–ঠিক আছে। তাহলে জংলা জায়গাটায় চলো। জঙ্গলে দুজনেই ঢুকল। ফাঁকা জায়গাটায় এল। হয়তো দেখা হবে। না। কেউ নেই। এদিক ওদিক দেখছে তখনই দেখল একটা জংলা গাছের ডালে একটা বড় কাগজ ঝুলছে। ফ্রান্সিস ছুটে গেল। কাগজটা ঐ গাছেরই সঙ্গে আটকানো। কাগজটা নিয়ে ফ্রান্সিস পড়ল–ফ্রান্সিস এখানে উত্তরে একটা বেশ বড় পোশাক টোশাকের দোকান আছে। তার উল্টোদিকের রাস্তার একটু ভেতরে একটা সরাইখানা পাবে। আমরা ওখানেই আছি।হ্যারি।
ফ্রান্সিস হেসে বলল–বিস্কো ওদের হদিশ পেয়েছি। কাগজটা বিস্কোকে দিল। বিস্কো পড়ে বলল–তাহলে ঐ দোকানের খোঁজে চল।
-হ্যাঁ। যেতে তো হবেই।
দুজনে উত্তরমুখো চলল। খুঁজতে খুঁজতে পোশাকের দোকানটা পেল। ঠিক তার উল্টোদিকে একটা বড় দোকান। ওটাই পোশাকের দোকান। রাস্তার উল্টোদিকে একটা সরাইখানা।
ফ্রান্সিস বিস্কোর দিকে তাকিয়ে হাসল। বিস্কোও হাসল। দু’জনে ছুটে রাস্তা পার হয়ে সরাইখানার সামনে এল। খোলা দরজা দিয়ে দেখল হ্যারিকে। হ্যারি পায়চারি করছে।
–হ্যারি? ফ্রান্সিস ডাকল। হ্যারি সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াল। ছুটে গিয়ে ফ্রান্সিসকে জড়িয়ে ধরল। হ্যারির চোখে জল। ফ্রান্সিস ধমকের সুরে বলল–অ্যাই কাঁদবে না। ততক্ষণে সবাই এসে ফ্রান্সিসকে ঘিরে দাঁড়াল। সকলেই হাসছে। বিস্কো ধ্বনি তুলল– ও–হো-হো। সবাই চিৎকার করে ধ্বনি তুলল–ও হো হো
ভেতরের একটা ঘর থেকে মারিয়া বেরিয়ে এল। শুকনো মুখ। মাথার চুল অবিন্যস্ত। ফ্রান্সিসের দিকে তাকিয়ে হেসে এগিয়ে এল।
ওদিকে বিস্কো সকলকে বলতে লাগল ওরা কী কী করেছে–সেসব।
কিছু পরে ফ্রান্সিস আর বিস্কো খেয়ে নিল। ফ্রান্সিস মারিয়া আর বন্ধুদের অক্ষত দেহে দেখে খুব নিশ্চিন্ত হল।
বিকেলের দিকে ফ্রান্সিস মারিয়া আর হ্যারিকে ডাকল। ওরা ফ্রান্সিসের কাছে এল। ফ্রান্সিস বলল–রাজা কুয়েক হুয়ার কাছে যাব। তোমরাও চলো।
–রাজা কুয়েক হুয়া নিশ্চয়ই নিজের রাজবাড়িতেই আছেন। ফ্রান্সিস বলল।
–কোথাও চলে যেতেও পারেন। হ্যারি বলল।
না। উনি অসুস্থ। যেখানে যাবেন দেখেশুনে যাবেন। সেখানে চিকিৎসার সুবিধে আছে কিনা। এসব দেখেটেখে যাবেন।
–তাহলে তোমার কী মনে হয়? উনি এখনও রাজবাড়ি ছেড়ে যান নি? মারিয়া বলল।
–হ্যাঁ–আমার তাই মনে হয়। ফ্রান্সিস বলল।
–এখন কী করবে? হ্যারি জানতে চাইল।
–আমার মনে হচ্ছে রাজার সঙ্গে এক্ষুনি দেখা করা দরকার। ফ্রান্সিস বলল।
–কেন? মারিয়া বলল।
–সেই নক্সাটা ফিরিয়ে দিতে হবে! তারপর তাঁর পিতামহের ধন সম্পদ খুঁজে বের করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তার মানে আরো দুতিনদিন। মারিয়া বলল।
–হ্যাঁ–তাও লাগতে পারে। ফ্রান্সিস বলল।
মারিয়া কোন কথা না বলে নিজের ঘরে ঢুকে পড়ল।
হ্যারি বলল ফ্রান্সিস মারিয়া খুবই উদ্বেগের মধ্যে আছেন। তাকে সাহস দাও।
ফ্রান্সিস মারিয়ার ঘরে ঢুকল। দেখল মারিয়া বিষমুখে বিছানায় বসে আছে। কাছে। এসে ফ্রান্সিস বলল–
–আমি তো এসেছি। এখন তোমার দুশ্চিন্তা থাকার কথা নয়?
–দুশ্চিন্তা আমার কোনদিন যাবে না। মারিয়া আস্তে আস্তে বলল।
একটু চুপ করে থেকে ফ্রান্সিস বলল–মারিয়া তুমি এতদিন আমার সঙ্গে থেকে নিশ্চয়ই বুঝেছো যে আমি এক অন্যরকমের জীবন কাটাই। বাড়িতে নিশ্চিন্ত সুখের জীবন আমার জীবন নয়। তুমি যদি আমার জীবনটাই মেনে নাও তাহলে আমি খুশী হব। তুমি যদি আমার জীবনটা মেনে নিতে না পারো তবে বলো আমি তোমাকে দেশে পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করে দেবো।
–না। বেশ জোরেই বলল মারিয়া। তারপর ডানহাতটা বাড়িয়ে দিল। ফ্রান্সিস হেসে ওর হাতটা ধরল। মারিয়া একটু অঞরুদ্ধ স্বরে বলল–মৃত্যু পর্যন্ত আমি তোমার সঙ্গেই থাকবো। কোন শক্তি আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
ফ্রান্সিস মারিয়ার হাতটা জড়িয়ে ধরে হেসে বলল তোমার কাছ থেকে ঠিক এই কথাটাই আশা করেছিলাম। যা হোক–তৈরি হয়ে নাও। আমরা রাজা কুয়েক হুয়ার কাছে যাবো। কথা আছে। তুমি হ্যারিও যাবে।
কিছু পরে ফ্রান্সিস মারিয়া আর হ্যারি তৈরি হয়ে নিল।
রাজা কুয়েক হুয়ার রাজবাড়ির সামনে ওরা। প্রবেশপথে কোন দ্বাররক্ষী নেই। মন্ত্রণাকক্ষ পার হচ্ছে তখনই একজন রক্ষী এল। বলল–আপনারা মাননীয় রাজার সঙ্গে দেখা করবেন?
–হ্যাঁ। ফ্রান্সিস মাথা ওঠানামা করল।
একটু দাঁড়ান। দ্বাররক্ষী বলল।
রক্ষী ঘরের ভেতরে চলে গেল। একটু পরে বেরিয়ে এসে বলল–আসুন।
ফ্রান্সিসরা রাজার শয়নকক্ষে ঢুকল। দেখল রাজা শুয়ে আছেন। শিয়রে রাণী বসে আছেন। একটি মেয়ে রাজার কপালে হাত বুলোচ্ছে। ফ্রান্সিস রাণীর দিকে তাকিয়ে বলল-রাণীমা–মাননীয় রাজার শরীর কেমন আছে?
-খুব ভাল না। রাণী বললেন।
রাজা চোখ বুজে ছিলেন। এবার চোখ খুলে ফ্রান্সিসদের দেখে বললেন ও আপনারা এসেছেন। বসুন।
খাটের কাছে দুটো কাঠের আসন রাখা। মারিয়া হ্যারি বসল। ফ্রান্সিস দাঁড়িয়ে রইল। এবার বলল–মাননীয় রাজা আপনাকে বিরক্ত করছি।
–ও কিছু না। বলুন। রাজা বললেন।
–আপনার পিতামহ তার সম্পদ কোথায় রেখে গেছেন তার কথা একটা নক্সায়। এঁকে রেখেছিলেন। ঐ নক্সাটা আপনি আমাকে দিয়েছিলেন। আমি মোটামুটি আঁচ করতে পেরেছি সেই সম্পদ কোথায় আছে। ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে বলল।
