যাক গে। নাও যদি বলে যায় তাহলে এই মাজোর্কায় থেকে নক্সার গুপ্তধন খোঁজাখুঁজি করবে। পেলে আর এক মুহূর্তও এখানে থাকবে না। সেনাপতি বলল।
–দেখা যাক। রাজা বললেন।
–নক্সাটায় কি গুপ্তধন কোথায় রাখা হয়েছে তার নির্দেশ আছে? সেনাপতি জানতে চাইল।
-না। তেমনভাবে তেমন কিছু তো সূত্র নেই। রাজা বললেন।
সেনাপতি একটুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর চারদিক দেখে নিয়ে বলল–এই ঘরে তো চারটে ফুলদানি আছে। ফুল রাখা আছে। মনে হয় পাথরের।
–হ্যাঁ কালো পাথরের। ও পাশে আরও দুটো ঘর আছে। একটায় ছেলেমেয়েকে নিয়ে রাণী থাকেন। অন্য ঘরটা বন্ধই থাকে। অতিথি আত্মীয়রা এলে থাকেন। রাজা বললেন।
–সব ঘরেই ফুলদানি আছে? সেনাপতি জানতে চাইল।
তাঁ। সর্বমোট বারোটা ফুলদানি আছে।
সেনাপতি একটু ভাবল। তারপর বলল–সহজে এই ধাঁধা বোঝা যাবে না। পরে ভাবব।
সেনাপতি নতুন রাজা হুয়ার্কের দিকে তাকাল। বলল–মাননীয় রাজা, চলুন।
সবাই রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। চলল নিজেদের আস্তানায়। সেনাপতির সৈন্যরা এর মধ্যেই রাজা কুয়েক হুয়ার সৈন্যদের তাড়িয়ে দিয়ে ওদের থাকার ঘরগুলোর দখল নিয়েছে। হৈ-হুঁল্লোড় চলছে। যুদ্ধে জেতার আনন্দ।
ওদিকে সন্ধ্যে হল। ফ্রান্সিসদের চিন্তা হল রাতের খাবারের কী হবে। ফ্রান্সিস কাপাককে বলল সে কথা। কাপাক বলল–সৈন্যবাহিনীতে যে আমার রক্ষী ছিল তার মারফৎ খাবার জোগাড় করতে পারব।
একটু রাত হতে ফ্রান্সিস বলল–কাপাক আমি রাজা কুয়েক হুয়ার কাছে যাচ্ছি। নক্সাটার অর্থ বুঝতে রাজার মতামত জানা খুবই প্রয়োজন। আমি কথা বলে রাজার কাছ থেকে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারি।
কাপাক বলল–দেখুন যুদ্ধ শেষ হয়েছে। সেনাপতি এখনও দু’একদিন সাধারণ মানুষদের চলাফেরায় সাবধান করা হবে। এইসব কড়াকড়ির মধ্যে আপনি গ্রেপ্তার হতে পারেন।
–তাহলে আজ নয়। কাল রাতে যাবো। কালকের মধ্যে সেনাপতি অনেক সৈন্য কুজকো পাঠিয়ে দেবে। লড়াই তো শেষ। ফ্রান্সিস বলল। রাতটা ফ্রান্সিসরা প্রায় উপবাস করে রইল। ফ্রান্সিসের আনা একটা রুটি পাতায় করে খেল। ভোর হল। একটু বেলা হতে ফ্রান্সিস বলল–কাপাক একবার চেষ্টা করে দেখি রাজবাড়ির রাঁধুনির কাছ থেকে খাবার জোগাড় করতে পারি কি না।
ফ্রান্সিস ঝোঁপজঙ্গল থেকে বেরুলো। পেছন দিকদিয়ে রাজবাড়িতে ঢুকল। একেবারে রসুইঘরে চলে এল।
রাঁধুনি অবাক। বলল–আপনি কে?
–আমি বিদেশী। ভীষণ খিদে পেয়েছে। ফ্রান্সিস বলল।
–ঐ কোণায় বসে খেয়ে যান। রাঁধুনী বলল।
—আমার আরো তিনজন বন্ধু রয়েছে। ওরা না খেলে আমি খাই কী করে।
–তাহলে ঐ তিনজনকেও নিয়ে আসুন। খেয়ে যান। রাঁধুনী বলল।
ফ্রান্সিস বলে উঠল অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। বন্ধুদের আনতে যাচ্ছি।
ফ্রান্সিস ফিরে এল। কাপাকদের বলল সব কথা। কাপাক বলল–এইটা একটা ভাল কাজ করেছেন। বলতে গেলে খাওয়ার সমস্যা মিটল।
সবাই ঝোঁপজঙ্গল থেকে বেরিয়ে এল। রাজবাড়ির দেয়ালের আড়াল দিয়ে তারা। এল। রসুইঘরে ঢুকল। একপাশে কাঠের তক্তায় বসল। কাজের লোকটি ওদের সামনে খাবার দিয়ে গেল। ফ্রান্সিস বলল–ভদ্রতা দেখাবেন না। প্রাণের আনন্দে খেয়ে যান। কাপাক সবচেয়ে বেশি খেল। ফ্রান্সিস হেসে বলল–আপনার কাছে আমরা ছেলেমানুষ। কাপাকও হেসে খেতে লাগল।
–প্রাণে যতটা চায় খেয়ে যাও। এটাই আমার কথা। যাহোক–এবার জঙ্গলে চলো।
চারজনে ঝোঁপজঙ্গলের সেই জায়গাটায় ফিরে এল।
দিন কাটল। রাত হল। ফ্রান্সিস বলল কাপাক–আমি রাজার কাছে যাচ্ছি। কতকগুলো তথ্য রাজার কাছ থেকে পাবো কিনা দেখি।
হু। কিন্তু সাবধানে যাবেন। রাজার বাড়ির সদর দেউড়িতে প্রাসাদরক্ষীরা থাকতে পারে। কাপাক বলল।
–সেটা ভেবেছি। ভাবছি ঈগরের পোশাকটা পরে যাই। বিদেশী পোশাক পড়লে বিপদ হতে পারে। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ তো। জামা খুলতে খুলতে ঈগর বলল। ফ্রান্সিসও জামাকাপড় খুলল। দুজনেই পোশক পাল্টালো।
ফ্রান্সিস চলল রাজবাড়ির দিকে। আকাশে ভাঙা চাঁদ। চাঁদের আলো খুব উজ্জ্বল নয়। তবে চারপাশ মোটামুটি দেখা যাচ্ছে।
রাজবাড়ির সামনে এল ফ্রান্সিস। সদর দেউড়িতে দেখল মাত্র দুজন প্রহরী। একজন বর্শা হাতে পাথর বাঁধানো জায়গায় বসে আছে। অন্যজন এদিক ওদিক ঘুরছে।
ফ্রান্সিস ওদের সামনে গেল। একজন এগিয়ে এল।
-কোথায় যাবেন?
রাজামশাইর সঙ্গে কথা বলতে। ফ্রান্সিস বলল।
রাজামশাই বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছেন। দ্বাররক্ষী বলল।
–না। রাজামশাই একটু বেশি রাতেই ঘুমান! ফ্রান্সিস বলল।
–আপনি সেটা জানেন? রক্ষী বলল।
–হ্যাঁ। ফ্রান্সিস মাথা ওঠানামা করে বলল।
–আপনি কোথা থেকে আসছেন? বসে থাকা প্রহরী বলল।
কুজকো থেকে। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে যান। এখন তো উনি আর রাজা নন। দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরী বলল।
–আমার কাছে উনি এখনও রাজা। ফ্রান্সিস বলল।
–আপনি যেমন বোঝেন। যান। বসে থাকা দ্বাররক্ষী বলল।
বাইরের মন্ত্রণাকক্ষ পার হয়ে ফ্রান্সিস রাজার শয়নকক্ষে ঢুকল। দেখল রাজা বিছানায় শুয়ে আছেন। মাথার কাছে রাণী বসে আছেন।
ফ্রান্সিসকে দেখে রাজা ম্লান হাসলেন।
–এখন কেমন আছেন? রাণীর দিকে তাকিয়ে ফ্রান্সিস বলল।
–একই রকম। কখনও কষ্ট কমছে কখনও বাড়ছে। রাণী বললেন।
এবার ফ্রান্সিস রাজাকে বলল–আপনি কাপাককে যে নকশাটা দিয়েছেন সেটা আমি দেখেছি। নকশার পেছনে দুটো পংক্তি লেখা আছে। আমি পড়তে পারি নি। লেখাটা কী যদি বলেন।
