বিস্কো বলল।
খোঁজ নিয়ে দেখুন আপনাদের কেউ এ দেশের কাউকে চটিয়েছেন? বৃদ্ধ বললেন।
বিস্কো কিছু বলল না।
–বলুন ঠিক বলেছি কিনা। বৃদ্ধ বললেন।
–কী জানি বুঝতে পারছি না। বিস্কো বলল।
–ঐ মহিলাকে ফেরৎ পেতে বেশ কিছু অর্থব্যয় করতে হবে। লোকটি বলল।
–দেখা যাক। বিস্কো বলল। তারপর নিজের ঘরে চলে এল। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগল ফ্রান্সিসদের জন্যে। বিস্কো সরাইখানার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ঢোকার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইল। রাস্তার লোকজন গাড়ি ঘোড়া ওপর ওপর দেখতে লাগল। আসলে ওর চিন্তা যা হয়েছে হয়েছে। কিন্তু রাজকুমারীকে কি করে উদ্ধার করবে।
ফ্রান্সিসদের ফিরতে সন্ধ্যে হয়ে গেল। ওরা বিস্কোকে সরাইখানার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। ফ্রান্সিস বললকী ব্যাপার? এখানে দাঁড়িয়ে আছো? ঘরে চলো।
–চলো। সকলেই ওদের ঘরে এল। কেনার জিনিস রাখল। সকলেই কে কী কিনল তাই নিয়ে কথা বলতে লাগল। পরস্পরকে কেনা জিনিস দেখাতে লাগল।
ফ্রান্সিস মারিয়াকে দেবার জন্যে সাদা ভালুকের চামড়ায় তৈরি পোশাকটা নিল। চলল। বিস্কো বলল–ফ্রান্সিস। একটা কথা ছিল। ফ্রান্সিস ফিরে দাঁড়াল। বলল, কী কথা?
–ঘণ্টা খানেক আগে এই শহরের এক গুণ্ডা ঘোড়ায় চড়ে এসে রাজকুমারীকে অপহরণ করেছে। বিস্কো হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।
বলো কি। সমস্ত ঘটনাটা বলো তো। আমাদের ঘরে এসো। হ্যারি তখনই এল। বলল–
-ফ্রান্সিস পোশাক রাজকুমারীর পছন্দ হয়েছে তো?
–হ্যারি চলো কথা আছে। ফ্রান্সিস আস্তে বলল।
তিনজনে ওদের ঘরে ঢুকল। দেখল পছন্দের জিনিস কেনাকাটা করে সবাই আনন্দে আত্মহারা। জোরে জোরে কথা বলছে। ফ্রান্সিস বিরক্ত হল। বলল- আস্তে কথা বল। হ্যারি বলল-ফ্রান্সিস কী ব্যাপার বলো তো?
–কিছুক্ষণ আগে একটা গুণ্ডা মারিয়াকে নিজের ঘোড়ায় তুলে নিয়ে গেছে। ফ্রান্সিস বলল, সবাই চুপ করে রইল। ফ্রান্সিস বলল–বিস্কো তুমি যতটা এই ঘটনা জেনেছো বলো।
–বেশ। এবার বিস্কো আস্তে আস্তে সমস্ত ঘটনাটা যা জেনেছে বলল।
শাঙ্কো বলে উঠল–বিস্কো–তুমি এতটা দায়িত্ব বোধহীন নও। আজকে কী হল তোমার। রাজকুমারীর সব তুমি দেখাশুনো করবে এই ভরসায় তোমার হেফাজতে রাজকুমারীকে রেখে গেছিলাম আমরা। এ তুমি কী করলে?
হ্যারি বলল–বিস্কো–এখন তোমাকে কিছু বলা বৃথা। ভুল যা হবার হয়ে গেছে। বিস্কো সবই বলেছে। তারই ওপর ভিত্তি করে রাজকুমারীকে খুঁজতে হবে। এবার ফ্রান্সিস কিছু বলো। ফ্রান্সিস একটু চুপ করে থেকে বলল–প্রথমে দেখতে হবে এখানে কার সঙ্গে বা কাদের সঙ্গে আমাদের শত্রুতা জন্মেছে।
–আমরা আগ বাড়িয়ে তো কারুর ক্ষতি করি নি। হ্যারি বলল।
–তবু শত্রুতা জন্মেছে। রাজা কুয়েক হুয়ার নক্সা আমরা পেয়েছি। খোঁজাখুঁজি করে আমরাই প্রথম বলেছি যে গুপ্ত ধনভাণ্ডার চুরি হয়ে গেছে এবং চুরি করেছে রাজার চিকিৎসক মানে কবিরাজ মশাই। কবিরাজের সঙ্গে আমাদের সামনাসামনি কথা হয়েছে। এবং তিনিই যে গুপ্তধন চুরি করেছেন এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। এইবার কবিরাজ আমাদের এদেশ থেকে তাড়াবার চেষ্টায় নামল। প্রথমেই মারিয়াকে অপহরণ করে আমাদের মনোবল ভাঙতে চাইলেন। উনি বোঝাতে চাইলেন–আমরা কত অসহায় আর উনি কত শক্তিধর। আমাদের ভোগাবেন। সেটা সহজেই পারবেন কারণ আমরা বিদেশী, আমাদের স্বপক্ষে কেউ দাঁড়াবেন না। কাজেই আমাদের ওপর চাপ বাড়াবেন এবং আমাদের এই দেশ ত্যাগ করতে আমাদের বাধ্য করবেন।
-কী ভাবে? শাঙ্কো বলল।
রাজকুমারীকে অপহরণ করে। এ জন্যে আমাকে অথবা আমাদের বন্ধুকে অপহরণ করাবেন। সুতরাং আমরা পেরু ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হব। সকলে চুপ করে রইল। হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস এই বিষয়ে ঠিক বলেছে। আমার তো মনে হয় আমরা যদি এখন কবিরাজের কাছে গিয়ে বলি–আমাদের রাজকুমারীকে মুক্তি দিন আমরা রাজকুমারীকে নিয়ে চলে যাব। কবিরাজ সঙ্গে সঙ্গে রাজকুমারীকে মুক্তি দেবে। সবাই হ্যারির কথা শুনল। হ্যারি ঠিকই বলেছে।
