ঠিকানা লেখা কাগজটা ফ্রান্সিস পড়ল। বলল–কবিরাজ কুজকোতে থাকেন। প্রথমে তাকেই খুঁজবো তারপর আপনার পিতার বন্ধুকে খুঁজবো। কিন্তু উনি থাকেন চিলিতে। বেশ দূর। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–তাহলে আমরা আজ চলি। আমি কালকেই কুজকো যাচ্ছি।
–ভালো। দেখুন গুপ্তধন উদ্ধার করা যায় কিনা। রাজা বললেন।
ফ্রান্সিস দেরি করতে চাইল না। জাহাজের বন্ধুরা নিশ্চয়ই ওদের জন্যে চিন্তান্বিত।
সকালে খেয়েই ফ্রান্সিস বলল–বিস্কো–রাজকুমারী রইলেন। একটু সাবধানে থেকো। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসবো।
তিনজনে খেতে বসল। ফ্রান্সিস বলল–শাঙ্কো খেয়ে উঠেই তিনটে ঘোড়া ভাড়া করে আনবে।
-ঠিক আছে। শাঙ্কো ঘাড় কাত করে বলল।
খাওয়া হল। শাঙ্কো ঘোড়া ভাড়া করতে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই শাঙ্কো তিনটে ঘোড়া নিয়ে এল।
ফ্রান্সিসরা তৈরি হয়ে ঘোড়ায় উঠল। তিনটি ঘোড়া সওয়ারি নিয়ে ছুটল কুজকোর এ দিকে।
শেষ দুপুরে কুজকো পৌঁছল। একটা মাঠের ওপর এল ওরা। অনেক ঘোড়া রয়েছে। ঘোড়া থেকে নেমে ফ্রান্সিস চলল ঘোড়ার মালিকের কাছে। নির্দেশমত পেলও তাকে। ঘোড়া জমা দিল। পরে ফিরে যাওয়ার অগ্রিমটাও লোকটাকে দিয়ে রাখল।
খিদে পেয়েছে। কিন্তু এখন খাওয়া নয়। যে কাজে এসেছে সেটা আগে করতে হবে।
ফ্রান্সিস কোমরের ফেট্টি থেকে কাগজটা বের করল। প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে গীর্জাটা। তার বাঁদিকের ঘোট রাস্তা ধরে এগোতে হবে। চার্চের রাস্তা শেষ হতেই বাঁদিকের প্রথম বাড়িটা। রাজা কুয়েক হুয়ার এটাই নির্দেশ ছিল।
গীর্জা ছাড়িয়েই বাড়িটার সামনে এসে ওরা দাঁড়াল। দেখা গেল নতুন ঝকমকে একটা বাড়ি। অথচ রাজা বলেছিলেন বেশ পুরোন বাড়ি।
ফ্রান্সিস মৃদুস্বরে বলল–অলঙ্কার বিক্রি করে কবিরাজ এখন ধনী। বাড়িটি কেমন নক্সারমত তৈরি। হ্যারি হাসল।
ওরা সদর দরজার কাছে এল। একটা দড়িমতো ঝুলছে। ফ্রান্সিস দড়িটা নিচে টানল। বাড়ির ভেতরে সুরেলা আওয়াজ হল। একটু পরে একটা কাজের লোক এল। হ্যারি বলল–কবিরাজ মশাই আছেন?
–হ্যাঁ আছেন। কিন্তু বিকেলবেলা রোগী দেখেন না।
–ঠিক আছে। আমরা ঘুরে আসছি। হ্যারি বলল।
–আচ্ছা লোকটি দরজা বন্ধ করে দিল।
রাস্তায় এল ওরা। ফ্রান্সিস বলল–আমাদের একটা সুবিধে হল। এই ফাঁকে চলো খেয়ে নি।
কুজকো বেশ বড় শহর। ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী। রাস্তায় ভিড়ও বেশ।
একটু খুঁজতেই একটা ভালো সরাইখানা পেল। চুল ওরা। হ্যারি মাংস মোটা রুটির জন্য বলল। খুব তাড়াতাড়িই খাবার এল। খেতে খেতে হ্যারি বলল–আচ্ছা। ফ্রান্সিস তুমি কোন অকাট্য যুক্তি পেয়েছো যে কবিরাজ চুরি করেছে বলছো।
–আমার সবচেয়ে বেশি সন্দেহ হয়েছে যখন শুনলাম কবিরাজ যেদিন চলে যান তখন খুব ভোরেই তিনি চলে এসেছিলেন। তারপর তিনচারমাস কেটে গেছে কবিরাজ আর যান নি। কেন? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ এই প্রশ্ন উঠতে পারে। এখন কবিরাজকে নিয়ে কী করবে?
–কবিরাজ গুপ্তধন চুরি করেছে এই সত্যটা ওকে স্বীকার করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–যদি স্বীকার না করে? হ্যারি বলল।
তবে রাজা কুয়েক হুয়া অবশ্য এখন আর রাজা নন–তবুও তাকে দিয়ে রাজা পাচাকুচির দরবারে নালিশ করাবো।
–তাতে কাজ হবে? শাঙ্কো বলল।
–হতে পারে আবার নাও হতে পারে। আমরা গুপ্তধনের হদিশ দেব। বাকি উদ্ধার করার দায়িত্ব আমাদের নয়। ফ্রান্সিস বলল।
বেশ। দেখ। হ্যারি বলল।
বিকেলে ওরা কবিরাজের বাড়িতে গেল। সেই লোকটি বাঁ পাশের ঘরটায় ফ্রান্সিসদের বসাল। আরো লোক বসে আছে।
লোকটি ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল–ঐখানে নাম লিখিয়ে বসুন। ফ্রান্সিস দেখল একটা কাঠের আসনে একজন কাগজ কালিকলম নিয়ে বসে আছে। সে নাম ডাকছে।
ফ্রান্সিস লোকটির কাছে গেল। নাম লেখাল।
ফ্রান্সিসরা বসে আছে। বেশ কিছুক্ষণ পরে লোকটি ফ্রান্সিসের নাম ডাকল।
ফ্রান্সিস কবিরাজের ঘরে ঢুকল। কবিরাজকে দেখল। কবিরাজকে দেখেই ফ্রান্সিস বুঝল লোকটা ভীষণ ধূর্ত। এই লোকটার পক্ষে চুরি করা অসম্ভব নয়। চোখদুটোর তীব্র দৃষ্টি। কিন্তু মুখ ভাবলেশহীন।
–আপনাকে বিদেশী বলে মনে হচ্ছে। কবিরাজ একটু হেসে বললেন।
–হ্যাঁ আমরা ভাইকিং। ফ্রান্সিস বলল।
–ও। তা আপনার কী কষ্ট? কবিরাজ বললেন।
কষ্টের কথা বলতে আসিনি। ফ্রান্সিস বলল।
–তার মানে? কবিরাজ বললেন। অল্প হাসলেন।
–আপনি রাজা কুয়েক হুয়াকের চিকিৎসা করেছিলেন। ফ্রান্সিস বলল।
—হ্যাঁ। কবিরাজ বললেন।
–আচ্ছা–রাজা তার পিতামহের গুপ্তধনের কথা আপনাকে বলেছিলেন। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। এই গুপ্তধনের কথা অনেককেই বলতেন। এটা বলে বোধহয় তিনি আনন্দ পেতেন।
–যাই হোক–একদিন জলঝড়ে আপনি এই কুজকোয় ফিরতে পারেন নি। রাজার অতিথি ঘরে ছিলেন। ফ্রান্সিস বলল।
-হ্যাঁ। কবিরাজ বললেন।
–রাজা আপনাকে একটা নক্সা দেখিয়েছিলেন। ওটাতে গুপ্তধনের হদিশ ছিল। কিন্তু কেউ ওটার সমাধান ভেবে পায় নি। যা হোক–আপনি শোবার সময় নক্সাটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে বললেন–এখানকার তিনটি শয়নঘরের নক্সাটা আঁকা আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–নকশাটা দেখলে তাই মনে হয়। কবিরাজ বললেন।
–আপনি অতিথিঘরটার ফুলদানিগুলো তুলে তুলে দেখেছিলেন গুপ্তধন রয়েছে। কিনা। হঠাৎই পেয়ে যান একটা থলি। থলি দেখে এতটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন যে পাথরের ফুলের দুটো পাপড়ি ভেঙে ফ্যালেন। থলিটা খুলতে গিয়ে খোলেন নি। সেই রাতে ঐ পর্যন্ত। ফ্রান্সিস বলল।
