-হ্যাঁ। যায়। একটু অপেক্ষা করুন। দেখা যাক অন্য প্রহরীটা আসে কি না।
–কিন্তু সেইজন্য অপেক্ষা করতে যাব কেন? ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। কাপাক উঠে দাঁড়াল। এগিয়ে গিয়ে গরাদে হাত চেপে দাঁড়াল। বলল–ভাই একটু দেখবে?
–কী দেখবো? প্রহরী বলল।
–আমার চোখে কী পড়েছে। কাপাক বলল।
–তোমার বন্ধুদের বলো না। প্রহরী বলল।
–এই অন্ধকারে ওরা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। কাপাক বলল।
–আমিই কি দেখতে পাবো? প্রহরী বলল।
–আহা-তুমি দেখতেই পাবে একথা বলছি না। তবু দেখ।
প্রহরী হাতে বর্শা রেখে এগিয়ে এল। কাপাক গরাদের মধ্যে দিয়ে মাথাটা বের করল। বলল–দেখ। প্রহরী এগিয়ে এল। কাঁপাকের কাছে এল। মাথা নিচু করে চোখ দেখতে গেল তখনই কাপাক গরাদ দিয়ে হাত বাড়িয়ে প্রহরীর ঘাড় চেপে ধরল। প্রহরী মাথা নাড়তে লাগল। চেষ্টা করল সরে যেতে। কিন্তু পারল না। এবার ফ্রান্সিসরা গরাদের ফাঁক দিয়ে হাত বের করে প্রহরীর গলা মাথা চেপে রাখল। প্রহরী ওর মাথাটা টেনে নিতে চাইল। কিন্তু একটু পরেই বুঝল–এদের হাত ছাড়ানো যাবে না। অসম্ভব।
এবার ফ্রান্সিস বলল–চাবি বেরকর। দরজার তালা খুলে দাও।
–চাবি আমার কাছে নেই। প্রহরী বলল।
ফ্রান্সিস ওর গালে মুখে একটা চড় মারল।
–না। আমার কাছে নেই। প্রহরী বলল।
ফ্রান্সিস আবার চড় কষাল। প্রহরী বুঝল চাবি না দিলে এদের হাত থেকে নিষ্কৃতি নেই। ও কোমরের গোঁজা চাবির থোকাটা বের করল। ফ্রান্সিস ওর হাত থেকে চাবির থোকাটা নিয়ে নিল। কাপাক প্রহরীর গলা চেপে ধরল। টেনে নিয়ে চলল দরজার দিকে। দরজার সামনে এসে বলল–এইবার দরজার তালা খুলে দাও। প্রহরী ঘাড় কোমর সরিয়ে নিতে চেষ্টা করল। আবার ফ্রান্সিস প্রহরীর মুখে চড় মারল। প্রহরী গালে হাত বুলাতে বুলোতে চাবির তোড়াটা ফ্রান্সিসের কাছ থেকে নিল। চাবিটা বের করে কয়েদগুহার তালা খুলে দিল। ফ্রান্সিসরা বেরিয়ে এল। পুরোনো বন্দীরাও বেরুল। বেরিয়ে এসেই ছুটতে শুরু করল। তারপর ওরা কী করল। বন্দীদের আর দেখা গেল না।
কাপাক পাথুরে রাস্তায় নামল। বলল, এটাই একমাত্র রাস্তা বের হবার। চলুন। ফ্রান্সিসরা কাঁপাকের নির্দেশমতই চলল। কুজকো নগরের যত কাছে আসছে ফ্রান্সিসরা লড়াই এর শব্দ শুনতে লাগল। কিছুক্ষণ আগের থেকে এখন অনেক স্পষ্ট যুদ্ধের চিৎকার গোঙানি শোনা যাচ্ছে।
বোঝাই গেল লড়াই-এ জিগির চিৎকারে অনেক ভাটা পড়েছে। এখন আহতদের কান্না গোঙানি শোনা যাচ্ছে। পেছনের প্রবেশপথে মাত্র একটা মশাল জ্বলছে। প্রহরী কেউ নেই। ফ্রান্সিস বলল–এখন কী করা যায়। কাপাক বলল– অনেক বেলা হয়েছে সকাল থেকে না খেয়ে আছি। নগরের মধ্যে ঢোকা যাক। কিছু খাবার জোটে কিনা দেখা যাক।
–এখন তার আগে তো জানতে হবে কে জিতলো কে হারলো। ফ্রান্সিস বলল।
–ওটা নগরে ঢুকলেই বোঝা যাবে। কাপাক বলল।
–এখন খিদেটা না খেতে পেয়ে আরো বেড়েছে। প্রথমেই খেতে হবে।ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক। কাপাক বলল।
এবার ফ্রান্সিসরা প্রবেশ পথ ধরে এল। প্রবেশ পথের ধারে কাছে প্রহরীরা নেই। একটু এগোতেই লড়াইয়ের ভয়াবহয়তা দেখা গেল। সৈন্যরা মরে পড়ে আছে। সৈন্যাবাসের সামনের মাঠটায় মৃতরা পড়ে আছে। আহতেরা আর্তনাদ করে উঠছে। অনেক ঘোড়া মরে পড়ে আছে। নয় তো আহত হয়ে মাঠে কাতরে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে ডেকে উঠছে। একজন আহত সৈন্যকে কাপাক জিজ্ঞেস করল–ভাই রাগ করবেন না! বলুন তো কে জয়ী হল? সৈন্যটি আস্তে আস্তে বলল–
–পামার রাজ্যের রাজা চিমোর ইনকা হেরে গেছে।
–তুমি কোন রাজার যোদ্ধা?–পাচাকুটি না চিমোর ইনকার দেশের?
–আমি রাজা পাচাকুচির দেহরক্ষী।
ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করললড়াই কি এখনও চলছে?
–বসতি অঞ্চলে চিমোর ইনকার সৈন্যরা এখনো লড়াই করে যাচ্ছে। এরাই বেঁচে থাকা শেষ যোদ্ধা। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মরবে নয়তো বন্দী হবে। দেহরক্ষী বলল।
ফ্রান্সিসরা দাঁড়িয়ে আছে তখনই দেখল এক বৃদ্ধ আর একজন যুবক আহত সৈন্যদের কাটা জায়গায় ঝোলা থেকে ওষুধ বের করে লাগাচ্ছে! বেশ বোঝা গেল বৃদ্ধ । রাজবৈদ্য। যুবকটি তার সহকারী। তারা ঘুরে ঘুরে আহতদের ওষুধ দিচ্ছে! ফ্রান্সিস বলল-কাপাক এখন এখানে বসে থেকে লাভ নেই। প্রথমে খাবার চাই। খাওয়ার, শেষে আমরা আর অপেক্ষা না করে মাজোর্কার দিকে রওনা হব। সবাই এসো। চলো।
সবাই একত্র হল। ফ্রান্সিস আর কাপাক সকলের সামনে। দল বেঁধে চলল সব। হাঁটতে হাঁটতে ফ্রান্সিস বলল–বিস্কো ঈগর-কোন সরাইখানা দেখলে বলবে।
কিন্তু লড়াইয়ের এই ডামাডোলের মধ্যে কোন সরাইখানা কেউ খুলবে? বিস্কো বলল।
–এখন খুলবে। মানে দরজা আধভেজানো রাখবে। সবাই তো আর যুদ্ধে নামে নি। সকাল থেকে কারো কারো বাড়িতে রান্না হয় নি। সারা সকাল থেকে অনেকের উল্লাস চলছে। তারা তো খাবার খুঁজবে। খাবার পাবে সরাইখানায়। সরাইখানার মালিকরা তা ভালো করেই জানে। ওরা ব্যবসায়ী। ঠিক লুকিয়ে চুরিয়ে খাবার বিক্রি করবে। একটা বটগাছের তলায় একটা সরাইখানা দেখল বিস্কো। ফ্রান্সিসকে দেখাল। ফ্রান্সিস বলল–কাপাক চলুন। ফ্রান্সিস কাছে এসে ভেজানো দরজায় টোকা দিল। কোন সাড়া নেই। আবার টোকা দিল। ভেজানো দরজা খুলে গেল। সবটা নয়। বোধহয় সরাইখানার রাঁধুনি বা কাজের লোক মুখ বাড়াল। কাপাক এগিয়ে গেল। বলল– লড়াইয়ের জন্যে আমরা খেতে পারিনি। এখন ভীষণ খিদে। খেতে দাও। লোকটি দু’একবার গাঁইগুই করল। ফ্রান্সিস বলল–আমরা কিন্তু রাজা পাচাকুচির সৈন্য। আমাদের জয় হয়েছে। কাজেই
