বেচুয়ার শরীর এখানেই কোথাও কবর দিতে হবে।
বিস্কো আর প্রহরীটি জমিদার বাড়ির পেছনে এল। দেওয়াল। ওরা দুজনেই দেয়াল টপকে বাড়ির মধ্যে ঢুকলো। দুজনে রসুইঘরের দরজায় এসে দাঁড়াল! দেখল তিনজন রাঁধুনি। এমন সময় বাড়ির কাজের স্ত্রীলোকটি ওখানে কাজে এল। বিস্কোদের দেখে গলা চড়িয়ে বলল–তোমরা কে গা? প্রহরীটি গলা চেপে বলল–তরোয়াল দিয়ে নাক কেটে দেবো। স্ত্রীলোকটি ও মাগো’ বলে বড়ঘরে গিয়ে ঢুকে পড়ল।
এবার বিস্কো গলার নিচে হাত ঢুকিয়ে ছোরাটা বের করল। ছুটে গিয়ে এক রাঁধুনির গলায় গিয়ে ছোরা ঠেকাল। বলল–একটু হাত নাড়লেই তুমি ভবের পার। অন্য দুই রাঁধুনিও কী বলবে বলে কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। বিস্কো তিনজনকেই ছোরাটা দেখাল। তারপর বলল–আমরা ডাকাত না। অবস্থা বিপাকে আমরা দুদিন যাবৎ না খেয়ে আছি। কাল রাতে তোমাদের এই রসুইঘর থেকে খাবার চুরি করে নিয়ে গেছি। আজকেও নেবো। একটু থেমে বিস্কো বলল রুটির থালা ভর্তি করে রুটি দাও কেক থাকলে দাও আর মাংসের হাঁড়িটা দাও। নইলে তোমাদের তিনজনের একজন মরবেই। এক্ষুনি।
রাঁধুনিরা নিজেদের বিপদ বুঝল। ওরা মাটির থালা মাংসের হাঁড়ি দিয়ে দিল।
বিস্কো চাপা সুরে বলল-পালাও। তারপর খাবার নিয়ে ছুটল পেছনের দেওয়ালের দিকে। দেয়ালটা পার হয়ে বাইরের বাগানে এল তারপর ছুটল বড় রাস্তার দিকে।
দুপুরে ক্ষুধার্ত ফ্রান্সিসরা খাওয়ার ব্যাপারে আর দেরি করল না।
এবার কবর দেওয়া। পেছনের একটা ঘরে ফ্রান্সিস এল। খুঁজে খুঁজে দুটো বেলচা পেল। দুটো কাঠের পাটাতন পেল। একটা বড় আর একটা ছোট। ও গলা চড়িয়ে ডাকল-বিস্কো, এদিকে এসো। বিস্কো এল। বলল কী ব্যাপার?
–এই লম্বা পাটাতনটায় বেচুয়াকে শুইয়ে দিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
–উপায় কি। এখানে কফিন কোথায় পাবো। বিস্কো বলল।
–এখন কবরের জায়গা খোঁজা। চলো। ফ্রান্সিস বলল।
দুজনে গুহার বাইরে এল। প্রহরীটিকে বলল তুমি থাক। আমরা কবরের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি।
দুজনে বেরিয়ে এল। দেখল সামনেই একটা উপত্যকার মত। সবুজ ঘাসে ঢাকা। ফ্রান্সিস বলল–বেচুয়াকে কবর দিতে বেশি দূর যেতে পারব না। কাজেই এই উপত্যকা নরম মাটির। এখানেই কবর দেব।
দুজনে গুহায় ফিরে এল। ফ্রান্সিস প্রহরীটিকে সব বলল। তারপর কাঠের পাটাতনে বেচুয়াকে শুইয়ে নিয়ে চলল কবরের জায়গায়। একপাশে মৃতদেহ রেখে বেলচা দিয়ে ফ্রান্সিস আর বিস্কো মাটি খুঁড়তে লাগল। একটা লম্বাটে গর্ত মত হল।
তখন ভোর হয়েছে। ফ্রান্সিসরা আর দেরি করল না। গর্তে কাঠের পাটাতনসহ বেচুয়ার মৃতদেহ নামিয়ে দিল। তারপর ওরা কবরে মাটি ফেলতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই গর্ত খুঁজে গেল মাটিতে।
সবাই গুহায় ফিরে এল। ফ্রান্সিস পাথরের ওপর কাপড়ের বিছানায় শুল। গলা চড়িয়ে বলল–এবার খাওয়ার ব্যবস্থা কী হবে?
–ঐ মহিলার রসুই ঘর থেকে খাবার আনা। বিস্কো বলল।
–তাহলে প্রহরী আর বিস্কো যাও। আমি ভীষণ দুর্বল বোধ করছি। ফ্রান্সিস বলল।
তুমি বিশ্রাম কর। আমরা যাচ্ছি। বিস্কো বলল। তারপর দুজনে গুহা থেকে বেরিয়ে এল।
আবার জমিদারের রাঁধুনীদের ছোরা দেখিয়ে খাবার নিয়ে পালিয়ে এল। আবার ঐ খাবার খেল। প্রহরীও খেল।
সেই রাত কাটল। ফ্রান্সিসরা কালোদের সঙ্গে পাচাকুচির লড়াইয়ে কারা জিতল তা জানা গেল না।
ফ্রান্সিস প্রহরীর দিকে তাকিয়ে বলল–তুমি তো আগে আমাদের পাহারা দিতে।
–হ্যাঁ রাজার হুকুম। প্রহরী বলল।
কিন্তু মুস্কিল হয়েছে আমরা আর এখানে পড়ে থাকবো না। আজকেই চলে যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে আমাকে হত্যা করে যেতে পারেন। প্রহরী বলল।
–তোমাকে আহত করেই পালাতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক বুঝলাম না। প্রহরী বলল।
–আমি তোমার পায়ে আর পিঠে আস্তে তরোয়াল চালিয়ে কেটে দেব। তোমার সেনাপতিকে বলতে পারবে তোমাকে আহত করে আমরা পালিয়েছি।
-হ্যাঁ। তা হতে পারে। প্রহরী বলল।
ফ্রান্সিস তরবারিটা কোষমুক্ত করল। প্রহরীর বাঁ পায়ে ডান পায়ে তরোয়াল দিয়ে একটু আস্তে ঘষে দিল। পিঠেও তরোয়াল কাটল। পা কেটে গেল। রক্ত পড়তে লাগল।
–তাহলে চলি। ফ্রান্সিস বলল। গায়ে রাজার পোশাকটা রয়ে গেছে। ফ্রান্সিস বিস্কো ঘোড়ায় চড়ে মাজোর্কা নগরে এল।
দুজনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। ফ্রান্সিস লক্ষ্য করল লোকজন দাঁড়িয়ে পরে ওর রাজবেশ দেখছে। বুঝল এরকম হলে বিপদ।
হাতের কাছে একটা দর্জির দোকানে পেল। দুজনে দোকানে ঢুকল। ফ্রান্সিস বলল–আমার জামা বানিয়ে দিন। এক্ষুনি। দর্জি বেশি অর্থ চাইল। বিস্কো কোমরের ফেট্টিতে রাখা একটা সোনার চাকতি বের করে দিল। দর্জি খুব খুশি। বলল–আপনি বসুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বানিয়ে দিচ্ছি।
দর্জি জামা সেলাই করতে লাগল। ফ্রান্সিস বিস্কো বসে রইল। পোশাক সেলাই হয়ে গেল। ফ্রান্সিস রাজবেশ ছেড়ে নতুন পোশাক পড়ল। রাজবেশটাও নিল। দামটাম চুকিয়ে ওরা রাস্তায় এল।
–এখন কী করবে? বিস্কো বলল।
–দুটো কাজ। এক ঝোঁপজঙ্গলে হ্যারিদের রেখে গিয়েছিলাম সেইখানে খোঁজ করতে যেতে হবে। দুই–রাজা কুয়েক হুয়ার কাছে যেতে হবে। এখন কোন কাজটা আগে করবো সেটাই ভাবছি।
-দেখ এই দুপুরে রাজার কাছে যাওয়া ঠিক নয়। বোধহয় অসুস্থ রাজা দেখাই করবেন না। তার চেয়ে হ্যারিদের খোঁজ করাই ভালো। আমাদের দেখে ওরা নিশ্চিন্ত হবে। আমরাও ওদের কোন বিপদ হয়নি জেনে খুশি হব। বিস্কো বলল।
